11/06/2026
বিবৃতি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের প্রতীক। এই আন্দোলনের মূল চেতনা ধারণ ও লালন করে আসছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যা শুরু থেকেই জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার।
সম্প্রতি সীমিত পরিসরে কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে একটি নতুন সংগঠন ও কমিটি গঠনের উদ্যোগ আমাদের নজরে এসেছে। জুলাইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে উঠতেই পারে—এটি গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে প্রশ্ন হলো, সেই উদ্যোগ কতটা প্রতিনিধিত্বশীল, কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কতটা জাতীয় পরিসরের। কোনো উদ্যোগ যদি কেবল একটি রাজনৈতিক ধারা, গোষ্ঠী বা সংগঠনের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে, তাহলে তা জুলাইয়ের সার্বজনীন চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
খুলনায় ঘোষিত সাম্প্রতিক কমিটির ক্ষেত্রেও আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এটি বৃহত্তর ছাত্রসমাজ ও আন্দোলনের অংশীজনদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই গঠন করা হয়েছে। ফলে বহু সক্রিয় ছাত্রনেতা, সংগঠক ও আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষ ও প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। একটি গণআন্দোলনের উত্তরাধিকার বহনকারী কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে, তবে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, উক্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল ও সমন্বিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। এটি মূলত কিছু ব্যক্তিকে পরিচিতি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়। আমরা এই প্রক্রিয়ার প্রতি স্পষ্ট আপত্তি ও নিন্দা জানাই।
আমরা পুনরায় বলতে চাই—জুলাই কারও একার নয়, জুলাই সবার। জুলাই কোনো দলীয় ব্র্যান্ড নয়, এটি জনগণের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও আকাঙ্ক্ষার নাম। তাই জুলাইয়ের নামে যেকোনো উদ্যোগকে অবশ্যই অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সর্বস্তরের সহযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।
জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাসী সকল সহযোদ্ধা, ছাত্র-জনতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সংগ্রামী অভিনন্দন।
জুলাই সার্বজনীন। জুলাই গণমানুষের। জুলাই বাংলাদেশের।