28/06/2026
ফরিদপুর জেলায় ‘জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন
ফরিদপুর জেলায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও শিশুদের পুষ্টিমান বজায় রাখার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে ‘জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী অদ্য ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে জেলাজুড়ে এই কার্যক্রম একযোগে পরিচালিত হয়। সকাল ৮:০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ৪:০০ ঘটিকা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে জেলার সকল টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘জাতীয় ভিটামিন “এ” প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকালে সিভিল সার্জনের কার্যালয়, ফরিদপুরের আয়োজনে জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মহতী কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন ফরিদপুরের বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মাজহারুল ইসলাম। উদ্বোধনের সময় তিনি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব ফাতেমা ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলার সুযোগ্য সিভিল সার্জন ডাঃ মাহমুদুল হাসান। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স, রেড ক্রিসেন্ট, ইউনিসেফ (unicef), গেইন (gain) ও নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন মহোদয় জানান, ক্যাম্পেইন চলাকালীন জেলার নির্দিষ্ট বয়সী সকল শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। তিনি কোনো শিশু যেন এই ক্যাম্পেইন থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সকল অভিভাবককে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জিত ফলাফল: ক্যাম্পেইনে জেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পূরণ করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট বয়সসীমা অনুযায়ী বিভাজন নিম্নরূপ:
১. ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশু: এই বয়সী শিশুদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩,৮৭৩ জন। এই সকল শিশুকে সফলভাবে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছে।
২. ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস (৫ বছর) বয়সী শিশু: এই বয়সী শিশুদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২,৭৭,৬২৮ জন। এই সকল শিশুকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছে।
সর্বমোট লক্ষ্যমাত্রা: ফরিদপুর জেলায় সর্বমোট ৩,১৮,৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল এবং সফল প্রচারণার মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হয়েছে।
ভৌগোলিক পরিধি ও টিকাদান কেন্দ্রের বিবরণ: ফরিদপুর জেলার মোট ৯টি উপজেলা, ৭৯টি ইউনিয়ন, ২৩৭টি ওয়ার্ড এবং ১টি পৌরসভা (ফরিদপুর পৌরসভা—যার মধ্যে ৯টি পৌর ওয়ার্ড রয়েছে) একযোগে এই কার্যক্রমের আওতাভুক্ত ছিল। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মোট ২,০৪১টি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়:
স্থায়ী ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র: ১০টি
অতিরিক্ত টিকাদান কেন্দ্র: ১০০টি
ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র: ১,৯৩১টি
সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম: ক্যাম্পেইনটি সফল করতে ফরিদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে মসজিদের ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে মুসল্লিদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ইতিবাচক লেখনীর মাধ্যমে সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে, যা এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।
ফরিদপুর জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মাহমুদুল হাসান হাসান-এর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোনো ধরনের অপপ্রচার ছাড়াই এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই জাতীয় কর্মসূচিটি শতভাগ সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব রোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিবেদক:
আশিকুজ্জামান সুজন
চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ফরিদপুর।
তারিখ: ২৮ জুন ২০২৬
Mahmudul Hasan
Ashikuzzaman Suzan
Mamunur Rashid Mt-epi