07/06/2026
এমপি সাহেবরা আগে কি করতেন, নিজের এলাকায় ২০ টা কালভার্ট, ২ টা ব্রীজ, ১৫ টা রাস্তা, ৬ টা স্কুল ভবনের কাজ সংসদে পাশ করিয়ে নিতেন।
এরপর বাজেট হত, তা পাশ হয়ে অর্থ ছাড় হত। এমপি নিজ পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ বাগিয়ে দিয়ে ১ কোটি টাকার কাজ ৩০ লাখে লেপ দিয়ে বাকি টাকা বেগম পাড়ায় পাঠিয়ে দিত।
পরে আমরা দেখতাম রাস্তা নাই, কিন্তু কালভার্ট ব্রীজ দাঁড়িয়ে আছে। ধানি জমির মাঝ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় রাস্তা চলে গেছে।
এক হরিলুট আয়োজন ছিল তখন।
প্রধানমন্ত্রীর অফিস আজ নতুন এক সেন্ট্রালাইজড নিয়ম চালু করেছে। আগে যেমন এমপিরা বার্ষিক ৫ কোটি করে ৫ বছরে ২০-২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেত এবার আর সেটা পাবে না।
এমপির এলাকায় কি কি লাগবে সে তার তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ সেলে জমা দিবে। সেল তা তদারকি করে প্রয়োজনীয়তা নিরুপন করবে।
অর্থ পাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তারাই প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবে।
একটা দুর্দান্ত পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারলে রাষ্ট্র এক অর্থ বছরে একদম নূন্যতম ১২০০-১৪০০ কোটি টাকা দুর্নীতি ও অপচয় হওয়া থেকে বাঁচাতে পারবে। এছাড়া ভূয়া প্রকল্প, অপ্রয়োজনীয় উন্নয়নের অর্থ তো আছেই।
আরেকটা দারুন কাজ হয়ে যেতে পারে আগামী ইলেকশনে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা নাই হয়ে যাবে। ধান্ধাবাজির আশায় এমপি হওয়ার রাস্তা ক্লোজ।
দারুন এই সিদ্ধান্তটা শক্ত হাতে বাস্তবায়ন হোক, বিশেষ এই তদারকি সেল সর্ষের ভিতরের দানব হয়ে না উঠুক।
সেন্ট্রালাইজড ডিসিশনে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প থেমে না যাক এবং পছন্দের বা কাছের এমপিকে অনৈতিক অগ্রাধিকার না দেয়া হোক।
এগুলো কনফার্ম করতে পারলেই এই সিদ্ধান্ত সাকসেসফুল হবেই।