20/08/2026
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য যা যা করা দরকার—সবকিছুই ছিল পূর্বপরিকল্পিত।
পূর্ব পরিকল্পিত আন্দোলন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পূর্ব পরিকল্পিত হ*ত্যা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাঙচুর-লুটপাট, অর্থনৈতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা, পরিকল্পিতভাবে মানবিক দিকগুলোকে বিতর্কিতভাবে উস্কে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করা—সবই ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল।
এখানে বাংলাদেশ ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির একাংশের যেমন ব্যর্থতা রয়েছে, ঠিক তেমনি দলের ও সরকারের ভেতরে থেকেও আরেকটি অংশ রয়েছে, যারা প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং এই দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে। ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির মধ্যে ছিল দুইটাই।
যদি ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি সঠিক তথ্য দিত, তাহলে এটি কোনোভাবেই ঘটত না। ইন্টেলিজেন্স ব্যর্থতা ও বিশ্বাসঘাতকতাই যুগে যুগে বিভিন্ন সাম্রাজ্য, সরকার ও দেশকে এমন ষড়যন্ত্রের শিকার করে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে।
আর এখানে ৭.৬২ বুলেট ও পুলিশের রাইফেল টাইপের অস্ত্র, শটগানের সাথে সম্পূর্ণ মিল রেখে শটগান, টিয়ারশেল থেকে শুরু করে সকল ইকুইপমেন্ট তুরস্ক, পাকিস্তান, চীন, ইসরায়েল ও বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন শেল কোম্পানি ও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে অর্ডার করে আনা হয়েছিল।
এই সাপ্লাইয়ের কাজ করেছিল পাকিস্তানের ISI এবং এগুলো নিরাপদে নেপাল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা, মেঘালয়, দার্জিলিং, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন রুট হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
আর এই কাজের সাথে জড়িত ছিল নেপাল, ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক লোক, রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা—কারা করতে পারে, বুঝে নিন।
আর ২০২৪ সালের ষড়যন্ত্রের অংশ- তথাকথিত বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র, পোশাক ও ইকুইপমেন্টসহ প্রশিক্ষিত জ*ঙ্গি সদস্যরা ছিল রাস্তায়।
তখন পরিস্থিতি এমন ছিল যে কে আসল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আর কে নয়—সেটি যাচাই করা বা হেডকোয়ার্টারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না বা পরিস্থিতি সেই সুযোগ দেয়নি। কারণ তখন মূল লক্ষ্য ছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে বিএনপি-জামাতসহ তাদের ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত দেশি-বিদেশি মিত্ররা।
এবং এদের সাথে জড়িত ছিল সরকারের ভেতরের কিছু লোক (১০০ জন থাকলে ১০ জন বিশ্বাসঘাতক থাকেই), বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা, প্রশাসনের কিছু অংশ, এনজিও থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন।
আর এখানে বর্ডারের বিভিন্ন রুট ISI-এর জন্য উন্মুক্ত ছিল বলে । ভারত থেকেও তাদের উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করার পর অভ্যন্তরীণ সহযোগিতাও পেয়েছে।
এভাবেই দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল ধীরে ধীরে বিস্তার করা হয়েছিল—এটাই প্রকৃত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
— Afifa Hossain Ontora