Ebar Hobei - এবার হবেই

Ebar Hobei - এবার হবেই Content Creator | Public Speaker | Mind Trainer

📩 Brand deals & collaborations:

[email protected]
(3)

25/07/2026

ভিডিও মিস করছেন ?

“একদিন আপনিও টাক (মাথা মুণ্ডন) হবেন… মুখে থাকবে তৃপ্তির হাসি, আর চোখ ভিজে যাবে কৃতজ্ঞতার অশ্রুতে।”একটা প্রশ্ন করি…আপনি ক...
24/07/2026

“একদিন আপনিও টাক (মাথা মুণ্ডন) হবেন… মুখে থাকবে তৃপ্তির হাসি, আর চোখ ভিজে যাবে কৃতজ্ঞতার অশ্রুতে।”

একটা প্রশ্ন করি…

আপনি কি কখনো কল্পনা করেছেন—একদিন ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলতে বলতে আপনার চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি ঝরছে?

ইয়াসিনের খুব সাধারণ একটি স্বপ্ন ছিল।

বড় বাড়ি নয়।

দামী গাড়ি নয়।

শুধু একবার—

আল্লাহর ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কাবা শরীফের দিকে তাকাবে।

কিন্তু মানুষ তাকে নিয়ে হাসত।

“এই আয়ে হজ্জ? আগে সংসার চালাও!”

সে হাসত।

কারণ সে জানত,

যিনি ডেকে নেন, তিনিই ব্যবস্থা করে দেন।

প্রতিটি নামাজের পর সে একটি ছোট্ট দোয়া করত—

“হে আল্লাহ, যদি আমার জন্য কল্যাণ হয়, একদিন আমাকে আপনার ঘরের মেহমান বানিয়ে নিন।”

বছর কেটে গেল।

অনেক পরিকল্পনা ভেঙে গেল।

কিন্তু দোয়াটা ভাঙল না।

একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে এমন একটি সুযোগ এলো, যা সে কল্পনাও করেনি।

সব কাগজপত্র সহজ হয়ে গেল।

অর্থের ব্যবস্থাও হয়ে গেল।

আর কয়েক মাস পর সে দাঁড়িয়ে আছে মক্কার পবিত্র ভূমিতে।

প্রথমবার কাবা শরীফ দেখার মুহূর্তে তার মুখে কোনো কথা ছিল না।

শুধু চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল।

হজ্জের দিনগুলো শেষ হলো।

মাথার চুল মুণ্ডন করার সময় আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে সে হেসে ফেলল।

মাথায় আর চুল নেই… কিন্তু হৃদয়টা যেন আগের চেয়ে অনেক বেশি পূর্ণ।

তার মনে হচ্ছিল,

আজ আমি কিছু হারাইনি। বরং আমার গুনাহ ঝরে পড়ার আশায়, আমার অহংকার ঝরে পড়ার আশায়, আমি নিজেকে আল্লাহর কাছে আরও বিনয়ী করে দিলাম।

তার মনে পড়ল রাসূল ﷺ-এর সেই সুসংবাদ—

“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ্জ করল, অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে বিরত থাকল, সে এমন অবস্থায় ফিরে আসে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।”
— সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

ফেরার পথে সবাই তাকে জিজ্ঞেস করছিল,

“হজ্জে সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত কোনটা ছিল?”

সে বলল,

“কাবা দেখা নয়… আরাফায় দাঁড়ানোও নয়… আমার সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত ছিল, যখন মাথার শেষ চুলটাও পড়ে যাচ্ছিল আর মনে হচ্ছিল—হে আল্লাহ, আমার অহংকারটাও যদি এভাবেই ঝরে যেত!”

হজ্জ শুধু একটি সফর নয়; এটি আত্মাকে নতুন করে গড়ে তোলার এক অসাধারণ ইবাদত। ইহরামের সাদা কাপড় আমাদের কাফনের কথা মনে করিয়ে দেয়, আর মাথা মুণ্ডন আমাদের শেখায়—আল্লাহর সামনে অহংকারের কোনো স্থান নেই। তাই একজন মুমিনের হৃদয়ে যদি একদিন আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার আকাঙ্ক্ষা জন্মায়, সেটিও একটি বড় নিয়ামত।

আপনারও কি এমন একটি দোয়া আছে—যেটা আপনি প্রতিটি নামাজের পর করেন, “হে আল্লাহ, একদিন আমাকে আপনার ঘরের মেহমান বানিয়ে নিন”?

“সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দেখুন… মনটা কেমন বদলে যায়!”একটা প্রশ্ন করি…আপনার দিনটা কী দিয়ে শুরু হয়—...
21/07/2026

“সকালে ঘুম থেকে উঠেই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দেখুন… মনটা কেমন বদলে যায়!”

একটা প্রশ্ন করি…

আপনার দিনটা কী দিয়ে শুরু হয়—মোবাইল দিয়ে, নাকি আল্লাহকে স্মরণ করে?

তানভীরের প্রতিটি সকাল একই রকম ছিল।

ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিত।

নোটিফিকেশন।

ফেসবুক।

খবর।

কাজের চিন্তা।

দিন শুরু হওয়ার আগেই তার মনটা অদ্ভুত ভারী হয়ে যেত।

সারাদিন বিরক্তি, অস্থিরতা আর অজানা এক চাপ তাকে ঘিরে থাকত।

একদিন তার দাদা তাকে বললেন,

“কাল সকালে একটা কাজ করবে?”

তানভীর বলল,

“কী কাজ?”

দাদা বললেন,

“ঘুম থেকে উঠে পাঁচ মিনিটের জন্য ফোনটা ছুঁয়ো না। আগে ওযু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে। তারপর আল্লাহর কাছে যা ইচ্ছা বলবে। এরপর চাইলে ফোন দেখো।”

তানভীর খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি।

তবুও পরদিন চেষ্টা করল।

ওযু করল।

দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ল।

সিজদায় গিয়ে শুধু বলল—

“হে আল্লাহ, আজকের দিনটা আপনার সন্তুষ্টির মতো কাটানোর তাওফিক দিন।”

সেদিন কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার ভেতরটা অনেক হালকা লাগছিল।

কয়েক দিন পর সে বুঝতে পারল—

দিন বদলায়নি,

দিন শুরু করার পদ্ধতি বদলেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

“জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।”
— সূরা আর-রা’দ, ১৩:২৮

তানভীর এরপর প্রতিদিন সকালে এই ছোট্ট আমলটি চালিয়ে যেতে লাগল।

সে দেখল,

রাগ কমছে।

দুশ্চিন্তা কমছে।

সিদ্ধান্ত নিতে সহজ লাগছে।

সব সমস্যা শেষ হয়ে যায়নি,

কিন্তু সমস্যার মাঝেও তার হৃদয়ে এক ধরনের প্রশান্তি চলে এসেছে।

সকালে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়লেই সারাদিন আর কোনো সমস্যা থাকবে—এমন প্রতিশ্রুতি ইসলাম দেয় না। তবে দিনের শুরুটা যদি আল্লাহর স্মরণ, নামাজ ও দোয়া দিয়ে হয়, তাহলে হৃদয় প্রশান্ত হওয়া এবং আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়া একজন মুমিনের জন্য বড় নিয়ামত। অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন শুরু হয় দিনের প্রথম কয়েক মিনিট থেকেই।

আগামীকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে পাঁচ মিনিটের জন্য মোবাইলটা দূরে রেখে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন? তারপর নিজেই দেখবেন, আপনার সকালটা আগের মতো থাকে কি না।

“ভাবুন তো, কেমন লাগবে… তাহাজ্জুদে কেঁদে যা চাইলেন, সকাল হতেই আল্লাহ তার দরজা খুলে দিলেন?”একটা প্রশ্ন করি…শেষ কবে আপনি এম...
21/07/2026

“ভাবুন তো, কেমন লাগবে… তাহাজ্জুদে কেঁদে যা চাইলেন, সকাল হতেই আল্লাহ তার দরজা খুলে দিলেন?”

একটা প্রশ্ন করি…

শেষ কবে আপনি এমনভাবে আল্লাহর কাছে কেঁদেছিলেন, যেখানে আপনার চোখের পানি ছাড়া আর কোনো ভাষা ছিল না?

সাব্বিরের জীবনে সেই রাতটা ছিল সবচেয়ে কঠিন।

তার বাবা হাসপাতালের বেডে।

ডাক্তার বলেছিলেন, ভোরের আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আত্মীয়-স্বজন সবাই উদ্বিগ্ন।

কিন্তু সাব্বিরের হাতে আর কিছুই ছিল না।

রাতের শেষ ভাগে সে হাসপাতালের ছোট্ট নামাজঘরে গেল।

দুই রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ল।

সিজদায় গিয়ে শুধু বলল—

“হে আল্লাহ, আমি দুর্বল। আপনি সর্বশক্তিমান। যদি এতে কল্যাণ থাকে, আমার বাবাকে শিফা দিন। আর যদি আপনার ফয়সালা ভিন্ন হয়, তাহলে আমাকে তা মেনে নেওয়ার শক্তি দিন।”

সে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ল।

ফজরের কিছু পরেই একজন ডাক্তার এসে বললেন,

“আলহামদুলিল্লাহ, অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো।”

সাব্বিরের চোখ আবার ভিজে গেল।

কিন্তু এবার সে শুধু একটি কথাই বলল—

“আলহামদুলিল্লাহ।”

সেদিন সে বুঝল, সবচেয়ে বড় শক্তি কান্না নয়; সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সেই কান্না আল্লাহর সামনে করা।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

“প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন: ‘কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?’”
— সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

হ্যাঁ, এমনও হতে পারে—বান্দা রাতে তাহাজ্জুদে কেঁদে দোয়া করল, আর সকালেই আল্লাহ তার জন্য সমাধানের দরজা খুলে দিলেন। আবার এমনও হতে পারে, আল্লাহ আরও পরে কবুল করলেন, অথবা অন্যভাবে এমন কিছু দিলেন যা বান্দার জন্য আরও উত্তম। একজন মুমিনের আশা কখনো শেষ হয় না, কারণ সে জানে—আল্লাহ কোনো আন্তরিক দোয়া বৃথা যেতে দেন না।

তাই ভাবুন তো… যদি আজ রাতের তাহাজ্জুদ আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সকালটির শুরু হয়ে যায়—আপনি কি সেই দুই রাকাতের জন্য ঘুম থেকে উঠবেন?

20/07/2026

আপনার পছন্দ ?

“মাঝে মাঝে গোপনে দান করুন, মন খারাপ হলে জিকির করুন… তাঁকে পেয়ে গেলে আর কী চাই?”একটা প্রশ্ন করি…আপনি কি কখনো এমন কাউকে দ...
20/07/2026

“মাঝে মাঝে গোপনে দান করুন, মন খারাপ হলে জিকির করুন… তাঁকে পেয়ে গেলে আর কী চাই?”

একটা প্রশ্ন করি…

আপনি কি কখনো এমন কাউকে দেখেছেন, যার সব সমস্যা শেষ হয়ে গেছে?

আরমান অনেক দিন ধরে একটি কথাই বলত—

“আল্লাহ, আমার জীবনটা সহজ করে দিন।”

তার জীবনে একটার পর একটা সমস্যা ছিল।

কখনো অর্থের টানাপোড়েন।

কখনো পারিবারিক অশান্তি।

কখনো মন খারাপ।

সে ভাবত, “যেদিন সব সমস্যা শেষ হবে, সেদিন আমি শান্তি পাব।”

একদিন মসজিদের এক বৃদ্ধ তাকে বললেন,

“শান্তি সমস্যাহীন জীবনে নয়, আল্লাহর নৈকট্যে।”

কথাটা আরমান বুঝতে পারল না।

বৃদ্ধ তাকে শুধু দুটি আমল করতে বললেন।

“মাঝে মাঝে এমনভাবে দান করবে, যেন তোমার ডান হাত যা দিল, বাম হাতও না জানে। আর মন খারাপ হলেই মানুষের কাছে অভিযোগ না করে আল্লাহর জিকির করবে।”

রাসূল ﷺ বলেছেন, সাত শ্রেণির মানুষ কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে। তাদের একজন হলেন সেই ব্যক্তি—

“যিনি এত গোপনে দান করেন যে, তাঁর ডান হাত যা ব্যয় করেছে, বাম হাতও তা জানে না।”
— সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

আর আল্লাহ তাআলা বলেন—

“জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।”
— সূরা আর-রা’দ, ১৩:২৮

সেদিন থেকে আরমান বদলে গেল।

প্রতি মাসে সামর্থ্য অনুযায়ী গোপনে কাউকে সাহায্য করত।

কেউ জানত না।

ফেসবুকে কোনো ছবি দিত না।

কারও প্রশংসাও চাইত না।

আর যখনই মনটা ভেঙে যেত, সে বলত—

“সুবহানাল্লাহ… আলহামদুলিল্লাহ… আল্লাহু আকবার… আস্তাগফিরুল্লাহ…”

কয়েক মাস পর তার এক বন্ধু বলল,

“তোর তো এখনও অনেক সমস্যা আছে। তবুও তুই এত শান্ত থাকিস কীভাবে?”

আরমান হেসে বলল,

“আগে আমি আল্লাহর কাছে শুধু সমস্যা দূর করতে চাইতাম। এখন আমি আল্লাহকেই চাই। আর তাঁকে পেয়ে গেলে সমস্যাগুলো আগের মতো বড় মনে হয় না।”

গোপন দান মানুষের ইখলাসকে রক্ষা করে, আর জিকির হৃদয়কে জীবিত রাখে। এগুলো এমন আমল নয়, যা করলে পৃথিবীতে আর কোনো পরীক্ষা থাকবে না। কিন্তু এগুলো এমন আমল, যা পরীক্ষার মাঝেও একজন মুমিনকে প্রশান্ত থাকতে শেখায়। কারণ যখন বান্দার হৃদয় আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন দুনিয়ার অনেক কষ্টই ছোট মনে হতে শুরু করে।

আপনি আজ যদি কাউকে না জানিয়ে একটি গোপন দান করেন, আর মন খারাপের সময় অভিযোগের বদলে জিকির করেন—তাহলে হয়তো সমস্যার আগে আপনার হৃদয়টাই বদলাতে শুরু করবে। আপনি কি আজ থেকেই শুরু করবেন?

“টানা ৪০ দিন দুরুদ পড়ে দেখুন… ভাগ্য বদলাবে বলছি না, কিন্তু আপনার জীবনটা বদলাতে শুরু করতে পারে।”একটা প্রশ্ন করি…কেন জানে...
20/07/2026

“টানা ৪০ দিন দুরুদ পড়ে দেখুন… ভাগ্য বদলাবে বলছি না, কিন্তু আপনার জীবনটা বদলাতে শুরু করতে পারে।”

একটা প্রশ্ন করি…

কেন জানেন, আমি ৪০ দিনের কথা বলছি?

কারণ অনেকেই বলেন, কোনো ভালো কাজ নিয়মিত করতে থাকলে ধীরে ধীরে সেটি অভ্যাসে পরিণত হয়। কারও ক্ষেত্রে ২১ দিন লাগে, কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি। তাই আমি ৪০ দিনের কথা বলছি—কোনো শরয়ি সংখ্যা হিসেবে নয়, বরং ধারাবাহিকতা গড়ে তোলার জন্য।

রিফাতের গল্পটা শুনুন।

সে প্রতিদিন নতুন নতুন আমল শুরু করত।

আজ দুরুদ।

কাল ইস্তিগফার।

পরশু তাহাজ্জুদ।

কিন্তু তিন-চার দিনের বেশি কোনো আমলই টিকত না।

একদিন একজন আলেম তাকে বললেন,

“আমল বেশি নয়, ধারাবাহিকতা বেশি জরুরি।”

তিনি রাসূল ﷺ-এর একটি হাদিস শোনালেন—

“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, যে আমল নিয়মিত করা হয়—যদিও তা অল্প হয়।”
— সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম

সেদিন রিফাত সিদ্ধান্ত নিল,

“আমি ৪০ দিন প্রতিদিন দুরুদ পড়ব। কোনো অলৌকিক ঘটনা দেখার জন্য নয়; বরং নিজেকে নিয়মিত করার জন্য।”

প্রথম সপ্তাহে বারবার ভুলে যেত।

দ্বিতীয় সপ্তাহে অ্যালার্ম দিয়ে পড়ত।

তৃতীয় সপ্তাহে মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন কমে গেল।

একসময় দুরুদ তার প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেল।

আর তখন সে লক্ষ্য করল—

তার রাগ আগের মতো নেই।

দোয়ায় মনোযোগ বেড়েছে।

নামাজে খুশু বেড়েছে।

অস্থিরতা কমেছে।

কয়েক মাস পর আল্লাহ তার রিজিকেরও নতুন দরজা খুলে দিলেন।

রিফাত তখন বলল,

“হয়তো পরিবর্তন শুরু হয়েছিল যেদিন আমি দুরুদ পড়া শুরু করিনি; বরং যেদিন আমি সেটাকে নিয়মিত করা শুরু করেছিলাম।”

৪০ দিন কোনো জাদুকরী সংখ্যা নয়, আর দুরুদ পড়লে ৪০ দিনেই রিজিক বদলে যাবে—এমন প্রতিশ্রুতিও ইসলাম দেয় না। কিন্তু একটি ভালো আমলকে ধারাবাহিকভাবে জীবনের অংশ বানানো একজন মুমিনকে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী করে। আর যখন দুরুদ, নামাজ, ইস্তিগফার, হালাল উপার্জন এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল একসঙ্গে থাকে, তখন আল্লাহ তাঁর হিকমত অনুযায়ী বান্দার জীবনে এমন পরিবর্তন আনতে পারেন, যা সে আগে কল্পনাও করেনি।

আপনি কি আজ থেকেই নিজের জন্য একটি ৪০ দিনের দুরুদ চ্যালেঞ্জ শুরু করবেন—অলৌকিক কিছু দেখার জন্য নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার জন্য?

20/07/2026

হবে বললেই হয় না , হওয়াতে হয় 😊

“ইখলাসটা ঠিক রাখুন, নিয়মিত দুরুদ পড়ুন… হুট করে একদিন দেখবেন, আল্লাহ এমনভাবে কবুল করেছেন যা আপনি ভাবতেও পারেননি।”একটা প...
19/07/2026

“ইখলাসটা ঠিক রাখুন, নিয়মিত দুরুদ পড়ুন… হুট করে একদিন দেখবেন, আল্লাহ এমনভাবে কবুল করেছেন যা আপনি ভাবতেও পারেননি।”

একটা প্রশ্ন করি…

আপনি কি দোয়া করেন আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, নাকি শুধু দুনিয়ার কোনো জিনিস পাওয়ার জন্য?

মুস্তাকিমের একটি দোয়া ছিল।

প্রায় তিন বছর ধরে সে একই দোয়া করে আসছিল।

প্রতিটি নামাজের পর।

তাহাজ্জুদে।

সিজদায়।

কিন্তু কিছুই যেন হচ্ছিল না।

একদিন সে খুব হতাশ হয়ে বলল,

“হয়তো আমার দোয়া আর কবুল হবে না।”

সেদিন তার এক শিক্ষক তাকে বললেন,

“দোয়া করার আগে একটি জিনিস ঠিক করো—তোমার ইখলাস।”

মুস্তাকিম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“ইখলাস?”

তিনি বললেন,

“তুমি কি আল্লাহকে ভালোবেসে তাঁর কাছে চাইছ, নাকি শুধু নিজের চাওয়াটাকেই ভালোবেসে বসে আছ?”

এই কথাটি তার হৃদয়ে গেঁথে গেল।

সেদিন থেকে সে নিজের নিয়ত বদলাতে শুরু করল।

সে বলত,

“হে আল্লাহ, আমি এই জিনিসটি চাই। কিন্তু এর চেয়েও বেশি চাই—আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। যদি এতে আমার কল্যাণ থাকে, তবে আমাকে দিন। আর যদি না থাকে, তাহলে আমাকে উত্তম কিছু দান করুন এবং আপনার ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক দিন।”

পাশাপাশি সে প্রতিদিন নিয়মিত দুরুদ পড়তে শুরু করল।

শুধু কোনো দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে নয়,

রাসূল ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা থেকে।

দোয়ার আগে দুরুদ।

দোয়ার পরে দুরুদ।

হাঁটতে হাঁটতে দুরুদ।

অপেক্ষার সময় দুরুদ।

দিন কেটে গেল।

মাস কেটে গেল।

একদিন হঠাৎ এমন একটি দরজা খুলে গেল, যেটার কথা সে কখনো কল্পনাও করেনি।

তার পুরোনো দোয়াটিও আল্লাহ কবুল করলেন।

কিন্তু সে তখন কাঁদছিল অন্য কারণে।

সে বলছিল,

“হে আল্লাহ, আগে আমি শুধু আপনার কাছ থেকে কিছু চাইতাম। এখন আমি আপনাকেও চাই।”

তখন তার শিক্ষক হাসলেন এবং বললেন,

“দেখেছ? আল্লাহর দরবারে কোনো আন্তরিক দোয়া হারিয়ে যায় না। কখনো সঙ্গে সঙ্গে উত্তর আসে, কখনো অপেক্ষার পর, আর কখনো আল্লাহ তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করেন।”

রাসূল ﷺ বলেছেন,

“যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাযিল করেন।”
— সহিহ মুসলিম

ইখলাস এমন একটি আমল, যা ছোট কাজকেও আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান করে তোলে। আর দুরুদ এমন একটি ইবাদত, যা মুমিনের হৃদয়ে রাসূল ﷺ-এর ভালোবাসা বাড়ায় এবং দোয়ার আদবকে পূর্ণতা দেয়। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোয়া কবুল হবেই—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। আল্লাহ তাঁর অসীম হিকমত অনুযায়ী সর্বোত্তম সময়ে এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে বান্দার দোয়ার জবাব দেন।

আজ যদি আপনার দোয়া এখনই কবুল না-ও হয়, তবুও কি আপনি একই ইখলাস নিয়ে আল্লাহর দরজায় কড়া নাড়তে থাকবেন?

Address

Khulna
Khulna

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ebar Hobei - এবার হবেই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share