17/08/2025
রঙ বদলানো সুশীলদের কাছে ভবিষ্যৎ জিম্মি হতে পারে না
রাষ্ট্রের ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেই কিছু মুখোশধারী মানুষের রঙ বদলাতে দেখা যায়। গতকাল যাঁরা পুরোনো ক্ষমতার প্রশংসায় ব্যস্ত ছিলেন, আজ তাঁরা নতুন শাসকের গুণগানে মেতেছেন। তাদের কাছে নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই, আছে শুধু সুযোগ খোঁজা আর সুবিধা ভোগ করা। এই তথাকথিত সুশীলরা কখনোই জনগণের পাশে দাঁড়ান না; বরং ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিতে তারা সব রকম ভণ্ডামির আশ্রয় নেন।
আমরা, নতুন প্রজন্ম, আজ এক গভীর হতাশার মুখোমুখি। প্রশ্ন জাগে—এই দেশকে আমরা কেমন ভবিষ্যৎ দিয়ে যাবো? যে রাষ্ট্রে সৎ মানুষ অপমানিত হয়, অসৎরা পুরস্কৃত হয়; যে রাষ্ট্রে নীতি-নৈতিকতা, মানবতা আর বিবেক হারিয়ে গেছে—সে রাষ্ট্র কি টিকে থাকতে পারে? আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি আমাদের অভিশাপ দেবে না?
আজকের সবচেয়ে বড় লজ্জা হলো—যারা নিজেদের সুশীল বলে পরিচয় দেন, তারাই আসলে সমাজের অসুস্থ মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। তাদের জন্যই দুর্নীতি, বৈষম্য আর অন্যায় আজও আমাদের শিরায় শিরায় গেঁথে আছে। তারা ক্ষমতার টেবিলে বসে নীতির বুলি আওড়ান, কিন্তু তাদের অন্তর শূন্য—সেখানে নেই মানুষের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা।
সারা বিশ্ব যখন মানবিক মূল্যবোধ আর ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন আমাদের দেশ এখনো আঁকড়ে ধরে আছে সেই ভণ্ডামি, অনিয়ম আর অসৎ চর্চা। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
কিন্তু আমরা নত হবো না। নতুন প্রজন্ম স্পষ্ট জানে—এই রাষ্ট্র কেবল সুবিধাবাদীদের জন্য নয়, এটি জনগণের জন্য। তাই যারা নীতি-নৈতিকতাকে পদদলিত করে কেবল রঙ বদলিয়ে টিকে থাকতে চায়, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।