Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা

  • Home
  • Bangladesh
  • Feni
  • Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা

Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা 🌹প্যারেন্টিং টিপস🌹
সন্তান প্রতিপালনের গাইড লাইন বিষয়ক নানান টিপস পেতে সঙ্গে থাকুন....

20/08/2026

🌷আমার প্যারেন্টিং🌷

এই শতাব্দীতে এসে অনেকের কাছে হয়তো প্যারেন্টিং কেবল একটি ট্রেন্ড বা কন্টেন্ট বানানোর মাধ্যম। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি তেমন নয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমার হৃদয়ে শিশুদের প্রতি এবং তাদের গড়ার প্রতি এক অদ্ভুত ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা ঢেলে দিয়েছেন। আমি কেবল সেই আমানতটুকু নিষ্ঠার সাথে পালন করার চেষ্টা করছি।

আমি উচ্চতায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি সাইজের এক যুবক। কিন্তু শিশুদের সাথে আমার বন্ধনটা ৫ বছরের শিশুর মতো। আমি ক্লাসে ওদের সাথে এমনভ...
12/08/2026

আমি উচ্চতায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি সাইজের এক যুবক। কিন্তু শিশুদের সাথে আমার বন্ধনটা ৫ বছরের শিশুর মতো। আমি ক্লাসে ওদের সাথে এমনভাবে মিশে যেতে পারি, মনে হয় ওরা আর আমি একই ক্লাসে পড়ি। বিশেষ করে প্লে-নার্সারীর ক্লাসে।

ওরা আমাকে ওদের মনে হাজারো প্রশ্ন খুলে বলতে পারে, এটাই ওদের সাথে বন্ধনের সবচেয়ে বড় জায়গা।

ওদের নিয়ে আমি অনেক অনেক স্বপ্ন দেখি, সুন্দর একটা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে গড়ে তোলার স্বপ্ন।

আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করেন নিজে একটা প্রতিষ্ঠান করেন, আমার সন্তানটা আপনার প্রতিষ্ঠানে পড়াতে চাই। আমি একটু ইগনোর করি। যদিও এটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু আমি একটু ভিন্ন টাইপের। নিজে একক প্রতিষ্ঠান করলে, শুধু ফোকাস ওখানেই থাকবে। কীভাবে নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড় করা যাবে, এই চিন্তায় আমার উম্মাহর সন্তানদেরকে নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠান অনেক বড় একটা জায়গা। অনেক বড় আমানত।

তাই আমি সারা দেশের জন্য কাজ করতে চাই। সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হবে না আমি জানি, তবে আল্লাহ তা'আলা কাজ করার সে ব্যবস্থা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

আল্লাহ তা'আলা আমার নিয়ত জানেন। আমি চাই কোরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে উদ্ভাসিত এক প্রজন্ম উপহার দিতে ইন শা আল্লাহ।

#প্যারেন্টিং #শিশু

আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ আজকে থেকে আমাদের শিশুদের জন্যে ১ মাসব্যাপী কোর্স "বডি সেফটি মিশন" শুরু হবে ইন শা আল্লাহ...
07/08/2026

আসসালামু আলাইকুম। আলহামদুলিল্লাহ আজকে থেকে আমাদের শিশুদের জন্যে ১ মাসব্যাপী কোর্স "বডি সেফটি মিশন" শুরু হবে ইন শা আল্লাহ।

যারা যারা পেমেন্ট করেছেন, কোন কারণে বডি সেফটি মিশন গ্রুপে এড হন নি, প্লিজ বিকালে আগে আমাকে জানাবেন। যেহেতু বাদ মাগরিব ক্লাস শুরু হবে।

কেউ যদি ফর্ম পূরণ করতে ভুলে যান: https://forms.gle/FTZF1UQpuCAgeTC37

আল্লাহ তা'আলা আমাদের কোর্সটিকে কবুল করুন।

নরম রোদের আলোয় বারান্দায় বসে আছেন বৃদ্ধ মানুষটি। সামনে আধা-খাওয়া এক কাপ চা, ধোঁয়া উঠে গিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে বহুক্ষণ আগে। ...
06/08/2026

নরম রোদের আলোয় বারান্দায় বসে আছেন বৃদ্ধ মানুষটি। সামনে আধা-খাওয়া এক কাপ চা, ধোঁয়া উঠে গিয়ে ঠান্ডা হয়ে গেছে বহুক্ষণ আগে। তার চোখের কোণে জমানো একরাশ ক্লান্তি আর কপালে চিন্তার গভীর ভাজ।

কারণ, আগামী মাসেই তার নিজের প্রিয় কলিজার টুকরো—মেয়েটার বিয়ে।

যে হাতে মেয়েকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন, আজ সেই হাত দুটো কাঁপছে। ওপাশের মানুষগুলো লম্বা একটা ফর্দ ধরিয়ে দিয়েছে। মেয়েকে সুখে রাখতে হলে নাকি অনেক কিছু দিতে হবে! বৃদ্ধ বাবা হিসেব মিলাতে পারছেন না, রাতের পর রাত তিনি ঘুমাতে পারছেন না।

যে কেউ হয়তো এই ভাঙাচোরা মানুষটাকে দেখে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিবে। থমকে দাঁড়াবে তার নিঃশব্দ দীর্ঘশ্বাস দেখে।

কিন্তু... আমার হৃদয়ে মায়ার বদলে কেবল এক পরম ঘৃণার জন্ম হয়।

কেন জানেন?

একটু পেছনে ফিরে তাকান। বহু বছর আগের কথা।
এই মানুষটিই যখন নতুন বর সেজে অন্য এক বাবার ঘরের কলিজার টুকরাকে নিজের ঘরে এনেছিলেন, তখন তার চেহারা কিন্তু এমন ক্লান্ত ছিল না! তখন তার মুখে ছিল বিজয়ের হাসি, চোখে ছিল লোভের তীব্র আলো।

তিনি সেদিন অন্য এক বাবার ঘাম ঝরানো উপার্জনের ফর্দ গুনে নিয়েছিলেন। খাট, সোফা, ফ্রিজ বাইক কিংবা চকচকে সব উপঢৌকন বুঝে নিতে তার বিন্দুমাত্র লজ্জা হয়নি।

শীতকালে পিঠা-পুলি, গ্রীষ্মে ট্রাক ভর্তি ফল, রমাদানে সেমাই-মিঠাই আর কুরবানীতে আস্ত গরু—কোনোটা দাবি করতে বা বুঝে নিতে তার হাত একটুও কাঁপেনি।

সেদিনও অন্য এক পিতা হয়তো রাতের পর রাত কেঁদেছিলেন। হয়তো ভিটেমাটি বিক্রি করে, ছড়াদামে সুদ নিয়ে কিংবা শেষ সম্বলটুকু বন্ধক রেখে এই পুরুষটির উদর শান্ত করেছিলেন।

আজ সময় বদলেছে। আল্লাহর আদালত কোনো অপরাধ ভুলে যায় না।

মহাকালের নিয়মে জীবন এক চাকা। আজ আপনি যে চেয়ারে বসে অন্যের বাবার রক্ত চুষে নিচ্ছেন, কাল সেই একই চেয়ারে বসে আপনাকে নিজের রক্ত জল করতে হবে।

যাকে আপনি উপহারের নামে যৌতুক ভেবে সহজ মনে গিলে খেয়েছিলেন, আজ নিজের মেয়ের বেলাতে সেটাই বিষ হয়ে আপনার গলায় বিধছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তো স্পষ্টই বলে দিয়েছেন, "তোমাদেরকে সেই প্রতিফলই দেয়া হবে যা তোমরা ‘আমাল করতে" (সূরা আত তূর ১৬]

তাই, ওই ক্লান্ত চেহারা দেখে আমার মায়া হয় না। মনে হয়, কেবল তার পাওনা শোধ হয়েছে।

হে ভাই আমার! আজ যদি আপনি অন্যের মেয়ের বাবাকে পণের বোঝা কিংবা উপহারের ছলে পিষে মারেন, তবে জেনে রাখুন, আপনার নিজের কোলেও একটি কন্যা সন্তান বড় হচ্ছে। সেদিন আপনিও এই একই বিষে দগ্ধ হবেন।

নিজেদের ঘরগুলোকে অভিশাপের হাত থেকে বাঁচান। উপহারের আড়ালে বিষ গ্রহণ করা বন্ধ করুন, যাতে কাল নিজের মেয়ের বিয়ের প্যান্ডেলে দাঁড়িয়ে আপনাকে অপমানে আর চিন্তায় মাথা নিচু করতে না হয়।

যে বীজ আজ রোপণ করবেন, কাল ফল কিন্তু আপনাকেই খেতে হবে!

#বিয়ে #ইসলামিকবিয়ে #যৌতুক

একজন নতুন স্বামীর অপ্রস্তুত যাত্রা (পর্ব:৪)৩. শুধুমাত্র সন্তান পাওয়ার চেষ্টার চেয়েও ভালোবাসার বন্ধনকে অগ্রাধিকার দেওয়াপ্...
26/07/2026

একজন নতুন স্বামীর অপ্রস্তুত যাত্রা (পর্ব:৪)

৩. শুধুমাত্র সন্তান পাওয়ার চেষ্টার চেয়েও ভালোবাসার বন্ধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া

প্রিয় ভাই আমার, আপনি হয়তো মনে করছেন পরিবারে সন্তান আনার এই পরিকল্পনাটি বুঝি কেবলই এক রোমাঞ্চ আর আনন্দের সফর। বিয়ের কিছুদিন পর যখন ঘর আলো করে নতুন অতিথি আসার কথা ভাবা হয়, তখন একজন পুরুষ হিসেবে আপনি হয়তো শুধু সম্ভাবনার রঙিন স্বপ্নটুকুই দেখেন।

কিন্তু নির্মম সত্য হলো, এই পুরো পথচলাটি একজন নারীর জন্য মানসিকভাবে কতটা যে নিঃসঙ্গ আর পরীক্ষার, তা বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে একজন পুরুষ আন্দাজও করতে পারবে না।

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন যে, বিয়ের কিছুদিন গড়ালেই চারপাশের মানু্ষ নানা ধরনের খোঁচা মারা প্রশ্ন শুরু করে—কী ব্যাপার হুঁ, সুখবর কবে দিচ্ছ?

এই একটা প্রশ্ন স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপরই চাপ তৈরি করে। কিন্তু সেই চাপের নব্বই ভাগ কিন্তু সামলাতে হয় আপনার পাশে থাকা প্রিয়তমা স্ত্রীকেই। সমাজ তাকেই আতশিকাচের নিচে দাঁড় করায়।

আর ঠিক এখান থেকেই শুরু হয় প্রতি মাসের এক নীরব, নিঃশব্দ কষ্টের গল্প।

একজন পুরুষ হিসেবে আপনি হয়তো মাসের একটা নির্দিষ্ট দিনে জানতে পারেন, "না, এবারও হলো না।"

আপনি হয়তো শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যান। কিন্তু আপনার সন্তান প্রত্যাশী স্ত্রী?

প্রতিটা মাসের শুরুতে সে মনের ভেতরে একটা সুপ্ত আশার প্রদীপ জ্বালায়। সে মনে মনে স্বপ্ন বুনে, হয়তো এই মাসে তার কোল পূর্ণ হবে, হয়তো এবার সে আপনাকে বাবা হওয়ার সুখবরটা দিতে পারবে। কিন্তু মাসের নির্দিষ্ট দিনে যখন তার সেই আশাটা কাঁচের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়, তখন তার ভেতরের মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়, তা কখনো ভেবে দেখেছেন?

এটি শুধু একটি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া নয়; এটি তার মাতৃত্বের আকুলতার ওপর প্রতি মাসে এক একটা শক্ত চাবুকের আঘাত।

সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় যখন বিলম্ব হতে থাকে, তখন একটি মেয়ে নিজের অজান্তেই মারাত্মক এক আত্মগ্লানিতে ভুগতে শুরু করে। সে প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপরাধী মনে করে। সে ভাবতে থাকে, হয়তো আমার শরীরের কোন সমস্যার জন্যই আজ আমার স্বামীর ঘর শূন্য, হয়তো আমিই তাকে বাবা হওয়ার আনন্দ দিতে পারছি না।

নিজের ভেতরে এই যে নিজেকে অপরাধী ভাবার বিষাক্ত অনুভূতি, এটি তাকে ভেতরে ভেতরে শেষ করে ফেলে। সে প্রতি রাতে এক বুক কান্না চেপে ধরে ঘুমায়, অথচ আপনি হয়তো তার পাশে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন। আমি আবারো বলছি, হয়তো! (এর মানেই এই নয়, স্বামীরা এটা নিয়ে কষ্ট পান না)

আপনি জানেন ভাই, ঠিক এই চরম সংকটময় মুহূর্তে আমাদের সমাজের নতুন স্বামীরা না বুঝে খুব বড় একটা বোকামি করে বসে। স্ত্রীকে একটু মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখলে কিংবা কেঁদে ফেলতে দেখলে খুব সহজ আর হালকা গলায় বলে ফেলে, আহা! এত চিন্তা করছ কেন? সব ঠিক হয়ে যাবে, সময় হলে ঠিকই হবে। তোমার এসব কান্না আর ভালো লাগে না। আর মন খারাপ করেই বা কী লাভ?

একজন পুরুষ হিসেবে আপনি হয়তো ভেবেছেন, আপনি তো তাকে সান্ত্বনাই দিলেন, পজিটিভ কথাই বললেন! কিন্তু বিশ্বাস করুন ভাই, যে নারী প্রতিদিন একটা অপূর্ণতা, মানুষের খোঁচা আর কষ্ট বুকে চেপে বেঁচে আছে, তার কাছে আপনার এই আলতো বাক্যটি কোনো সান্ত্বনা হয়ে পৌঁছায় না।

তার মনে হয়, আমার মনের ভেতর কী তোলপাড় হচ্ছে, তা আমার স্বামী বুঝতেই পারল না! সে কত সহজে কথাটা উড়িয়ে দিল! সে কি তবে এটাকে শুধুই আমার একার সমস্যা আর আমার একার লড়াই মনে করছে?

আপনার এই হালকা সান্ত্বনা স্ত্রীর মনে এক সুতীব্র একাকীত্ব তৈরি করে। সে ধরে নেয়, এই কষ্টের গভীরতা বোঝার ক্ষমতা তার স্বামীর নেই। ফলে সে আপনার কাছে নিজের কষ্টের কথা বলা বন্ধ করে দেয়। সে হাসার অভিনয় করে, কিন্তু ভেতরের কান্না ভেতরে জমাতে জমাতে আপনাদের দুজনের মাঝখানে মাইলের পর মাইল মানসিকভাবে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়।

প্রিয় ভাই আমার, ইসলাম আপনাকে পরিবারের দায়িত্বশীল বানিয়েছে কেবল সংসার চালানোর টাকা জোগাড় করার জন্য নয়; স্ত্রীর মনের খেয়াল রাখার জন্যও। সন্তান হওয়া বা না হওয়া, এটি কোনো মানুষের কেরামতি নয়, এটি সম্পূর্ণ মহান আল্লাহ তাআলার একচ্ছত্র হুকুম ও বিশেষ পরিকল্পনা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, তিনি যাকে চান কন্যাসন্তান দেন, যাকে চান পুত্রসন্তান দেন, আর যাকে চান বন্ধ্যা রাখেন। কুরআনে জাকারিয়া (আ.) এবং তাঁর স্ত্রীর ঘটনা আমাদের শেখায় যে, জীবনের দীর্ঘ সময় সন্তান না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা একে অপরকে কখনো দোষ দেননি, বরং একসাথে আল্লাহ তা'আলার দরবারে হাত তুলেছেন।

🌷 এই সংবেদনশীল সময়ে একজন সত্যিকারের সঙ্গী ও দায়িত্বশীল পুরুষ হিসেবে আপনার আসলে কী করা উচিত?

এই পরীক্ষা বা সংকটময় মুহূর্তে একজন স্বামী কেবল একজন দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। তাকে হতে হয় সহযোদ্ধা, আশ্রয় এবং প্রবোধের সুর। একজন স্বামী ও দায়িত্বশীল পুরুষ হিসেবে আপনার আচরণিক পরিবর্তনগুলো ঠিক কেমন হওয়া উচিত, আসুন তা নিয়ে একটু কথা বলি:

১. লড়াইটা নিজের কাঁধে নিন এবং যৌথ দায়িত্ব হিসেবে দেখুন: কখনো, কোনো অবস্থাতেই স্ত্রীকে এই বিষাক্ত অনুভূতির মুখোমুখি হতে দিবেন না যে, সন্তান না হওয়াটা তার একার ব্যর্থতা কিংবা শারীরিক অসম্পূর্ণতা। এটি আপনার ও তার উভয়ের যৌথ সফর।

🚦চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ: ডাক্তার দেখানোর দিনগুলোতে কোনো অজুহাত বা অলসতা দেখাবেন না। "আমার তো কোনো সমস্যা নেই, তুমি গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে এসো" এই একটি বাক্য একজন নারীর কলিজায় তীরের মতো বিঁধে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিটি রিপোর্টে, প্রতিটি হাসপাতালে যাওয়ার দিনে তার পাশে ছায়ার মতো থাকুন। তার হাতটা ধরে রাখুন, যেন সে বোঝে ফলাফল যাই আসুক, আপনি সেই ফলাফলের অর্ধেক অংশীদার।

🚦 শারীরিক ও মানসিক ধকল ভাগ করে নেওয়া: সন্তান না হওয়ার চিকিৎসায় নারীকে প্রচুর হরমোনাল ওষুধ, ইনজেকশন বা নানাবিধ শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই সময়গুলোতে তার মেজাজ খিটখিটে হতে পারে, শরীর ভীষণ ক্লান্ত থাকতে পারে। ঘরের কাজে তাকে অতিরিক্ত সাহায্য করুন, তার খেয়াল রাখুন। সে যখন শারীরিক কষ্টে ছটফট করবে, তখন তাকে বুঝিয়ে দিন, তার এই কষ্টটা আপনি অনুভব করতে পারছেন।

২. সামাজিক ও পারিবারিক প্রহারের সামনে ঢাল ও রক্ষাকবচ হোন: আমাদের সমাজের একটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্বভাব হলো, দাম্পত্যের কিছু সময় পার হলেই আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, এমনকি ঘরের নিজের মানুষজনও নারীর দিকে আঙুল তুলতে শুরু করে। খোঁচা মেরে কথা বলা, অহেতুক নসিহত দেওয়া কিংবা অপয়া ভেবে তাকে মানসিক কষ্ট দেওয়া আমাদের সমাজে হরহামেশাই ঘটে।

🚦স্ত্রীকে পেছনে রেখে নিজে সামনে দাঁড়ান: যখনই কেউ আপনার স্ত্রীর সামনে সন্তান নিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বা কষ্টদায়ক প্রশ্ন তুলবে, স্ত্রীকে একটি শব্দও বলতে দিবেন না। তাকে নিজের পেছনে আগলে রেখে স্বামী হিসেবে আপনি নিজে শক্ত মুখে উত্তম জবাব দিন। অবশ্যই অতিরিক্ত রাগান্বিত না হয়ে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করবেন, যেন পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি না হয়। তবে জবাব দিবেন।

🚦 স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিন: মিষ্টি হেসে এড়িয়ে না গিয়ে প্রবীণ বা নবীন সবার সামনে স্পষ্ট ভাষায় বলুন, সন্তান দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ আল্লাহর হাত। আমরা যথাসময়ে চেষ্টা করছি এবং আলহামদুলিল্লাহ আমরা দুজনে খুব সুখে আছি। দয়া করে অহেতুক প্রশ্ন করে ওকে বা আমাকে কষ্ট দিবেন না।

🚦 ঘরের ভেতরের সুরক্ষাবলয়: এমনকি নিজের মা-বাবা বা ভাই-বোনও যদি পরোক্ষভাবে তাকে মানসিক চাপ দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে একান্তে নিজের পরিবারকে ডেকে বুঝিয়ে বলুন। পরিষ্কার জানিয়ে দিন যে, স্ত্রীর মনে আঘাত লাগে এমন কোনো কথা আপনি বরদাশত করবেন না। সমাজ যখন দেখবে স্বামীটি তার স্ত্রীর জন্য পাহাড়ের মতো শক্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তখন সবাই নিজ থেকেই মুখ গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

৩. তার অন্তরের ভয় দূর করে ভালোবাসার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দিন: সন্তান না হওয়া বা দেরি হওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় একটি নারীর সবচেয়ে বড় সুপ্ত আতঙ্ক হলো, আজ হয়তো আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসে, কিন্তু কাল যদি সন্তান না হয়, তবে কি সে আমাকে ছেড়ে দিবে? সে কি অন্য কোথাও বিয়ে করবে? আমি কি তার জীবনে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বো? এই ভয়টা তাকে ভেতরে ভেতরে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে।

একজন সত্যিকারের সঙ্গীর মূল কাজ হলো স্ত্রীর মন থেকে এই অদৃশ্য ভয়ের শিকড় উপড়ে ফেলা।

🚦কথায় ও আচরণে ভরসা দেওয়া: কেবল মনে মনে ভালোবাসলেই হবে না, মুখ ফুটে তা বলতে হবে। পরিস্থিতি যখনই ভারী মনে হবে, কোনো এক নিঝুম সন্ধ্যায় তার দুটো হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিন। তার চোখের দিকে তাকিয়ে একদম হৃদয় থেকে বলুন, শোনো, তুমি হয়তো ভাবছ সন্তান না এলে আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু আমার দিকে তাকিয়ে সত্যিটা শোনো, তুমি সন্তান জন্ম দেওয়ার কোনো যন্ত্র নও, আর শুধুমাত্র সন্তান আসার মাধ্যম বলেই আমি তোমাকে ভালোবাসিনি। তুমি আমার জীবনে আছ, তুমি আমার স্ত্রী—এটিই আমার কাছে রাব্বুল আলামিনের দেওয়া সবচেয়ে বড় নিয়ামত। আল্লাহ তা'আলা যদি আমাদের কোল পূর্ণ করেন, আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি কোনোদিন নাও করেন, তবুও আমার ভালোবাসায় এক চিলতে কমতি আসবে না। আমি দুনিয়া ও আখেরাতে তোমাকেই আমার সঙ্গী হিসেবে চাই।

৪. দাম্পত্যের মূল রসায়নকে জীবিত রাখুন: সন্তান পাওয়ার এই বৈজ্ঞানিক ক্যালেন্ডার, ওভিউলেশন পিরিয়ডের হিসাব, আর ডাক্তারের চক্করে পড়ে অনেক সময় দম্পতির ভালোবাসার স্বাভাবিক সম্পর্কটা একটি যান্ত্রিক ডিউটিতে পরিণত হয়। এটি সম্পর্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

🚦সন্তান পাওয়ার চেষ্টার বাইরেও নিজেদের মধ্যকার প্রেম, হাসি-ঠাট্টা আর আবেগ ধরে রাখুন।

🚦হঠাৎ কোনো একদিন তাকে নিয়ে দূরে কোথাও ঘুরে আসুন (যদিও আমি দূরে সফর খুবই কম পছন্দ করি সেইফটির জন্যে), তার পছন্দের খাবার কিনে আনুন, কোনো কারণ ছাড়াই তাকে ছোটখাট উপহার দিন।

🚦 তাকে অনুধাবন করান যে, আপনারা শুধু সন্তান পাওয়ার জন্য কোনো প্রতিযোগী নন, আপনারা দুজন দুজনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীর এই কঠিন ও সংবেদনশীল যাত্রায় কোনো অভিযোগ না তুলে এমন এক বটবৃক্ষের মতো শীতল ছায়া হয়ে দাঁড়াতে পারে, তখন সেই সংসারে সন্তানের কলকাকলি মুখরিত হোক বা না হোক, মহান আল্লাহ তাআলা সেই ঘরে প্রশান্তি (সাকিনাহ) ও বরকতের চাদর বিছিয়ে দিবেন ইন শা আল্লাহ ।

৫ম পর্ব পড়তে আগ্রহী তো সম্মানিত ভাইয়েরা? নাকি ভাবছেন, দূর সময় নষ্ট!

বি:দ্র: অনেকেই ভাবতে পারেন আরে প্যারেন্টিং গ্রুপে এত পারিবারিক আলোচনা কেন। প্যারেন্টিং মানে তো শুধুমাত্র সন্তান প্রতিপালন। কিন্তু প্যারেন্টিং এর মূল সূত্রপাত কিন্তু স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমেই হয়। তাই একজন প্যারেন্টিং এক্টিভিস্ট হিসাবে আমি পারিবারিক দিকগুলোতে বেশি ফোকাস দেয়ার চেষ্টা করি। এরপরও যদি কারো খারাপ লাগে 👎, আর ভালো লাগলে 👍 দিবেন। আপনাদের মন্তব্যের উপরে নির্ভর করে পরের পর্বগুলো দিব কি দিব না চিন্তা করব ইন শা আল্লাহ।

কোনটা ভালো লাগছে, ১ নাকি ২
24/07/2026

কোনটা ভালো লাগছে, ১ নাকি ২

একটু ভাবুন তো—স্কুল-মাদ্রাসা, পার্ক কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে আপনার সন্তান যখন একা থাকে, সে কি জানে বিপদে পড়লে ঠিক কী করতে...
21/07/2026

একটু ভাবুন তো—স্কুল-মাদ্রাসা, পার্ক কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনে আপনার সন্তান যখন একা থাকে, সে কি জানে বিপদে পড়লে ঠিক কী করতে হবে?

অনলাইন গেমের কোনো অচেনা মানুষ বা অতি পরিচিত কেউ যদি তার বিশ্বাসের সুযোগ নিতে চায়, তার কাছে কি সুরক্ষার সঠিক ঢালটা জানা আছে?

আপনার সন্তানের নিরাপদ শৈশব ও আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করতে আমি নিয়ে এসেছি "বডি সেফটি মিশন — গুড টাচ ব্যাড টাচ" অনলাইন কোর্স।

👉 কেন শেষ মুহূর্তের আগেই যুক্ত হবেন?

✋ নিজের বডি বাউন্ডারি ও সঠিক অধিকার চেনা।

❓অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে শক্ত গলায় 'না' বলার সাহস অর্জন।

🔑 বিপদে মা-বাবাকে জানানোর 'গোপন কোড'।

🚗 স্কুল বা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলে 'নিরাপদ মানুষ' চিনে সাহায্য নেওয়া।

💻 অনলাইন গেম ও সাইবার ফাঁদ থেকে নিজেকে আড়াল করার স্মার্ট ট্রিক।

⏳ ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এনরোল করলেই পাচ্ছেন আর্লি বার্ড অফার!

🗓️ ওরিয়েন্টেশন ক্লাস: ৭ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার, রাত ৭:২০)

⚡ আর্লি বার্ড ফি: ৭০০ টাকা (৩১ জুলাই পর্যন্ত)

💵 রেগুলার ফি: ৮০০ টাকা

📞 রেজিস্ট্রেশন করুন এখনই (বিকাশ/নগদ পার্সোনাল): 01834911291

টাকা পাঠিয়ে ফর্মটি পূরণ করবেন: https://forms.gle/FTZF1UQpuCAgeTC37

একজন নতুন স্বামীর অপ্রস্তুত যাত্রা (পর্ব:২)১. সে বুঝতে পারে না, তুমি কেন আজকে চুপসংসার জীবনের এক অদ্ভুত গোলকধাঁধার নাম হ...
21/07/2026

একজন নতুন স্বামীর অপ্রস্তুত যাত্রা (পর্ব:২)

১. সে বুঝতে পারে না, তুমি কেন আজকে চুপ

সংসার জীবনের এক অদ্ভুত গোলকধাঁধার নাম হলো ‘নীরবতা’। পুরুষ আর নারীর মনস্তত্ত্বে এই নীরবতার মানে সম্পূর্ণ আলাদা।

একটি মেয়ে যখন সারাদিনের খাটুনি শেষে কিংবা অফিস ফেরত গাড়ির জানালার কাচে কপাল ঠেকিয়ে একদম চুপ করে বসে থাকে, তখন তার পাশে বসা অপ্রস্তুত স্বামীটি চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।

সে মনে মনে হাজারটা হিসাব মেলাতে থাকে, কী সমস্যা? আবার কোনো কারণে রাগ করেছে নাকি? আমি কি কোনো ভুল করলাম নাকি? ইত্যাদি

পুরুষ মানুষের মস্তিষ্ক অভ্যস্ত লজিক বা যুক্তিতে; সে নীরবতাকে দেখে একটা দেয়াল হিসেবে, একটা সমস্যা হিসেবে।

সে গভীর এক মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক সত্য অনুধাবন করতে পারে না, নারীর এই হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়াটা কোনো রাগ নয়, কোনো দেয়াল নয়; বরং এটা হলো এক বুক ক্লান্তি আর একাকীত্ব থেকে ভেসে আসা এক অবাধ্য আর্তনাদ। এক নীরব আকুতি, যা বলে, আমি আর পারছি না, কেউ কি আছো আমাকে একটু আগলে রাখার?

একজন মেয়ে মানুষের আবেগের ভাষা পুরুষের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। মহান আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষকে সৃষ্টিগতভাবেই ভিন্ন মনস্তত্ত্ব দিয়ে তৈরি করেছেন। পুরুষ যখন ক্লান্ত হয়, সে হয়তো সরাসরি বলে দেয়, আজ খুব ধকল গেছে, আর কথা বলতে পারছি না। কিন্তু একটি মেয়ে সব সময় মুখ খুলে বলবে না, আমি বড্ড ক্লান্ত। সে নিজের চারপাশটা আগলে রাখতে রাখতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, নিজের ক্লান্তির কথা উচ্চস্বরে বলতে তার সংকোচ হয়।

সে তখন এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক অপেক্ষায় থাকে। সে অবচেতনভাবেই একটা পরীক্ষা নেয়, এই যে আমি আজ চেনা ছন্দের বাইরে গিয়ে এতটা চুপচাপ হয়ে আছি, কেউ কি সেটা লক্ষ্য করছে? এই ভিড়ের মাঝেও কি এমন একটা চোখ আছে, যা আমার চোখের ভেতরের শ্রাবণ মেঘটা পড়তে পারছে? কেউ কি অন্তত একবার মায়াভরা গলায় জিজ্ঞেস করবে, আজ শরীরটা কি খুব খারাপ লাগছে? খুব ক্লান্ত তুমি?

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের মনের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো কতটা গভীরভাবে খেয়াল করতেন, তা সীরাহ না পড়লে অনুধাবন করা যায় না। একবার রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-কে বললেন: তুমি কখন আমার ওপর খুশি থাকো আর কখন রাগ করে থাকো, তা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারি।

আয়েশা (রা.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তা কীভাবে বোঝেন?

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, যখন তুমি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকো, তখন কথার পিঠে কথা বলতে গিয়ে বলো—না, মুহাম্মদের রবের কসম! আর যখন তুমি কোনো কারণে অভিমান করে থাকো, তখন বলো— না, ইব্রাহীমের রবের কসম! (সহীহ বুখারী)

একটু গভীরভাবে ভাবুন! মহাবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, উম্মাহর সবচেয়ে বড় নেতা হওয়া সত্ত্বেও, ঘরের ভেতরে স্ত্রীর একটা মাত্র শব্দের পরিবর্তন, তার সামান্য নীরবতা বা অভিমানের সুর ধরতে তাঁর এক মুহূর্তও ভুল হতো না। এটাই হলো ভালোবাসার আসল চোখ।

আমাদের তরুণ স্বামীদের এই সত্যটা খুব যত্ন করে শেখাতে হবে, পাশে থাকার মানে সব সময় মুখে কথার খই ফোটানো নয়। পাশে থাকার মানে এই নয় যে, স্ত্রী চুপ করে আছে বলে তাকে জোর করে হাসাতে হবে কিংবা একগাদা লজিক্যাল পরামর্শের ঝুড়ি নিয়ে বসতে হবে।

কখনো কখনো পাশে থাকার মানে হলো, কেবল নীরবতার সঙ্গী হওয়া।

গাড়ির সিটে চুপচাপ বসে থাকা সেই ক্লান্ত হাতটার ওপর নিজের হাতটা আলতো করে রাখা।

কোনো প্রশ্ন না করে তার মাথাটা নিজের কাঁধে টেনে নেওয়া।

কিংবা বাড়ি ফিরে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিয়ে শুধু চোখে চোখ রেখে নিঃশব্দে বোঝানো, আমি আছি তো!

যেদিন একজন স্বামী তার স্ত্রীর এই না-বলা অভিধানটা পড়তে শিখবে, যেদিন সে বুঝবে স্ত্রীর ঠোঁটের নীরবতা কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং একটুখানি বিশ্রামের আকুল প্রার্থনা, সেদিন সেই সংসারে রহমত ও সাকিনাহ (প্রশান্তি) নেমে আসবে।

৩য় পর্বে আরেকটা গুরত্বপূর্ণ সংশোধন নিয়ে আলোচনা করবো ইন শা আল্লাহ। ভাইয়েরা পড়ছেন তো....

আর হ্যাঁ ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যেদেরো জানার সুযোগ করে দিন
জাযাকাল্লাহু খইর

চাইল্ড সেফটি বা শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণায় দেখা গেছেবপ্রায় ৯০% ক্ষেত্রে শিশুরা যাদের দ্বারা অনিরা...
18/07/2026

চাইল্ড সেফটি বা শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণায় দেখা গেছেবপ্রায় ৯০% ক্ষেত্রে শিশুরা যাদের দ্বারা অনিরাপদ বোধ করে বা কষ্ট পায়, তারা কোনো অচেনা মানুষ নয়; বরং তাদের খুব পরিচিত বা চেনা কোনো ব্যক্তি! অন্যদিকে, বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুরা প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে অনলাইন গ্রুমিং বা সাইবার ফাঁদের ঝুঁকিতে পড়ছে।

আপনার আদরের সন্তান কি জানে, পরিচিত বা অপরিচিত কেউ তার শরীরের নির্দিষ্ট সীমানা ভাঙতে চাইলে কীভাবে শক্ত গলায় 'না' বলতে হয়? মেলায় বা শপিং মলে হারিয়ে গেলে কার কাছে সাহায্য চাইতে হবে? কিংবা ইন্টারনেটের কোন ৭টি লক্ষণ দেখলে সাথে সাথে ব্রেক চাপতে হবে?
আপনার সন্তানের নিরাপদ শৈশব ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা নিয়ে এসেছি ১ মাস মেয়াদী বিশেষ অনলাইন নিরাপত্তা কোর্স।

🎯 কেন এই কোর্সটি প্রতিটি শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

🌺 শিশুদের ভয় না দেখিয়ে বাস্তবসম্মত উপমা ও লাইভ অ্যাকশনের মাধ্যমে সচেতন করা।

🌺 যেকোনো অস্বস্তিকর ছোঁয়া বা আচরণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করার আত্মবিশ্বাস তৈরি।

🌺 ইন্টারনেট ও অনলাইন গেমিংয়ের অন্ধকার দিকগুলো থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আড়াল করার স্মার্ট কৌশল অর্জন।

🌺 মা-বাবার সাথে শিশুর শতভাগ সততা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা, যেন কোনো ভুল হলেও শিশু সবার আগে মা-বাবাকে নির্ভয়ে বলতে পারে।

💡 এই কোর্সে শিশুরা প্র্যাক্টিক্যালি যা যা শিখবে:

✋ বডি সেফটি ও রাইটস: গুড টাচ-ব্যাড টাচের স্পষ্ট ধারণা এবং নিজের বডি বাউন্ডারি চেনা।

❤️ না বলার সাহস ও সিক্রেট কোড: চেনা বা অচেনা যে কারো ভুল আচরণে শক্ত গলায় 'না' বলা এবং পরিবারের বিশেষ গোপন কোড ওয়ার্ড ব্যবহার।

🚗 ট্রাভেল ও আউটডোর সেফটি: হারিয়ে গেলে ৩ বার কল ট্রিক, ইন্টারন্যাশনাল হ্যান্ড সাইন (SOS) এবং ভিড়ের মধ্যে পুলিশ, ক্যাশিয়ার বা শিশুসহ মাকে চিনে সাহায্য নেওয়া।

💻 অনলাইন গ্রুমিং ও সাইবার সেফটি: ইন্টারনেটের ৭টি বিপজ্জনক 'লাল বাতি' চেনা, উপহারের ফাঁদ ধরা এবং নো চ্যাট, ব্লক ও মা-বাবাকে জানানোর অভ্যাস।

🎮 স্মার্ট গেমিং রুলস: রোবলক্স বা ফ্রি-ফায়ারের মতো অনলাইন গেমে অপরিচিতদের ধোঁকা এবং গোপন গ্রুপ থেকে বেঁচে থাকা।

🕌 প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা: স্কুল-মাদরাসায় সুরক্ষিত থাকা এবং ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে পর্দা ও শালীনতার শিক্ষা।

🎁 কোর্সের বিশেষ আকর্ষণ:

📚 'প্রোটেক্টিভ প্যারেন্টিং' ও 'গুড টাচ ব্যাড টাচ' বই দুটিতে ৪০% ফ্ল্যাট ছাড়!

📜 কোর্স সম্পন্নকারী প্রত্যেক শিশুর জন্য বিশেষ সার্টিফিকেট।

🎥 ক্লাসের রেকর্ডিং সারাজীবন দেখার সুবিধা।

💻 স্মার্ট লার্নিং: শিশুদের উপযোগী ৫০০+ স্লাইড প্রেজেন্টেশন ও লাইভ অ্যাক্টিভিটি গেম।

📅 কোর্স শিডিউল ও ফি:

🎙️ ইনস্ট্রাক্টর: জাহিদ হাসান (শিক্ষক, লেখক ও প্যারেন্টিং অ্যাক্টিভিস্ট)

🗓️ ওরিয়েন্টেশন ক্লাস: ৭ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার

⏰ ক্লাসের সময়: প্রতি শুক্রবার (রাত ৭:২০) | মাধ্যম: Zoom
⚡আর্লি বার্ড অফার: ৭০০ টাকা (৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে)

💵 রেগুলার ফি: ৮০০ টাকা (৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত)

🎯 আসন সংখ্যা সীমিত! আপনার সন্তানের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে আজই দ্রুত যুক্ত হোন।

📞 রেজিস্ট্রেশন নম্বর (বিকাশ/নগদ পার্সোনাল): 01834911291

টাকা পাঠিয়ে ফর্মটি পূরণ করবেন: https://forms.gle/FTZF1UQpuCAgeTC37

আয়োজনে: শিশুর লালন-পালন ও শিশু শিক্ষা

#বডি_সেফটি #গুড_টাচ_ব্যাড_টাচ #প্যারেন্টিং #শিশু

ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং (পর্ব:১)রাত ঠিক তিনটা। পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। চারপাশ নিস্তব্ধ, কেবল আপনার ঘ...
16/07/2026

ঘুমহীন রাত, বিধ্বস্ত প্যারেন্টিং (পর্ব:১)

রাত ঠিক তিনটা। পুরো পৃথিবী তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। চারপাশ নিস্তব্ধ, কেবল আপনার ঘরের কোণ থেকে ভেসে আসছে একটা ছোট্ট শিশুর অবিরাম কান্নার সুর।

আপনি চোখ কচলাতে কচলাতে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। কখনো ঘরের এমাথা-ওমাথা হাঁটছেন, কখনো গুনগুন করে তিলাওয়াত করছেন। শরীর ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ছে, চোখের পাতা দুটো যেন সিসার মতো ভারী হয়ে আসছে। অবশেষে যখন ঘড়ির কাঁটা পৌনে চারটা ছুঁইছুঁই, বাচ্চাটা শান্ত হলো, ঘুমিয়ে পড়ল। কিন্তু আপনার চোখে তখন আর ঘুম নেই, কারণ, ঠিক তখনই মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসছে সুমধুর আওয়াজ: “আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম...”।

পরের দৃশ্যটা সকাল সাতটার।

আপনি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে বড় সন্তানের স্কুলের টিফিন গোছাচ্ছেন। মাথাটা দপদপ করছে, চোখ দুটো জ্বলছে তপ্ত কয়লার মতো। ঠিক তখনই ডাইনিং টেবিল থেকে একটা শব্দ হলো—ঝনঝন!

ছুটে গিয়ে দেখলেন, আপনার আদরের বড় সন্তানটি হাত ফসকে দুধের গ্লাসটা ফেলে দিয়েছে টেবিলে। চারদিকে সাদা দুধ গড়িয়ে পড়ছে।

এমনিতে আপনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল একজন মানুষ। সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে মিষ্টি গলায় বোঝান। কিন্তু আজ? আজ আপনার ভেতরের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভাঙল। আপনি হঠাৎ এক তীব্র চিৎকারে ফেটে উঠলেন, “তোমাকে নিয়ে আর পারি না! কেন সবসময় এমন করো?”

মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর স্তব্ধ। ছোট্ট সন্তানটির চোখের কোণে একরাশ ভয় আর বিস্ময়। সে তার প্রিয় মানুষটির এই রুদ্রমূর্তি দেখে একদম কুঁকড়ে গেল। আর ঠিক তার পরক্ষণেই আপনার বুকের ভেতর হুহু করে নেমে এলো এক প্রচণ্ড অপরাধবোধের সুনামি।

আপনি চেয়ারটায় ধপ করে বসে পড়লেন। মনের ভেতর একটা ধারালো প্রশ্ন তীরের মতো বিঁধতে লাগল:
“আমি এমন কেন করলাম?”
“আমি কি একটা খারাপ মা হয়ে যাচ্ছি?”
“আমি কি ব্যর্থ বাবা?”

সম্মানিত অভিভাবক, সত্যিটা তবে কী?

যাঁরা জীবনের কোনো না কোনো মোড়ে এসে নিজেকে এই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনি খারাপ মা কিংবা খারাপ বাবা নন। আপনি স্রেফ ক্লান্ত মা-বাবা, ঘুমহীন মা-বাবা। আর এই দুটোর মধ্যে আসমান-জমিন তফাত রয়েছে।

আপনার ভালোবাসায় কোনো কমতি নেই, আপনার সমস্যাটা লুকিয়ে আছে আপনার নিঃশব্দে ফুরিয়ে যাওয়া শক্তির ভাণ্ডারে।

🌺 ‘লজিক’ বনাম ‘ইমোশন’

আধুনিক নিউরোসায়েন্স আমাদের মনের ভেতরের এই অদ্ভুত আচরণের একটা চমকপ্রদ ব্যাখ্যা দেয়। আমাদের মস্তিষ্কে প্রতিনিয়ত একটা অদৃশ্য টানাপোড়েন বা যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধের প্রধান দুই চরিত্র হলো:

১. অ্যামিগডালা (Amygdala): একে বলতে পারেন আমাদের ভেতরের এক অবুঝ, জেদি আর রাগী শিশু। আমাদের সমস্ত আবেগ, ভয়, রাগ আর তাৎক্ষণিক রিফ্লেক্স তৈরি হয় এই ছোট্ট অংশটি থেকে।

২. প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (Prefrontal Cortex): এটি আমাদের মস্তিষ্কের ঠিক সামনের অংশের এক বিচক্ষণ ও প্রাজ্ঞ মুরুব্বি। এর কাজ হলো যুক্তি দিয়ে চিন্তা করা, ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ওই অবুঝ শিশুটিকে (অ্যামিগডালা) লাগাম টেনে ধরে রাখা।

যখন আপনি পর্যাপ্ত ঘুমান, শরীর ও মন চাঙ্গা থাকে, তখন আপনার ভেতরের এই বিচক্ষণ মুরুব্বি দারুণ সক্রিয় থাকেন। সন্তান টেবিলের ওপর দুধের গ্লাসটা ফেলে দিলে এই মুরুব্বি ঝটপট অ্যামিগডালাকে শাসন করে বলে, আরে থামো, শান্ত হও! ও তো ইচ্ছে করে করেনি। ও তো স্রেফ একটা বাচ্চা!

ফলে আপনি বিরক্ত হলেও চিৎকার করে ওঠেন না। যুক্তিবাদী মস্তিষ্ক আপনাকে সামলে নেয়।

কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে তখনই, যখন আপনার ঘুম কেড়ে নেওয়া হয়। ঘুম-বঞ্চিত মস্তিষ্কে এই দুই সেনাপতির ক্ষমতার ভারসাম্য পুরো উল্টে যায়।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের যুক্তিবাদী মুরুব্বি (প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স) চরম ক্লান্ত হয়ে ঝিমোতে থাকে, তার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা পুরোপুরি কমে যায়। আর এই সুযোগে ভেতরের অবুঝ, রাগী শিশুটি (অ্যামিগডালা) হয়ে ওঠে অতিরিক্ত সংবেদনশীল ও উগ্র।

ফলাফল কী দাঁড়ায়?
সামান্য একটা উছিলা, এক ফোঁটা দুধ পড়া, একটু খেলনা ছড়ানো কিংবা সন্তানের সাধারণ একটা বায়না, আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্ক ওটাকে কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখতেই পায় না। সে ওটাকে একটা 'মস্ত বড় যুদ্ধ' মনে করে অস্বাভাবিক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ফেলে।

প্রিয় অভিভাবক, এটা আপনার চরিত্রের কোনো দুর্বলতা নয়, এটা স্রেফ আপনার ক্লান্ত মস্তিষ্কের জীববিজ্ঞান (Biology)!
ঘুম নিয়ে করা নিউরোসায়েন্সের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, মাত্র এক রাত ঠিকমতো না ঘুমালেই মস্তিষ্কের আবেগীয় প্রতিক্রিয়া (Emotional Reactivity) প্রায় ৬০% পর্যন্ত বেড়ে যায়!

এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলুন আর ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, যে মা-বাবা দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কিংবা মাসের পর মাস ধরে একটা নিটোল ঘুমের মুখ দেখছেন না, তাঁদের মস্তিষ্কের ওপর দিয়ে প্রতি নিয়ত কী ভয়াবহ ঝড় বয়ে যাচ্ছে!

🌺 চারটি চিহ্ন যা বলে দেয় আপনার বিশ্রাম দরকার

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে একজন আদর্শ, স্নেহশীল মা-বাবার আচরণেও প্রধানত চারটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এগুলো কোনো সাধারণ ভুল নয়, এগুলো আসলে আপনার ক্লান্ত শরীরের দেওয়া Red Flags। চলুন, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটু মিলিয়ে নেওয়া যাক:
১. আবেগ নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতা: স্বাভাবিক ও শান্ত অবস্থায় যে বিষয়টিকে আপনি এক গাল হাসিমুখে সামলে নিতেন, ঘুম-বঞ্চিত অবস্থায় সেই একই বিষয় আপনার চোখে অশ্রু এনে দেয় কিংবা মাথায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

যেমন ধরুন: আপনার ছোট্ট সন্তানটি জুতার ফিতা বাঁধতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এক রাত ভালো ঘুমের পর আপনি হয়তো পরম মমতায় পাশে বসে তাকে আবার শিখিয়ে দিবেন। কিন্তু রাতভর জেগে থাকার পর? সেই একই দৃশ্য আপনার কাছে মনে হবে এক "অসহ্য যন্ত্রণা"। আপনি হয়তো চিৎকার করে উঠবেন, নয়তো নিজেই হতাশায় কেঁদে ফেলবেন।

২. মেজাজ খারাপ ও সার্বক্ষণিক খিটখিটে ভাব: ঘুম কম হলে মন এক অদ্ভুত চাদরে ঢাকা পড়ে যায়, যেখানে সারাক্ষণ বিরক্তি কাজ করে। তখন সন্তানের প্রাণবন্ত হাসির শব্দকে মনে হয় কোলাহল, তার খেলনার আওয়াজকে মনে হয় অত্যাচার, এমনকি জীবনসঙ্গীর খুব সাধারণ একটা প্রশ্নকেও মনে হয় তলোয়ারের খোঁচা! আপনি নিজেও হয়তো বুঝতে পারেন না, কেন খুব সামান্য কথাতেই ভেতরের মানুষটা এভাবে খিটখিট করে উঠছে।

৩. অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীলতা (Overreaction): ঘুম-বঞ্চিত মা-বাবার মস্তিষ্ক ছোট ছোট ঘটনাকে তিল থেকে তাল করে দেখে। সন্তান স্রেফ একবার কোনো কারণে "না" বলল, অমনি আপনার মনে হতে থাকে, ও তো আমার অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে! বড় হয়ে ও তো আমাকে পাত্তাই দেবে না! একবার হাত থেকে খাবার পড়ে গেল, আপনার মনে হলো, ও ইচ্ছা করে আমাকে বিরক্ত করার জন্য এটা করেছে! অথচ একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবলে বুঝতেন, এগুলো নিছকই শিশুর স্বাভাবিক ও চিরচেনা শিশুসুলভ আচরণ।

৪. এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল মন: ঘুমহীনতা সরাসরি আমাদের স্মৃতিশক্তি আর মনোযোগের ওপর থাবা বসায়।

* সন্তানের স্কুলের টিফিন বক্সে খাবার দিতে ভুলে যাওয়া।

* জরুরি দরকারি কাগজ বা ঘরের চাবিটা কোথায় রাখলেন, কিছুতেই মনে না পড়া।

* একই কথা কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুইবার বলে ফেলা ইত্যাদি।

এগুলো কিন্তু আপনার অগোছালো স্বভাবের লক্ষণ নয়, সম্মানিত অভিভাবক। এগুলো হলো আপনার ক্লান্ত, অবসন্ন মস্তিষ্কের এক নিঃশব্দ আর্তনাদ!

যদি এই চারটি লক্ষণের কোনো একটি বা প্রতিটিই ইদানীং নিজের মধ্যে খুঁজে পান, তবে বুকের ওপর হাত রেখে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলুন। কারণ সমস্যাটা আপনার প্যারেন্টিং দক্ষতায় বা আপনার ভালোবাসায় নেই; সমস্যাটা স্রেফ লুকিয়ে আছে আপনার বালিশের নিচে, আপনার অপর্যাপ্ত ঘুমের মাঝে।

আগামী পর্বে ঘুম নিয়ে ইসলাম কি শেখায়, পাঁচটি বাস্তবসম্মত সময়োপযোগী সমাধান লেখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

#শিশু #প্যারেন্টিং

Address

Feni

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Good Parenting - শিশু লালন-পালন / শিশু শিক্ষা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share