05/04/2026
গত ৪৮ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং ইরান যেভাবে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তা বিশ্বমঞ্চে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। ইতিহাসে অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ে তটস্থ থাকে, কিন্তু ইরান কার্যত 'বুড়ো আঙুল' দেখিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
কেন ইরান এই দুঃসাহস দেখাচ্ছে? এবং এই সংঘাতের শেষ কোথায়?
চলুন বিশ্লেষণ করা যাক।
ইরান খুব ভালো করেই জানে যে, পশ্চিমা বিশ্বের 'যুদ্ধবিরতি'র ডাক অনেক সময় এক প্রকার কৌশল মাত্র। অতীতে আমরা বারবার দেখেছি, যুদ্ধবিরতির কথা বলে হামলাকারী পক্ষ নিজেদের গুছিয়ে নেয় এবং পরবর্তীতে আরও ভয়াবহ আক্রমণ চালায়।
* ঐতিহাসিক শিক্ষা: ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখি, মদিনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ইহুদি গোত্রগুলো বারবার সন্ধিচুক্তি করত এবং সুযোগ পেলেই তা ভঙ্গ করত।
* বর্তমান বাস্তবতা: ইরান সম্ভবত সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাচ্ছে না। তাদের কাছে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মানেই হলো প্রতিপক্ষকে নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ করে দেওয়া।
সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বা তার প্রভাব নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যেখানে হয়তো ট্রাম্পকে শান্তির জন্য অনুনয় করতে হবে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠ আরও ভয়াবহ হতে পারে।
* পারমাণবিক ঝুঁকি: যদি কোণঠাসা হয়ে কোনো পক্ষ পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
* মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র: পারমাণবিক যুদ্ধের অর্থ হলো পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ধ্বংসযজ্ঞ। এতে শুধু যুযুধান পক্ষগুলোই নয়, বরং সেইসব 'মুসলিম মুনাফেক' রাষ্ট্রগুলোও নিশ্চিহ্ন হবে যারা পর্দার আড়াল থেকে মুসলিম স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করে যাচ্ছে।
ইরানের বর্তমান ভঙ্গি বলছে, তারা অর্ধেক পথে থামতে রাজি নয়। যখন কোনো জাতি দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ায়, তখন তারা আর কোনো কূটনৈতিক টেবিলের আপসে বিশ্বাস করে না। ইরান সম্ভবত বিশ্বাস করছে যে, এই লড়াইয়ের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার চূড়ান্ত ভারসাম্য নির্ধারিত হবে।
ইতিহাস সাক্ষী, অন্যায় আর বিশ্বাসঘাতকতার দেয়াল সবসময় বেশিদিন টিকে থাকে না। তবে এই সংঘাত যদি পারমাণবিক পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে অনেক কিছুই মুছে যেতে পারে।
ইরান কি পারবে এই অসম লড়াইয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে? নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে? সময় এবং সমরনীতিই বলে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর।
যুদ্ধের দামামা যখন বাজে, তখন শান্তি প্রস্তাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর ষড়যন্ত্র। ইরান সেই ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে ফেলতেই হয়তো আজ 'না' বলার সাহস দেখিয়েছে।