বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, নেসকো, হাতীবান্ধা।

  • Home
  • Bangladesh
  • Lalmonirhat
  • বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, নেসকো, হাতীবান্ধা।

বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, নেসকো, হাতীবান্ধা। An Enterprise of Bangladesh Power Development Board, Ministry of Power, Energy and Mineral Resources

02/09/2026

স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বক্তব্য।

অভিযোগ–১০: "প্রিপেইড মিটারের কারণে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।"এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। অনেকেই বলেন—"যেদিন থ...
28/08/2026

অভিযোগ–১০: "প্রিপেইড মিটারের কারণে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।"

এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়। অনেকেই বলেন—
"যেদিন থেকে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে, সেদিন থেকেই লোডশেডিং বেড়ে গেছে।"
আবার কেউ বলেন—
"প্রিপেইড মিটার না থাকলে এত লোডশেডিং হতো না।"
এই ধারণাটি বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই।
প্রিপেইড মিটার এবং লোডশেডিং—এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

প্রিপেইড মিটারের কাজ কী?
প্রিপেইড মিটারের প্রধান কাজ হলো—
· গ্রাহক কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন তা পরিমাপ করা।
· রিচার্জ করা অর্থ থেকে বিদ্যুতের মূল্য হিসাব করা।
· ব্যালেন্স দেখানো।
· নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন চার্জ সমন্বয় করা।
অর্থাৎ, প্রিপেইড মিটার শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখে।

লোডশেডিং কী?
লোডশেডিং হলো বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য কোনো এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা।
এটি সাধারণত জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে করা হয়।
লোডশেডিংয়ের কারণ হতে পারে—
· বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হওয়া।
· উৎপাদন কমে যাওয়া।
· জাতীয় গ্রিডে সমস্যা।
· সঞ্চালন (Transmission) বা বিতরণ (Distribution) লাইনে ত্রুটি।
· ঝড়, বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি।
· জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ।
এসব কারণের কোনোটিই প্রিপেইড মিটার থাকার কারণে সৃষ্টি হয় না।

একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরুন, একই গ্রামে—
· ৫০টি বাড়িতে প্রিপেইড মিটার আছে।
· ৫০টি বাড়িতে পোস্টপেইড মিটার আছে।
যদি ওই এলাকায় জাতীয় গ্রিড থেকে এক ঘণ্টার জন্য লোডশেডিং হয়, তাহলে দুই ধরনের মিটার থাকা সব গ্রাহকেরই বিদ্যুৎ একসঙ্গে বন্ধ হবে।
অর্থাৎ, লোডশেডিং মিটারের ধরন দেখে হয় না।

সহজ উদাহরণ
ধরুন, একটি গ্রামের সবাই একই গভীর নলকূপ থেকে পানি নেন।
কেউ লাল বালতি ব্যবহার করেন, কেউ নীল বালতি।
যদি নলকূপেই পানি না থাকে, তাহলে কি শুধু লাল বালতির মানুষের পানি বন্ধ হবে?
না।
সবাই পানির অভাবে পড়বেন।
ঠিক তেমনি, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে প্রিপেইড ও পোস্টপেইড—উভয় ধরনের গ্রাহকই একইভাবে লোডশেডিংয়ের প্রভাব অনুভব করবেন।

কেন এই ভুল ধারণা তৈরি হয়?
এর কয়েকটি কারণ রয়েছে—
১. একই সময়ে দুটি ঘটনা ঘটেছে
কোনো এলাকায় যখন প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে, সেই সময়েই যদি বিদ্যুৎ সংকটের কারণে লোডশেডিং বেড়ে যায়, তাহলে অনেকেই মনে করেন প্রিপেইড মিটারের কারণেই এটি হয়েছে।
আসলে এটি দুটি ঘটনার সময়ের মিল।
২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব
অনেক সময় যাচাই না করেই বিভিন্ন পোস্ট বা ভিডিওতে দাবি করা হয় যে প্রিপেইড মিটারের কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে। এসব দাবির পক্ষে সাধারণত কোনো প্রযুক্তিগত বা প্রমাণ থাকে না।
৩. ব্যালেন্স শেষ হওয়া ও লোডশেডিংকে এক মনে করা
কখনও কখনও কোনো গ্রাহকের নিজস্ব প্রিপেইড ব্যালেন্স শেষ হয়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়। আবার অন্য সময় এলাকাজুড়ে লোডশেডিং হয়।
এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনা হলেও অনেকেই এগুলোকে একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন।

গ্রাহকদের করণীয়
· লোডশেডিং হলে আগে দেখুন আশপাশের বাড়িতেও বিদ্যুৎ নেই কি না।
· শুধু আপনার বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলে মিটারের ব্যালেন্স, ট্রিপ বা অন্যান্য ত্রুটি পরীক্ষা করুন।
· এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ না থাকলে এটি সম্ভবত লোডশেডিং বা লাইনের ত্রুটির কারণে হয়েছে।
· প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট NESCO বিক্রয় ও বিতরণ অফিস বা গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

উপসংহার
"প্রিপেইড মিটারের কারণে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে"—এই ধারণার কোনো প্রযুক্তিগত ভিত্তি নেই। প্রিপেইড মিটারের কাজ হলো বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাপ ও বিলিং পরিচালনা করা, আর লোডশেডিং হলো জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ, যা উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ বা কারিগরি কারণে হতে পারে।
তাই কোনো এলাকায় লোডশেডিং হলে সেটিকে প্রিপেইড মিটারের কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দুই বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা এবং একটির সঙ্গে অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক নেই।
#লোডশেডিং #বিদ্যুৎসংকট

অভিযোগ–৯: "প্রিপেইড মিটারে কোনো সুবিধা নেই, শুধু টাকা কাটে।"এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই শ...
27/08/2026

অভিযোগ–৯: "প্রিপেইড মিটারে কোনো সুবিধা নেই, শুধু টাকা কাটে।"

এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই শোনা যায়। অনেক গ্রাহক বলেন—
"প্রিপেইড মিটার লাগানোর পর শুধু টাকা কাটে, কিন্তু কোনো সুবিধা পাই না।"
আবার কেউ বলেন—
"আগের পোস্টপেইড মিটারই ভালো ছিল। প্রিপেইড মিটারে শুধু ঝামেলা।"

আসলে, প্রিপেইড মিটার চালুর উদ্দেশ্য শুধু টাকা আদায় করা নয়; বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, গ্রাহকের নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ সেবা নিশ্চিত করা।
NESCO Smart Pre-Payment Meter এ গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে।

প্রিপেইড মিটারের প্রধান সুবিধাগুলো
১. নিজের খরচ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়
পোস্টপেইড মিটারে সাধারণত মাস শেষে বিল হাতে পাওয়ার পর বোঝা যায় কত টাকা খরচ হয়েছে।
কিন্তু প্রিপেইড মিটারে—
· বর্তমান ব্যালেন্স,
· বিদ্যুৎ ব্যবহার,
· অবশিষ্ট টাকা ইত্যাদি
সহজেই দেখা যায়।
ফলে গ্রাহক চাইলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে পারেন।

২. অতিরিক্ত বা কম বিল হওয়ার ঝুঁকি কম
আগে অনেক সময় মিটার রিডিং ভুল হওয়া, রিডিং নিতে দেরি হওয়া বা অনুমানভিত্তিক বিল নিয়ে অভিযোগ শোনা যেত।
স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ওপর ভিত্তি করে হিসাব হওয়ায় এ ধরনের ভুলের সম্ভাবনা নেই।

৩. মিটার রিডারের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না
পোস্টপেইড ব্যবস্থায় প্রতি মাসে মিটার রিডিং নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
কিন্তু প্রিপেইড মিটারে আলাদা করে রিডিং নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

৪. দেশের যেকোনো স্থান থেকে রিচার্জ করা যায়
আপনি যদি গ্রামের বাড়িতে না থাকেন, অন্য জেলায় থাকেন বা কর্মস্থলে থাকেন, তবুও মোবাইল ব্যাংকিং বা অনুমোদিত মাধ্যমে রিচার্জ করতে পারবেন।
ফলে ব্যাংকে গিয়ে বিল জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

৫. বকেয়া বিল জমে থাকে না
পোস্টপেইড ব্যবস্থায় অনেক সময় কয়েক মাসের বিল জমে বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে পরিশোধ করতে হয়।
প্রিপেইড ব্যবস্থায় আগে রিচার্জ, পরে ব্যবহার—এই পদ্ধতির কারণে বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে যে মাসে রিচার্জ করা হয় না সে মাসের মাসিক চার্জ পরের মাসে বকেয়া বিল হিসেবে জমে থাকে।

৬. Emergency Balance সুবিধা
হঠাৎ বা জরুরি সময়ে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে Emergency Balance সুবিধা ব্যবহার করা যায়। পরে রিচার্জ করলে সেই অর্থ সমন্বয় হয়।

৭. Friendly Hour ও Holiday সুবিধা
বিকেল ৪:০০ ঘটিকা থেকে পরেরদিন সকাল ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে Friendly Hour সুবিধা থাকায় রাতের বেলা ব্যালেন্স শেষ হলেও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে না। আবার সরকারি ছুটির দিনে যেকোন সময় ব্যালেন্স শেষ হলেও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে না। পরবর্তী রিচার্জ থেকে Friendly Hour ও Holiday তে ব্যবহৃত ইউনিটের জন্য টাকা মিটারে সমন্বয় করা হয়।

৮. রিবেট পাওয়ার সুযোগ
প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ০.৫% রিবেটের সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক যেহেতু মিটারে অগ্রীম টাকা জমা রাখছেন তাই নিয়ম অনুযায়ী রিবেট পেতে পারেন।

সহজ উদাহরণ
ধরুন, আপনি মোবাইল ফোনে প্রিলোড (Prepaid) ব্যবহার করেন।
· যত টাকা রিচার্জ করবেন, ততটুকু ব্যবহার করতে পারবেন।
· ব্যালেন্স কত আছে, তা সব সময় দেখতে পারবেন।
· খরচ নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
· ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নিতে পারছেন। যা পরবর্তী রিচার্জে সমন্বয় হবে।
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারও অনেকটা একই নীতিতে কাজ করে।

তাহলে কেন অনেকেই অসুবিধা অনুভব করেন?
এর কয়েকটি সাধারণ কারণ হতে পারে—
· প্রথম দিকে নতুন নিয়ম না জানার কারণে বিভ্রান্তি।
· রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাট সমন্বয় হওয়ায় টাকা কম মনে হওয়া।
· মিটারের ডিসপ্লে বা ব্যালেন্স কীভাবে দেখতে হয়, তা না জানা।
· সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য বিশ্বাস করা।
এসব কারণে অনেকেই মনে করেন, প্রিপেইড মিটারে কোনো সুবিধা নেই।

গ্রাহকদের করণীয়
· মিটারের ব্যবহারবিধি ভালোভাবে পড়ুন।
· ব্যালেন্স ও ব্যবহার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
· ব্যালেন্স শেষ হওয়ার পুর্বে রিচার্জ করুন।
· কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে সংশ্লিষ্ট NESCO বিক্রয় ও বিতরণ অফিসে যোগাযোগ করুন।

"প্রিপেইড মিটারে কোনো সুবিধা নেই, শুধু টাকা কাটে"—এই ধারণা সঠিক নয়। NESCO Smart Pre-Payment Meter এ খরচ নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ বিলিং, দেশের যেকোনো স্থান থেকে রিচার্জ, বকেয়া বিলের ঝুঁকি হ্রাস, Emergency Balance, Friendly Hour, Holiday এবং রিবেট-এর মতো বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।
তাই প্রিপেইড মিটারের সুবিধা পুরোপুরি পেতে হলে এর নিয়মগুলো জানা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

21/08/2026
অভিযোগ–৮: "ভ্যাট কেন কাটা হয়? সরকার আবার বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট নিচ্ছে কেন?"এটি সাধারণ গ্রাহকদের একটি খুবই পরিচিত প্রশ্ন। অ...
21/08/2026

অভিযোগ–৮: "ভ্যাট কেন কাটা হয়? সরকার আবার বিদ্যুতের ওপর ভ্যাট নিচ্ছে কেন?"

এটি সাধারণ গ্রাহকদের একটি খুবই পরিচিত প্রশ্ন। অনেকেই বলেন—
"বিদ্যুতের বিল তো দিচ্ছি, আবার ভ্যাট কেন দেব?"
আবার কেউ বলেন—
"আমি ১,০০০ টাকা রিচার্জ করেছি, কিন্তু ভ্যাট কেটে নেওয়া হয়েছে। এটা কি অতিরিক্ত টাকা?"
এই প্রশ্নের উত্তর সহজভাবে বুঝতে হলে আগে জানতে হবে ভ্যাট কী।

ভ্যাট কী?
ভ্যাট (VAT) এর পূর্ণরূপ হলো মূল্য সংযোজন কর (Value Added Tax)।
এটি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো চার্জ নয়। এটি সরকার নির্ধারিত একটি কর, যা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ওপর প্রযোজ্য হয়।
Smart Pre-Payment Meter এ প্রযোজ্য ভ্যাট রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়।

ভ্যাট কি শুধু প্রিপেইড গ্রাহকদের জন্য?
না।
এটি একটি বড় ভুল ধারণা।
ভ্যাট শুধু প্রিপেইড মিটারের জন্য নয়। পোস্টপেইড ও প্রিপেইড—উভয় ধরনের গ্রাহকের ক্ষেত্রেই সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট প্রযোজ্য হয়।
পার্থক্য শুধু এই যে—
• পোস্টপেইড গ্রাহক মাস শেষে বিলের মধ্যে ভ্যাট দেখেন।
• প্রিপেইড গ্রাহক রিচার্জের সময় ভ্যাটের সমন্বয় দেখতে পারেন।

একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরুন, আপনি ১,০০০ টাকা রিচার্জ করলেন।
রিচার্জের অর্থ থেকে—
• প্রযোজ্য ভ্যাট,
• মাসিক মিটার ভাড়া (যদি ওই মাসে আগে কাটা না হয়ে থাকে),
• ডিমান্ড চার্জ (যদি ওই মাসে আগে কাটা না হয়ে থাকে),
এবং রিবেটসমন্বয় করার পর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ কেনা হবে।
তাই এনার্জি ব্যালেন্স ১,০০০ টাকার সমপরিমাণ দেখাবে না।

সহজ উদাহরণ
ধরুন, আপনি বাজার থেকে একটি নতুন মোবাইল ফোন কিনলেন।
দোকানদার যে মূল্য নিলেন, তার মধ্যে সরকার নির্ধারিত ভ্যাটও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
আবার আপনি একটি হোটেলে খেতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট প্রযোজ্য হয়।
ঠিক একইভাবে, বিদ্যুৎও একটি সেবা। তাই সরকার আইনের মাধ্যমে ভ্যাট নির্ধারণ করে, সেই ভ্যাট বিলের অংশ হিসেবে আদায় করা হয়।

ভ্যাটের টাকা কি NESCO নিজের কাছে রাখে?
ভ্যাট প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়।
অর্থাৎ, এটি একটি সরকার নির্ধারিত কর হিসেবে বিবেচিত; NESCO-এর নিজস্ব অতিরিক্ত চার্জ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

"ভ্যাট কেটে নেওয়া মানেই কি বেশি বিল?"
না।
অনেকেই ভ্যাট দেখেই মনে করেন, বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে।
আসলে—
• এনার্জি চার্জ হলো ব্যবহৃত ইউনিটের মূল্য।
• ভ্যাট হলো সরকার নির্ধারিত কর।
এই দুটি বিষয় আলাদা।

গ্রাহকদের করণীয়
• রিচার্জের পর কোন খাতে কত টাকা সমন্বয় হয়েছে তা দেখে নিন।
• ভ্যাটকে অতিরিক্ত বা গোপন চার্জ মনে না করে, এটি সরকার নির্ধারিত কর হিসেবে বুঝুন।
• যদি কোনো হিসাব বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট NESCO বিক্রয় ও বিতরণ অফিসে যোগাযোগ করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিন।

"ভ্যাট কেন কাটা হয়?"—এটি একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন। NESCO Smart Pre-Payment Meter এর ক্ষেত্রে রিচার্জের সময় প্রযোজ্য ভ্যাট সমন্বয় করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভ্যাট প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত বা গোপন চার্জ নয়; এটি সরকার নির্ধারিত একটি কর, যা প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়।

অভিযোগ–৭: "ট্যারিফ পরিবর্তনের সময় ২২০ ডিজিটের টোকেন দিতে হয়, যা সাধারণ গ্রাহকের জন্য খুবই ঝামেলার।"এটি অনেক গ্রাহকের একট...
20/08/2026

অভিযোগ–৭: "ট্যারিফ পরিবর্তনের সময় ২২০ ডিজিটের টোকেন দিতে হয়, যা সাধারণ গ্রাহকের জন্য খুবই ঝামেলার।"

এটি অনেক গ্রাহকের একটি বাস্তব অভিযোগ। অনেকেই বলেন—
"ট্যারিফ পরিবর্তন হলে ২২০ ডিজিটের টোকেন দিতে হয়। এত বড় টোকেন টাইপ করা খুবই কষ্টকর।"
আবার কেউ বলেন—
"একটি সংখ্যা ভুল হলে আবার শুরু থেকে দিতে হয়। এটি সাধারণ মানুষের জন্য অনেক ঝামেলার।"

এই অভিযোগের বাস্তবতা আছে। কারণ ২২০-ডিজিটের টোকেন প্রবেশ করানো সাধারণ ২০-ডিজিটের রিচার্জ টোকেনের তুলনায় কিছুটা জটিল।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার।
এই ২২০-ডিজিটের টোকেন কি বারবার দিতে হয়?
না।
এটি প্রতিদিন, প্রতি মাসে বা প্রতিটি রিচার্জের সময় দিতে হয় না।
শুধুমাত্র সরকার বা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের ট্যারিফ পরিবর্তন করলে, মিটারের ভেতরের ট্যারিফ তথ্য হালনাগাদ (Update) করার জন্য এই বিশেষ টোকেন ব্যবহার করা হয়।
অর্থাৎ, এটি নিয়মিত রিচার্জের টোকেন নয়, বরং একটি বিশেষ আপডেট টোকেন।

ট্যারিফ কত ঘন ঘন পরিবর্তন হয়?
ট্যারিফ প্রতিবছর পরিবর্তন হয় না, আবার প্রতি মাসেও নয়।
সাধারণভাবে কয়েক বছর পর পর প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্যারিফ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলে ২২০-ডিজিটের টোকেন দেওয়ার ঘটনাও কয়েক বছর পর পর একবারই হতে পারে।
অর্থাৎ, এটি এমন কোনো কাজ নয় যা গ্রাহককে নিয়মিত করতে হয়।

তাহলে কি সবাইকে হাতে টোকেন দিতে হয়?
সব ক্ষেত্রেই নয়।
বর্তমানে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে Remote Token Update বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোকেন পাঠানোর সুবিধা রয়েছে।
এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয়ভাবে মিটারে আপডেট পাঠাতে পারে। ফলে গ্রাহককে নিজ হাতে ২২০-ডিজিটের টোকেন প্রবেশ করানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
যেসব ক্ষেত্রে এই সুবিধা সক্রিয় থাকে না অথবা সুবিধা থাকে কিন্তু নেটওয়ার্ক ইস্যু তৈরী হয়, সেসব ক্ষেত্রেই গ্রাহককে টোকেন প্রবেশ করাতে হয়।

সহজ উদাহরণ
ধরুন, আপনি একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন।
প্রতিদিন ফোনে কোনো সফটওয়্যার আপডেট দিতে হয় না।
কিন্তু কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর একটি বড় আপডেট আসে। অনেক সময় সেটি নিজে নিজেই (Auto Update) হয়ে যায়, আবার কখনও ব্যবহারকারীকে আপডেট দিতে হয়।
প্রিপেইড মিটারের ট্যারিফ আপডেটও অনেকটা তেমনই।

গ্রাহকদের জন্য আশ্বস্ত করার বিষয়
• প্রতিদিন বা প্রতিমাসে ২২০-ডিজিটের টোকেন দিতে হয় না। ট্যারিফ শ্রেণী অনুযায়ী টোকেনের ডিজিট সংখ্যা কমও হতে পারে।
• এটি শুধুমাত্র ট্যারিফ পরিবর্তনের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হয়।
• ট্যারিফ পরিবর্তনও কয়েক বছর পর পর হয়।
• অনেক মিটারে Remote Token Update সুবিধা থাকায় গ্রাহককে নিজ হাতে টোকেন প্রবেশ করানোরও প্রয়োজন নাও হতে পারে।

"ট্যারিফ পরিবর্তনের সময় ২২০-ডিজিটের টোকেন দিতে হয়"—এটি একটি বাস্তব ব্যবহারিক অসুবিধা হতে পারে। তবে এটি নিয়মিত নয়, বরং কয়েক বছর পর পর ট্যারিফ পরিবর্তনের সময় একবারের জন্য প্রয়োজন হয়। এছাড়া বর্তমানে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে Remote Token Update সুবিধা থাকায় এই আপডেট দূর থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা হয়, ফলে অধিকাংশ গ্রাহককে নিজ হাতে দীর্ঘ টোকেন প্রবেশ করানোর প্রয়োজন হয় না।
সুতরাং, এটি দৈনন্দিন ঝামেলা নয়; বরং খুবই বিরল একটি কারিগরি আপডেটের অংশ।

অভিযোগ–৬: "মিটার ভাড়া কেন দিতে হবে? মিটার তো আমার বাড়িতে লাগানো আছে!"এটি অনেক গ্রাহকের একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন। বিশেষ করে ...
15/08/2026

অভিযোগ–৬: "মিটার ভাড়া কেন দিতে হবে? মিটার তো আমার বাড়িতে লাগানো আছে!"

এটি অনেক গ্রাহকের একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন। বিশেষ করে গ্রামে প্রায়ই শোনা যায়—
"মিটার তো আমার বাড়ির দেয়ালে লাগানো। তাহলে আবার মিটার ভাড়া কেন দেব?"
আবার কেউ বলেন—
"মিটার বসানোর সময় তো টাকা দিয়েছি, এখন প্রতি মাসে আবার ভাড়া কেন?"

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে, মিটার বাড়িতে লাগানো থাকলেও সেটি সব সময় গ্রাহকের মালিকানাধীন হয় না।
মিটার স্থাপনের সময় মিটার ক্রয় বাবদ কোন টাকা নেওয়া হয়না, সরকার নির্ধারিত হারে প্রতি মাসে মিটার ভাড়া আদায় করা হয়। এটি প্রিপেইড বিলিং ব্যবস্থার অনুমোদিত চার্জগুলোর একটি।

মিটার ভাড়া কী?
মিটার হলো এমন একটি যন্ত্র, যা আপনার বাড়িতে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে তা পরিমাপ করে।
এই মিটার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনে মেরামত বা পরিবর্তন—এসব কাজ বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান করে থাকে। এই সেবার জন্য সরকার অনুমোদিত একটি নির্দিষ্ট মাসিক মিটার ভাড়া নির্ধারণ করেছে।

সহজ উদাহরণ
ধরুন, একজন কৃষক সেচের জন্য একটি গভীর নলকূপ ব্যবহার করছেন।
নলকূপটি তাঁর জমির পাশে থাকলেও সেটি যদি সমিতি বা অন্য কারও মালিকানাধীন হয়, তাহলে ব্যবহারকারীকে নির্ধারিত ভাড়া বা ফি দিতে হয়।
একইভাবে, বিদ্যুতের মিটার আপনার বাড়িতে লাগানো থাকলেও সেটি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পদ। তাই এর জন্য সরকার নির্ধারিত মিটার ভাড়া নেওয়া হয়।

"আমি তো খুব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করি। তবুও মিটার ভাড়া কেন?"
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার।
মিটার ভাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের (ইউনিটের) ওপর নির্ভর করে না।
আপনি বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করুন বা কম ব্যবহার করুন—যদি আপনার সংযোগ সক্রিয় থাকে, তাহলে সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মাসিক মিটার ভাড়া প্রযোজ্য হবে।

"মিটার ভাড়া কি প্রতিবার রিচার্জে কাটা হয়?"
না।
মিটার ভাড়া মাসে একবার সমন্বয় করা হয়।
ধরুন, আপনি আগস্ট মাসে চারবার রিচার্জ করলেন।
• প্রথম রিচার্জে আগস্ট মাসের মিটার ভাড়া সমন্বয় হলো।
• একই মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ রিচার্জে আবার আগস্ট মাসের মিটার ভাড়া কাটা হবে না।

"কয়েক মাস রিচার্জ না করলে কী হবে?"
ধরুন, আপনি তিন মাস রিচার্জ করেননি।
তাহলে ওই তিন মাসের প্রযোজ্য মিটার ভাড়া পরবর্তী রিচার্জের সময় একসঙ্গে সমন্বয় হয়।
এতে মনে হতে পারে একবারে অনেক টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি নতুন কোনো অতিরিক্ত চার্জ নয়; আগের মাসগুলোর বকেয়া সমন্বয়।

যদি মিটার নষ্ট হয়?
গ্রাহকের হস্তক্ষেপ ছাড়া মিটারের কারিগরি বা অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে মিটার নষ্ট হলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান সেটি পরিবর্তনের ব্যবস্থা করবে।

গ্রাহকদের করণীয়
• প্রতি মাসে অন্তত একবার রিচার্জ করুন, যাতে মিটার ভাড়া নিয়মিত সমন্বয় হয়।
• রিচার্জের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
• মিটার ভাড়ার পরিমাণ নিয়ে কোনো সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট NESCO বিক্রয় ও বিতরণ অফিসে যোগাযোগ করে বিস্তারিত হিসাব জেনে নিন।

উপসংহার
"মিটার আমার বাড়িতে, তাই মিটার ভাড়া কেন দেব?"—এই প্রশ্নটি স্বাভাবিক। তবে মিটার ভাড়া সরকার অনুমোদিত একটি মাসিক চার্জ, যা মিটারের ব্যবস্থাপনা ও সেবার অংশ হিসেবে আদায় করা হয়। এটি সাধারণত মাসে একবার সমন্বয় করা হয় এবং একই মাসে বারবার রিচার্জ করলেও বারবার কাটা হয় না। দীর্ঘদিন রিচার্জ না করলে আগের মাসগুলোর প্রযোজ্য মিটার ভাড়া একসঙ্গে সমন্বয় হয়।

অভিযোগ–৫: "রাতে টাকা শেষ হলে বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গে কেটে যায়।"এটি অনেক গ্রাহকের মধ্যে প্রচলিত একটি উদ্বেগ। বিশেষ করে গ্রামে...
13/08/2026

অভিযোগ–৫: "রাতে টাকা শেষ হলে বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গে কেটে যায়।"

এটি অনেক গ্রাহকের মধ্যে প্রচলিত একটি উদ্বেগ। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ প্রায়ই বলেন—
"রাতে যদি হঠাৎ ব্যালেন্স শেষ হয়ে যায়, তাহলে তো অন্ধকারে থাকতে হবে।"
আবার কেউ বলেন—
"মধ্যরাতে দোকান বন্ধ থাকে, মোবাইল ব্যাংকিংও করতে পারি না। তখন কী হবে?"
এই ধরনের সমস্যার কথা বিবেচনা করেই NESCO-এর স্মার্ট প্রিপেইড মিটারে Friendly Hour, Holiday এবং Emergency Balance-এর মতো সুবিধা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যালেন্স শেষ হলেও সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হবে না।

Friendly Hour কী?
Friendly Hour হলো এমন একটি সময়, যখন ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহককে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না করে নির্ধারিত সুবিধা দেওয়া হয়। এটা প্রতি সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪:০০ ঘটিকা থেকে পরের দিন সকাল ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত। এর উদ্দেশ্য হলো, রাতের বেলা বা অসুবিধাজনক সময়ে গ্রাহক যেন জরুরি সমস্যায় না পড়েন।

Holiday সুবিধা কি?
শুক্রবার ও শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও গ্রাহককে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না করে নির্ধারিত সুবিধা দেওয়া হয়।

Emergency Balance কী?
স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারে Emergency Balance-এর ব্যবস্থাও রয়েছে।এটি এমন একটি সুবিধা, যার মাধ্যমে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলেও জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রাহক Emergency Balance নিয়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারেন। পরে রিচার্জ করলে ব্যবহৃত অর্থ সমন্বয় করা হয়। অর্থাৎ এটি বিনামূল্যের টাকা নয়, বরং একটি সাময়িক সুবিধা।

একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরুন—
শনিবার দুপুর ২ টায় করিম সাহেবের প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেল।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে বর্ণিত Holiday সুবিধা পেয়ে তিনি সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন। পরদিন সকালে রিচার্জ করলে সেই অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় হয়ে যাবে।

ধরুন, রাতে আপনার ঘরে অতিথি এসেছে।
হঠাৎ চাল শেষ হয়ে গেল।
পাশের দোকানদার বললেন—
"আজ রাতে নিয়ে যান, কাল সকালে টাকা দিলেই হবে।"
এতে আপনি রাতটা স্বাভাবিকভাবে কাটাতে পারলেন।
Friendly Hour, Holiday এবং Emergency Balance-এর উদ্দেশ্যও অনেকটা এমন—জরুরি সময়ে গ্রাহককে সাময়িক সুবিধা দেওয়া।

গ্রাহকদের করণীয়
এ ধরনের সমস্যায় না পড়তে—
• ব্যালেন্স একেবারে শূন্য হওয়ার আগেই রিচার্জ করুন।
• মিটারের লো-ব্যালেন্স সতর্কবার্তা (Alarm) গুরুত্ব সহকারে দেখুন।
• Emergency Balance শুধুমাত্র প্রকৃত জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করুন।

উপসংহার
"রাতে ব্যালেন্স শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ কেটে যায়"—এমন ধারণা সঠিক নয়। গ্রাহকের সুবিধার জন্য Friendly Hour, Holiday এবং Emergency Balance-এর ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সুবিধার মাধ্যমে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জরুরি সময়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালিয়ে যাওয়া যায় এবং পরে রিচার্জের সময় সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়। তাই ব্যালেন্স শেষ হলেই আতঙ্কিত না হয়ে বর্ণিত সুবিধাগুলো সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

অভিযোগ–৪: "প্রতি রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নিচ্ছে।"এটি স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভ...
12/08/2026

অভিযোগ–৪: "প্রতি রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নিচ্ছে।"

এটি স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি। অনেক গ্রাহক বলেন—
"আমি যখনই রিচার্জ করি, তখনই ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নেওয়া হয়।"
অনেকে আবার মনে করেন, দিনে দুইবার রিচার্জ করলে দুইবার, পাঁচবার রিচার্জ করলে পাঁচবার ডিমান্ড চার্জ কাটা হয়।
বাস্তবে এটি সঠিক নয়।

ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া মাসে মাত্র একবার আদায় করা হয়। সাধারণত মাসের প্রথম রিচার্জের সময় এটি সমন্বয় করা হয়। একই মাসে পরবর্তী রিচার্জগুলোতে আবার ডিমান্ড চার্জ কাটা হয় না।

ডিমান্ড চার্জ কী?
অনেক গ্রাহক মনে করেন, বিদ্যুৎ বিল মানেই শুধু ইউনিটের দাম।কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকে সারাবছর ট্রান্সফরমার, লাইন, সাবস্টেশন, মিটার, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রস্তুত রাখতে হয়। এই অবকাঠামো প্রস্তুত রাখার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত একটি নির্দিষ্ট মাসিক চার্জকে ডিমান্ড চার্জ বলা হয়।অর্থাৎ এটি প্রতি রিচার্জের চার্জ নয়; এটি মাসিক চার্জ।

মিটার ভাড়া কী?
মিটার হলো এমন একটি যন্ত্র, যা আপনার বাড়িতে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে তা পরিমাপ করে।
এই মিটার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, পরীক্ষা, প্রয়োজনে মেরামত বা পরিবর্তন—এসব কাজ বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান করে থাকে। এই সেবার জন্য সরকার অনুমোদিত একটি নির্দিষ্ট মাসিক মিটার ভাড়া নির্ধারণ করেছে।
অর্থাৎ এটি প্রতি রিচার্জের চার্জ নয়; এটি মাসিক চার্জ।

একটি সহজ উদাহরণ
ধরুন, আগস্ট মাসে আপনি চারবার রিচার্জ করলেন—
• ১ আগস্ট – ৫০০ টাকা
• ৮ আগস্ট – ৩০০ টাকা
• ১৬ আগস্ট – ৫০০ টাকা
• ২৮ আগস্ট – ৭০০ টাকা
এক্ষেত্রে সাধারণভাবে—
• ১ আগস্টের রিচার্জে আগস্ট মাসের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় হবে।
• ৮, ১৬ ও ২৮ আগস্টের রিচার্জে একই মাসের জন্য আবার ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হবে না।

তাহলে মানুষ কেন মনে করেন বারবার কাটা হচ্ছে?
এর কয়েকটি কারণ হতে পারে—

১. রিচার্জের হিসাব ভালোভাবে দেখা হয় না
অনেক গ্রাহক শুধু ব্যালেন্স কম দেখেন, কিন্তু কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে তা যাচাই করেন না। ফলে মনে হয় প্রতিবারই একই চার্জ কাটা হচ্ছে।

২. নতুন মাস শুরু হয়েছে
যেমন—
• ৩১ জুলাই রিচার্জ করলেন।
• আবার ২ আগস্ট রিচার্জ করলেন।
এক্ষেত্রে জুলাই মাসের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া আগে কাটা হয়েছে, আর আগস্ট মাস শুরু হওয়ায় আগস্টের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়াও কাটা হবে। এতে দুই রিচার্জের ব্যবধান কম হলেও, এগুলো দুই ভিন্ন মাসের চার্জ।
৩. কয়েক মাস রিচার্জ না করলে
যদি কোনো গ্রাহক দুই বা তিন মাস রিচার্জ না করেন, তাহলে পরবর্তী রিচার্জে আগের মাসগুলোর প্রযোজ্য ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া একসঙ্গে সমন্বয় হয়। তখন মনে হতে পারে একবারে অনেক ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয়েছে। বাস্তবে এগুলো বকেয়া মাসের চার্জ।


ধরুন, আপনি একটি সমিতির সদস্য।
সমিতির নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে একবার ১০০ টাকা সদস্য ফি দিতে হয়।
আপনি যদি মাসে চারবার সমিতির অফিসে যান, তাহলে কি চারবার সদস্য ফি দিতে হবে?
না।
একইভাবে, মাসে যতবারই রিচার্জ করুন না কেন, একই মাসের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া একবারই প্রযোজ্য।

গ্রাহকের করণীয়
যদি আপনার মনে হয় ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া ভুলভাবে একাধিকবার কাটা হয়েছে, তাহলে—
• রিচার্জের তারিখগুলো লিখে রাখুন।
• কোন মাসে কতবার রিচার্জ করেছেন তা মিলিয়ে দেখুন।
• রিচার্জের রসিদ বা হিসাব সংরক্ষণ করুন।
• প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট NESCO বিক্রয় ও বিতরণ অফিসে যোগাযোগ করে চার্জের বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিন।

উপসংহার
"প্রতি রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কেটে নেওয়া হয়"—এই ধারণা সঠিক নয়। ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া একটি মাসিক চার্জ, যা সাধারণত ওই মাসের প্রথম রিচার্জের সময় সমন্বয় করা হয়। একই মাসে পরবর্তী রিচার্জে আবার একই মাসের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া কাটা হয় না। যদি একাধিক মাসের বকেয়া থাকে, তবে তা একসঙ্গে সমন্বয় হয়, যা অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির কারণ হয়।

অভিযোগ–৩: "১০০০ টাকা রিচার্জ করলাম, কিন্তু পুরো ১০০০ টাকার বিদ্যুৎ পেলাম না। টাকা কোথায় গেল?"এটি স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ...
11/08/2026

অভিযোগ–৩: "১০০০ টাকা রিচার্জ করলাম, কিন্তু পুরো ১০০০ টাকার বিদ্যুৎ পেলাম না। টাকা কোথায় গেল?"

এটি স্মার্ট প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোনা অভিযোগগুলোর একটি। অনেক গ্রাহক বলেন—
"আমি ১০০০ টাকা রিচার্জ করলাম, কিন্তু মিটারে ৮৩২.৯২ বা ৩৩২.৯২ টাকার মতো দেখাচ্ছে। বাকি টাকা কোথায় গেল?"
অনেকেই তখন মনে করেন, বিদ্যুৎ অফিস অতিরিক্ত টাকা কেটে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি একটু ভিন্ন।

আসলে কী হয়?
আপনি যখন প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করেন, তখন পুরো টাকা সরাসরি বিদ্যুৎ কেনার জন্য ব্যবহার হয় না।
প্রথমে সরকার ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত কিছু নির্ধারিত চার্জ সমন্বয় করা হয়। এরপর অবশিষ্ট টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ (ইউনিট) কেনা হয়।

কোন কোন কারণে টাকা কম দেখা যেতে পারে?

১. ভ্যাট
সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী কাটা হয়।
২. মিটার ভাড়া (মাসে একবার)
অফিস কতৃর্ক মিটার সরবরাহ হওয়ায় মাসের প্রথম রিচার্জের সময় সমন্বয় হবে।
৩. ডিমান্ড চার্জ (মাসে একবার)
চুক্তিকৃত লোড অনুযায়ী মাসিক ডিমান্ড চার্জ মাসের প্রথম রিচার্জে সমন্বয় করা হয়।
৪. আগের কোনো বকেয়া থাকলে
যদি Emergency Balance ব্যবহার করা হয়ে থাকে বা আগের কোনো অনুমোদিত বকেয়া থাকে, তাহলে সেটিও সমন্বয় হবে।

একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরুন, আপনি ২ কিলোওয়াট লোডের আবাসিক (LT-A) শ্রেণীর গ্রাহক, আপনি মাসের শুরুতে ১০০০ টাকা রিচার্জ করলেন।
তখন নিচের মতো সমন্বয় হবে
বিবরণ টাকা
রিচার্জ ১০০০ টাকা
ভ্যাট (-) ৪৭.৬২ টাকা
মিটার ভাড়া (-) ৪০ টাকা
ডিমান্ড চার্জ (-) ৮৪ টাকা
রিবেট ০.৫% (+) ৪.৫৪ টাকা
অবশিষ্ট ৮৩২.৯২ টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় হবে।

আবার আপনি যদি সিঙ্গেল ফেজের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা ইমার্জেন্সী বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকেন সেটা সমন্বয় হবে। তাহলে ব্যালেন্স হবে ৩৩২.৯২ টাকা। গত কয়েক মাসে রিচার্জ না করে থাকলে সে মাসগুলোর ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সমন্বয় হবে।
তখন আপনার কাছে মনে হতে পারে, "১০০০ টাকা দিলাম, কিন্তু পুরোটা বিদ্যুৎ পেলাম না।" আসলে টাকা হারিয়ে যায়নি, নির্ধারিত চার্জগুলো আগে সমন্বয় হয়েছে।

একই মাসে দ্বিতীয়বার কী হবে?
ধরুন, কয়েক দিন পরে আবার ১০০০ টাকা রিচার্জ করলেন। এবার যেহেতু ওই মাসের মিটার ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ আগেই কাটা হয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয় রিচার্জে সেগুলো আর কাটা হবে না। ফলে আগের তুলনায় বেশি টাকা বিদ্যুৎ কেনার জন্য ব্যবহার হবে।
আর যদি মিটারে টাকা না আসে তাহলে কী করবেন?
কখনও কখনও অনলাইনে রিচার্জ করার পর নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে টাকা সঙ্গে সঙ্গে মিটারে পৌঁছায় না। সে ক্ষেত্রে SMS বা গ্রাহক পোর্টালে পাওয়া ২০ সংখ্যার টোকেন মিটারে প্রবেশ করালে রিচার্জ সম্পন্ন হয়।

উপসংহার
"১০০০ টাকা রিচার্জ করলেই ১০০০ টাকার বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে"—এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। কারণ রিচার্জের অর্থ থেকে প্রথমে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত মাসিক চার্জ, ভ্যাট বা প্রযোজ্য সমন্বয় কাটা হয়। এরপর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ কেনা হয়। তাই রিচার্জের পর ব্যালেন্স কম দেখলে সেটিকে অতিরিক্ত বিল বা টাকা হারিয়ে যাওয়া মনে না করে, আগে রিচার্জের রসিদ, মিটারের তথ্য এবং কাটা চার্জগুলো যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ দপ্তরে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত হিসাব জানা যাবে।

Address

Hatibandha
Lalmonirhat
5530

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, নেসকো, হাতীবান্ধা। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share