28/05/2026
সিরিজের #১১তম গল্প পাঠিয়েছে টি১২ এর Sithi Das:-
নতুন শহর,নতুন মানুষ,নতুন দিনের ভীড়
অচেনারা ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নীড়।
ঘুমহীন কিছু রাত আর গল্পভরা ক্ষণ,
ব্যস্ততার মাঝে খুঁজে পাই আপন এক ভুবন।"
এ কয়দিনের অভিজ্ঞতা ঠিক এই চার লাইনের ছন্দের মতোই।
ছোটবেলায় পড়েছিলাম ১ পক্ষে ১৫ দিন আর আমাদের মেডিকেল জীবনের বয়স ও ১৫ দিনই(০৩ মে-১৮ মে)।তাই এই ছোট্ট গল্পখানির নাম "সাদা অ্যাপ্রোনে প্রথম পক্ষ" ছাড়া কিছুই মাথায় আসছে না।যখন প্রথম দিন apron গায়ে জড়িয়ে কলেজের বারান্দা দিয়ে হাঁটছিলাম এমন অনুভব হয়েছিলো যে এই বুঝি stetho গলায় ঝুলিয়ে prescription লিখতে বসে যাবো।তবে সে স্বপ্ন থেকে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনতে মেডিকেলের পড়ালেখা বেশীদিন সময় নেয় নি..সে যাই হোক,এই ১৫ দিনে যেটুকু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলাম তার সারাংশ এই যে,এখানে রোজ ঘুমের সাথে যুদ্ধ করতে হয়,Attendance এর জন্য দৌড়াতে হয়,সকাল ৮ টার ক্লাসে সুযোগ বুঝে পিছনের সারিতে বসে একটা ঘুম ও দিতে হয় আর Vishram Singh এর Anatomy বই খুললে মনে তো হতেই হয় যে মানবদেহের হাড়ের থেকে আমার টেনশনের সংখ্যা ঢের বেশী।তারপর প্রথম দিন Guyton হাতে নিয়ে এই বই এ বিশেষজ্ঞ হওয়ার স্বপ্ন দেখেনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বিরল আর Guyton পড়ার কথা স্বীকার করবে এমন মানুষ পাওয়া তো তার থেকেও বেশী বিরল।তারপর আসি গণরুমের এই ১৫ দিনের স্মৃতিচারণে যা করতে গেলে সাতকাহন হয়ে যাবে।তবে ছোট করে বলি--যেদিন প্রথম গণরুমে পদার্পণ করলাম সেদিন কেউ বাড়ির লোকের জন্য মন খারাপ করছে,কেউ বিছানা গোছাচ্ছে আবার কেউ নতুন বন্ধু বানানোর mission এ আছে।আমি চুপচাপ সব দেখছিলাম।তবে ২-৩ দিন যেতে না যেতেই বুঝে গেলাম এখানে "চুপচাপ" বলতে কিছু নেই।এখানে একজনের হাসি মানে সবার হাসি আর একজনের মন খারাপ মানে সবাই মিলে তাকে হাসানোর চেষ্টা।এখানে রাতে নিজে পড়ার থেকে " কে কত কম/বেশী পড়েছে" এটা প্রমাণের চেষ্টাই থাকে বেশী। 1st item এর টেনশন তো proff এর tension কেও নিঃসন্দেহে হার মানাবে। একজনের অ্যালার্মে দশজনের ঘুম ভাঙা,একজনের noodles এর গন্ধে সবার ক্ষুধা লাগা,মাঝরাতে হঠাৎ কোনো একজনের " এই চা খাবি?" বলে ওঠা তো এখানকার নিত্যদিনের সঙ্গী।তবু এই বিশৃঙ্খলার মাঝে অদ্ভুত এক মায়া আছে।অচেনা মানুষগুলো কীভাবে যেন পরিবার হয়ে যায়,তাই না? এই ক'দিনে অনুভব করলাম মেডিকেল জীবন কঠিন ঠিকই কিন্তু এই কঠিনের মাঝে লুকিয়ে আছে সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো যেগুলো একসময় স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করবে।কখনো খুব হতাশ হয়ে বলে উঠি "ধুর! কেন যে আসলাম এখানে"।তবে এর ঠিক পরক্ষনেই মনে হয় " মেডিকেলে চান্স না পেয়ে কান্না করার চেয়ে এই মেডিকেলের ক্যাম্পাসে হেঁটে Item,card,term,proff এর জন্য tension করা অনেক বেশী তৃপ্তির"।