30/06/2026
#সচেতনতামূলক #পোস্ট #জনস্বার্থে #বিটুমিনাস #কার্পেটিং
না জেনে সমালোচনা নয়: কার্পেটিংয়ের টেকনিক্যাল সত্যটা আমাদের জানা দরকার
ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, রাস্তায় কার্পেটিং (পিচ ঢালাই) করার পরপরই অনেকে হাত বা লাঠি দিয়ে তা টেনে তুলে ফেলছেন এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে সস্তা ভিউ পাওয়ার জন্য অনেক সময় না বুঝেই এই ধরনের ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এর পেছনের আসল বিজ্ঞান বা কারিগরি বিষয়টি আমাদের বোঝা উচিত।
১. কার্পেটিং শুকাতে ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগে:
একটি রাস্তা কার্পেটিং করার পর ভেতরের বিটুমিন (পিচ) এবং পাথরের বন্ডিং বা জোড়া সম্পূর্ণভাবে সেট হতে এবং ভেতরের আর্দ্রতা শুকিয়ে পাথরগুলো একে অপরের সাথে নিখুঁতভাবে লক হতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগে।
২. কাঁচা অবস্থায় হাত দেওয়া ঠিক কাঁচা মাটির হাঁড়ি ভাঙার মতো:
যখন রাস্তায় গরম পিচ (প্রায় ১৩০°-১৫০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা) ঢেলে রোলার দেওয়া হয়, তখনো বিটুমিন তরল এবং অত্যন্ত নরম থাকে। রোলার দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও যদি সেখানে কেউ খোঁচায়, তবে খুব স্বাভাবিকভাবেই কার্পেটিং উঠে আসবে। এটা ঠিক একটা কাঁচা মাটির হাঁড়ি শুকানোর আগে হাত দিয়ে চেপে ভেঙে ফেলার মতো। পুরোপুরি ঠান্ডা এবং শক্ত হওয়ার জন্য রাস্তাটিকে ন্যূনতম সময় দিতে হবে।
৩. সঠিক পরীক্ষার নিয়ম হাত দিয়ে টানা নয়:
কাজের মান আসলেই খারাপ কিনা, তা পরীক্ষা করার বৈজ্ঞানিক নিয়ম হলো কাজ শেষ হওয়ার পর কোর কাটিং মেশিন (Core Cutting Machine) দিয়ে রাস্তার নমুনা কেটে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা। গরম বা কাঁচা কার্পেটিং হাত দিয়ে টেনে তুলে কাজের মান বিচার করা যায় না।
আমাদের করণীয়:
উন্নয়নমূলক কাজ টেকসই করতে হলে আমাদেরও সচেতন হতে হবে। কার্পেটিং করার পর অন্তত প্রথম কয়েকদিন রাস্তাটিকে সম্পূর্ণ শুকাতে দিন এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের সহযোগিতা করুন। না জেনে হুজুগে মেতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।
#এলজিইডি #হবিগঞ্জ এর আওতায় কোনো সড়কে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে আমাদেরকে সরাসরি জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হলো। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কেউ নিজেরা কার্পেটিং হাত দিয়ে উঠাবেন না। সবাইকে ধন্যবাদ।
#ছবি #প্রতীকী