08/02/2026
একদিন মানুষ ঘুম থেকে উঠে টের পেল, দেশটার নাম এখনও বাংলাদেশ, কিন্তু দেশটা আর আগের মতো নেই। পতাকা আছে, মানচিত্র আছে, সরকার আছে, কিন্তু কোথাও যেন আত্মাটাই হারিয়ে গেছে। রাস্তায় মানুষ হাঁটে ঠিকই, কিন্তু কেউ কারও চোখের দিকে তাকায় না। সবাই যেন অদৃশ্য কোনো নজরদারির ভেতর দিয়ে বেঁচে আছে।
স্কুলের বই বদলে গেছে। ইতিহাসের পাতা উল্টাতে গিয়ে ছাত্ররা দেখে, ১৯৭১ আর আগের মতো নেই। মুক্তিযুদ্ধের গল্প ছোট হয়ে গেছে, শহীদের নাম কমে গেছে, অনেক জায়গায় লেখা আছে, “এই বিষয়গুলো বিতর্কিত।” শিক্ষকরা প্রশ্নের উত্তর দিতে ভয় পায়। কারণ ইতিহাস এখানে আর সত্যের বিষয় না, ইতিহাস এখন রাষ্ট্রের অনুমতির বিষয়।
টেলিভিশনে প্রতিদিন বলা হয় দেশ নাকি ইসলামের পথে চলছে। কিন্তু বাস্তবে মানুষ দেখে, ইসলাম মানে এখানে আর ন্যায়বিচার না, ইসলাম মানে শুধু শাসকদের মুখের স্লোগান। মসজিদে খুতবায় সত্য বলা যায় না, অন্যায় নিয়ে কথা বললেই সেটা রাষ্ট্রবিরোধী হয়ে যায়। আলেমরা চুপ করে থাকে, কারণ কথা বললে চাকরি যায়, সম্মান যায়, কখনো স্বাধীনতাও যায়।
নারীরা আগের মতো কর্মসংস্থানে নেই, তাদের কথা বলার অধিকার নেই, তারা শিক্ষা, নিরাপত্তা, নিরাপত্তা ও সুযোগ সবকিছু থেকে বঞ্চিত। মত প্রকাশ এখন অধিকার না, ঝুঁকি। সংবাদ মানে শুধু একটাই কথা, সরকার যা বলবে, সেটাই সত্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন করলে অ্যাকাউন্ট গায়েব হয়ে যায়। কেউ জানে না ঠিক কীভাবে, শুধু জানে, প্রশ্ন করলে হারিয়ে যেতে হয়।
উন্নয়নের গল্প থেমে গেছে। কারখানা বন্ধ, বিনিয়োগ নাই, চাকরি নাই। তরুণেরা লাইনে দাঁড়িয়ে দূতাবাসের সামনে, কারণ এই দেশে তারা ভবিষ্যৎ খুঁজে পায় না। এক সময় যে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখত, এখন সে শুধু বিদেশে পালানোর স্বপ্ন দেখে।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই অন্ধকার একদিনে আসেনি। এটা এসেছে ধীরে ধীরে। প্রথমে বলা হয়েছিল, ধর্মের নামে সব ঠিক হয়ে যাবে। তারপর বলা হয়েছিল, “ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে।” তারপর একদিন মানুষ বুঝল, নতুন করে লেখা মানে আসলে পুরোনোটা মুছে ফেলা।
যারা বলেছিল তারা ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে, তারা আসলে ইসলামের ন্যায়, মানবতা আর সত্য বলার অধিকারটাই ধ্বংস করে দিয়েছে। যারা বলেছিল তারা দেশ বাঁচাবে, তারা আসলে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী জিনিসটাই মুছে দিয়েছে, বাংলালি জাতির চেতনা, ১৯৭১ সালের আত্মা।
এটা কোনো সিনেমা না। এটা কোনো কল্পবিজ্ঞানও না। এটা একটা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ, যেটা তৈরি হয় তখনই, যখন মানুষ ভাবে “আমার ভোটে কী আসে যায়?” যখন মানুষ ভুলে যায় যে ভোট শুধু ব্যালট না, ভোট মানে ইতিহাসের দিক নির্ধারণ।
১২ তারিখ শুধু নির্বাচন না। ১২ তারিখ হচ্ছে সেই দিন, যেদিন ঠিক হবে বাংলাদেশ থাকবে স্মৃতিসহ, নাকি স্মৃতিহীন। থাকবে প্রশ্ন করার অধিকার নিয়ে, নাকি নীরবতার খাঁচায় বন্দি হয়ে।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শাসন সবসময় জোর করে আসে না। মানুষই নিজের ভোট, অন্ধ বিশ্বাস আর চুপচাপ থাকার কারণে এমন শাসনকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়।
আর ইতিহাস বলে, একটা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েই একটা জাতি কয়েক প্রজন্ম পিছিয়ে যেতে পারে।
সর্বশেষ বলতে চাই,
দেশ এবং জাতীর ক্রান্তিলগ্নে আমি চাই আপনারা ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে এমন একজন নেতাকে ও তার দল কে নির্বাচিত করুন
যে নেতা এই দেশ কে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ দেখছেন আর জাতিকে অন্ধকারে ঘেরা ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করার জন্য এই জাতিকে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন।
আল্লাহ হাফেজ
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ