21/09/2026
Q: আচ্ছা Dazzle Green Tangail এটা আসলে কি?
A: Dazzle Green Tangail হলো একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মডেল যেখানে আমরা শহুরে বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে ল্যান্ডফিল জিরো করে বর্জ্যকে সম্পদে রুপান্তর করছি।
Q: আপনাদের এই প্রজেক্টি কোথায়?
A: আমাদের এই Dazzle Green প্রজেক্টি টাংগাইল সদর পৌরসভায় অবস্থিত। টাংগাইল পৌর কর্তৃপক্ষ থেকে বর্জ্য সংগ্রহের অনুমোদন ও জায়গা বরাদ্দ নিয়ে আমরা এই প্রজেক্টটি স্হাপন করেছি।
Q: আপনাদের প্রজেক্টে বিনিয়োগ কারা করেছেন?
A: আমরা পৌরসভা বা সরকার থেকে কোনও বিনিয়োগ নেইনি কারন আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই প্রজেক্টিকে একটি লাভজনক ব্যবসার মডেল হিসেবে দ্বাড় করিয়ে সারা বাংলাদেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্হাপন করতে চাই।
আমরা একটি প্রতিষ্ঠান থেকে স্পন্সরশীপ লোন নিয়ে এই প্রজেক্টটি তৈরী করেছি।
প্রতিদিন আমরা প্রায় ১টন ড্রাই কম্পোস্ট সার তৈরী করি যার ৫০% আমরা পৌরসভা এবং সরকারের কৃষি বিভাগের কাছে বিক্রি করি যা দিয়ে আমরা আমাদের ঋণের টাকা শোধ করছি।
আর বাকি ৫০% সার টাংগাইলবাসী যারা আমাদেরকে জৈব ও অজৈব বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করে কালেকশন ভ্যানে পৃথকভাবে হস্তান্তর করে সহযোগিতা করেন তাদেরকে তাদের বাড়ির আঙ্গিনা বা ছাদে বাগান করার জন্য উপহার হিসেবে দিয়ে থাকি।
Q: আপনারা কিভাবে কাজ করেন?
A: তিনটি ধাপে আমরা কাজ করছি।
আমাদের প্রজেক্টের ১ম এবং সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ন কাজ হল উৎসস্থল অর্থাৎ বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত, রাস্তা-ঘাট, ডোবা নালা, বাজার, হাসপাতাল এবং সমগ্র পৌর এলাকা থেকে বর্জ্যকে ৩ টি আলাদা ভাগে সংগ্রহ করি।
এ জন্য আমরা সবুজ , হলুদ এবং লাল —এই ৩ রঙের পৃথক বাস্কেট বা বিন যুক্ত একটি অটো রিক্সা ভ্যান তৈরী করেছি।
কারখানায় বর্জ্য যেন প্রাথমিক সর্টিং বা পৃথকীকরণ হয়ে আসে , সেই লক্ষ্যেই এই থ্রি-হুইলার কার্গো ভ্যানটির বডি ও কালার বাস্কেট ডিজাইন করা হয়েছে।
পৌর এলাকার প্রতিটি নাগরিক আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।
তারা তাদের রান্নাঘর তথা উৎসস্হলে ভেজা বা জৈব, শুকনো বা অজৈব আর খতিকারক বা রিসাইকল অযোগ্য উপাদানগুলো আলাদা করে সংরক্ষণ করে রাখে এবং আমাদের কালেকশন ম্যানের নিকট পৃথকভাবে হস্তান্তর করে থাকে -
1. 🟢 সবুজ বাস্কেট তারা জৈব বা পচনশীল বর্জ্য যেমন - শাকসবজির খোসা, উচ্ছিষ্ট খাবার, গাছের পাতা, ডাবের খোসা ইত্যাদি দিয়ে থাকে।
2. 🟡 হলুদ বাস্কেট তারা পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা রিসাইকেল উপযোগী অজৈব বর্জ্য যেমন প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন , অ্যালুমিনিয়াম ক্যান, মেটাল বা লোহা, কাগজ, কার্টুন,কাপড় ইত্যাদি দিয়ে থাকে।
🔴 লাল বাস্কেটে তারা বিপজ্জনক, ক্ষতিকারক বা মেডিক্যাল বর্জ্য এবং মিক্স বর্জ্য যেগুলো রিসাইকেল করা যাবে না সেগুলো দিয়ে থাকে।
লাল বাস্কেটের এই বর্জ্যগুলো কারখানায় এনে ইনসিনেটরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উৎপাদিত তাপ রোটারি ড্রায়ারে সার শুকানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।
Q: আচ্ছা টাংগাইলবাসি কি বর্জ্য গুলো পৃথকভাবে সংরক্ষণ করে আপনাদেরকে দেয়?
A: কেন দেবে না? এই শহরে যারা বসবাস করে তারা প্রত্যকেই সচেতন নাগরিক। তারা সবাই জানে, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ নগরী গড়তে হলে প্রত্যেক নগরবাসীর দায়িত্ব আছে। তাদের সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে তারা আমাদেরকে অবশ্যই পৃথকভাবে বর্জ্যগুলো হস্তান্তর করে থাকে।
কারন তারা জানে, মিক্স বর্জ্য সেপারেশন করা আমাদের প্রজেক্ট মেশিনের পক্ষে সম্ভব না। মিক্স বর্জ্য আমাদেরকে দিলে তা ডাম্পিং করে ল্যান্ডফিল করা অথবা পুরিয়ে ফেলা ছাড়া আমাদের আর কোনও উপায় নেই। এবং এই দুইটি প্রক্রিয়াই পরিবেশের জন্য মারাত্বক খতিকর।
Q:Dazzle Green Tangail প্রজেক্টের দ্বিতীয় ধাপটি কি?
A: ২য় ধাপটি হল একটি প্রসেসিং প্লান্ট যেখানে ৩ টি আলাদা বাস্কেটে আসা বর্জ্য গুলোকে ৩ টি আলাদা সহজ প্রসেসে জিরো করে ফেলা হয়।
আমরা কেবল ময়লা পরিষ্কার করছি না, বরং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করছি ।
Q: ৩ টি বাস্কেটের ৩ টি প্রক্রিয়া গুলো একটু দেখতে চাই?
A: ১. গ্রিন বাস্কেটে জৈব বর্জ্য ঢোকার পর ট্রামেল সেপারেটরের মাধ্যমে ছেকে এবং ম্যানুয়াল সেপারেশনের মাধ্যমে ১০০% জৈব উপাদান ক্রসিং শ্রেডারে দেয়া হয় যেন কোনও অজৈব কন্টা এর মধ্যে চলে না যায়।
এরপর শ্রেডারের মাধ্যমে পিওর জৈব বর্জ্যগুলোকে কুচি কুচি করে চূর্ণ করা হয় এবং ডিহাইড্রেটরের মাধ্যমে পানি নিংড়ে আলাদা করা হয়। এতে জৈব উপাদান গুলো পচে দূর্গন্ধ বের হয় না।
শেষে রোটারি ড্রায়ারের মাধ্যমে এই জৈব গুড়ো গুলো শুকিয়ে প্রিমিয়াম ড্রাই কম্পোস্ট সার তৈরী করা হয়।
২.ইয়োলো বাস্কেট আসা অজৈব উপাদান গুলো ম্যানুয়াল সেপারেটিং টেবিল এর উপর ফেলা হয় এবং ম্যানুয়াল সেপারেশনের মাধ্যমে উপাদান গুলোকে আইটেম ওয়াইজ কাগজ, কাঁচ, প্লাস্টিক, পলি, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, ইট, কাপড়, রাবার ইত্যাদি আলাদা করা হয়। আইটেম ওয়াইজ পৃথক করার ফলে রিসাইকেল কারী প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছে ভালে দামে বিক্রি করা হয়।
৩.রেড বাস্কেটে আসা চূড়ান্ত বাতিল উপাদন বা মেডিক্যাল ওয়েস্ট সরাসরি পরিবেশসম্মত চুল্লি বা ইনসিনেটরে পুড়িয়ে ছাই করা হয়।
Q: বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য প্রজেক্টের সাথে আপনাদের পার্থক্য কি?
A: বাংলাদেশ প্রচলিত অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকেক্ট বা STS মডেল থেকে আমাদের প্রকল্প সম্পূর্ণরুপে আলাদা।
অন্যান্য প্রজেক্টে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সব ময়লা একসাথে ল্যান্ডফিলে বা খোলা জায়গায় ফেলে রাখা হয়, যা দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ করে।
* ডাজেল গ্রীনে আমরা উৎস থেকেই ৩ রঙের বাস্কেটে ময়লা আলাদা করি এবং প্ল্যান্টের ভেতরে সম্পূর্ণ এক ছাদের নিচে কোনো ধরনের ডাম্পিং ছাড়াই শতভাগ প্রসেস করা হয় কোনও রকম দূর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ হয় না।
অন্যান্য প্রজেক্টে প্লাস্টিক, কাঁচ বা মেটাল আলাদা করার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকে না।
অন্যদিকে ডাজেল গ্রীনের প্ল্যান্টে ১৫ টি ডেডিকেটেড পৃথক চেম্বার রয়েছে, যার ফলে প্রতিটি অজৈব উপাদান পরিস্কার ও চাহিদা অনুযায়ী রিসাইক্লিং ভেন্ডরদের কাছে বিক্রি করতে পারি।
Q: আপনাদের প্রজেক্টের সুবিধা গুলো কি কি?
A: আমাদের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সিস্টেমটি ১০০% পরিবেশবান্ধব। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ক্ষতিকারক কোনো বর্জ্য খোলা আকাশে বা মাটিতে মিশে না।
স্বল্প মূল্যে উচ্চমানের ড্রাই কম্পোস্ট সার সরবরাহ করে কৃষকদের জন্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক সারের বিকল্প তৈরী করে দিচ্ছি।
উৎসস্থল থেকেই পৃথক করার অভ্যাসটি গড়ে তোলা তখনই সম্ভব হয়েছে যখন নগরবাসী দেখেছে আমরা তিন রঙের বাস্কেটের পৃথকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহন করছি। অথাৎ উৎসে পৃথকীকরণের যে পরিশ্রম আর আইনি বাধ্যবাদকতা রয়েছে তা পরিবহনের সময় মিক্স করে আমরা ভন্ডুল করে দেইনি।
এছাড়া স্থানীয় চালক, সর্টিং অপারেটর এবং মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ানদের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
Q:⚠️ আপনাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি?
A: 🔸 প্রাথমিক জনসচেতনতা: সাধারণ মানুষকে বাড়ি বাড়ি ৩টি আলাদা বাস্কেটে (সবুজ, হলুদ, লাল) ময়লা ফেলতে অভ্যস্ত করাটা আমাদের প্রথম ও প্রধান বড় চ্যালেঞ্জ।
Q: ডাজেল গ্রীন টাঙ্গাইল প্রজেক্টের ৩য় ধাপটি কি?
A: আমাদের ৩য় ধাপের কাজ হল আমাদের উৎপাদিত জৈব সার ব্যবহার করে -
১️: আমরা এলাকার পরিত্যক্ত ও পতিত জমিগুলোকে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কমিউনিটি বাগানে রূপান্তর করছি।
২️: টাংগাইল শহরের ছাদগুলোকে সবুজে মুড়িয়ে দিতে আমরা ফ্রি জৈব সার সমৃদ্ধ মাটি সরবরাহ করছি।
৩️: টাঙ্গাইলের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আমরা জৈব সার সমৃদ্ধ মাটি দিয়ে বৃক্ষরোপণ করছি।
৪:টাঙ্গাইল শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য আমরা টাংগাইল পৌর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার থেকে পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে ল্যান্ড স্কেপিং ও প্রকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করছি।
Q: ডাজেল গ্রীন জৈব সার এর বিশেষত্ব কি?
A: ✅ হিটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের জৈব সার তৈরী হয়, ফলে এর মধ্যে কোন ছত্রাক, ফাংগাস ও ব্যকটেরিয়া এবং জীবন্ত আগাছার বীজ তাকে না।
✅ আমাদের সার মাটিতে জৈব পদার্থের জোগান বাড়িয়ে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী করে।
✅ এটি সম্পূর্ণ ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও দুর্গন্ধমুক্ত, যা গাছের দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।
🤝 আসুন, অংশীদার হই টেকসই ভবিষ্যতের।
টাঙ্গাইলকে বাংলাদেশের প্রথম আদর্শ বর্জ্যমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই যাত্রায় আপনার সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
📌 প্রজেক্টের যেকোনো আপডেট বা তথ্যের জন্য আমাদের পেজে লাইক ও শেয়ার দিয়ে পাশেই থাকুন।