12/07/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১২ জুলাই, ২০২৬
স্থান: ঢাকা
ফেক আইডির ষড়যন্ত্রে মব জাস্টিস, ধর্মীয় অবমাননায় বৈষম্য ও রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা মারার প্রতিবাদে বিএমজেপি-এর বিবৃতি
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুরে শিমুল কর্মকারকে তড়িৎ যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও, ধর্মীয় অবমাননার বিচার, ফেক আইডি বানিয়ে ষোড়যন্ত্র এবং প্রশাসনের চরম দ্বিমুখী নীতি ও বৈষম্যমূলক ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে -বিএমজেপি।
এক যৌথ বিবৃতিতে বিএমজেপি-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, "বাংলাদেশের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুয়া (ফেক) ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননার পোস্ট তৈরি করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরপরাধ ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়। এরপর কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে 'মব' সৃষ্টি করে ভাঙচুর, মারধর, অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু ব্যক্তিকেই দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়। এই ধরনের ষড়যন্ত্র ও মব জাস্টিসের বিচার না হওয়া স্বাধীন দেশের আইনের শাসনের জন্য চরম হুমকি।"
বিবৃতিতে উত্থাপিত মূল বিষয় ও দাবিসমূহ:
১. ফেক আইডি ষোড়যন্ত্র ও মব জাস্টিস বন্ধের দাবি:
অতীতের অসংখ্য ঘটনার ন্যায় ভুয়া আইডি ব্যবহার করে সংখ্যালঘু কোনো নাগরিককে ফাঁসানোর চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ উঠলেই নিরপেক্ষ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্ত না করে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার এবং মব তৈরি করে মাইনরিটি সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানোর যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান ঘটাতে হবে।
২. আইন প্রয়োগে চরম বৈষম্য ও দ্বিমুখী নীতি:
একদিকে ভুয়া পোস্ট বা সামান্য অভিযোগে সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের তড়িৎ গ্রেপ্তার ও মব জাস্টিসের মুখোমুখি হতে হয়; অন্যদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন ভগবান শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের বিগ্রহ নির্মাণে বাধা প্রদান, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর উসকানিমূলক মিছিল এবং প্রকাশ্যে রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা মেরে চরম অবমাননা করার পরও অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ধর্মীয় প্রতীকে জুতা মারা কি অবমাননার আওতায় পড়ে না? কেন এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিরব?
৩. মঠ, মন্দির ও গির্জায় হামলা এবং হুমকিদাতাদের ছাড়:
দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত মঠ, মন্দির ও গির্জা ভেঙে ফেলার হুমকি দিচ্ছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী। এ ধরনের প্রকাশ্য হুমকির বিরুদ্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো আইনি বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা বারবার উৎসাহিত হচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বিএমজেপি-এর সুনির্দিষ্ট দাবি:
• ভুয়া বা ফেক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উঠলে কোনো প্রকার মব সৃষ্টি না করে আগে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। মব সৃষ্টি করে মারধর ও হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
• গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের ছবিতে জুতা মেরে অবমাননাকারী এবং বিগ্রহ নির্মাণে বাধাদানকারী দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।
• পলাশবাড়ীতে রামচন্দ্রের বিগ্রহ নির্মাণের কাজ শতভাগ প্রশাসনিক নিরাপত্তায় সম্পাদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
• মঠ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে হামলা এবং হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করে বিশেষ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করতে হবে।
• 'আইনের চোখে সবাই সমান'—এই সাংবিধানিক নীতির নিরিখে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিএমজেপি মনে করে, ভুয়া আইডির ষড়যন্ত্র, মব জাস্টিস এবং বিচারে প্রশাসনিক বৈষম্য দেশের অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সম্প্রীতিকে ধ্বংস করছে। অবিলম্বে এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
প্রচারে:
দপ্তর বিভাগ,
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি - বিএমজেপি।
#বিএমজেপি #বাংলাদেশ_মাইনরিটি_জনতা_পার্টি