Bihan- বিহান

Bihan- বিহান নিভৃতচারী পাঠকের নীরব আশ্রয়— বিহান।
(1)

পানি– যা সভ্যতার প্রাণ, তা-ই কেন মানবজাতির আদিমতম স্মৃতিতে সর্বগ্রাসী ধ্বংসের প্রতীক? মেসোপটেমিয়ার ধুলোমাখা কিউনিফর্ম ফ...
22/06/2026

পানি– যা সভ্যতার প্রাণ, তা-ই কেন মানবজাতির আদিমতম স্মৃতিতে সর্বগ্রাসী ধ্বংসের প্রতীক? মেসোপটেমিয়ার ধুলোমাখা কিউনিফর্ম ফলক থেকে শুরু করে হিন্দু পুরাণ কিংবা সুদূর আন্দামানের আদিবাসী লোককথায় ঘুরেফিরে আসা মহাপ্লাবনের এই আখ্যান কি কোনো ঐতিহাসিক সত্য, নাকি মানবমনের এক অভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত?

'প্রাচীন সভ্যতা ও প্রত্নতত্ত্ব' বইয়ের আলোচ্য অধ্যায়টি গিলগামেশ মহাকাব্যকে সূত্র ধরে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নেরই ব্যবচ্ছেদ করেছে। শুধু একটি প্রাচীন মিথের বর্ণনা নয়, বরং প্রত্নতত্ত্ব, সমাজবিদ্যা ও মনঃসমীক্ষণের বিভিন্ন স্তর উন্মোচন করে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে একটি স্থানীয় ভৌগোলিক দুর্যোগ ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বের মনস্তাত্ত্বিক উত্তরাধিকারে পরিণত হলো।

আখ্যানের শুরুটা গিলগামেশের অমরত্বের সন্ধান দিয়ে হলেও এর ভরকেন্দ্র দ্রুতই দার্শনিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক প্রমাণে স্থানান্তরিত হয়। বন্ধু এনকিদুর মৃত্যুতে শোকাহত রাজা যখন বুঝতে পারেন অমরত্ব কোনো জাদুকরী ঐশ্বরিক দান নয়, বরং মানুষের সৃজনশীল কর্ম আর স্মৃতির মধ্যেই এর বাস, তখন প্রাচীন উপকথাটি যেন আধুনিক অস্তিত্ববাদের সাথে হাত মেলায়। এরপরই আসে ১৮৪০-এর দশকে ইরাকের মরুভূমিতে ইউরোপীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের যুগান্তকারী আবিষ্কারের প্রসঙ্গ। কাদামাটির ফলকে বাইবেলের নোয়ার আখ্যানের চেয়েও প্রাচীন এক প্লাবনের বিবরণ পশ্চিমা ধর্মতাত্ত্বিক জগতে যে ধাক্কা দিয়েছিল, লেখক তার পেছনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি বেশ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

ভৌগোলিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই মিথের উৎপত্তি খোঁজার চেষ্টাটি বেশ যৌক্তিক। প্রাচীন মানুষের কাছে তাদের ছোট নদীকেন্দ্রিক নগররাষ্ট্রটিই ছিল 'সমগ্র বিশ্ব'। তাই স্থানীয় কোনো বড় বন্যা যখন তাদের চেনা লোকালয় ভাসিয়ে নিত, সেটি তাদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই ছিল জগৎ ধ্বংসের সমতুল্য। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেই ভয়ংকর ট্রমা অতিরঞ্জিত হয়ে বৈশ্বিক মহাপ্লাবনের রূপ পেয়েছে।

তবে সমালোচনার জায়গা থেকে দেখলে, এই বৈশ্বিক মিথের বিস্তারের যুক্তিতে কিছু অস্পষ্টতা রয়ে যায়। লেখক 'কালচারাল ডিফিউশন' বা বাণিজ্যের মাধ্যমে গল্প ছড়িয়ে পড়ার কথা বলেছেন, যা মেসোপটেমিয়া থেকে হিব্রু বাইবেল পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যাখ্যা হিসেবে মানানসই। কিন্তু আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন সমাজগুলোতেও ঠিক একই গল্প কীভাবে জন্ম নিল, তার উত্তর কেবল 'সব প্রাচীন সভ্যতাই নদীকেন্দ্রিক ছিল'—এই সাধারণীকরণ দিয়ে পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়। 'ব্ল্যাক সি ফ্লাড হাইপোথিসিস' বা বরফযুগ শেষের জলোচ্ছ্বাসের মতো তত্ত্বগুলোর উল্লেখ থাকলেও, সেগুলোর বৈজ্ঞানিক বিতর্কের গভীরে আলোচনাটি প্রবেশ করেনি।

তত্ত্ব ও তথ্যের ভিড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কাটি আসে অধ্যায়ের শেষভাগে, সুইস সাইকিয়াট্রিস্ট কার্ল ইয়ুংয়ের 'আর্কিটাইপ' বা কালেকটিভ আনকনসাসনেস তত্ত্বের মাধ্যমে। মহাপ্লাবন হয়তো কেবল বাইরের পৃথিবীর জলচ্ছ্বাস ছিল না। মানুষ হিসেবে আমরা স্বভাবতই পুরোনো বিশৃঙ্খলা, ভুল বা জঞ্জাল ধুয়েমুছে একেবারে নতুন করে শুরু করতে চাই। আমাদের অবচেতনে লুকিয়ে থাকা ধ্বংস ও সৃষ্টির এই আদিম আকাঙ্ক্ষাই যুগে যুগে, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে মহাপ্লাবনের মিথ হয়ে রূপ পেয়েছে।

ইতিহাস এখানে কেবল মাটির নিচের চাপা পড়া নগরী খোঁজে না। বইটি পড়ার পর একটা প্রশ্ন তাই অবধারিতভাবেই মাথার ভেতর ঘুরপাক খায়—আমরা কি তবে হাজার বছর ধরে প্রকৃতির ধ্বংসলীলার কথা বলে আসছি, নাকি আমাদের নিজেদেরই মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা এক আদিম ও অন্ধকার সমুদ্রকে প্রতিনিয়ত ভাষার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছি?

বই: প্রাচীন সভ্যতা ও প্রত্নতত্ত্ব
প্রথম অধ্যায়: মেসোপোটেমিয়ার মহাপ্লাবন
লেখক: হিমাংশু কর
প্রকাশনী: পুঁথি

#প্রাচীন_সভ্যতা_ও_প্রত্নতত্ত্ব #বিহান

22/06/2026

সংক্ষিপ্ত জীবনে, নীড়ে ফেরা।
শেষ পর্যন্ত মানুষ ফিরে আসে তার আপন ঠিকানায়, যেখানে শান্তি শব্দের চেয়েও গভীর।

23/04/2026

আজ ২৩ এপ্রিল — World Book and Copyright Day

সকল বইপ্রেমীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

আজ একটু সময় রাখুন বইয়ের জন্য, একটা ভালো বই উপহার দিন প্রিয়জনকে,
আর শব্দের ভেতর খুঁজে নিন নিজের ভালোবাসা।

পৃথিবীর বড় বড় খ্যাতিমান বা সফল মানুষদের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের সবারই স্বযত্নে লুকিয়ে রাখা একটি অন্ধকার বা এক...
31/03/2026

পৃথিবীর বড় বড় খ্যাতিমান বা সফল মানুষদের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের সবারই স্বযত্নে লুকিয়ে রাখা একটি অন্ধকার বা একান্ত ব্যক্তিগত অংশ থাকে। কিন্তু যদি এমন এক মহামানবের কথা ভাবি, যাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, হাসি-কান্না আর ঘরের চারদেয়ালের ভেতরের একান্ত গল্পগুলোও পৃথিবীর সামনে এক স্বচ্ছ আয়নার মতো উন্মুক্ত। এমন এক জীবন, যা শুধু ইতিহাসের পাতা থেকে পড়ার জন্য নয়, বরং নিজের সত্তায় গভীরভাবে অনুভব করার জন্য।

এই উন্মুক্ত ও স্নিগ্ধ জীবনের এক অপূর্ব গ্রন্থ হলো বরেণ্য স্কলার ড. সালমান আল আওদাহ-এর লেখা "মা'আল মুস্তফা"। চিরাচরিত সীরাত গ্রন্থগুলোতে আমরা সাধারণত জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ধারাবাহিক এক ইতিহাসের বিবরণ পাই। যুদ্ধজয়, সন্ধি বা বংশ তালিকার ভারি ভারি তথ্যে ভরপুর থাকে সেসব পাতা। কিন্তু এই বইটি সম্পূর্ণ আলাদা। বরং লেখক এখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের এমন কিছু ক্ষুদ্র অথচ অসীম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তকে অনুভূতি ও উপলব্ধির আদলে তুলে ধরেছেন, যা পাঠকের হৃদয়কে সরাসরি স্পর্শ করে।

লেখক খুব সচেতনভাবেই পাঠককে ১৪০০ বছর আগের সেই পবিত্র সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন, যেখানে মনে হয় যেন পাঠক নিজেই নবীজির সাথে মক্কার পথে হাঁটছেন, তাঁর মোলায়েম হাসি দেখছেন, কিংবা তাঁর কোনো গভীর বেদনার মুহূর্তের নীরব সাক্ষী হয়ে আছেন।

বইটির ছত্রে ছত্রে লুকিয়ে আছে বাস্তব জীবনের সাথে আমাদের প্রতিদিনকার সূক্ষ্ম সংযোগ। আজ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে চারপাশের মানুষগুলো হতাশা, বিষণ্ণতা আর একাকীত্বে ভুগছে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার এই অসুস্থতা ও টানাপোড়েনের মাঝে বইটি যেন এক জাদুকরী উপশম। লেখক যখন আমাদের জানান যে, নবীজির জীবনের কোনো কিছুই আড়াল করা হয়নি, তখন তা গভীর এক চিন্তার জন্ম দেয়। পৃথিবীর তাবৎ সেলিব্রেটি বা সফল মানুষেরা তাদের জীবনের একটা বড় অংশ একান্ত ব্যক্তিগত বলে আড়াল করে রাখেন। কিন্তু আমাদের নবীজির পুরো জীবনটাই উম্মতের জন্য উন্মুক্ত। সাহাবিরা তাঁর বহির্জীবন নিয়ে কথা বলেছেন, আর উম্মুল মুমিনিনরা তাঁর ঘরের ভেতরের জীবনকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরেছেন।

বইয়ের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সাহাবিরা নবীজির মাথার কয়টি চুল পেকেছিল, তা-ও পরম মমতায় গুনে রেখেছেন। এই তথ্যটি যখন বইতে আসে, তখন তা কেবল একটি ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান হয়ে থাকে না। বরং এটি আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে, তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসার স্তর কতটা সূক্ষ্ম ও গভীর ছিল। এই বইটি শুধু এই কথা বলে না যে নবীজির জীবনে কী ঘটেছিল; বরং তা কেন আমাদের আজকের জীবনের জন্য এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটাই বারবার মনে করিয়ে দেয়।

অন্য একটি জায়গায় লেখক দেখিয়েছেন, কুরআনের আয়াতে যখন স্বয়ং আল্লাহ নবীজিকে বলছেন যে, তিনি অন্তরে যা গোপন করছেন আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেবেন, এবং তাঁর মানুষকে নয় বরং আল্লাহকে ভয় করা উচিত—তখন নবীজি বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। এই আয়াত তিনি মানুষের সামনে অকপটে তিলাওয়াত করেছেন, অথচ জানতেন বিরোধীরা এটি নিয়ে তাঁর সমালোচনা করতে পারে। এই ঘটনাটি বইতে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা আপনার মনে নবীজির স্বচ্ছতা ও সততার প্রতি এক অকল্পনীয় শ্রদ্ধা তৈরি করবে।

বইটি পড়তে পড়তে একটি জায়গায় গিয়ে মনস্তত্ত্বে এক বিশাল পরিবর্তন আসে। আর তা হলো স্রেফ জানা থেকে অনুভব করার জগতে প্রবেশ। আমরা অনেকেই নবীজিকে চিনি, ছোটবেলা থেকে তাঁর ইতিহাস পড়েছি, কিন্তু তাঁকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কতটা গভীরভাবে অনুভব করি? জানাটা কেবল মস্তিষ্কে তথ্য হিসেবে জমা হয়, কিন্তু অনুভব হৃদয়কে পুরোপুরি পালটে দেয়। "মা'আল মুস্তফা" ঠিক এই শূন্যস্থানটাই নিখুঁতভাবে পূরণ করে। বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা যখন দিকভ্রান্ত হয়ে আধুনিকতার নামের ফাঁকা আদর্শের পেছনে ছুটছে, তখন এই গ্রন্থ তাদের সামনে এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনের মডেল দাঁড় করায়, যা আত্মাকে প্রশান্ত করে। শত্রুর প্রতি তাঁর অপরিসীম ক্ষমা, পরিবারের প্রতি তাঁর কোমলতা, সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর গভীর মমতা—সবকিছু মিলিয়ে তিনি যেন শুধু একজন ঐতিহাসিক পথপ্রদর্শকই থাকেন না, বরং আমাদের প্রতিদিনের যাপিত জীবনের এক পরম নির্ভরতার আশ্রয় হয়ে ওঠেন।

বইটি পড়া শেষ হওয়ার পর এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসে মনের ভেতর; শূন্য হৃদয়ে নীরবে বোনা হয়ে যায় এক প্রগাঢ় ভালোবাসার বীজ। মনে হয়, এতকাল যাঁর কথা কেবল দূর থেকে শুনে এসেছি, তিনি যেন ঠিক এই মুহূর্তেই এসে আমার খুব কাছের কোনো আশ্রয়ের শীতল ছায়ায় দাঁড়িয়েছেন।

বুক রিভিউ- ০৫
বই- মা'আল মুস্তফা
লেখক- ড. সালমান আল আওদাহ
অনুবাদ- ফারুক আযম

#মাআল_মুস্তফা

ঈদ মোবারক! تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنكُم
20/03/2026

ঈদ মোবারক!
تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنكُم

বুক রিভিউ- ০৪বই- দ্যা প্রোফেটলেখক- কাহলিল জিবরানআমরা জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করি নিজেদের কষ্ট থেকে পালাতে আর প্রিয় মানু...
19/03/2026

বুক রিভিউ- ০৪
বই- দ্যা প্রোফেট
লেখক- কাহলিল জিবরান

আমরা জীবনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করি নিজেদের কষ্ট থেকে পালাতে আর প্রিয় মানুষদের খুব করে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে। অথচ আমরা টেরই পাই না, যে ভাঙন আর শূন্যতাটুকুকে আমরা ভয় পাচ্ছি, ঠিক সেখানেই লুকিয়ে আছে আমাদের সত্যিকারের আনন্দ।

এই অদ্ভুত অথচ সুন্দর সত্যটাই খুব শান্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে লেবানিজ-আমেরিকান কবি কাহলিল জিবরানের লেখা "দ্যা প্রোফেট" (The Prophet) বইটিতে। এটি এমন কোনো বই নয় যা আপনি এক বসায় পড়ে শেষ করবেন; এটি আসলে একটি ধ্যানের মতো, যা আপনাকে ধীরে ধীরে নিজের ভেতরে ডুব দিতে বাধ্য করবে।

বইটির পটভূমি খুব সাধারণ— আল- মুস্তফা নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসে কাটানোর পর নিজের দেশে ফেরার জাহাজের অপেক্ষায় আছেন। বিদায়বেলায় শহরের মানুষরা তাকে ঘিরে ধরে জীবনের চিরচেনা রহস্যগুলো নিয়ে প্রশ্ন করে। আর তিনি তাদের কোনো কড়া নিয়মকানুন ধরিয়ে দেন না, বরং মানুষের জীবনের ভালোবাসা, স্বাধীনতা, কষ্ট আর কাজের এক বিশাল আয়না তাদের সামনে তুলে ধরেন।

আমরা অনেকেই ভালোবাসাকে অধিকার বা নির্ভরতা মনে করি। কিন্তু জিবরান এই ধারণাকে খুব মায়াভরে ভেঙে দিয়ে বলেন,“ভালোবাসা কাউকে অধিকার করে রাখে না, কিংবা কারো অধিকারের শৃঙ্খলেও আটকা পড়ে না; কারণ ভালোবাসার জন্য ভালোবাসাই যথেষ্ট”। বাস্তব জীবনে এর মানে হলো, আমরা যাদের ভালোবাসি—হোক সে জীবনসঙ্গী বা সন্তান—তাদেরকে নিজের ছাঁচে গড়ার চেষ্টা না করে মুক্তভাবে বেড়ে ওঠার স্বাধীনতা দেওয়া। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, দুজন মানুষের নিখুঁত সম্পর্কের মাঝেও একটুখানি নিজস্ব শূন্যস্থান থাকতে হয়, ঠিক যেমন মন্দিরের স্তম্ভগুলো একটু দূরে দাঁড়িয়েই পুরো ছাদকে শক্ত করে ধরে রাখে।

আমাদের রোজকার কষ্টগুলোকেও তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “কষ্ট তোমার সত্তার গভীরে যত বেশি খোদাই করবে, তুমি তত বেশি আনন্দ ধারণ করতে পারবে”। এটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের কোনো অন্ধকার সময় বা বুক-ভাঙা কষ্ট আসলে তা কোনো চিরস্থায়ী নয়; এটি মূলত আমাদের ভেতরে এমন এক বিশাল পাত্র তৈরি করে দিচ্ছে, যেখানে ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বড় কোনো আনন্দ এসে জমতে পারে।

একইভাবে আমাদের প্রতিদিনের একঘেয়ে কাজগুলো নিয়েও তার দর্শন খুব সাধারণ কিন্তু গভীর, “কাজ হলো দৃশ্যমান ভালোবাসা”। আপনি যদি ভালোবাসা ছাড়া বিরক্তি নিয়ে রুটি সেঁকেন, তবে সেই তেতো রুটি মানুষের অর্ধেক ক্ষুধাই মেটাবে।

জিবরান এখানে কোনো ধর্মগুরুর মতো সবজান্তা হয়ে কথা বলেননি, বরং তিনি এমন একজন পথপ্রদর্শক যিনি শুধু আপনার নিজের মনের দরজাতেই আপনাকে পৌঁছে দিয়েছেন।

এই বইটি আপনি নতুন কিছু শেখার জন্য পড়বেন না; আপনি এটি পড়বেন আপনার মধ্যকার পুরনো, নিশ্চুপ সত্যগুলোকে নতুন করে অনুভব করার জন্য, যেগুলো আপনি, আপনার আত্মা সবসময়ই জানেন, শুধু জীবনের কোলাহলে আপনি শুনতে পাননা।

রমজানের শেষ দশকে, শেষ সংগ্রহ। 📖 মুহাম্মদ আল ফাতিহ✍️ ড. রাগিব সারজানি
18/03/2026

রমজানের শেষ দশকে, শেষ সংগ্রহ।

📖 মুহাম্মদ আল ফাতিহ
✍️ ড. রাগিব সারজানি

জ্ঞানের আলোয় নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হোক।৮ মার্চ –আন্তর্জাতিক নারী দিবস
08/03/2026

জ্ঞানের আলোয় নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হোক।

৮ মার্চ –আন্তর্জাতিক নারী দিবস

ইসলাম পুরোপুরি রাজনৈতিক, রাজনীতি বাদ দিলে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। –আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিবই- দ্যা পাওয়ার অব জিওগ্রাফি...
01/03/2026

ইসলাম পুরোপুরি রাজনৈতিক, রাজনীতি বাদ দিলে এর কোনো অস্তিত্ব নেই। –আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি

বই- দ্যা পাওয়ার অব জিওগ্রাফি
লেখক- টিম মার্শাল

Address

Motihar
Rajshahi
6200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bihan- বিহান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category