06/09/2026
এদেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি মূলধারার ইসলামী রাজনীতিতে আপোষহীন না হতো তবে এদেশ থেকে আস্তে-ধীরে মূল ইসলাম রহিত হয়ে মডারেট ইসলাম ছড়িয়ে পড়তো।
এই যে ছবিটা দেখছেন—সুস্পষ্ট পর্দার খেলাফ হচ্ছে, তাও জাতীয় পর্যায়ে, হাস্যজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে। কারা খেলাফ করছে? খোদ তারাই খেলাফ করছে, যাদের উপর দায়িত্ব ছিলো পর্দার বিধান বুঝানো, প্রতিষ্ঠিত করা। অর্থাৎ দায়িত্বশীলরাই নিজেদের দায়িত্ব ভুলে পর্দার মত গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে অবলীলায় নরমালাইজড করে ফেলতেছে।
বিষয়টাকে গোটাকতক পথভ্রষ্ট ছেলের কর্মকাণ্ড ভাবলে ভুল করবেন—বিষয়টার শেকড় মডারেট ইসলাম পর্যন্ত বিস্তৃত।
মডারেট ইসলাম কি ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানাটা জরুরি।
মডারেট ইসলাম হলো এমন এক ইসলাম, যেখানে কেবল ইসলাম নামটাই বজায় থাকে, এছাড়া ইসলামের প্রায় সকল মৌলিক নীতিমালার পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ—পর্দা কেবল জেনা না করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া ফটোসেশান, পাশাপাশি বসা ও ফ্রি-মিক্সিংকে পর্দার খেলাফ বলে মনে করা হবে না। ইসলাম প্রতিষ্ঠা বলতে ইসলাম নামটাকেই কেবল ক্ষমতায় নেওয়া বুঝানো হবে, শ রি য়া হকে নয়। এখানে ইনসাফ থাকবে, ন্যায়শাসনও থাকতে পারে, কিন্তু ইসলামের শাসন থাকবে না।
একটু গভীর ভাবে বুঝুন—একটা রাষ্ট্রে ন্যায়ের শাসন ও ইনসাফ থাকা মানেই কিন্তু ইসলাম ক্ষমতায় থাকা নয়, একজন কাফেরের অধীনেও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ইসলামী শাসন মানেই শ রী য়াহ—কেবল ন্যায় বা ইনসাফ নয়। শ রী য়াহ-এর মাঝে ন্যায়, ইনসাফ যেমন আছে তেমনই আছে পশ্চিমা আইনের বিকল্প ব্যবস্থা, আধুনিক দাসত্বের বিপরীতে স্বমহিমায় দাঁড়ানোর মনস্তত্ত্ব, নিজস্ব কালচার আর শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থা।
ঠিক এই জায়গাতেই পশ্চিমাদের সমস্যা রয়েছে—ন্যায় বা ইনসাফের জায়গাতে নয়। সুতরাং তারা মূলধারার ইসলামকে ক্ষমতায় চায় না, চায় মডারেট ইসলামকে—কেননা সেখানে শ রী য়াহ নেই, আছে কেবল ন্যায়, ইনসাফ।
প্রশ্ন রাখতেই পারেন—কেন মডারেট ইসলামকে চাইবে? তাদের তো ইসলাম নামটাকেও ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা উচিত। উত্তরটা সহজ—প্রতিটা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় ইসলামের হাঁকডাক আছেই, আজ হোক বা কাল মানুষ ইসলামের দিকে ঝুঁকবেই, কেননা এটাই মুসলমানদের শেকড়, মূল জায়গা। সুতরাং সর্বদা ইসলামকে দূরে না সরিয়ে নিজেদের তাবেদারী করা এক নতুন ইসলামকে ক্ষমতায় বসানোটাই ঝামেলামুক্ত কাজ, পশ্চিমারা ঠিক এটাই করছে, করার চেষ্টা করছে।
উদাহরণস্বরূপ—ওসমানি খে লা ফত বিলুপ্তির পর তুরস্কের অবস্থা বিচার করুন, মুসলিম শাসক ছিলো কিন্তু ইসলাম ছিলো না। ইরান, আফগান সহ প্রতিটা জায়গার কথা চোখ বন্ধ করে ভাবুন—মডারেট ইসলাম ও মূলধারার ইসলামের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য চোখে পড়বে।
ঠিক এই জায়গাতেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শক্ত ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা এক্ষেত্রে কোনো আপোষ করেনি, রাখছে না।
স্টেইজে নারী আছে—প্রোগ্রাম প্রত্যাখান করা হচ্ছে। বলবেন—এগুলো নারী বিদ্বেষ! মোটেও তা নয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারী বিদ্বেষী নয়, বরং তারা পর্দাকে গুরুত্ব দেয়। ভাবুন তো—যদি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও রাজনীতিতে নারী নিয়ে এমন খোলামেলা আচরণ শুরু করে তবে সমাজে পর্দা বলতে কিছু কি আদৌও বাকি থাকতো?
শ রী য়াহকে অস্বীকার করা হয়েছে—১১দলীয় সম্ভবনাময়ী সমঝোতা ত্যাগ করেছে। আসন কম পেয়েছে, হাস্যরসের পাত্র হয়েছে, ট্যাগিং করা হচ্ছে। চোখ বন্ধ করে ভাবুন—যদি শ রী য়াহকে সরাসরি অস্বীকারের মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ক্ষমতার পিছনে ছুটতো তবে এদেশে শ রী য়াহকে নিয়ে কথা কে বলতো?
তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে—তারা কৌশল অবলম্বন করছে, আমরা বলছি—আপনারা কৌশল করুন, আমরা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, নচেৎ সবকিছু ধুলোয় মিশে যাবে, সাধারণ মানুষ কৌশল বুঝবে না, বুঝবে বাহ্যিক আচরণ।
হাতে পায়ে ধরে বলি, সতর্ক হোন। এই দেশ আমাদের বড্ড প্রিয়। এই দেশটা কেবল আপনার নয়, এই দেশ ৩৬০জন আউলিয়াদেরও, পীর-মাশায়েখদেরও, ওলামাদের, ইসলামের। এখানে আপনি ইসলাম না মানুন সমস্যা নেই, কিন্তু মডারেট ইসলামের প্রসার ঘটাবেন না—আল্লাহ সহ্য করবে না।
সোহেল তানভির