25/01/2026
পাইকগাছায় আনসার সদস্যদের নির্বাচনী ডিউটির সম্মানী নিয়ে অনিশ্চয়তা: সেলফিন অ্যাপের ভুল তথ্যে বিপাকে শয়ে শয়ে সদস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাইকগাছা:
আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পাইকগাছা উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও, তাদের ডিউটির সম্মানী (টাকা) প্রদান নিয়ে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট অফিস বিকাশ সার্ভারের সঠিক তথ্য যাচাই না করে একটি থার্ড-পার্টি অ্যাপের (সেলফিন) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সদস্যদের হয়রানি করছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: ভুক্তভোগী আনসার সদস্যরা জানান, গত দুর্গোৎসব এবং তার পূর্ববর্তী বিভিন্ন ডিউটির টাকা তারা নিয়মিতভাবে পেয়েছেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ডিউটির টাকাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি সদস্যদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে আসার কথা। এই লক্ষ্যে অফিস থেকে সদস্যদের মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
তথ্য বিভ্রাট ও অফিসের একগুঁয়েমি:
জটিলতা তৈরি হয়েছে বিকাশের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে। অনেক সদস্যের বিকাশ অ্যাকাউন্ট আগে তাদের পিতা-মাতার এনআইডি দিয়ে খোলা ছিল, যা বর্তমানে তারা নিজস্ব এনআইডিতে ট্রান্সফার করেছেন। বিকাশ অ্যাপে এখন সদস্যদের নিজস্ব নাম ও তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। কিন্তু পাইকগাছা উপজেলা আনসার অফিস বিকাশ অ্যাপ বা মূল সার্ভার চেক না করে 'ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন (Cellfin)' অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করছে।
কারিগরি কারণে সেলফিন অ্যাপে এখনো পুরাতন তথ্য (পিতা-মাতার নাম) দেখাচ্ছে। আনসার অফিস এই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সদস্যদের দাবি নাকচ করে দিচ্ছে এবং বলছে যে তথ্য পরিবর্তন হয়নি। সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন— বিকাশ এবং সেলফিন দুটি আলাদা প্ল্যাটফর্ম। পেমেন্ট যেহেতু বিকাশে আসবে, তাই বিকাশের সার্ভারই হতে হবে তথ্যের একমাত্র ভিত্তি।
দুর্নীতির আশঙ্কা:
সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, যেখানে বিকাশ অ্যাপে নিজস্ব তথ্য দেখা যাচ্ছে, সেখানে কেন জোরপূর্বক অন্য একটি অ্যাপের ভুল তথ্য সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? অফিসের এই খামখেয়ালিপনার কারণে অনেক সদস্য তাদের প্রাপ্য টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছেন। অনেকে মনে করছেন, এই তথ্য জটিলতা সৃষ্টি করে একটি মহল সদস্যদের হকের টাকা নিয়ে দুর্নীতির পাঁয়তারা করছে।
আনসার সদস্যদের দাবি:
ভুক্তভোগী সদস্যরা অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন:
১. অফিস যেন সেলফিন অ্যাপের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বিকাশ সার্ভার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
২. বিকাশ অ্যাকাউন্টে বর্তমানে যে তথ্য আছে, সেটিকেই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩. ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এনআইডি ট্রান্সফার হওয়ার পরেও যদি অফিসের অসহযোগিতার কারণে সদস্যরা টাকা না পায়, তবে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এই বিষয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন পাইকগাছার সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা।