05/06/2026
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অর্জনকে স্বাগত, তবে রয়েছে কিছু শঙ্কা: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক
ঢাকা: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে এই অর্জনকে ঘিরে কিছু উদ্বেগ ও শঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে একজন বাংলাদেশির নির্বাচিত হওয়া নিঃসন্দেহে দেশের জন্য গৌরবের বিষয় এবং বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সাফল্য। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকায় এই অর্জনকে উদযাপনের আগে বিষয়টিকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘকে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে সংস্থাটি অনেক ক্ষেত্রে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে বলে সমালোচনা রয়েছে। এ কারণে জাতিসংঘের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে কারও অধিষ্ঠানকে শুধুমাত্র অর্জন হিসেবে দেখার আগে এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।
জমিয়ত সভাপতি আরও বলেন, ড. খলিলুর রহমানের অতীত কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ কতটুকু রক্ষা পাবে, তা সময়ই বলে দেবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ড. খলিলুর রহমান যদি রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত সমস্যা, প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসী আচরণ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং অন্যান্য জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন, তাহলে এই অর্জন প্রকৃত অর্থেই দেশের জন্য কল্যাণকর বলে বিবেচিত হবে।
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে ইতিবাচক ফলাফল দৃশ্যমান হলে তখনই এ অর্জনকে স্বার্থকভাবে উদযাপন করা যাবে। অন্যথায় ইতিহাস এ ঘটনাকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করতে পারে।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি দেশের কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এই দায়িত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য কল্যাণকর কিছু অর্জিত হবে।