United People's Democratic Front - UPDF

United People's Democratic Front - UPDF A political party based In the Chittagong Hill Tracts, Bangladesh.

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬‘পার্বত্য চট্টগ্রামে’ ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম দিবসে ইউপিডিএফ-এর আহ্বান: জাতিসত্তার সাংবি...
31/07/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬

‘পার্বত্য চট্টগ্রামে’ ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম দিবসে ইউপিডিএফ-এর আহ্বান:
জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘বিশেষ মর্যাদা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করুন
-------------------------------------------------

১৮৬০ সালের ১ আগস্ট ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী এক স্বৈরাচারি অধ্যাদেশ বলে স্বাধীন ‘পার্বত্য রাজ্যকে’ জেলায় রূপান্তরের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং উপমহাদেশে নানা রাজনৈতিক পালা বদল হলেও আজ অবধি পার্বত্য চট্টগ্রামে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ ও নিপীড়ন জারি রয়েছে।

উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার সুদূরপ্রসারী প্রভাব স্মরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সভাপতি প্রসিত খীসা উপরোক্ত মন্তব্য করে আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের উদ্দেশ্যে এক বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রদত্ত বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থায় ব্রিটিশদের অন্যায় হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন এবং পাহাড়িদের স্বাভাবিক বিকাশ ও অগ্রগতি রুদ্ধ করে দেওয়া, পরবর্তীতে জাতীয় পরিচিতির সংকট এবং অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হওয়ার জন্যও ব্রিটিশদের ঔপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠীকে দায়ী করেন।

বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে শাসন বলবৎ রয়েছে তা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনেরই ধারাবাহিক রূপ বলে মন্তব্য করে ইউপিডিএফ নেতা বলেন, ‘১৯৮০ দশকে সমতল জেলা থেকে চার লক্ষ অপাহাড়িকে স্থানান্তরিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেটলার উপনিবেশ স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে এই অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বসবাসরত পাহাড়ি জাতিগুলো নিজ মাতৃভূমিতে ক্রমে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে।’

প্রসিত খীসা বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের “ভাগ করে শাসন করার” ঔপনিবেশিক নীতি ধার করে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োগের কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘সরকার পাহাড়ি জনগণের একটি ক্ষুদ্র অংশকে আলঙ্কারিক ক্ষমতা ও সুবিধা দিয়ে বশীভূত করে অতঃপর তাদেরকে ব্যবহার করে আন্দোলন স্তব্ধ করতে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত সৃষ্টি করেছে। এর ফলে পাহাড়ি জাতিগুলোর অস্তিত্বের সংকট আজ তীব্রতর হয়েছে।’

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে নব্য-উপনিবেশিক শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য জনগণের ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অনতিবিলম্বে সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পার্বত্য অঞ্চলের ‘বিশেষ মর্যাদা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘জেলায় উন্নীতকরণ’ কথাটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের উদ্ভাবিত এবং তা সুস্পষ্ট ইতিহাস বিকৃতি বলে ইউপিডিএফ নেতা মন্তব্য করেন এবং এই একপাক্ষিক ও ঔপনিবেশিক ভাষ্যকে ফেরী না করতে বাংলাদেশ সরকারসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত: ইউপিডিএফ কী চায়- অংগ্য মারমা, সংগঠক, ইউপিডিএফ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর গত ২৮ বছর ধরে ইউপিডিএফ ও স...
21/07/2026

ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত: ইউপিডিএফ কী চায়

- অংগ্য মারমা, সংগঠক, ইউপিডিএফ

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর গত ২৮ বছর ধরে ইউপিডিএফ ও সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে আসছে। মূলত বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতি জনগণের ওপর এই সংঘাত চাপিয়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো জনসংহতি সমিতি ও তার সশস্ত্র সংগঠন শান্তিবাহিনীর আত্মসমর্পনের পর যাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে।

ইউপিডিএফ ও তার সহযোগি সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এই সংঘাতের বিরোধীতা করে আসছে। কারণ এই সংঘাত জনগণের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই তারা বার বার সংঘাত এড়িয়ে যেতে ও বন্ধ করতে চেয়েছে। ইউপিডিএফ চেয়েছে এবং এখনও চায়, জনগণের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তোলা। এই লক্ষ্যে ইউপিডিএফ জেএসএসের কাছে বার বার সংলাপ, ঐক্য ও সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছে। পোস্টার ছাপিয়ে, ইউপিডিএফের মুখপত্র স্বাধিকারে এবং বিভিন্ন বক্তব্য বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

যেমন, ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি স্বাধিকারে প্রকাশিত একটি আহ্বান হলো: জনসংহতি সমিতির প্রতি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর তিন দফা ঐক্য প্রস্তাব: ১) অচিরেই ইউপিডিএফ ও জনগণের ওপর আক্রমণ বন্ধ করা; ২) সরকারের বিরুদ্ধে ন্যুনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা; এবং ৩) ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্যে ইউপিডিএফ ও জেএসএস-সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল দেশপ্রেমিক শক্তিসমূহের সমন্বয়ে ‘জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট’ গড়ে তোলা। (স্বাধিকার, বুলেটিন নং ১৭)

উল্লেখ্য, উপেন্দ্র লাল চাকমাসহ তিন জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও দুই পার্টির মধ্যে ঐক্য ও সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। UNPO বা আনরিপ্রেজেন্টেড নেশনস এন্ড পিপলস অরগানাইজেশন নামের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনও উভয় দলের মধ্যে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিল। এই সংগঠনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি ১৯৯৮ সালে ইউপিডিএফ ও জেএসএসকে আলোচনায় বসানোর জন্য সুদূর ইউরোপ থেকে দু’বার ঢাকা ও রাঙ্গামাটি সফর করেছিলেন। কিন্তু জেএসএস নেতৃত্ব ইউএনপিও প্রতিনিধির কাছে সংলাপে বসার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষে তারা তাদের সেই কথা রাখেনি। ইউএনপিওর কাছে এটা ছিল জেএসএসের একটি বড় ধরনের প্রতারণা।

অথচ তখন যদি জেএসএস সুশীল সমাজ ও ইউএনপিওর মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে ইউপিডিএফের ঐক্যের প্রস্তাবে রাজী হতো এবং দুই পার্টির নেতৃত্বে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন গড়ে তোলা হতো, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আজ অন্য রকম হতো। সরকার কেবল চুক্তি বাস্তবায়ন নয়, জনগণের অধিকারের প্রশ্নে আরও অনেক বড় ছাড় দিতে বাধ্য হতো। পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসতো এবং পাহাড়ি জনগণ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি লাভ করতে পারতো।

কিন্তু জেএসএস (সন্তু) ঐক্য ও সমঝোতার পথ বেছে নেয়নি। তারা সরকারের সাথে মিলে ইউপিডিএফ নির্মূলের কর্মসূচি গ্রহণ করে। ফলে জাতির শত শত শ্রেষ্ঠ সন্তান এই সংঘাতে বলি হয় এবং জাতীয় অস্তিত্বের সংকট তীব্রতর হয়। ইউপিডিএফ ও জনগণের চাপ ও প্রতিরোধের কারণে জেএসএস দুর্বল ও কোণঠাসা হয়ে পড়লে ইউপিডিএফের সাথে চার বার সমঝোতা করতে বাধ্য হয় সত্য। কিন্তু নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করার পর তারা সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে। ফলে আবার নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং ইউপিডিএফ আবার জেএসএসের চাপিয়ে দেয়া সংঘাত মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়।

সরকার ও জেএসএসের অনেক চেষ্টা সত্বেও গত ২৮ বছরে ইউপিডিএফ ধ্বংস হয়নি, বরং শূন্য থেকে শুরু করে পার্টি আজ অনেক বেশি শক্তি অর্জন করেছে। অপরদিকে এই সময়ে জেএসএস ভেঙে দু’ টুকরো হয়ে গেছে এবং অনেক পুরোনো ও অভিজ্ঞ নেতাকর্মীরা দলত্যাগ করেছে অথবা নিষ্ক্রিয় হয়েছে। ফলে জেএসএস অনেক বেশী দুর্বল ও কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জেএসএস সন্তু গ্রুপের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, তারা সেনাবাহিনীর সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া টিকে থাকতে পারছে না।

এটা জানা দরকার, সন্তু লারমার জেএসএস ইউপিডিএফকে নির্মূল করতে চাইলেও, ইউপিডিএফের লক্ষ্য কখনই জেএসএসকে ধ্বংস করা নয়। ইউপিডিএফ চায় জেএসএসকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা।

২৮ বছর পরও জেএসএস সন্তু গ্রুপ তাদের ভুল নীতি পরিত্যাগ করেনি। এখনও তারা ইউপিডিএফকে নির্মূল করতে চায়। তারা জনগণের আকাঙক্ষা ও দাবি ঐক্য-সমঝোতার বিরোধী। তাদের এই অবস্থানের কথা তারা রাকঢাক না করে নেত্র নিউজকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে ঐক্য, সমঝোতা ও আন্দোলন প্রশ্নে ইউপিডিএফ তার আগের অবস্থানেই রয়েছে।

বলা বাহুল্য, জেএসএস সন্তু গ্রুপের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার নীতি ও কর্মসূচি হলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী এবং জনগণের শত্রুদের জন্য লাভজনক। অন্যদিকে ইউপিডিএফের ঐক্য ও সমঝোতার নীতি, দুই পার্টির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তাব জনগণের স্বার্থের পক্ষে।

ইতিহাসে এটা বার বার প্রমাণিত হয়েছে, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী, গণবিরোধী কোন কর্মসূচি কখনই সফল হয় না। যে দল বা সংগঠন এমন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা অবশেষে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। জেএসএস সন্তু গ্রুপও তাদের গণবিরোধী, জাতীয় স্বার্থ বিরোধী কর্মসূচি নিয়ে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদেরকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না, যদি না তারা তাদের নীতি ও কর্মসূচি দ্রুত পরিবর্তন না করে। (সমাপ্ত)

২১ জুলাই ২০২৬

সংঘাত বন্ধ করতে সন্তু গ্রুপকে চাপ দিন- নূতন কুমার চাকমা, সহসভাপতি, ইউপিডিএফ---------------------------------------------...
10/07/2026

সংঘাত বন্ধ করতে সন্তু গ্রুপকে চাপ দিন

- নূতন কুমার চাকমা, সহসভাপতি, ইউপিডিএফ
--------------------------------------------------

সংঘাতে রক্তাক্ত পাহাড় শিরোনামে (৯ জুলাই ২০২৬) নেত্র নিউজের ভিডিও প্রতিবেদনে স্পষ্ট জেএসএস সন্তু গ্রুপ ইপিডিএফের সাথে চলমান ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধ করতে চায় না। সন্তু গ্রুপের মুখপাত্র স্পষ্টভাবে বলেছেন, তারা সমঝোতার প্রস্তাবকে সন্দেহের চোখে দেখেন।

অপরদিকে ইউপিডিএফের নেতা মাইকেল চাকমা সমঝোতার ব্যাপারে ইউপিডিএফের ইতিবাচক মনোভাবের কথা তুলে ধরেছেন।

বস্তুতঃ শুরুতেই জেএসএস সন্তু গ্রুপ ইউপিডিএফ নির্মূলের কর্মসূচি গ্রহণ করে আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে আসছে। তারা এক বনে এক বাঘ থাকার ফ্যাসিস্ট নীতিতে বিশ্বাসী। সেজন্য তারা এই সংঘাত শুরু করে এবং এখনও জিইয়ে রেখেছে। যারা জেএসএসকে আলোচনা-সমঝোতার প্রস্তাব দেয় তাদের ওপরও সন্তু লারমা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হন। তার ব্রিটেন প্রবাসী প্রয়াত মামা রামেন্দু শেখর দেওয়ান ইউপিডিএফের সাথে আলোচনা করে সংঘাত বন্ধের পরামর্শ দিলে তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন বলে জানা যায়। কেবল লণ্ডনে নিঃসঙ্গ নিঃসহায় অবস্থায় মারা যাওয়ার পর জেএসএস সন্তু গ্রুপ রামেন্দু বাবুকে নিজের লোক বলে প্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তার আগে সন্তু লারমা তার কোন খোঁজ খবর নেননি, যদিও তিনি জেএসএসের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

সন্তু লারমার অপর এক মামা সম্পর্কীয় আত্মীয় সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মুকুর কান্তি খীসাও (বর্তমানে প্রয়াত) তাকে ইউপিডিএফের সাথে হানাহানি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। এই সুপরামর্শের কারণে সন্তু বাবু তার ওপরও চটে যান এবং ভদ্রলোক বহু বছর পর নিজ মাতৃভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে এসে সন্তু বাবুর সাথে দেখা করতে চাইলে তিনি তাকে সাক্ষাত দেননি। ইউপিডিএফের সাথে সমঝোতার ব্যাপারে তার এমনই ”ফারবান্যা” না।

অন্যদিকে ইউপিডিএফ শুরু থেকেই সংঘাত বন্ধের জন্য সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু জেএসএস নেতারা সেই আহ্বান কানে তোলেননি। তারা মনে করেছিলেন শক্তি প্রয়োগ করে তারা ইউপিডিএফকে ধ্বংস করতে পারবেন। তাদের এই একগুঁয়েমী ও একরোখা মনোভাবের কারণে ১৯৮০ দশকে জেএসএসে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এবং ফলশ্রুতিতে এন. এন. লারমা প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই একই কারণে বর্তমান ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত শুরু হয়েছে এবং এখনও চলমান রয়েছে।

সন্তু লারমা ইউপিডিএফের সাথে তখনই আলোচনায় বসতে ও সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছেন, যখন ব্যাপক গণপ্রতিরোধের ফলে তার দল কোণঠাসা ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০০৬, ২০০৭ ও ২০১৮ সালে দুই দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা তার প্রমাণ। এ সময়গুলোতে জেএসএস ঠেকায় পড়ে নিজেই ইউপিডিএফের কাছে আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে হাজির হতে বাধ্য হয়েছিল।

তবে বলে রাখা ভাল ২০০০ সালেও একবার উভয় দলের মধ্যে আলোচনা ও সমঝাতা হয়েছিল। সে সময় সন্তু লারমা ভারতে অবস্থান করছিলেন। খাগড়াছড়িতে থাকা তার দলের অন্যান্য নেতারা তার অনুমতি না নিয়ে সেই সমঝোতা করেছিলেন। তবে সন্তু লারমা এ খবর জানতে পেরে সেই সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ইউপিডিএফের ওপর হামলা অব্যাহত রাখেন।

নেত্র নিউজের উক্ত প্রতিবেদনে জুমলিয়ান আমলাইয়ের সাক্ষাতকারও অন্তর্ভুক্ত আছে। তিনি নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে দুই পার্টির মধ্যে বোঝাপড়া হলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্যের সাথে ইউপিডিএফ সম্পূর্ণ একমত। বস্তুতঃ ইউপিডিএফ ২০০০ সাল থেকে এজেন্ডার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা বলে আসছে। এমনকি চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। কিন্তু জেএসএস কোনমতেই রাজী হয়নি। সংঘাত ও বৈষম্য বিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও ২০২৪ সালে হাসিনার পতনের পর চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু জেএসএসের সন্তু লারমার অংশ তাতে প্রবলভাবে বাধা দেয় এবং সেনা গোয়েন্দাদের সাথে মিলে আন্দোলনের নেতাদের গলায় মিথ্যা মামলা ঝুলে দেন।

এখন যেহেতু নেত্র নিউজকে জেএসএস সন্তু গ্রুপ স্পষ্ট করে বলেছে তারা সংঘাত বন্ধের প্রস্তাবে রাজী নয়, তাই যারা হানাহানি বন্ধ ও সমঝোতার পক্ষে তাদের করণীয় ঠিক করার দরকার আছে। তবে এতদিন তারা যেভাবে উভয় দলের কাছে সংঘাত বন্ধের মামুলী আহ্বান জানিয়ে আসছেন সেই আহ্বান অচল হয়ে গেছে। এখন যে দল বা যে পক্ষ সংঘাত বন্ধ করতে চায় না, সেই দল বা সেই পক্ষের ওপরই সংঘাত বন্ধ ও সমঝোতার জন্য চাপ দিতে হবে।

যতদূর মনে আছে কয়েক বছর আগে মিজোরামের জনগণ সমাবেশে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যে দল সমঝোতা করতে চাইবে না, তাদেরকে মিজোরাম থেকে বের করে দেয়া হবে। (যদি ভুল হয় তাহলে দয়া করে সংশোধন করে দেবেন।) জেএসএসের ওপর চাপ দেয়ার জন্য তাদের অনেক লেভারেজ আছে। তারা এখন সেগুলো প্রয়োগ করতে পারেন।

মনে রাখা দরকার, শান্তি, সমঝোতা, ঐক্য আপনি এসে ধরা দেয় না। কেবল মনে মনে বা মুখে মুখে আকাঙ্ক্ষা করলেও তা পাওয়া যায় না। তার জন্য সংগ্রাম করতে হয়, অনেক চেষ্টা করতে হয়। আমরা জানি অনেকে বিশেষত জেএসএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যারা থাকেন তারা জেএসএসের ভয়ে ঐক্য ও সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলতে পারে না। সেক্ষেত্রে ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল এবং মায়ানমারে বসবাসরত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরারা এগিয়ে আসতে পারেন।

এখানে একটি কথা বলা দরকার। ইউপিডিএফ নেতারা খেয়াল করেছেন, যখনই তারা জেএসএসের কাছে ঐক্য ও সমঝোতার প্রস্তাব দেন, তখন জেএসএস (সন্তু) নেতারা সেটাকে ইউপিডিএফের দুর্বলতা বলে মনে করেন এবং তাদের কর্মীদেরকে বলেন “এই দেখো, ইউপিডিএফ দুর্বল হয়েছে, আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। কয়েকটা আঘাতেই তারা শেষ হয়ে যাবে।” এ কারণে ইউপিডিএফ যখন তখন আর জেএসএসের কাছে আলোচনার প্রস্তাব দেয় না। ২০১৮ সালের সমঝোতা লঙ্ঘন করার পর দায়বদ্ধতার খাতিরে ইউপিডিএফ জেএসএসের কাছে দু’একবার বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু জেএসএস তাতে সাড়া না দেয়ায় এরপর ইউপিডিএফ আজ পর্যন্ত আর কোন আলোচনার প্রস্তাব পাঠায়নি।

তবে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততায় জেএসএসর সাথে আলোচনায় বসতে ইউপিডিএফ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।

(১০ জুলাই ২০২৬)

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ৬ জুলাই ২০২৬পানছড়ির ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি নয়, জেএসএস সন্তু গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ: ইউ...
06/07/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ৬ জুলাই ২০২৬

পানছড়ির ঘটনা দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি নয়, জেএসএস সন্তু গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ: ইউপিডিএফ
------------------------------

আজ ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার সকালে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে গুলিতে জেএসএস সন্তু গ্রুপের তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাকে ইউপিডিএফ ও জেএসএস সন্তু গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ফল হিসেবে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে যে দাবি করা হয়েছে, তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের মধ্যে সাধারণ কর্মীদের বিদ্রোহ থেকে এই ঘটনার উৎপত্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দলের ভেতরে বিভিন্ন অনিয়ম, বৈষম্য, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি চলতে থাকায় এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইউপিডিএফের সাথে সংঘাতে জড়াতে বাধ্য করানোর কারণে সন্তু গ্রুপের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। তারই ফলশ্রুতিতে আজ তাদের পাঁচ সদস্য বিদ্রোহ করে দলত্যাগ করতে চাইলে তাদের ওপর মধুমঙ্গল পাড়ায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ গুলি বর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে তিন জন মারা যায়, বাকি দুই জনকে বন্দী করা হয়।’

ইউপিডিএফ নেতা মনে করেন আজকের ঘটনাটি কোন সাধারণ ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এই ঘটনা সুবিধাবাদী ও আদর্শহীন রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত জেএসএস সন্তু গ্রুপের ভেতরে বড় ধরনের ভাঙনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তিনি যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার জন্য মিডিয়া কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ৩ জুলাই ২০২৬বান্দরবানের রেতলাং এলাকায় অভিযান নিয়ে আইএসপিআরের দাবি মিথ্যা ও বানোয়াট : ইউপিডিএফ-----...
03/07/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ৩ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের রেতলাং এলাকায় অভিযান নিয়ে আইএসপিআরের দাবি মিথ্যা ও বানোয়াট : ইউপিডিএফ
---------------------------------

গতকাল ২ জুলাই ২০২৬ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন দুর্গম রেতলাং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান নিয়ে প্রদত্ত বিবৃতিতে ইউপিডিএফকে জড়িয়ে যে দাবি করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে নাকচ করে দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, আইএসপিআরের বিবৃতিতে “গত ২৮ জুন ২০২৬ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি আভিযানিক দল কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল) এর একটি যৌথ গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা” করার যে দাবি করা হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর সাথে ইউপিডিএফের কোন সম্পৃক্ততা নেই। মূলত ইউপিডিএফের ওপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধির হীন উদ্দেশ্যে উক্ত ঘটনার সাথে ইউপিডিএফকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। গঠনলগ্ন থেকে দলটি মিছিল, সমাবেশসহ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই ইউপিডিএফকে বিশেষ টার্গেটে পরিণত করা হয়েছে।

ইউপিডিএফ নেতা বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন ইউপিডিএফকে তার ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ইউপিডিএফ জনগণকে সাথে নিয়ে গণআন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তিনি অবিলম্বে ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করার দাবি জানান। একই সাথে তিনি শাসকগোষ্ঠির অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২৬ জুন ২০২৬গুইমারায় ইউপিডিএফ সংগঠক ঝিমিত চাকমার ওপর সেনা-ঠ্যাঙাড়েদের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ-----...
26/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৬ জুন ২০২৬

গুইমারায় ইউপিডিএফ সংগঠক ঝিমিত চাকমার ওপর সেনা-ঠ্যাঙাড়েদের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ
----------------------------------

খাগড়াছড়ির গুইমারায় ইউপিডিএফ সংগঠক ঝিমিত চাকমার ওপর সেনাবাহিনী ও ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলা ও আহত অবস্থায় তাঁকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

আজ শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা উক্ত কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে অংগ্য মারমা অভিযোগ করে বলেন, আজ সকাল ৭টার দিকে গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পাইনং পাড়া এলাকায় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সেনাবাহিনী ও ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা ইউপিডিএফ সংগঠক ঝিমিত চাকমার ওপর অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে আহত অবস্থায় সেনারা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

ইউপিডিএফের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে অংগ্য মারমা বলেন, শাসকগোষ্ঠী ইউপিডিএফকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে নিকৃষ্টভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় খুনের পন্থা বেছে নিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত ইউপিডিএফ নেতা-কর্মীদের খুন, গ্রেফতারসহ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, অতীতেও ইউপিডিএফের ওপর নিষ্ঠুর আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু ইউপিডিএফের আন্দোলন দমন করা যায়নি। অন্যায় দমন-পীড়ন ও খুন-গুম করে জনগণের ন্যায্য দাবির আন্দোলন থেকে ইউপিডিএফকে বিরত রাখা যাবে না।

বিবৃতিতে অংগ্য মারমা ইউপিডিএফের ওপর চলমান রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঝিমিত চাকমাকে জনগণের নেতা আখ্যায়িত করে ইউপিডিএফ নেতা বলেন, ‘তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। কাজেই জনগণের নেতাকে জনগণকেই রক্ষা করতে হবে।’

তিনি অবিলম্বে ঝিমিত চাকমাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক
নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)



Amnesty International
UN Human Rights - Asia
UN Human Rights Council
Human Rights Watch

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২৫ জুন ২০২৬মাটিরাঙ্গায় তিন ইউপিডিএফ সদস্যকে আটকের নিন্দা ও প্রতিবাদ, নিঃশর্ত মুক্তির দাবি---------...
25/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৫ জুন ২০২৬

মাটিরাঙ্গায় তিন ইউপিডিএফ সদস্যকে আটকের নিন্দা ও প্রতিবাদ, নিঃশর্ত মুক্তির দাবি
--------------------------------

‎খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় সেনাবাহিনী কর্তৃক তিন ইউপিডিএফ সদস্যকে অন্যায়ভাবে আটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

‎আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ইউপিডিএফের তিন সদস্য হ্লাপ্রুসাই মারমা(৩০) তেজেন্দ্র চাকমা(২৭) ও বিশ্ব ত্রিপুরা(২৮) সাংগঠনিক কাজ শেষে গতকাল রাতে মাটিরাঙ্গা উপজেলার অন্তর্গত রেখুং পাড়ার এক গ্রামবাসীর বাড়িতে অবস্থান করে রাতযাপন করছিলেন। আজ ভোররাত আনুমানিক ৩:৩০টার সময় সেনাবাহিনীর মাটিরাঙ্গা জোন থেকে একদল সেনা সদস্য ওই বাড়িটি ঘেরাও করে তাদের তিন জনকে ঘুম থেকে তুলে অন্যায়ভাবে আটক করে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে চোখ-হাত বেঁধে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে তাদের ওপর অমানুষিক শারিরীক নির্যাতন চালানোর পর তাদেরকে থানায় হস্তান্তর হয়েছে।’

বিবৃতিতে অংগ্য মারমা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ইউপিডিএফের নেতা-কর্মীদেরকে অন্যায়ভাবে আটক, বিচার বহির্ভুত হত্যা ও নিপীড়ন-নির্যাতন করছে। এতে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।

তিনি শত দমন-পীড়নে চালিয়েও ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান গণআন্দোলন দমন করা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বলেন, সকল বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে ইউপিডিএফ আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর।

বিবৃতিতে তিনি অবিলম্বে ইউপিডিএফের ওপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বন্ধ করা, আটক তিন ইউপিডিএফ সদস্যকে নিঃশর্ত মুক্তি ও সেনাশাসন “অপারেশন উত্তরণ” প্রত্যাহারপূর্বক পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২৪ জুন ২০২৬দীঘিনালায় সন্তু গ্রুপ কর্তৃক ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার নিন্দা, খুনিদের গ্রেফতারের দাবি---...
24/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৪ জুন ২০২৬

দীঘিনালায় সন্তু গ্রুপ কর্তৃক ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার নিন্দা, খুনিদের গ্রেফতারের দাবি
--------------------------

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

আজ বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আজ দুপুর আনুমানিক ১২:৪৫টার দিকে চিনুমং মারমার পরিচালিত সশস্ত্র গ্রুপের কমান্ডার পূর্ণ প্রিয় চাকমার নেতৃত্বে জেএসএস(সন্তু)-এর ৫-৬ জনের একদল সশস্ত্র সদস্য সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় বাবুছড়া মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তার মোড় এলাকায় অতর্কিতে হানা দেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা সেখানে সাংগঠনিক কাজে অবস্থানরত ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়| এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

নিহত ইউপিডিএফ সদস্যের নাম সুজন চাকমা (৪৮), পিতা- বিনন্দ মোহন চাকমা। তিনি কবাখালি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের তারাবন্যা গ্রামের বাসিন্দা।

সুজন চাকমাকে হত্যার পর সন্ত্রাসীরা সাধনাটিলা রাস্তা হয়ে জারুলছড়ি সেনা ক্যাম্পের পাশ দিয়ে ধনপাদার দিকে চলে যায় বলে স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও কাপুরুষোচিত উল্লেখ করে অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান গণআন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও সন্তু লারমার যোগসাজশে ইউপিডিএফের ওপর হামলা ও নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। দীঘিনালা ঘটনার আগে সকালে রামগড়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক এক ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা ও আরেক সদস্যকে আহত অবস্থায় আটকের ঘটনা তা আরো বেশি স্পষ্ট হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ইউপিডিএফকে দমিয়ে রাখা যাবে না মন্তব্য করে অবিলম্বে সুজন চাকমার খুনি সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২৪ জুন ২০২৬রামগড়ে ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা-হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ----------...
24/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৪ জুন ২০২৬

রামগড়ে ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর সেনাবাহিনীর হামলা-হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ
------------------

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা আজ বুধবার (২৪ জুন ২০২৬) এক বিবৃতিতে রামগড়ে সেনাবাহিনী কর্তৃক এক ইউপিডিএফ কর্মীকে গুলি করে হত্যা ও অপর এক সদস্যকে আহত অবস্থায় আটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ সকাল ১০টার সময় রামগড় উপজেলার প্রেমতলা নামক স্থানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সেনাদের গুলিতে ববিন ত্রিপুরা (৩২) নামে একজন নিহত হয় ও মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯) নামে একজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে অংগ্য মারমা উক্ত ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী এ ধরনের বিচার বহির্ভুত অমানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তবে যতই দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড চালানো হোক না কেন ইউপিডিএফের নেতৃত্বে সংগঠিত গণআন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।

তিনি “সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি ও অস্ত্র উদ্ধারের” দাবিকে মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে তা নাকচ করে দেন।

ইউপিডিএফ নেতা অবিলম্বে ইউপিডিএফের ওপর রাজনৈতিক দমন পীড়ন বন্ধ, উক্ত খুনের ঘটনায় জড়িত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আটক ইউপিডিএফ সদস্যকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতারিখ: ২১ জুন ২০২৬মাটিরাঙ্গায় বাঙালি শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ইউপিডিএফ জড়িত নয়-----------------------...
21/06/2026

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২১ জুন ২০২৬

মাটিরাঙ্গায় বাঙালি শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ইউপিডিএফ জড়িত নয়
------------------------------------

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার যৌথখামার এলাকায় গতকাল রাতে এক বাঙালি শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সাথে ইউপিডিএফকে জড়িয়ে ‘সাউথইস্ট এশিয়া জার্নাল’সহ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে যে খবর প্রকাশ করা হয়েছে তা সত্য নয় এবং এ ধরনের কোন ঘটনার সাথে ইউপিডিএফের ন্যূনতম সংশ্লিষ্টা নেই বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির খাগড়াছড়ি ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা।

আজ রবিবার (২১ জুন ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোন ঘটনা ঘটলে সঠিক তদন্ত ছাড়াই ইউপিডিএফকে জড়ানো একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।ইউপিডিএফের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে রাষ্ট্রীয় একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘৃণ্য অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

তিনি মাটিরাঙ্গায় গুলির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ইউপিডিএফের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ করার দাবি জানান। একই সাথে তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার না করে সঠিক ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রচারের জন্য সকল সংবাদ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্তা প্রেরক

নিরন চাকমা
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)

Address

Swanirbhor Bazzar
Khagrachari
4400

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when United People's Democratic Front - UPDF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share