25/06/2026
আরবি মাসের হিসাব রাখা ফরযে কিফায়া। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা মুসলমান, আমাদের মাঝে অনেক জ্ঞানী-গুণীজনরাও আরবি মাস কিংবা আরবি নববর্ষ সম্পর্কে কোন খবরই রাখেন না। পক্ষান্তরে জ্ঞানী-গুণী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষই ইংরেজি নব-বর্ষকে বরণ করে নেওয়ার জন্য থার্টিফাস্ট নাইটের অপেক্ষায় রাত জেগে বসে থাকে। ঠিক একইভাবে বাংলা নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখের ভোর বেলায় রমনা পার্কে গিয়ে এক সানকি পান্তা ভাত আর এক টুকরো ইলিশ ভাজা খাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে ক্ষন গণনা করে। যেখানে আরবি নববর্ষের (মহররম মাস) কবে আসে, কবে যায় তার হদিস নাই। অথচ একজন মুসলমানের যাবতীয় ধর্মীয় ইবাদত বন্দেগী চন্দ্র মাস তথা আরবি মাসের উপর নির্ভরশীল। যা ইহকাল ও পরকালের সফলতা বা ব্যর্থতার সাথে সরাসরি জড়িত।
যাহোক, আমরা এখন আরবি নববর্ষের মাসে (মহররম) অবস্থান করছি। এই মাসে মোটাদাগে ৩ টি আমলের কথা প্রিয়নবী (স:) বিশেষ করে তাগিদ দিয়েছেন...
এক নম্বর আমল:
মুহাররমের এক নম্বর আমল হচ্ছে, পুরো মাসে যে কোন দিন রোযা রাখলে, অন্য মাসে নফল রোযা রাখলে যে সওয়াব তার চেয়ে বেশি সওয়াব লাভ করা যাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
"রমাযান মাসের রোযার পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা আল্লাহর মাস মুহাররমের রোযা (মুসলিম খণ্ড-১, হাদীস-১১৬৩)
দুই নম্বর আমল:
মুহাররমের দুই নম্বর আমল হচ্ছে, দশ তারিখ (আশুরার) রোযা রাখা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
"আমি আল্লাহ তাআলার দরবারে আশা রাখি যে, ১০ মুহাররমের রোযা তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ কাফফারা হবে (মুসলিম খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩৬৭, হাদীস-১১৬২
আশুরা তথা মুহাররমের দশ তারিখে রোযা রাখা এবং তার আগে বা পরে আরও একটি রোযা অর্থাৎ, ৯-১০ মহররম (আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও পরের দিন শুক্রবার বা ১০-১১ (শুক্রবার ও শনিবার) তারিখে রোযা রাখা মুস্তাহাব। সুতরাং আজকে থেকে অথবা আগামীকাল থেকে সেহরি করতে হবে।
তিন নম্বর আমল:
মুহাররমের তিন নম্বর আমল হচ্ছে, দশ তারিখে তথা আশুরার দিন নিজ নিজ পরিবার পরিজনের খাদ্য-খোরাকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু মুক্ত হস্ত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
"যে ব্যক্তি আশুরা দিবসে পরিবার পরিজনের জন্য মুক্ত হস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে সারা বছর সচ্ছলতা দান করবেন (আল মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী: হাদীস-১০০০৭)।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উল্লিখিত তিনটি আমল করার তাওফিক দিক। আমিন।
সংগ্রহ আবু রায়হান ভাই।