03/09/2026
*প্রিয় বোনেরা, একটু কঠিন কথা বলব, কিন্তু কথাটা বুঝে শুনবেন।*
`অনেক কমেন্টে দেখছি—`
“ফ্যামিলি মানছে না, মা-বাবা বিয়েতে রাজি হচ্ছে না, চার বছর ধরে সম্পর্কে আছি, এখন কী করব?কিন্তু বোন, একটু থামুন। শুধু পরিবারকে দোষ দেওয়ার আগে নিজেকে একবার প্রশ্ন করুন—আপনি যে চার বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন, সেই চার বছর কি আপনার পরিবার আপনাকে হারাম সম্পর্কে যেতে বাধ্য করেছিল?
আপনি নিজেই তো স্বীকার করছেন—আপনি পরিবারের অমতে, আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে একটি হারাম সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন—
*“তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা এবং নিকৃষ্ট পথ।”*
_—সূরা আল-ইসরা, ১৭:৩২_
খেয়াল করুন, আল্লাহ শুধু বলেননি যিনা করো না—বরং বলেছেন, “যিনার কাছেও যেও না।” অর্থাৎ যে পথ মানুষকে হারামের দিকে নিয়ে যায়, সেসব থেকেও দূরে থাকতে হবে।তাহলে যেখানে আল্লাহ বলেছেন “যেও না” সেখানে আমরা নিজেরাই গেলাম; চার বছর সম্পর্ক করলাম; আর যখন পরিবার বিয়েতে রাজি হলো না, তখন বলতে শুরু করলাম—
আমার মা-বাবা আমার ভালো চায় না! এটা কি একটু নিজের দিকে তাকিয়ে দেখার সময় নয়?আপনি যদি সত্যিই বিয়ের উপযুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে হারাম সম্পর্ক শুরু করার পরিবর্তে শুরু থেকেই পরিবারকে জানিয়ে হালাল পথে বিয়ের চেষ্টা করা যেত।
কিন্তু আমরা অনেক সময় কী করি? মা-বাবা যখন বলেন, “বিয়ে করো, তখন বলি—না, আমি এখন বিয়ে করব না, আমি পড়াশোনা করব, ক্যারিয়ার করব।অথচ সেই একই বয়সে গোপনে একজন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক করতে গিয়ে মনে হয়—এখনই তাকে ছাড়া আমি বাঁচব না!
বোন, কথাটা একটু ভেবে দেখুন—
বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো বয়স যদি না হয়ে থাকে, তাহলে হারাম সম্পর্ক করার বয়স হলো কীভাবে?
আর যদি বিয়ের জন্য যথেষ্ট পরিপক্ব হয়ে থাকেন, তাহলে হারাম সম্পর্ক কেন?অবশ্যই আমি বলছি না যে প্রত্যেক মা-বাবা সবসময় সঠিক। কোনো পরিবার অন্যায় করতে পারে, অযৌক্তিকভাবে বাধা দিতে পারে—সেক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা এবং বিশ্বস্ত আলেম/মুরব্বির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
কিন্তু প্রথমে নিজের ভুল স্বীকার না করে সব দায় মা-বাবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।আর মা-বাবার ব্যাপারে আমাদের একটু ভাবা দরকার। আল্লাহ তাআলা বলেন—
*“আমার প্রতি এবং তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।”*
_—সূরা লুকমান, ৩১:১৪_
যে মা আপনাকে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছেন, যে বাবা-মা আপনাকে বড় করেছেন, আপনার প্রয়োজন পূরণ করেছেন—তাঁদের মতের অমিল হলেই তাঁরা আপনার শত্রু হয়ে গেলেন—এমনটা ভাবা ঠিক নয়।হ্যাঁ, মা-বাবা ভুল করতে পারেন। কিন্তু মা-বাবার সঙ্গে মতের অমিল হওয়া আর তাঁদের প্রতি অসম্মান করা এক জিনিস নয়। এমনকি কোনো বিষয়ে তাঁদের আনুগত্য করা যাবে না হলেও তাঁদের সঙ্গে দুনিয়াবি জীবনে সদাচরণ করতে বলা হয়েছে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—
চার বছর সম্পর্ক করেছেন বলে সেই মানুষটিকেই আপনাকে পেতেই হবে—এমন কোনো কথা ইসলামে নেই।চার বছর হারামে ছিলেন—এটা বরং তাওবা করার কারণ, সম্পর্কটাকে বৈধ প্রমাণ করার দলিল নয়।আজই যদি বুঝতে পারেন, আমি ভুল করেছি, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ—এটাই ফিরে আসার সময়।সম্পর্কটি যদি সত্যিই বিয়ের উপযুক্ত পর্যায়ে থাকে, তাহলে হারাম বন্ধ করুন, তাওবা করুন, পরিবারকে জানান এবং শরিয়তসম্মতভাবে বিয়ের চেষ্টা করুন।
আর যদি সে আপনার জন্য কল্যাণকর না হয়, তাহলে আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির তাকদির আসমান-জমিন সৃষ্টি করার ৫০,০০০ বছর আগেই লিখে রেখেছেন।
_—সহিহ মুসলিম, ২৬৫৩_
তাই, এই মানুষটাকেই চাই, না হলে আমি শেষ—এমন কথা বলবেন না।
বরং বলুন—হে আল্লাহ, এই মানুষটি যদি আমার দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে তাকে আমার জন্য হালাল করে দিন। আর যদি সে আমার জন্য কল্যাণকর না হয়, তাহলে আমার অন্তরকে তার থেকে ফিরিয়ে দিন এবং আমার জন্য উত্তম কিছু নির্ধারণ করুন।
বোন, মা-বাবাকে দোষ দেওয়ার আগে একবার নিজের দিকে তাকান।হারামের দরজা আপনি নিজে খুলে থাকলে, এখন সেই হারামের পরিণতির দায় শুধু মা-বাবার ঘাড়ে চাপাবেন না।
শয়তান প্রথমে হারামকে সুন্দর করে দেখায়, তারপর মা-বাবাকে বাধা মনে করায়, তারপর বলে—“তোমার মা-বাবা তোমার ভালো চায় না।”
তাই আবেগের বশে মা-বাবাকে শত্রু ভাববেন না। আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।আজ আপনি মা-বাবার ভালোবাসার মূল্য হয়তো পুরোপুরি বুঝবেন না। কিন্তু একদিন নিজে মা বা বাবা হলে বুঝবেন—সন্তানের ভালো চাওয়া কখনো কখনো কেন এত কঠিন, কেন এত কষ্টের এবং কেন এত অশ্রুর হয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হারাম থেকে বাঁচিয়ে হালালকে ভালোবাসার তাওফিক দিন। আমিন।
*owner✍️ রুমি জান্নাত*