Atik islam asr

Atik islam asr I am smile boy... ami ek muslim... allah kach ami duwa kori jekno ami 5wakto namaj thik moto porte pari..

07/05/2019
03/05/2019

প্রতিশোধ
পর্ব:- ০৪
লেখক : অদৃশ্য বালিকারbF
(আতিক)


দুই দিন পর।
সোহেল ও দিপের কথপোকথন।
সোহেল- ভাইয়া, কেমন আছেন?
দিপ- ভালো, কি খবর বলো।
সোহেল- ভাইয়া, মেয়েটার নাম নুসরাত, পড়াশুনা এই বছর শেষ করেছে,
দিপ- কারো সাথে কি সম্পর্ক আছে?
সোহেল- না, মেয়েটা ভালো, এসব পছন্দ করে না।
দিপ- আচ্ছা ঠিক আছে,
সোহেল- আর কিছু ভাইয়া?
দিপ- এখন না, পরে প্রয়োজন হলে জানাবো।
সোহেল- ঠিক আছে ভাইয়া, বাই! ভালো থাকবেন।
।।
দিপ চিন্তা করছে, কি করা যায়? সে তো ওয়াদা করেছে সে আর মিথ্যা প্রেমের জালে কোন মেয়ের জীবন নষ্ট করবে না, কিন্তু মেয়েটা কেউ তো ছাড়া যায় না।
ঠিক এই সময় দিপের আম্মু ডাক দিলো।
দিপের আম্মু- খেতে বস, তোর সাথে কিছু জরুরী কথা আছে।
দিপ- কি বলো?
দিপের আম্মু- এভাবে আর কতো দিন?
দিপ- কোন ভাবে?
দিপের আম্মু- তুই বিয়ে করবি না? আমারা কি বউ এর মুখ দেখতে পাবো না? বুড়ো বয়সে আর কতো কষ্ট করাবি?
দিপ- আচ্ছা করবো।
দিপের আম্মু- সেটা তো তিন বছর থেকে শুনছি।
দিপ- না, আর ১ মাস সময় দাও। কিছু অসমাপ্ত কাজ বাকি আছে, সেটা শেষ করতে হবে।
দিপের আম্মু- সেটা কি বিয়ের পর শেষ করা যায় না?
দিপ- এক মাস তো।
দিপের আম্মু- তোর কোথাও পছন্দ থাকলে বল, আমরা মেয়ে দেখতে যাবো।
দিপ- না কেউ নাই, এক মাস পর যেখানে ইচ্ছা বিয়ে দিও।
দিপের আম্মু- সত্যি করবি তো?
দিপ- বললাম তো করবো। প্রমিস
।।
দিপ বাড়ীর ছাদে বসে আছে,
আবার সেই রাত, তবে আজ রাত নতুন কিছু বলছে, আজ নতুন চাঁদ উঠেছে, মনে হয় শাবান, কারণ সামনে মাস রোজা, আর এই রোজা আসলেই কারো ৬ষঠ বিবাহ বার্ষিকী হয় তো হয়ে যাবে।
আমার হাতেও এক মাস, নুসরাত কে তো এভাবে ছাড়া যায় না, কি করি? কি করি?
হটাৎ মাথাই একটা আচ্ছা নুসরাত কে বিয়ে করলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমাকেও নতুন একটা মেয়ের সাথে সারা জীবন অভিনয় করে থাকতে হবে না। আর এভাবেই আমি নুসরাত কে শাস্তি দিতে পারবো, বুদ্ধিটা তো খারাপ না।
দিপ সোহেল কে ফোন করলো।
সোহেল- আসসালামু…… ভাইয়া কি খবর বলেন।
দিপ- তোমাকে যে ভাইয়া আরেকটা কাজ করতে হবে।
সোহেল- বলেন ভাইয়া কি করতে হবে?
দিপ- তুমি নুসরাতের খোঁজ খবর নাও সে কখন কি করে?
সোহেল- ঠিক আছে ভাইয়া।
দুই দিন পর সোহেল দিপ কে ফোন করে।
দিপ- হ্যাঁ, কি খবর?
সোহেল- আমি ভালো আছি, আপনার জন্য খবর, মেয়েটা এখন তেমন বের হয় না, সকালে একটা কোচিং করায় আর বিকেলে আরেকটা, বিকেলে কোচিং শেষ করে একটা কফি হাউস এ গিয়ে এক কাপ কফি খেয়ে বাসা চলে যায়, এটা ই রুটিং।
দিপ- ঠিক আছে, কাল সকালে আমি আসছি, আমার সাথে দেখা করো।
সোহেল- ঠিক আছে ভাইয়া।
।।
দিপ সকালে সোহেলের কাছে গিয়ে ওকে কি কি করতে হবে সব বুঝিয়ে দিলো।
সব পরিকল্পনা শেষ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বিকেল ৫ টা।
নুসরাত সময় মতো কফি হাউসে গেলো, সোহেল আর তার কিছু বন্ধু তাকে দেখেই ঢুকে গেলো।
তার পর তারা নুসরাত কে বিরক্ত করতে শুরু করলো। পাশ থেকে দু জন ছেলে রুখতে আসলো, কিন্তু দুজনে দু চড় খেয়ে চলে গেলো। আসলে সে দু জন ও সোহেলের বন্ধু।
এর পর কফি হাউসে প্রবেশ করলো দিপ, ফোনে কথা বলছে, এমন ভাব যে উনি খুব ব্যাস্ত।
পরিকল্পনা মতো সোহেলের এক বন্ধু বলল, দোস্ত ওটা দিপ ভাইয়া না?
সোহেল- হ্যাঁ, কিন্তু ভাইয়া এখানে কেন রে? চল পালায়।
সোহেলের বন্ধু- ও তো তোর বড় ভাই না, এতো ভয় পাস কেন?
সোহেল- আরে ঐ ভাইয়ের জন্যই আমার পড়া লিখা আমার বড় ভাইকে উনি চাকুরী দিয়েছে বাড়ীতে জানতে পারলে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দিবে।, এখন নিজের জান বাচা ভাই, আপা(নুসরাত কে উদ্দেশ্য করে) প্লিজ আমাদের মাফ করে দিবেন, দিপ ভাইয়াকে প্লিজ কিছু বলবেন না।
মিনিটের মধ্যেই তারা ওখান থেকে চলে গেলো, সবাই অবাক।
।।
নুসরাত ভাবলো, এতো মানুষ কিছু করতে পারলো না, দু জন মার খেয়ে চলে গেলো, আর একটা ছেলে আসতেই সব পালিয়ে গেলো, অথচ উনি দেখতেই পেলো না। সবাই তাকে কতো সম্মান করে, এক বার তো তার সাথে দেখা করতে হয়।
নুসরাত- এখানে বসতে পারি?
দিপ- সিট যখন ফাকা আছে, বসতেই পারেন, তবে আপনার সমস্যা না হলেই হলো।
(এই কথা বলার পর দিপ আবার ল্যাপটপ নিয়ে কাজ শুরু করে দিলো, এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন উনি খুব ব্যাস্ত)
নুসরাত- আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
দিপ- (কিছু চমকানোর ভাব করে) আমাকে বলছেন?
নুসরাত- জি, আপনার জন্য আজ বেঁচে গেলাম।
দিপ- কেন কি হয়েছিলো?
নুসরাত- কয়েক টা ছেলে আমাকে বিরক্ত করছিলো, কিন্তু আপনাকে দেখেই তারা পালিয়ে গেলো।
দিপ- ওহ, কখন, খেয়াল করি নি তো।
নুসরাত- আপনি কি করেন?
দিপ- একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকুরী করি। আপনি?
নুসরাত- এই তো পড়াশুনা শেষ করে বসে আছি। আচ্ছা আপনার বাসা কোথায়?
দিপ- এই তো পাশেই নাসিরাবাদ
নুসরাত- আরে ওখানেই তো আমার দাদার বাড়ী, পড়াশুনার জন্য ৬ বছর থেকে এখানে থাকি।
দিপ- ওহ ভালো। (এরপর দিপ ভাবলো বেশি কথা বললে চিনে ফেলতে পারে, কাজ শেষ এখুনি চলে যেতে হবে ) দিপ সোহেল কে এক টা মিস কল দিলো, সোহেল কল ব্যাক করলো, দিপ ফোন টা রিসিভ করে এমন ভাবে কথা বলা শুরু করলো যে এখুনি তাকে বাড়ী যেতে হবে।
নুসরাত- আপনি কি ব্যাস্ত?
দিপ- সরি, আসলে আমার গ্রামের এক ছোট ভাই এক্সিডেন্ট করেছে, আমাকে যেতে হবে, তার নাকি রক্ত লাগবে।
নুসরাত- রক্ত কি আপনি দিবেন?
দিপ- ওর নাকি ৪ ব্যাগ লাগবে, আমি তো গত কাল কেই এক জনকে দিয়েছি আমি দিতে পারবো না, তবে আমি হাসপাতালে গেলে ফোন করলেই ব্যাবস্থা হয়ে যাবে। আচ্ছা আজ আসি।
।।
দিপ তাড়াতাড়ি করে উঠে গেলো, সে ইচ্ছা করেই পকেট থেকে তার ভিজিটিং কার্ড টা ফেলে দিলো।
তারপর দিপ চলে গেলো।
।।
দিপ চলে যাবার পর নুসরাত ওখানেই বসে থাকলো, নুসরাত ভাবছে কতো ছেলে তার সাথে কথা বলার জন্য পাগল, অথচ ছেলেটা তাকে একটুও সময় দিলো না, হটাৎ তার খেয়াল হলো দিপ যখন কোর্টের পকেটে হাত দেয় কিছু যেন পড়ে যায়। নুসরাত নীচে তাকালো একটা কার্ড, এটা তো দিপের।
নাম-ইঞ্জিনিয়ার দিপ আহমেদ,
পদবী- চীপ ইঞ্জিনিয়ার, RDA Group
ফোন-০১৭…………
।।
নুসরাত দিপের কার্ড টা নিজের ব্যাগে রেখে দিল।
।।
।।
>>>>>>>>>>পরবর্তী পর্ব>>>>>>>>>>
সরি দুইদিন গল্প দিতে পারলাম না।।।
যারা গল্পটার আগের পোস্ট গুলা পরতে চান ইনবক্সে করবেন সবাই কে দেওয়া হবে,,, সরাসরি আমার গল্প পেজ এ যেতে Atikislamasr search করলেই পাবেন,,,

30/04/2019

প্রতিশোধ
পর্ব:-০৩
লেখক : অদৃশ্য বালিকারBF
(আতিক)


রাতে আর দিপের ঘুম আসলো না, দিপ চিন্তা করছে স্যারের কথা, স্যার যেটা বলল, কেউ কারো ক্ষতি করলে সৃষ্টিকর্তা তাকে মাফ করে না,
তাহলে তো আমিও কম ক্ষতি করি নি, আমিও তো অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছি, পরের দিন সকালে দিপ তার সাথে যতো মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছিলো,
তাদের খোঁজ খবর নিতে শুরু করলো, কয়েক দিন পর দিপ ঢাকা চলে গেলো,সেখানে সে খোঁজ নিয়ে তার পর জানতে পারলো যে,
বেশির ভাগ মেয়েই তার নিজের জীবনে গুছিয়ে নিয়েছে, সে একের পর এক সবার সাথে দেখা করে ক্ষমা চেয়ে নেই,
কিন্তু আশা এখন ও সেই ঘটনা ভুলতে পারে নি, এজন্য তার ইন্টার এর রেজাল্ট ও খারাপ করেছে,
দেখতে সুন্দর হলেও তার বাবার তেমন কিছু না ই এজন্য ভালো যায়গায় বিয়েও হচ্ছে না, দিপ সেখানে গেলো, প্রথমে সে আশার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলো,
তারপর আশাকে একটা চাকুরীর ব্যাবস্থা করে দিলো, আর দুই মাস পর একটা ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দিলো, সাথে ছেলের চাকুরিও দিপ ব্যাবস্থা করে দিলো,
দিপ বলল,
দিপ- আমি জানি, আমি তোমার যে ক্ষতি করেছি, এর বদলে সব কিছুই না, তবে তুমি তো জানতে পারলা যে আমি ছোট থেকেই খারাপ না,
পরিস্থিতি আমাকে খারাপ করেছে, যদি পারো আমাকে ক্ষমা করে দিও, আর যখন ই তোমার কোন প্রয়োজন হবে আমাকে বলবে, ভালো থেকো।
আশা- আমি তোমাকে আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি, যাকে ভালোবাসা যায় তার ওপর রাগ করা যায় না, আর এর ওপর তুমি যা করলা,
এটা নিজের মানুষ ও করে না, শোন, একটা কথা বলি?
দিপ- বলো,
আশা- পারলে একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নাও, তুমি অনেক ভালো।
দিপ- সবার ভাগ্যে ভালোবাসা থাকে না আশা, অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি না যে সামনের মানুষ আমাদের ভালোবাসে, নাকি ধোঁকা দিচ্ছে?
যেমন আমি তোমাকে দিয়েছি,
।।
আশা- যে অতীত দুঃখ নিয়ে আসে, তাকে না মনে করায় ভালো।
দিপ- তোমার মন অনেক বড়। আজ আসি, ভালো করে মন দিয়ে চাকুরী করবা।
।।
দিপ ফিরে আসলো, ৪ মাস থেকে দিপের সাথে লতার কোন যোগাযোগ নাই, দিপ সিম টা ওপেন করে লতাকে ফোন করলো,
দিপের ভয়েস শুনেই লতা কাঁদতে লাগলো, যদিও দিপ ৪ মাস আগেই দেখা করবে বলেও সে আর দেখা করে নি, লতা বলল, সে ঢাকায় আছে, দিপ বলল,
ঠিক আছে বিকেলে দেখা করতে।
।।
বিকেল বেলা।
দিপ লতা কে মিরপুর থেকে পিক করে বসুন্ধরা এলাকাই নিয়ে আসলো, তারপর তারা এক চটপটির দোকানে বসলো, লতা খুব খুশী, কিন্তু দিপ চুপ চাপ।
লতা- কি ব্যাপার, মন খারাপ কেন? বউ কে কি পছন্দ হয় নি?
দিপ- দেখো লতা, তোমাকে কিছু কথা বলবো মন দিয়ে শুনো।
লতা- কি বলো,
দিপ- তুমি দেখতে অনেক সুন্দর, অনেক ছেলে তোমার জন্য পাগল হবে, তুমি আমাকে ভালোবাসো, এটা আমি জানি, কিন্তু ক্ষমা করো,
আমি তোমাকে ভালোবাসি না, এতো দিন আমি তোমার সাথে খেলচ্ছিলাম,এরকম আরও মেয়ের সাথে আমি এই রকম করেছি, কিন্তু এসব করেছি, এক মেয়ের ওপর রাগ করে, সে আমাকে ঠকিয়েছে তখন থেকে আমি তার প্রতিশোধ নিচ্ছি, কিন্তু আমার এখন মনে হচ্ছে আমি এসব ঠিক করিনি, আমি আগে যাদের সাথে এই রকম করেছি সবার থেকেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি, শুধু তুমি বাকি ছিলা, তাই এখন তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
লতা- তোমার জীবনে কি অন্য কেউ আছে?
দিপ- না,তা নাই,
লতা- তাহলে এখন আমাকে বিয়ে করে নাও।
দিপ- আসলে আমার জীবন এখনও বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে, তাই এখন রেডি হতে পারছি না, তুমি অন্য কোথাও বিয়ে করে নাও।
লতা- আমাকে বাসায় রেখে আসতে পারবা?
দিপ- হ্যাঁ, আমি নিয়ে এসেছি, আমি রেখে আসবো, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।
লতা- ঠিক আছে।
।।
কয়েক দিন পর দিপ বাড়ীতে আসলো, রাস্তায় দেখা হয়ে জানতে পারলো যে, পায়েল এর কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা হবে যাক ভালো হলো, সবাই ভালো থাক।
রাতে দিপ সেই নদীর পাড়ে বসে আছে,
দিপ ভাবছে- কি সুন্দর যায়গা, শুধু চাঁদনী রাতের অভাব ঠিক আমার জীবনের মতো,
সে দিন দিপ অনেক কাঁদলো, ঠিক ৫ বছর আগের মতো,
হটাৎ দিপের একটা কথা মনে হলো, যারা আমাকে আজ এই পথে নিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে একজনের তো এখন ও কোন শাস্তি হয় নি,
বা সে তো কোন দিন ক্ষমাও চাই নি, তবে তাকে কেন মাফ করবো?
দিপ পরিচিত এক ছোট ভাইকে ফোন করলো।
দিপ- হ্যালো! আমি দিপ বলছি, কেমন আছো সোহেল।
সোহেল- ভাইয়া, আপনি? আপনি কেমন আছেন? আমি ভালো আছি।
দিপ- শোন, তোমাকে একটা জরুরী প্রয়োজনে ফোন করেছি,
সোহেল- বলেন ভাইয়া,
দিপ- তোমাদের এলাকাই পায়েল নামে একটা মেয়ে ছিল না, বাবার নাম, ফিরোজ।
সোহেল- হ্যাঁ ভাইয়া, তার তো ডিভোর্স হয়ে গেছে।
দিপ- হ্যাঁ তার কথা বলছি, ওর মামাতো বোন আছে?
সোহেল- হ্যাঁ, তিন জন আছে।
দিপ- আচ্ছা, ওর মধ্যে পায়েলের সাথে কি কেউ পড়তো?
সোহেল- হ্যাঁ, ভাইয়া।
দিপ- ওর কি বিয়ে হয়েছে?
সোহেল- না হয় নি।
দিপ- তুমি ওর খোঁজ খবর নিয়ে আমাকে দাও।
সোহেল- ঠিক আছে ভাইয়া।
।।
।।
>>>>>>>পরবর্তী পর্ব>>>>>>>>>
,
,
গল্পটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে আপনারা পাশে থাকবেন প্লিজ,,,
যারা গল্পের আগের পোস্ট গুলা মিস করছেন তারা আমার গ্রুপে অথবা আমার সুন্দর একটা পেজ আছে সেখানে আসতে পারেন খুব সুন্দর সুন্দর গল্প দেওয়া হয় চাইলে আসতে পারেন,,,,
আমার পেজএর নাম atikislamasr

29/04/2019

প্রতিশোধ
পর্ব:- ০২
লেখক: অদৃশ্য বালিকারBF
(আতিক)


রাত ১ টা! কাল লতা ঢাকায় যাবে, দিপের ও ছুটি প্রায় শেষ, তাকেও ৩ দিন পর ঢাকায় যেতে হবে তার মানে লতার সাথে তার এই সপ্তাহেই হিসাব টা ঠিক করে নিতে হবে।
রাতে লতা ফোন করলো।
লতা- কি বউয়ের সাথে দেখা করবা না?
দিপ- হ্যাঁ করবো তো, এই তো তিন দিন পর আমি ঢাকা চলে আসছি, তারপর আমার কার নিয়ে লং ড্রাইভ।
লতা- তাই নাকি? এতো ভালোবাসা?
দিপ- হুম, দেখা করো তারপর বুঝতে পারবা, যে কতো ভালোবাসি তোমাকে? ঠিক আছে অনেক রাত হয়েছে এখন ঘুমাও।
লতা- ঠিক আছে।
।।
ফোনটা রাখতেই আবার ফোন আসলো, ফোন করেছে দিপের এক স্যার।
দিপ- স্যার! আসসালামু।
স্যার- কি ব্যাপার, দিপ কেমন আছো?
দিপ- জি, স্যার, ভালো, আপনি কেমন আছেন?
স্যার- ভালো, তুমি কি ঢাকায়?
দিপ- না, স্যার দুই দিন আগেই গ্রামের বাড়ীতে এসেছি,
স্যার- তো আছো? নাকি চলে যাবা?
দিপ- স্যার জরুরী কোন কথা?
স্যার- হ্যাঁ, তুমি পায়েল নামে কাউকে চিনো?
।।
নামটা শুনে একটা শক খেলো দিপ
।।
দিপ- কোন পায়েল, মানে বাবার নাম কি?
স্যার- বাবার নাম ফিরোজ, তোমার বাবার বন্ধু, উনি তো তাই বলল,
দিপ- হ্যাঁ, চিনি, কেন? কি হয়েছে?
স্যার- আজ মেয়েটা এসেছিলো আমাদের হাসপাতালে, চেকআপ করে জানতে পারলো যে তার বাচ্চা হবে।
দিপ- সে তো ভালো কথা, তো এখানে আমাকে ফোন করার কি আছে বুঝলাম ন।
স্যার- মেয়েটাকে ৪ মাস আগেই তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে, এখন সে বাচ্চা টা কে নষ্ট করতে চাচ্ছে, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে, এখন বাচ্চা নষ্ট করা যাবে না।
দিপ- হ্যাঁ, কিন্তু?
স্যার- তোমাকে এসব কেন বলছি এটাই তো ভাবছো?
দিপ- হ্যাঁ।
স্যার- হাসপাতালে একজনের কাছে শুনলাম তুমি নাকি এক সময় তাকে অনেক ভালবাসতা, এমন কি তোমাদের বিয়ের কথাও হয়েছিলো,
কিন্তু ঠিক সময় মেয়ে তোমাকে না করে লোভে পড়ে এক বড় লোকের ছেলেকে বিয়ে করে, দিপ লোভ কখনও ভালো না,
আর জীবনে কাউকে ঠকালে নিয়েও ঠকটে হবে। তোমার জন্য দুয়া করি তুমি যেন অনেক বড় হও…
দিপ আর কিছু বলল না,
তার মনটা ফিরে গেলো, আজ থেকে ৫ বছর আগে,
দিপ তখন ভার্সিটির ২য় বর্ষের ছাত্র।
সে পায়েল নামের একটা মেয়েকে খুব বেশি ভালো বাসতো, যদিও সে জানে সে একাই ভালো বাসতো, কিন্তু সময় যতই পার হতে শুরু করলো,
পায়েল ততোই কাছে আসতে শুরু করলো, দিপ খুব ভালো ছেলে ছিল, এলাকাই তার একটা খুব ভালো সুনাম ছিল, সে কোন দিন কোন মেয়ের দিকে তাকাতো না,
আর সিগারেট তো খুব অপছন্দ করতো, এমন কি এজন্য তার বাবার সাথে ও মাঝে মাঝে কথা বলতো না…
পাঁচ ওয়াক্ত নামায, মসজিদের ইমাম দের সাথে উঠাবসা এক কথাই এলাকাই এই রকম ভালো ছেলে খুঁজে পাওয়া খুব মুশকিল।
এবার আশা যাক পায়েল, পায়েল দিপের থেকে ৩ বছরের জুনিয়ার, দেখতে ভালোই, বোরখা পড়ে, যদিও দিপ প্রথমে তাকে না দেখেই ভালোবেসে ছিল,
তার কথা, দেখা টা বড় কথা না, বড় কথা হলো মেয়েটা অনেক ধার্মিক, আমি বিয়ে করলে হয়তো আমারা অনেক সুখী থাকবো। আমার আর বেশি কিছু চাই না।
বাড়ীর সবাই এব্যাপার জানতো কিন্তু দিপ কে কিছু বলতো না, কারণ দিপের ওপর তাদের ভরসা ছিল,
তার তারা খুশিও ছিল, দিপের মা বাবার কথা, দিপের যখন ঐ মেয়ে পছন্দ আমারা সেখানেই তার বিয়ে দিবো। এমন কি এটা পায়েলের মা বাবাও জানতে পারে,
কিন্তু যখন বিয়ের প্রস্তাব গেলো, পায়েল রাজী হলো না। আর কিছু দিন পর ই পায়েলের অন্য জায়গাই বিয়ে ঠিক হয়ে যায়.।
বিয়ের আগের দিন দিপ পায়েল কে বার বার ফোন করে কিন্তু পায়েল ফোন ধরে না,
কিন্তু পরে যখন ফোন করে,
পায়েল- কি হয়েছে? বার বার ফোন করছেন কেন?
দিপ- পায়েল আমার সাথে এই রকম করো না, আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি।
পায়েল- তো, আমি তো আপনাকে ভালোবাসি না।
দিপ- তাহলে ফেসবুক আর ফোনে এসব কি ছিল? তুমি তো বলেছিলা যে তোমার বাড়ীতে বিয়ের প্রস্তাব দিতে।
পায়েল- কোন প্রমাণ আছে?
দিপ- প্রমাণ দিয়ে কি হবে?
পায়েলের এক মামাতো বোন ফোন নিলো।
পায়েলের বোন- দেখেন, অতীত ভুলে যান, তার একটা ভালো যায়গায় বিয়ে হচ্ছে, আপনি আর ঝামেলা পাকাবেন না।
দিপ- আর আমার ভালোবাসা?
পায়েলের বোন- তো, আপনার জন্য? আমরা আমাদের বোনকে একটা রাস্তার ছেলের হাতে তুলে দিবো?
আপনার মতো ১০০ তা ছেলে আমার বোনের পিছনে ঘুরে, তাই বলে কি সবাইকে আমার বোন দিয়ে দিবো নাকি?
দিপ- কাকে রাস্তার ছেলে বলছেন?
পায়েলের বোন- যাক, বাদ দিন আমি এসব নিয়ে কথা বলতে চাই না।
দিপ- কেন? বললেন তো রাস্তার ছেলে, হিসাব করে দেখতে গেলে, অর্থ বা সম্মানের দিক দিয়ে তোমার মামা আমার বাবার ধারেও আসবে না,
এখন ও দেখা হলে তোমার মামা, আমার বাবাকে সালাম দিয়ে কথা বলে, শুধু তোমার বোন কে অনেক বেশি ভালোবাসি তাই এতো কিছু সহ্য করে যাচ্ছি।
পায়েলের বোন- তো যান না, কে সহ্য করতে বলছে,
এই বলে ফোন টা কেটে দিলো…
এর পর থেকেই দিপ মেয়েদের প্রতি একটা তিক্ত অভিজ্ঞতা চলে আসে, তার প্রথম স্বীকার হয়েছিলো যার নাম লিজা। কারণ এই সেই মেয়ে যার জন্য এতো কিছু সে ছিল পায়েলের সব থেকে কাছের বন্ধু,
এই মেয়ের জন্যই এতো বেশি ঝামেলা হয়েছিলো, তাই প্রথমে সে লিজা কে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে তার সাথে কিছু গোপন ছবি উঠায়, পরে কিছু ভিডিও করে তার পর সেটা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।
।।
।।
>>>>>>>>>পরবর্তী পর্ব>>>>>>>>>>..
যারা আগের পোস্ট টা পান নাই তারা জানাবেন ইনবক্সে দেওয়ার চেষ্টা করবো,,,
আমার পেজ প্রতিদিন গল্প দেওয়া হয় সুন্দর ভালো,, আমার পেজ এর নাম atikislamasr
আর আমার পেজ এর জন্য কিছু ছেলে মেয়ে এডমিন দরকার ইচ্ছা থাকলে জানাবেন,,,,
আর হা প্রতিদিন গল্প দেওয়া হবে পাসে থাকবেন ,,

28/04/2019

প্রতিশোধ
পর্ব:- ০১
লেখক : অদৃশ্য বালিকারbf
(আতিক)


রাত ১১ টা, দিপ নদীর পাড়ে বসে আছে, পাশে ফোন ভাইব্রেট হচ্ছে, এই নিয়ে ৫৩ টা মিস কল, মিস কল বললে ভুল হবে, ৫৩ বার কল দিয়েছিলো, কিন্তু কে এতো কল দিচ্ছে, ওপাশ থেকে যে কল দিচ্ছে তার নাম আশা, দিপের খুব সম্ভবত ১৭ নাম্বার গার্ল ফ্রেন্ড। হাতের ব্যানসন সিগারেট টা আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে,
শেষ ফোনের দিকে একবার দেখলো, ২৫ টা ম্যাসেজ, একবার দেখে নিলো,
আশা- প্লিজ, আমার ভালোবাসা নিয়ে এভাবে খেলো না, আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি, আমি মা হতে চলেছি, প্লিজ, আমাকে এড়িয়ে যেও না, না হলে আমি মরে যাবো।
দিপ আরেকটা ফোন বের করলো, তার পর তার ই-মেইলে লগ-ইন করলো,
সেখানে সে লিখলো, নাম্বার ১৭, নাম আশা, বয়স ১৭, বাড়ী খুলনা। তারিখ ১১-০৫-২০১৫।
তারপর সে তার নিজের ৩ টা ই-মেইলে মেইল করলো, ব্যাস কাজ শেষ।
।।
দিপ নিজের ফোনের দিকে আরেকবার তাকালো, আশা মেয়েটা খারাপ না, ৬ মাস আগে তার সাতে দিপের পরিচয় হয় ফেসবুকের মাধ্যমে, তারপর প্রেম, কিন্তু দিপের মনে আবেগের আর কোন যায়গা নাই, আর ভালোবাসা, সে তো ৫ বছর আগেই মরে গেছে।
দিপ যেহেতু একটা কোম্পানিতে বড় পোস্টে চাকুরী করে, এজন্য তার মেয়ে পটাতে খুব একটা সময় লাগে না, প্রথম প্রথম সে মেয়েটার এতো কেয়ার করে আর গিফট দেয় যে খুব কম মেয়েই সে ফাঁদ থেকে পার পায়, যদিও সে সবাইকে এই ফাঁদে ফেলে না,
দিপ আশার ছবিটা ফোন থেকে ডিলিট করে দিলো, আর সিম টা বের করে ফেলে দিলো, আর ফেসবুক আইডি টা নষ্ট করে দিলো, আগে থেকেই নতুন একটা আইডি চালু ছিল, সেটা লগ ইন করে দেখলো, লতা ফোন নাম্বার দিয়েছে... তার মানে নেক্সট টার্গেট লতা।
দিপ ফোন করলো,
লতা- আসসালামু, কে বলছেন।
দিপ- আমি দিপ।
লতা- কোন দিপ?
দিপ- চিনতে পারলেন না? ঠিক আছে রেখে দিচ্ছি।
লতা- এই দাঁড়ান, এতো রাগ কেন আপনার? আপনার খুশীর জন্যই তো নাম্বার দিলাম। একটু মজা করছিলাম। কি স্যার! এবার খুশী তো।
দিপ- কি জন্য?
লতা- এই যে নাম্বারের জন্য তো আমাকে আর ম্যাসেজ দিচ্ছিলেন না?
দিপ- শুধুই কি নাম্বার?
লতা- আরে দেখা করবো তো, কিন্তু কাল না, কয়েক দিন পর, আমি কয়েক দিন পর ঢাকায় আসবো, আমার এক আত্মীয় র বাড়ী, তখন আপনার সাথে দেখা করবো।
দিপ- এতো দিন আপনাকে না দেখে কি আমি বেঁচে থাকবো?
লতা- ইস, আমার রোমিও। এতো ই যখন ইচ্ছা আপনি তো ভালোই জব করেন তাই না?
দিপ- হ্যাঁ, সেটা তো করি।
লতা- তবে এভাবে পালিয়ে না দেখা করে পারিবারিক ভাবেই দেখা করেন।
দিপ- করবো, আগে আমারা একে ওপর কে ভালো করে বুঝে যায়, তারপর বিয়ে করতে আর কতক্ষণ?
লতা- তাই? বিয়ে? আমাকে দেখে এতো পছন্দ হয়েছে?
দিপ- কি করবো বলেন? আপনি মানুষ নাকি পরী, সেটায় তো আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমি এবার কোন পরীর প্রেমে পড়ে যায় নি তো?
লতা- আপনি একটু বাড়িয়ে বলেন, আমি মোটেও এতো সুন্দর না।
দিপ- তোমাকে বিয়ে করলে আমার কিছু টাকা বেঁচে যাবে।
লতা- তাই? কীভাবে?
দিপ- তুমি তো এমনি অনেক সুন্দর, বেশি কসমেটিক এর প্রয়োজন পড়বে না,
লতা- ইস কি কিপটে আপনি? আমি আপনাকে বিয়ে করবো না যান।
দিপ- কেন কসমেটিকএর জন্য?
লতা- হুম।
দিপ- পাগলী! আমার বেতন আপনাকে দিয়ে দিবো, যতো খুশী বাজার করবেন ।
লতা- এখন লোভ দেখাচ্ছেন বিয়ের পর কিছু দিবেন না, এক এক টাকার ও হিসাব নিবেন।
দিপ- আচ্ছা এখুনি তার প্রমাণ দেখাচ্ছি, আজ বাই, কালকে কথা হবে।
লতা- ওকে
।।
ফোন কেটে দিপ ১০০ টাকা লতার ফোনে দিয়ে দিলো, এটা দিপের এরেকটা চাল,
দিপ এবার একটা ম্যাসেজ দিলো, এই ১০০ টাকার হিসাব নিবো না, আজ না, কোন দিন ও আপনাকে যা দিবো কোন হিসাব নিবো না।
।।
ফিরতি একটা ম্যাসেজ আসে, আপনি খুব খারাপ মানুষ, মেয়ে কীভাবে পোটাতে হয় সেটা আপনার ভালোই জানা আছে......
।।
দিপ ফোনটা পাশে রেখে আরেক টা ব্যানসন জ্বালালো……।।
।।
।।
>>>>>>>>পরবর্তী পর্ব>>>>>>>>>>
গল্পটা অনেক সুন্দর যারা গল্প পড়তে ভালো লাগে তারা অবশ্যই জানাবেন,,,
গল্পটা একটু বড় তাই কিছুদিন পোস্ট করা লাগবে পর্ব হিসেবে,,
আর যারা গল্প টা মিস করতে চান না তারা ইনবক্সে এসএমএস করবেন আমার একটা পেজ আছে সেখানে অ্যাড করে দিবো।।।

12/04/2019

বিবাহিতরা অবশ্যই পড়বেন এবং অবিবাহিতরা অগ্রিম শিখে নিন 😛😜😜😛
***Sequence 1***
বউঃ- দেখো পাশের বাড়ির ফাহিম দাদা একটা ৫২ ইঞ্চির টিভি কিনেছে।আর তুমি তো একটা ছোট টিভিও কিনে আনো না।😒😒
স্বামীঃ- প্রিয়তমা, যার কাছে তোমার মতো সুন্দরী বউ আছে,সে কেন ফালতু টিভি দেখে সময় নষ্ট করবে ??😎😎
বউঃ- ওহ, তুমিই না..........। আচ্ছা বাবু যাই,তোমার জন্য মজা করে চা বানিয়ে নিয়ে আসি।☕
***Sequence 2***
বউঃ- ওগো তুমি আমার জন্মদিন কি করে ভুলে গেলে ??
স্বামীঃ- কি করে তোমার জন্মদিন মনে রাখি বলো ? তোমাকে দেখে মনেই হয়না যে, তোমার বয়স বেড়ে গেছে।
বউঃ- সত্যি ? আচ্ছা যাই,একটু স্পেশাল কফি করে আনি।😍
***Sequence 3***
স্বামী-স্ত্রী এর ঝগড়া চলতেছে।
বউঃ- আমি পুরো ঘর সামলাই, রান্নাঘর সামলাই, বাচ্চাদের সামলাই..আর তুমি কি করো ??
স্বামীঃ- আমি নিজেকেই সামলাইতে পারি না, তোমার ঐ মায়াবি চোখ দু'টো দেখে আমি হারিয়ে যাই।
বউঃ- (লাজুক চোখে) তুমিই না!!😍

10/03/2019

নিস্তব্ধ ভালোবাসা
লেখক: অদৃশ্য বালিকারbf
(আতিক)
পর্ব : ০২


আমি ও বাধ্য ছেলের মত ওর সাথে গিয়ে বাসের ঠিক পিছনে গিয়ে বসলাম।
এই বাসটায় তেমন যাত্রী ছিলো না।
মেয়েটা জানালার কাছে বসলো আর আমি তার পাশেই।
বাস তার আপন গতিতে চলছে।
দুজনি নিরব হয়ে বসে আছি।
হঠাৎ মুখ খুললো মেয়েটা।
-তোমার নাম কি?
-সাইফ।
আপনার নাম...?
-ঐ কি বললি আবার?
আমার দিকে ঘুরে চোখটা বড় করে রাগ দেখিয়ে বললো মেয়েটা।
-না মানে তোমার নাম কি? (ভয় পেয়ে আমি)
-আমার নাম... অাফরিন মুন।
শুধু মুন বলে ডাকবে আমায়। ওকে...?
-ওকে।
-আচ্ছা তুমি কি ধরনের কাজ করতে এসেছো ঢাকায়?
-যে কাজ পাই সেই কাজ ই...
-তুমি নিশ্চয়ই গ্রাম এলাকার ছেলে তাইনা?
-হুম।
-আমার সাথে কিছুদিন থাকবে?
তোমার থাকা খাওয়া ফ্রি।
-২/১ দিন থাকতে পারবো।
এরপর কাজ না পেলে চলবে না।
কারন মাস শেষে বাড়িতে টাকা পাঠানোর কথা বলে এসেছি বাবা- মাকে।
-তোমার বাড়িতে কতো টাকা পাঠাতে হবে মাসে?
-৫/৬ হাজার পাঠাতেই হবে।
পারলে এর বেশি চেষ্টা করতে হবে।
-ওকে ৮ হাজার পাঠাবে বাড়িতে।
আর থাকা খাওয়া ফ্রি।
-কিভাবে? কোথায় এই চাকরি?
-আমি দেবো টাকা।
তুমি তো বলেছো যে কোন কাজ করবে।
-কাজটা কি?
-আমার স্বামী সেজে অভিনয় করবে কিছুদিন।
তারপর একটা ব্যবস্থা করে দেবো আমি।
-আচ্ছা আপনি... না মানে তুমি পালালে কেন বাড়ি থেকে?
-তার আগে বলো রাজি কিনা তুমি?
সব বলবো তোমায়...
-হুম রাজি। এবার বলুন।
-আবার...?
-সরি সরি...মনে থাকেনা তাই আপনি বলে ফেলি।
এবার বলো...
-মেয়েটা একটা পা সিটে তুলে আমার মুখের সামনে মুখ নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো... এরপর যদি মনের ভুলেও আপনি বলিস পানি ছাড়া গিলে খাব তোকে।
-ওকে ম্যাডাম ঠিক আছে। আর ভুল হবেনা।
-আর শোন আমায় নাম ধরে ডাকবি সব সময়।
মানুষ যেন মনে করে আমরা সত্যি স্বামী স্ত্রী।
-হুম ওকে তাই ডাকবো।
এই প্রথম ওর কথা শুনে হাসলাম। মুখ বুঝে হাসতে গিয়েও ওর কাছে ধরা পড়লাম।
-এই হাসলা কেন?
-তুমি খুব রাগী। আর রাগলে তোমায়...
-রাগলে আমায় কি?
-না থাক... রাগ করতে পারো।
-ঐ বলবি না মারবো একটা ঘুসি...
কলারটা চেপে ধরে বললো মুন।
-রাগলে তোমায় খুব সুন্দর লাগে।
এ জন্য মনে হয় তোমায় বারবার রাগাই।
আবার ভাবি যে তুমি যে বদরাগী...
রেগে গিয়ে মারতেও পারো আমায়। এটা ভেবে হাসছি।
-ওল্লে বাবা... ইতু লোমান্টিক ছেলে তুমি তা তু জানতুম না।
দেখে তো ভেবেছিলাম হাবারাম মার্কা সব দিকেই।
এখন তো দেখছি তলে তলে এই দিকে ভালোই পারদর্শী তুমি।
তা গ্রামে কয়টা মেয়ের সাথে লাইন মেরেছো?
-মানে?
-আহহা... মনে হচ্ছে ফিডার খাও তাইনা? ভালোয় ভালোয় বলো কয়টা প্রেম করছো গ্রামে?
মিথ্যা বললে খবর আছে কিন্তু।
-গ্রামে কারো সাথে কিছু হয়নি।
তবে ফেসবুকে একটা মেয়ের সাথে প্রেম হইছিলো।
-বাব্বাহ'... তুমি ফেসবুকে প্রেম করেছো!! এইটা আমার বিশ্বাস করতে হবে?
এমন আবুলের সাথে কেউ প্রেম করবে?
তাও আবার ফেসবুকে!!
আরে মদন... পাম মারার আর জায়গা পাওনা?
- আরে নাহ' আমি সত্যি বলছি মাইরি।
একটুও পাম নাহ...।
-তো বিয়ে করছো ওকে?
ওর পিক দেখাও তো...
-আরে নাহ' আমি বিয়ে করিনি এখনো।
তবে ওর বিয়ে হয়ে গেছে।
আর ওর পিকগুলো ওর বিয়ের পর ডিলেট করে দিছি মনের দুঃখে।
-মানে!! তুমি ওকে বিয়ে করনি কেন?
-ও রাজি হয়নি।
-রাজ হয়নি মানে? এটা কেমন কথা!!
-ওরা বড়লোক ছিলো।
ও ওর পরিবারকে বলেতে পারেনি।
বললে নাকি তারা খুব কষ্ট পেতো। মেনে নিতো না।
-কি...? প্রেম করার সময় ওর ওসব মনে ছিলো না?
ওর নাম্বার দাও আমাকে...
আর ওর বাসা কোথায় বলো।
-না থাক...
ও তো সুখেই আছে।এতেই আমার সুখ।
তাছাড়া হয়তো' আমি ওর যোগ্য ছিলাম না। এ জন্য হয়তো ও অচিনপুরে চলে গেছে সুখের খোঁজে।
ওর বাসা ছিলো আমাদের পাশের জেলায়।
-হুম বুঝেছি....
এই বলে মুন নামের মেয়েটা আমার চোখের দিকে তাকায়...
আমার চোখে সামান্য একটু পানি টলমল করছে।
আমি অন্য দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে চোখ মুছছি।
মুন আবার বললো...
-খুব ভালোবাসতে ওকে তাইনা?
ওকে বুঝি খুব মিস করো তুমি?
-হুম খুউব...।
-আচ্ছা আরেকটা কথা জানতে চাইবো খারাপ কিছু মনে করবে না তো?
-না বলো।
-ওর সাথে তোমার... ইয়ে মানে.. কোন ইয়ে টিয়ে সম্পর্ক বা জড়িয়ে ধরা কিংবা কিস টিস করা হয়েছিলো কি?
-আরে নাহ' ওকে তো আমি বাস্তবে সামনা সামনি দেখিই নি কোনদিন।
-মানে!! তাহলে ভালবাসা হলো কি করে?
-ফেসবুকে প্রথমে কথা হতো।
এরপর ফোনে কথা হতো এবং পরে ইমোতে ভিডিও কলে কথা হতো।
-ওর সাথে দেখা হয়নি কোনদিন?
-নাহ' দেখা করার কথা ছিলো সময় সুযোগ বুঝে।
কিন্তু ও যখন বললো ওর বিয়ে ঠিক হইছে তারপর আর প্রয়োজন মনে করিনি দেখা করার।
-ঐ এইদিক আয়।
এই বলে মুন আমার একটা কান ধরে বলতেছে... তুই কি আদিম যুগের মানুষ নাকি?
তোর কি তাল তক্তা নাই?
তোর মাথায় ঘিলু বলতে কিছু কি নাই?
ঐ বোকা' এই যুগে কেউ না দেখে প্রেম করে।
তোর মতো আবুলের কষ্টই পাওয়া উচিৎ।
শোন' এখনো সময় আছে বদলে যা।
নইলে সারাজীবন কষ্টের দেখাই পাবি।
কি প্রেম আমার য়্যাহ... আবার তার জন্য চোখে জল আসে, কষ্ট পায়।
যত্তোসব ন্যাকামি...
এটুকু বলে মুন জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি মাথা নিচু করে বসে আছি।
হঠাৎ একটা হাত আমার হাতের উপর স্পর্শ অনুভব করলাম।
দেখি মুন হাতে হাত রেখেছে।
আরেক হাত দিয়ে ও আমার থুতনিটা ধরে বলছে...
-সরি' জানি কষ্ট পাচ্ছো তুমি।
এসব বলা আমার ঠিক হয়নি।
কিন্তু এমন বোকার মতো আর চলবে না কখনো।
দূর থেকে এতোটা বিশ্বাস কাউকে করতে নেই এই যুগে।
ও ভালবাসার মানুষ ছিলো না তোমার।
ওটা ছিলো তোমার ভুল।
এখনকার মেয়েরা ও ছেলেরা প্রায় ই প্রেমের নামে টাইমপাস করে।
মজা, ফুর্তি কয়েকদিন করেই হারিয়ে যায় অনেক দূরে।
জানো সাইফ' আমার ও অনেক কষ্ট...
হারানোর কষ্ট।
কাছের মানুষকে পাইনি' তাই অন্য কাউকে জীবনে মেনে নিতে চাইনি।
এ জন্যই আজ আমি আমার বিয়ের দিনে পালিয়ে যাচ্ছি।
এটুকু বলেই আটকে যায় মুনের কথা....
তাকিয়ে দেখি মেয়েটা ফুপিয়ে কাঁদছে!!
যতবার ওর মুখ দেখেছি মনে হয়েছে দুষ্টু একটা পাখি ও...
সবসময় মজা করতে ভালোবাসে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ওর ভিতরে অজানা কোন কষ্ট লুকিয়ে আছে।
আমি আমার হাতটা ওর চোখের কাছে নিয়ে গিয়েও থেমে গেলাম।
ও আমার দিকে চেয়ে কান্নাসুরে বললো... কি হলো থামলে কেনো?
আমার চোখের পানি মুছে দিতে চাও?
দাওনা মুছে...
আমি তো সবাইকে হারিয়ে একা হয়ে গেছি। চোখের পানি মুছে দেয়ার মতো এখন কেউ তো নাই আমার।
>>>>>>>পরবর্তী পর্ব>>>>>>>>

01/03/2019

নিস্তব্ধ ভালোবাসা
লেখক: অদৃশ্য বালিকারbf (আতিক)
পর্ব : ০১


এই প্রথম গ্রাম হতে শহরে আসলাম।
বাস থেকে নেমেই এদিক ওদিক তাকালাম। অচেনা শহর, অচেনা রাস্তা ভাবতেই একটু ভয় ঢুকে গেল মনে!
শুনেছি শহরে নাকি ছিনতাইকারী অনেক।
এদের পাল্লায় পরলে কাছে যা আছে সব হারিয়ে মহা বিপদে পড়ে যাবো।
ব্যাগটা কাধে ঝুলিয়ে হাটতেছি।
কোথায় যাবো কার কাছে যাবো...
এই টেনশনে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
হাটতে হাটতে প্রায় সন্ধা হয়ে এলো।
এখনো চাকরির কথা বলার মত ফ্রি মানুষ পেলাম না।
২/১ জন পেলেও কথা বলার সাহস হয়নি।
হা.. একটি চাকরির খোঁজেই এসেছি শহরে। চাকরির কথা বললে ভুল হবে হয়তো।
কারন ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়ে চাকরির আশা করা আর চাঁদটাকে কাছে পাবার আশা করা সমান।
তাই যে কোন একটা কাজের খোঁজে ঘুরতেছি।
সন্ধার আজান শেষ হতেই আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হলো।
সাথে বৃষ্টিও পড়ছে টুপটুপ।
এই সময় বৃষ্টিতে ভিজে গেলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
আর ভেজাটাও এখন ঠিক হবেনা। তাড়াতাড়ি দৌড়ে একটা ছাউনির নিচে দাঁড়ালাম।
পাশেই একটা বাস স্ট্যান্ড।
বুঝলাম এই ছাউনিটা যাত্রীদের জন্যই করা হইছে।
হঠাৎ বৃষ্টির জোর বেড়ে গেল।
সিড়িতে বসে পড়লাম।
একটা সিএনজি এসে ছাউনির সামনেই থামলো।
সিএনজি থেকে লাল শাড়ি পড়া একটা মেয়ে নামলো।
সম্ভবত নতুন বউ।
সিএনজির ড্রাইবারকে ভাড়া দিয়ে মেয়েটা দৌড়ে আসলো এই ছাউনির নিচে।
এসে সিড়ির অপর পাশে বসে পড়লো।
চুপ করে মাথা নিচু করে বসে আছি আর মেয়েটার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছি।
মনে মনে ভয় হচ্ছে।
রাস্তাঘাটে মানুষ নেই বৃষ্টির জন্য।
তার উপর রাতের অন্ধকার নেমে এসেছে।
খেয়াল করলাম মেয়েটাও বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে।
আমার ভিতরে এখন আরেকটা ভয় কাজ করছে।
শুনেছি শহরে মহিলা ছিনতাইকারী ও থাকে।
ইনি তো সেই ধরনের মহিলা না?
আবার ভাবতেছি কোন বাজে মহিলা তো না?
যারা টাকার বিনিময়ে সব করে।
এসব মহিলা থেকে আমি ১০০ হাত দূরে থাকি।
মেয়েটা হঠাৎ আমার দিকে এগিয়ে এসে বসলো।
আমি ব্যাগটা আমার কোলের মধ্যে চেপে ধরে ভয়ভয় চেহারায় তাকালাম মেয়েটার দিকে।
মেয়েটা মুচকি মুচকি হাসছে আমার দিকে চেয়ে।
-বাসা কোথায়? (মেয়েটা)
-খৈয়াছড়া, মিরসরাই, । (আমি)
-কোথায় যাবে?
-জানিনা। একটা কাজের খোঁজে এসেছি।
-পেয়েছ কাজ?
-না।
-কোথায় যাবে এখন? থাকবে কোথায়?
কোন জবাব না দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকালাম।
আমার চেয়ে বয়স কম হবে। সুন্দর গোলগাল চেহারা। সাজগোজ করেছে। যেন বিয়ে হয়েছে আজই। শুধু শরীরে গয়না নেই।
বুকে একটু সাহস নিয়ে মেয়েটিকে বললাম... আমি না হয় রাস্তায় ই কাটিয়ে দেবো রাতটা। কিন্তু আপনি?
আপনি বউ সেজে এভাবে একা রাস্তায় বের হয়েছেন কেন?
-সেটা অনেক কাহিনী। বৃষ্টি থেমে গেছে, বাস ও এসে পড়ছে একটা। এখন আমি যাই।
এই বলে মেয়েটা দৌড়ে গিয়ে বাসে উঠলো।
আমি এক নয়নে বাসটার দিকে চেয়ে আছি।
হঠাৎ মেয়েটা কি মনে করে আবার নেমে আসলো আমার কাছে।
-যাবে আমার সাথে?
-কোথায়?
-যেখানে দু-চোখ যায়। যদি যাও তো আসো। না গেলে বসে থাকো।
এই বলে মেয়েটি আবার বাসে গিয়ে উঠলো।
ওঠার আগে আমার দিকে চেয়ে ইশারায় বললো আসতে চাইলে আসো।
আমি কোনকিছু না ভেবে ব্যাগটা কাধে ফেলে উঠে পরলাম বাসে।
মেয়েটা বাসের পিছনে গিয়ে বসলো।
আমি বললাম সামনেই তো সিট আছে এখানে বসেন।
মেয়েটা চোখ গরম করে ইশারায় পেছনে যেতে বললো।
গিয়ে ওর পাশে বসতেই আমার গালের কাছে হাত নিয়ে বললো থাপ্পর মেরে সব কয়টা দাঁত ফেলে দেব।
কোন সময় কি বলতে হয় জানিস না? যতক্ষন আমার সাথে থাকবি ততক্ষন আমায় তুমি করে বলবি।
আর একবার লোকজনের সামনে আপনি করে বললে মেরে দেবো একেবারে...হুম।
আমি মেয়েটির এই কথা শুনে তাজ্জব হয়ে গেলাম!!
ভয়ে ভয়ে ওর দিকে তাকিয়ে দেখি চোখ মুখ রাগে লাল হয়ে আছে।
আমি মাথা নিচু করে ভাবছি কি মেয়ের পাল্লায় পরলাম রে বাবা!!
একটুপরেই বাস থামলো।
মেয়েটি বললো এখানে নামতে হবে।
ওর পিছু পিছু নেমে পড়লাম।
নেমে আমি দাড়িয়ে গেলাম।
ভাবলাম মেয়েটার সাথে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না আমার।
মেয়েটি এগিয়ে আসলো আমার কাছে।
-সরি... বাসের মধ্যে ওভাবে বলাটা ঠিক হয়নি আমার।
আসলে আমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি। তার উপর তুমি আমাকে আপনি বলাতে বাসের লোকজন তোমার ও আমার দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে ছিলো।
এ জন্য রেগে গিয়েছিলাম তোমার উপর।
এদিকে এক বান্ধবী আমায় ফোন করে জানালো বরপক্ষকে বাবা বুঝিয়ে আমায় খুঁজতে বের হইছে। লোক ও পাঠাইছে খোঁজার জন্য।
আমাকে ফোন করে পায়নি তারা। কারন আমার সিম বন্ধ আসল টা।
গোপন সিম খোলা রাখছি আমার বান্ধবীদের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য।
এখন অন্য বাসে উঠে তাড়াতাড়ি ভাগতে হবে চট্রগ্রাম থেকে।
এটুকু বলে মেয়েটি আমার হাত ধরে বললো চলো...।
আমি এতক্ষন ওর সাথে যাওয়ার জন্য রাজি থাকলেও এখন ওর পালানোর কথা শুনে ঘাবড়ে গেলাম!
বললাম সরি আপু... আপনি যান। আমি যেতে পারবো না।
মেয়েটা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে বললো... আমার এতটুকু উপকার করো প্লিজ। শুধু কক্সবাজার পর্যন্ত আমায় পৌছে দিয়ে আসো।
কারন আমি বুঝলাম এই পোষাকে রাতের বেলা একা এতোটা রাস্তা যাওয়াটা আমার ঠিক হবেনা। বিপদ হতে পারে।
তোমার কোন ক্ষতি আমি করবো না। এই বলে মেয়েটা আবার আমার হাত ধরলো।
তাকিয়ে দেখি মেয়েটির চোখে জল।
ভিতরে কেমন যেন মায়া হলো আমার।
তবুও তাকে বললাম... আমি ২/৩ দিনের খরচ নিয়ে এসেছি বাড়ি থেকে। ভেবেছি ২/১ দিনের মধ্যে কোন কাজ যোগাড় করবো।
কিন্তু এভাবে ঘুরতে থাকলে তো আমি কাজ জোগার করতে পারবো না। পকেট ও ফাঁকা হয়ে যাবে।
এটুকু বলে আমি লজ্জায় মাথা নিচু করলাম।
মেয়েটি বললো তোমার কাজের ব্যবস্থা আমি করে দেয়ার চেষ্টা করবো। তা না পারলেও তুমি যতক্ষন আমার সাথে থাকবে ততক্ষন তোমার কোন খরচ হবেনা। আর তোমার টাকা পয়সা লাগলে আমি দেখবো।
শুধু আমায় একটু হেল্প করো প্লিজ।
এই বলে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে বাসে উঠলো মেয়েটা।
>>>>>>পরবর্তী পর্ব>>>>>>>

15/02/2019

♥♥প্রতিক্ষা♥♥
পর্ব :- ০১
লেখক: অদৃশ্য বালিকারbf
(আতিক)


অাজ অামি মনের কাছে বিবেকের কাছে হেরে গেলাম। কারণ আজ নিজেকে বিক্রি করলাম,
ছোট বেলায় একবার বাড়ীর ছাগল বিক্রি করতে গেছিলাম,
পুরো রাস্তা ছাগলটা চিল্লাইছিল, আজ বুঝতে পেরেছি তার কষ্টটা।
তবে হয়তো এটায় জীবন।
এই চাকুরীটা হলে বাবা-মা একটু হাপ ছেড়ে বাঁচে। কাল থেকে আমিও একটু হাপ ছেড়ে বাঁচি।
আর কতো দিন সবাইকে বলবো? আমি বেকার। অভিশাপের থেকে খুব বেশি মনে হয় ভালো না এই বেকার শব্দটা, কিন্তু তারপর ও আমি যেন আর ৪ বছর থেকে সেই অভিশাপ নিজের ঘাড়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি।
।।
বিসিএস এর ভাইবা ছিল গত কাল।
সব কিছুই ভালো ছিল, কিন্তু তারপর ও জানতে পারলাম হবে না।
গত বার ও এই ঘটনা ঘটেছে।
ভাইবা ভালো দেবার পর ও হয় নি।

এবার অফিসের একজন বলল, ভাই এভাবে হবে না, খরচ করতে হবে। খুব কম করে হলেও ২০ লক্ষ, পারলে বলেন ৩ দিনের মধ্যে দিতে হবে। তাহলে আপনার চাকুরী হয়ে যাবে। আপনার রেজাল্ট ভালো আছে।
।।
আমি কি যেন মনে করে রাজী হয়ে গেলাম।
কিন্তু আমার পেনশান ভুগী বাবার কাছে তো এতো টাকা নাই। তারপর ও ৩ দিন সময় নিলাম।
।।
রাতে আমার এক বড় ভাইকে বিষয়টা জানালাম, উনি বলল, দেখি কি ব্যাবস্থা করতে পারে।
সকালে আমি বাড়ী পোঁছালাম।
সকালে সে ভাইয়ের দোকানে গিয়ে আবার বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করলাম।
কিন্তু এতো টাকা কয় পাবো। আমার বাবার পেনশানের প্রায় ১২ লক্ষ টাকা আছে, তাহলে আমার প্রয়োজন এখন ও ৮ লক্ষ টাকা।
।।
দুপুরে খেয়ে শুয়ে আছি। ভাইয়া ফোন করলো। বলল, বিকেলে দোকানে দেখা করতে, মনে হয় একটা পথ হয়ে গেছে।
বিকেলে আমি দোকানে গেলাম। উনি বলল, একজন আমাকে টাকা দিতে রাজী আছে, কিন্তু ওনার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দিবে, মেয়েও নাকি অনেক সুন্দর, একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে।
মনে মনে ভাবলাম, কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ করতে হবে, কেউ স্বার্থ ছাড়া এতো টাকা দিবে না, হয়তো আমিও না। তাই আমি ওনার সাথে দেখা করতে গেলাম।
।।
আমাকে ফোন নাম্বার আর ঠিকানা দেওয়া হলো। আমি ওনাকে ফোন করতেই উনি বলল, উনি আমাকে এক যায়গায় ডাকল, আমি হাঁটা শুরু করলাম, বেশি দূর না ১০-১২ মিনিট লাগবে। আমি সাথে সাথেই একজন কে ফোন করলাম, তারপর ঐ পরিবারের ব্যাপারে খোঁজ নিতে শুরু করলাম , তারপর আরও ২ জন কে ফোন করলাম, মেয়ে ভালো কিন্তু বাবা “আঙুল ফুলে কলা গাছ” কারণ বাব-দাদার কিছু ছিল না তাহলে উনি এতো টাকার মালিক হলেন কীভাবে? এখানে ১ টা বাড়ী শহরে একটা, বাগান, পুকুর, মার্কেট সব আছে, এতো টাকা কোথায় পেলেন?
।।
ভাবতে ভাবতে আমি চলে গেলাম, আমার হবু শ্বশুরের কাছে।
আমি- আসসালামুআলাইকুম।
হবু শ্বশুর- আরে ইমন বাবা! আসো।
আমি- জি
হবু শ্বশুর- রফিক আমাকে ফোন করে সব বলল, আমি রাজী আছি, তুমি চিন্তা করো না। ১০ লক্ষ না আমি পুরো ২০ লক্ষ টাকা দিবো। টাকা টা আমার কাছে কিছু না, তোমার মতো একটা ভালো ছেলে আমার জামাই হবে এর থেকে আর কি চাই।
।।
আমি- আপনি জানেন আমার কিসের মধ্যে চাকুরী হচ্ছে?
হবু শ্বশুর- হ্যাঁ! মনে হয় পুলিশের মধ্যে।
আমি- আপনি কি করেন?
হবু শ্বশুর- আমি?
আমি- হ্যাঁ, আপনি কি করেন?
হবু শ্বশুর- এই তো আমার পুকুর আছে, দোকান আছে, দুইটা বাগান আছে, শহরে একটা বাড়ী আছে, আরও অনেক জমি জায়গা আছে।
আমি- এগুলো নিজে কিনেছেন নাকি আপনার বাবা দিয়েছে?
হবু শ্বশুর- আমি নিজে কিনেছি।
।।
আমি- আপনার বিয়ের পর কি থেকে শুরু করেন?
হবু শ্বশুর- এসব আবার কি ধরণের প্রশ্ন?
আমি- আমি কি খারাপ কিছু জিজ্ঞেস করেছি?
হবু শ্বশুর- না তা না, আমার বাবা অনেক গরীব ছিল, আমারাও পড়াশুনা করতে পারিনি, একটা ছোট্ট দোকান দিয়ে আমার জীবন শুরু। এখন আমার দোকানে মাসে ৮০ হাজার টাকা ইনকাম হয়।
।।
আমি- ৮০ হাজার?
হবু শ্বশুর- হ্যাঁ। আর বাগান পুকুর আর শহরের বাড়ী থেকে মাসে আরও ১ লক্ষ টাকা ইনকাম আসে।
আমি- আমি যতো দূর ধারণা ১০ বছর আগেও আপনার এই দোকান আর গ্রামের বাড়িটা ছিল না।
হবু শ্বশুর- হ্যাঁ তুমি ঠিক বলেছো।
আমি- ২৫ বছর দোকানদারী করে আপনি এক টুকরো জমি কিনতে পারেনি, তাহলে এই ১০ বছরে কীভাবে শহরে একটা বাড়ী, বাগান, পুকুর কিনলেন? একটু বলবেন প্লিজ।
।।
হবু শ্বশুর- মানে কি বলতে চাও তুমি?
আমি- আমি যেটা বলতে চাই আপনি সেটা ভালো করেই বুঝচ্ছেন। ক্ষমা করবেন চাচা! এই শরীর সৎ রক্ত দিয়ে তৈরি, হয়তো আজ ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিতে হচ্ছে, এজন্য টাকার প্রয়োজন, তাই বলে বাবার সৎ টাকার সাথে আপনার এই হারামের টাকা মিশাবো না।
হবু শ্বশুর- বাস্তব অনেক কঠিন, কেউ ইচ্ছা করে খারাপ পথে যায় না বাবা!
।।
আমি- আমার গরুর মাংস খুব প্রিয়! কিন্তু গত ঈদের পর মনে হয় না নিজেদের বাড়ীতে গরুর মাংস হয়েছে। কাল রাতে যখন ঢাকা থেকে বাড়ী আসি। তখন আমার পকেটে ১৫৬ টাকা ছিল। আমি সারা রাত ট্রেনে দাঁড়িয়ে বাড়ী এসেছি। রাতে শুধু ১০ টাকা দিয়ে ২ টা রুটি খেয়েছিলাম।

কিন্তু না কারো থেকে কিছু চেয়েছি না চুরি করেছি। আল্লাহ্‌ তার প্রিয় বান্দাদের-কেই পরীক্ষা করে। ঘুষ দিয়ে ঢুকছি বলেই যে আমি ঘুষ খাবো, এটা যদি ভাবেন তবে ভুল ভাব্বেন, মনে রাখবেন ড্রেন পরিষ্কার করতে হলে ড্রেনে নামতেই হবে। আল্লাহ্‌ আপনাকে বিপদে ফেলে পরীক্ষা করেছিলো, আপনি ধৈর্য ধরেন নি, কিন্তু আমি হার মানবো না।
।।
হবু শ্বশুর- কিন্তু?
আমি- আমাকে মাফ করবেন, আপনি আপনার মেয়ের জন্য অন্য ছেলে খুঁজে নিবেন। আর এই চায়ের জন্য অন্য মুখ।
।।
এরপর ওখান থেকে চলে আসলাম।
আসতে আসতে ভাবলাম, অনেক বড় বড় হাদিস তো ঝাড়লাম, কিন্তু আর আমার সময় ২ দিন। এতো টাকা কই পাবো?
।।
।।
>>>>>>> পরবর্তী পর্ব >>>>>>
গল্পটা অনেক বড় সব টুক পড়তে চাইলে আমার পেজ এ আসতে পারেন,,, আমার পেজ এর নাম atikislamasr অথবা ইনবক্সে করতে পারেন কিন্তু friend requestদেওয়া যাবে না,, accept করা হবে না,,
আমার পেজ আসিয়েন।।।

Address

Thakurgaon
Thakurgaon

Telephone

+8801751373584

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Atik islam asr posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category