30/06/2026
বিবৃতি:
প্রয়াত মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকীতে সদর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর বিবৃতি-
বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কৃষিভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম অগ্নিকন্যাখ্যাত বীর মুক্তিযোদ্ধা বেগম মতিয়া চৌধুরী।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী হিসেবে প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগ্রাম, ত্যাগ, আদর্শ এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—প্রতিটি পর্যায়ে রেখে গেছেন তাঁর দৃঢ়তা, সততা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার স্বাক্ষর।
ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাত্তোর রাষ্ট্রগঠন, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ছিল তাঁর সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা। প্রতিবাদী উচ্চারণ, আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বরের জন্যই তিনি মানুষের কাছে 'অগ্নিকন্যা' নামে পরিচিতি লাভ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কৃষিমন্ত্রী হিসেবে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচি, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিখাতকে আরও সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। কৃষিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন, আদর্শের প্রতি আপসহীন অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা—এসব গুণ তাঁকে সমকালীন রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এই প্রজ্ঞাবান এই রাজনীতিবিদকে।
মহান আল্লাহ তা'য়ালা বেগম মতিয়া চৌধুরীকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। আমিন।
পারভীন ইলিয়াস
সভানেত্রী,
সদর থানা মহিলা আওয়ামী লীগ।