08/09/2026
: জাতীয়তাবাদী সাইবার সংগঠনসমূহের নেতাকর্মী কিংবা সকল ইন্ডিফিজ্যুয়াল ন্যাশনালিস্ট অনলাইন এক্টিভিস্টরা সর্বোচ্চ কমান্ডের দ্বারা এখনও আশানুরূপ সদয় মূল্যায়ন না পাওয়ায় আমি এখনও হতাশ বা বিচলিত নই, না এখনো আশাহত। কারণ আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের একমাত্র রাজনৈতিক অভিভাবক প্রিয় নেতা HPM Mr. Tarique Rahman এর সেই কথায় এখনও আস্থাশীল এবং আশাবাদী— "মিছিলের শেষ ছেলেটিও রাজনৈতিক পরিচয় বা পদবী পাবে দলের সুসময় আসলে।" আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনামলে দলের নেতৃত্বের প্রতি সকলের আনুগত্যের এবং নিবেদিত ভূমিকার ব্যাপারে তিনি অবগত এবং অবশ্যই সেগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রত্যেককেই যোগ্যতানুসারে যথাযথ মূল্যায়নের ব্যাপারেও তিনি যথেষ্ট আন্তরিক।
আমাদের পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ধৈর্য ভালোবাসেন এবং তিনি নিজেই ধৈর্যধারণকারী বা ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন বলে শুনেছি। কিন্তু একটি বিষয় হলো, সবার ধৈর্য সবসময় একরকম বা সমান হয় না। আমি অদ্যাবধি আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতৃত্বের দিকে পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যধারণ করে আশায় আছি এবং নিজ সামর্থ্যানুযায়ী প্রিয় দল বিএনপি ও জিয়া পরিবারের প্রতি জাতীয়তাবাদী আদর্শের দায়িত্ববোধ থেকে ঠিক একইভাবে অবিরত সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সাইবার সংগ্রাম ও রাজপথের রাজনীতি (কর্মসূচী) সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছি, বিগত দেড়যুগের অবিরত ধারায় নিজের খেয়ে বনের মেষ তাড়ানোর মতো স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবেই।
কিন্তু এই আমিই বা আমরা যখন বিগত পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দুঃশাসনামলে প্রতিহিংসার রাজনীতির স্বীকার হয়ে নির্বাসিত ছিলাম টানা ১৪ বছর, তখন ২৫ জুলাই ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত আমাদের সংগঠন দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সাইবার ভিত্তিক রাজনৈতিক প্লাটফর্ম 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (BNCUP)'র সারাদেশব্যপী বিভিন্ন ইউনিট কমিটির নেতাকর্মীসহ বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকারী অনুসারীরা, যারা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাইবার স্পেসের পাশাপাশি রাজপথেও দূর থেকে দেওয়া প্রিয় নেতার দিকনির্দেশনা সাহসের সাথে অক্ষরে-অক্ষরে অনুসরণ করেছিল, পারিবারিক শত চাপ, ফ্যাসিস্টদের রক্তচক্ষু, হামলা-মামলা, গুম, জুলুম, পৈশাচিক নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করে এবং সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই আন্দোলনেও সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করেছিল রাজপথের আন্দোলন ও সাইবার স্পেসে প্রচারণা সহ আন্দোলনের কর্মসূচি সমন্বয়ের মাধ্যমে; অবশেষে ৩৬শে জুলাই'২৪ কাঙ্খিত বিজয় অর্জনের পর তাদের সবার হৃদয় এই আশায় পূর্ণ হয়েছিল যে প্রায় দেড়যুগ পর হলেও এবার হয়তো নিজেদের জীবনে সুসময় উঁকি দিলো, হয়তো মিলবে স্থায়ী কর্মসংস্থান, আয়ের স্থায়ী কোনো উৎস সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে, পারবে দায়িত্বশীল হয়ে পরিবারের হাল ধরতে। ভেবেছিল দারিদ্র্যের দিন তো শেষ হবেই, সেই সাথে তারা রাজনৈতিক পরিচয় দ্বারাও সম্মানিত হবে। অবহেলা, হতাশা এবং ক্রমবর্ধমান অভাব অন্টনের মাঝে পাড় হয়ে গেল জুলাই'২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর, আমাদের বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারেরও হয়ে গেলো প্রায় ৭ মাস; কোথাও কোনো সুনির্দিষ্ট আশার আলোর আজও দেখা নাই, কিন্তু এরপরও তারা প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান এর প্রতিটি মূল্যবান নির্দেশনা বা উক্তিকে রাজনৈতিক জীবনের সংবিধানজ্ঞান করে অদ্যবধি কোনো জোর জুলুম বা অন্যায়ভাবে অপকর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথে পা বাড়ায়নি।
এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আমাদের দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার হওয়া সত্ত্বেও পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা যখন আমাদের রাজনৈতিক অনুসারী বা আমাদের অধীনস্হ রাজনৈতিক কর্মীদের অনেককেই জিজ্ঞেস করি তারা কেন এখম আগের মতো নিয়মিত অনলাইনে সক্রিয় না এবং যখন তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ডাকা হয়, তারা ভারী কন্ঠে বলে, ‘তাদের মোবাইলে এমবি নেই, বা ব্যালেন্স নেই,’ এমনকি সত্যিই তাদের পকেটে রিকশার ভাড়াটুকুও থাকে না কর্মসূচিতে আসার পর। অনেকের সেই পুরনো জীর্ণশীর্ণ ডিভাইসটিও আর কাজ করছে না ঠিকভাবে, যেটি দিয়ে চালিয়ে আসছিলো বিগত দিনে দেশ, জাতি, গণতন্ত্র, দল ও জিয়া পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অদম্য এই সাইবার সংগ্রাম। লজ্জায় অনেকের বুক ফাটে, কিন্তু সহজে মুখ ফাটে না। তখন আসলেই আমাদের নিজেদের অনুভূতি বা আবেগ সামলানো কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়ায়।
নতুন কোনো স্বপ্নের মাইলফলকও আর পাই না খুঁজে দুঃসাহসিকতা করে নির্লজ্জের মতো তাদেরকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানোর জন্য; যেমনটা নেতৃত্বস্থানীয় আমরা উপরস্থ নেতাদের থেকে শুনে সেই ২০১০ সাল থেকে নিয়মিত আমাদের অধীনস্হদের বলে আসছি— এই নির্বাচন, সেই নির্বাচন, ইনশাআল্লাহ বিএনপি নির্বাচনে এবার জিতবেই, দুঃখের দিন কেটে যাবে, এবারই নির্বাসিত অবস্থায় শেষ ঈদ, আগামী ঈদ করবো দেশের মাটিতে একসাথে—ক্লান্তিহীনভাবে এগুলো তাদেরকে বলে বলেই নিজেকেও নিয়ন্ত্রণ করতাম একাকী নির্বাসিত জীবনের কষ্ট কিছু মুহুর্তের জন্য কিছুটা লাঘব করতে আর তাদেরকেও উৎসাহিত কররাম।
আমি ব্যক্তিগতভাবে সবসময়ই নিজের সাধ্যমতো দেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক অনুসারীদের এবং BNCUP'র দেশব্যাপী জেলা বা অন্যান্য বিভিন্ন ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিক, পারিবারিক এমনকি ব্যক্তিগত সমস্যায়ও কমবেশি যা সম্ভব হতো পাঠিয়ে বলতাম "চলতে থাকো কষ্ট করে একটু এডজাস্ট করে’" যার সাক্ষী BNCUP'র বিভিন্ন ইউনিট কমিটির নেতৃবৃন্দ। কিন্তু আজ তাদের এই যৌক্তিক হতাশার বদলে বলার মতো ভাষাও খুঁজে পাইনা, বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। নিজের বিবেকের কাঠগড়ায় নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয়।
যাইহোক, ইনশাআল্লাহ দেখা যাক, আল্লাহ করিম।
☆☆☆ সকল জাতীয়তাবাদী সাইবার সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী অনলাইন একটিভিস্টদের বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি বা অবস্থাকে বিশ্লেষণ করে Bangladesh Jatiotabadi Cyber User Dol (BNCUP) এর কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও BCAN এর নির্বাহী পরিচালক, প্রিয় সহযোদ্ধা Imtiaz Mirza ভাইয়ের গতকালের একটি লেখার উপর ভিত্তি করে আমার বর্তমানের একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এই অভিমত আপনাদের সাথে শেয়ার করা, অবশ্যই প্রিয় দল বিএনপি বা এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি কোনো অভিযোগ হিসেবে নয়।
আল্লাহ পরম করুণাময়, নিশ্চয়ই আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।
—এস. আলম রাজীব (S. Alam Rajib)
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দল (BNCUP)
(২৫ জুলাই ২০১০ এ প্রতিষ্ঠিত দেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সাইবার রাজনৈতিক সংগঠন]
#সবারআগেবাংলাদেশ #বিএনপি
#তারেকরহমান