29/07/2026
দিনটি ছিলো ২৯ এ জুলাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি কালো অক্ষরে লিখা থাকবে। এই দিন আন্দোলনকারীরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটা ফ্যাসিবাদ মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে ছিলো। ২৮ তারিখ প্রায় ১০ দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পরে যখন ইন্টারনেট চালু হয়, ডিবি হারুনের চাপের মুখে যখন ছাত্রনেতারা আন্দোলন প্রত্যাহারের স্টেটমেন্ট দেয়, সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিষদের ৩ জন সদস্য মাহিন সরকার, আব্দুল কাদের এবং আব্দুল হান্নান মাসুদ অজ্ঞাত জায়গা থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আগের বিবৃতি প্রত্যাহার এবং ৯ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
পূবের সেই ঘোষণা অনুযায়ী ২৯ শে জুলাই আমরা কয়েকজন আন্দোলনকারী কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল করি ক্যাম্পাসে মেইন গেইটের সামনে। ওই সময় মিছিলে সামনে ছিলো পুলিশ আর পেছনে সাজোয়া জান নিয়ে ছিলো আর্মি। প্রশাসনের সংখ্যা আমাদের আন্দোলন কারী দের চেয়ে দ্বিগুণ ছিলো। ওই দিন বিকেলেই আওয়ামিলীগের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজ থেকে আমার ছবি মার্ক করে আমাকে ছাত্রদলেরর নেতা ট্যাগ দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। তবুও আমরা এই দেশের মুক্তির জন্য বুলেটের সামনে দাড়িয়ে সেই দিনও কোন আপোষ করি নাই। এখন এসে যারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়, আমি তাদেরকে বলি,
❝বিপ্লবের পরেও বিপ্লবীদের ফাঁসি দেওয়া হয়, এটা একটা কঠিন সত্য। ইতিহাস সাক্ষী, বিপ্লবের জয়ের পরেও ক্ষমতা লোভীরা ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নতুন করে নির্যাতন শুরু করে।❞
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই সব কিছু জানার পরেও আমরা কেন বিপ্লবের পথে হাঁটি?
কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এই দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। হোক না কেন জীবনের বিনিময়ে। এই লাল-সবুজের পতাকার নিচে আমরা সবাই এক। বিপ্লবের এই আগুন নিভিয়ে দেওয়া যাবে না। জীবন কোরবানির বিনিময়ে হলেও এই বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক।।
আমরা সবাই এক সাথে। একজনের জন্য সবাই। সবার জন্য একজন।।