12/04/2026
কতদিন বাঁচবেন?
৬০বছর? বড়জোর ৭০-৭৫বছর! খুব লাকি হলে ৮০+!
এক বছরে ৩৬৫ দিন হয়, প্রতিদিনে ৮৬,৪০০ সেকেন্ড!!
খুব বেশি সময় নিয়ে আসেননি তো!
টিক টিক করে করে সেকেন্ড কিন্তু চলে যাচ্ছে!
টুপ টুপ করে হাতে জমে থাকা সব সেকেন্ড একদিন ঠিকই শেষ হয়ে যাবে...
একজন মানুষের কাছে যখন কয়েকশো কোটি টাকা থাকে, তখন তাকে টাকার বিলাসিতা মানায়। কিন্তু যার কাছে মাত্র কয়েক শত টাকা আছে, তার কাছে টাকার বিলাসিতা মানায় না!
আমাদের হাতে যদি এমনই আয়ু থাকত কয়েক হাজার বছর, তাহলে সময়ের বিলাসিতাও আমাদের মানাতো!
এতো অল্প আয়ুতে, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষের সাথে ঝগড়া, মনোমালিন্যতা কিংবা হিংসা করা অথবা সামান্য স্বার্থের কারণে বা কথা কাটাকাটি থেকে একজন আরেকজনের সাথে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করা, আবার তা থেকে সম্পর্কের চিরতরে সমাপ্তি টানা!
সামান্য বিষয় নিয়ে মন খারাপ করা, নিজেকে কষ্ট দেওয়া, ভুল কারো উপস্থিতি মিস করা কিংবা ভাবা- “অমুক বা তমুক জীবনে থাকলে ভালো হতো”— এসব অনর্থক ব্যাপারে মন খারাপ করে দিনের পর দিন সময় নষ্ট করার সুযোগ কোথায়?
তারচেয়ে বরং ফ্যামিলিকে সময় দিন। ভালো বই পড়ুন।
পরিবার-পরিজনের সাথে একসাথে প্রিয় খাবারটা খান।
মা-বাবাকে দিনে অন্তত একবার জড়িয়ে ধরুন।
রাত জেগে জোছনা দেখুন, ভোরে সূর্যোদয় দেখুন,
সন্ধ্যায় পাখিরা কিভাবে ঘরে ফেরে সেটা দেখুন, প্রতিদিন অন্তত আধাঘণ্টা কোনো শিশুবাবুর সাথে সময় কাটান।
রাস্তার অবলা, নিরীহ কুকুর বা বিড়ালটাকে আদর করে দুটো খাবার দিন। ওদের নিষ্পাপ আনন্দের ঔচ্ছল্য দেখুন।
স্রষ্টাকে স্মরণ করুন। নিজনিজ ধর্ম পালন করুন। পৃথিবী কত সুন্দর সেটা অনুভব করুন। নিঃশ্বাস কতোটা মধুর সেটা বুজার চেষ্টা করুন।
অনেকের মতো হয়তো মনে করতেছেন যে, লাখ লাখ টাকা কামানোর পর সুন্দর সময় আসবে, তখন জীবন ইচ্ছামতো উপভোগ করবেন — ভুল ভাবছেন!
তখন হয়তো টাকা থাকবে, কিন্তু সময় থাকবে না; বয়স থাকবে না; সেই নিষ্পাপ নির্মল অনুভূতি থাকবে না;
মা-বাবা হয়তো তখন আর এই পৃথিবীতে থাকবে না।
জীবনে আপনি যে অবস্থাতেই থাকুন, অবস্থার পরিবর্তনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান, কিন্তু পাশাপাশি প্রতিটি মুহূর্তকে নিজের মতো করে উপভোগ করার চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, জীবনের ছোটছোট আনন্দ আর সুখ উপভোগ করতে বেশি টাকা লাগে না...
আর মানুষ? আপনার মহামূল্যবান মানুষগুলো আপনার সাথেই আছে, তারা হচ্ছে আপনার পরিবার ও কাছের মানুষজন, আপনার সময় থাকতে তাঁদের সময় দিন! তাদের ভালোবাসা নিন আর দিন...
পৃথিবীতে একবারই আসা। একটাই জীবন — দ্বিতীয়বার এখানে আসার কোনো সুযোগ নেই। তাই মন খারাপ করে বসে থাকারও কোনো সুযোগ নেই। সবসময় সুখী ও পজিটিভ থাকার চেষ্টা করুন।
একটা চমৎকার কথা আছে জানেন তো?
“Don’t count the days, make the days count!!”
একটু ভাবুন, আজকের দিনটাই যদি আপনার বা আমার শেষ দিন হয়, তাহলে আমরা আমাদের পরিবার ও স্রষ্টার প্রতি কতটুকু অনুগ্রহ করতে পেরেছি?
যখন মৃত্যুর সময় ডেথ বেডে শুয়ে পুরোটা জীবন নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন উপলব্ধি করবেন — মানুষের সাথে ঝগড়া, অহংকার, হিংসা করা; জীবন নিয়ে অনেক আফসোস, অনেক হাহাকার ও অভিযোগ, নিজেকে দিনের পর দিন কষ্ট দেওয়া অনেককিছুই ছিল অনর্থক।
নিজের ছোট্ট এই প্রাণটাকে অনেক সময় অযথাই কষ্ট দেওয়া হয়েছে। অনেক অবিচার করা হয়েছে নিজের নিরীহ এই আত্মাটার ওপর! তখন মনে হবে, জীবনের সোনালী সেই সময়গুলো আরও সুন্দরভাবে কাটানো উচিত ছিল।
আসুন, আমরা পরিবারকে সময় দিই, তাঁদের সুখী রাখি, নিজেদেরও সুখী রাখি আর নিজনিজ ধর্ম পালন করে সৃষ্টিকর্তাকে রাজি ও খুশি করি। হয়তো আজকের দিনটাতে সফল না হলেও, পরকালীন জীবনে যেনো সফল হতে পারি।