07/08/2026
দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে জীবন থামে না, ঘুরে দাঁড়াতে হয়—কিন্তু দেশকে অস্থিতিশীল করা কোনো রাজনীতির সমাধান নয়।
মূল বক্তব্য-
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—জীবন ও জীবিকা যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেয়, তখন কেন মানুষ থামবে না? কিন্তু তাই বলে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে তোলা কোনোভাবেই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা হতে পারে না। ক্ষমতা বা নিজেদের স্বার্থের টানে দেশবাসীকে জিম্মি করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা কখনোই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। দেশের সার্বিক শান্তি ও শৃঙ্খলার চেয়ে বড় কোনো দল বা ব্যক্তিস্বার্থ হতে পারে না।
ইতিহাসের শিক্ষা ও জনগণের মূল্যায়ন
স্বাধীনতার ঘোষকের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির একটি ঐতিহ্য ও ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু দলটির বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও কৌশল নিয়ে আজ দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা ভালো করেই বোঝে কে দেশের কল্যাণ চাইছে আর কে নিজের ফায়দা লুটতে ব্যস্ত।
ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসকে ধারণ করে যদি রাজনীতি পরিচালিত হতো, তবে আজ দেশের মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে যখন সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া হয়, তখন তা দলের জন্য কেবল আত্মঘাতীই নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
ভুল নীতির পরিণতি রাজনীতিতে অন্ধ জেদ বা গায়ের জোর কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী, যারা জনগণের আবেগকে পাশ কাটিয়ে ধ্বংসাত্মক ও বিশৃঙ্খল পথ বেছে নিয়েছে, তারা ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জনগণের ধৈর্যের বাঁধ: দেশের সাধারণ মানুষ শান্তি চায়, উন্নয়ন চায়। অস্থিতিশীলতা তৈরি করে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চান, তাদের বোঝা উচিত জনগণ এখন সচেতন।
বিপদগামী পথ: যতই শক্তি প্রদর্শন বা পেশিশক্তির রাজনীতি করা হোক না কেন, তা দলকে চূড়ান্ত বিপদের দিকেই ঠেলে দেবে। যত নড়বেন, ততই চোরাবালিতে আটকে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।সময় এখন সংযমের,
ক্ষমতার লড়াইয়ে মত্ত না হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে আত্মোপলব্ধি করার সময় এখনই। দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা বাদ দিয়ে গঠনমূলক রাজনীতিতে ফিরে আসাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় জনগণের কাঠগড়ায় এর চরম মূল্য দিতে হবে।
অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী
সহ-সভাপতি, গাইবান্ধা জেলা জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)।
২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ)।