20/08/2026
সারা দেশে এলজিইডির আইডিভুক্ত সড়ক আছে ৪ লাখ কিলোমিটারের বেশি। এবং এর পরিমাণ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন বসতি তৈরি হচ্ছে, রাস্তা হচ্ছে এবং সেসব রাস্তা সরকারি গেজেটভুক্ত হয়ে পাকাকরণের দাবি নিয়ে এলজিইডির কাছে আসছে৷
এলজিইডির আইডিভুক্ত সড়কগুলো মূলত তিন শ্রেণির। উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক আর গ্রাম সড়ক। এর মধ্যে উপজেলা আর ইউনিয়ন সড়ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এখন সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়েছে। প্রতি বছর গড়ে ৪-৪.৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়। ফলে বর্ষা আসলে আপনারা যারা মনে করেন আপনারা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করছেন, এরকম অবহেলার শিকার আরো হাজার হাজার রাস্তাঘাট। এটা গেলো একটা দিক।
আরেক দিক হচ্ছে যেসব রাস্তা পাকা হয়েছে সেসবের মধ্যে বিসি রাস্তার ডিজাইন লাইফ ১০ বছর, সেটাও একটা মেইটেন্যান্সসহ। কিন্তু কিছু রাস্তা করার পর ১০-১৫ কিংবা ২০ বছর হয়ে গেলেও আর মেরামত হয় না। কারণ মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নাই। প্রতি বছর যে বরাদ্দ মেলে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ৭-৮ হাজার কিলোমিটার মেরামত করা যায়। অথচ প্রতি বছর নতুন যোগ হচ্ছে ৪-৪.৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা। ফলে দিন দিন মেরামতযোগ্য রাস্তার পরিমাণ বেড়েই চলছে।
প্রতি বছর জুলাই-আগস্ট মাসে মেরামতের স্কিম অনুমোদন করা হয়। এর জন্য প্রথমে চাহিদা পাঠানো হয়। কিন্তু চাহিদা যদি থাকে ২০ হাজার কোটি, বরাদ্দ মেলে ২৫০০-৩০০০ হাজার কোটি। এরপর শুরু হয় মেরামতের এস্টিমেট করা। এভাবে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী তার টেকনিক্যাল টিম নিয়ে স্কিমের পরিমাপ গ্রহণ, সেই এস্টিমেট একবার একটা টিম চেক করে দেখে ঠিক আছে কিনা। তবে বরাদ্দ যেহেতু কম থাকে সেহেতু সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে যত কম খরচে সড়ক চলাচলযোগ্য করা যায়। ফলে প্রচুর কাঁটছাট হয়।
এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় দেখা যায় যে টাকার এস্টিমেট করা হয়েছে, বরাদ্দ তার অর্ধেক বা আরও কম। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আরেক দফা চেক হয়। এবং সেখানে আরো একবার দেখা হয় কোনো অপ্রয়োজনীয় আইটেম আছে কিনা কিংবা যে আইটেম ধরা আছে সেটার বিকল্প কোনো সমাধান আছে কিনা যার খরচ আরো কম। আর এভাবেই বিপুল চাহিদার বিপরীতে অপ্রতুল বরাদ্দের সমন্বয় করা হয়।
এদিকে ৯৩ টাকা কেজির বিটুমিন ১১০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে, পাথরের দাম বেড়ে গেছে, তেলের দাম বেড়ে গেছে। মেরামতের কাজে ঠিকাদারদের লাভ করা খুবই কঠিন হয়ে গেছে। ফলে কোয়ালিটি সম্পন্ন কাজ করা তো কঠিন হয়ে গেছেই, বরং এখন মেরামতের কাজ সম্পন্ন করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। তার উপর আছে অতিরিক্ত বৃষ্টি।যা বিটুমিনাস কার্পেটিং এর আবার সব থেকে বড় শত্রু।এভাবেই মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন পর্যন্ত চলে এলজিইডির এক মহাকর্মযজ্ঞ।তবুও কারো কাছে মিলে স্বীকৃতি আবার কখনো কখনো শুনতে হয় নানা কটু কথা।তারপরো আমরা হাসি দিয়ে এগিয়ে চলি নতুন উদ্যামে অন্য কোন স্কিম এর কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।