25/01/2024
জীবনের শেষ প্রান্তেঃ ২৫/০১/২৪ইং।৷ জীবনের শেষবেলায় খালে এখন পুরো ভাটা। জল নেমে গিয়ে কাদা আর ভাঙা ইটপাটকেল ওজন ভারি আবজনা বেরিয়ে পড়েছে। কংক্রিটের পুলের কাছে খালের ধারে লাগানো সালতি থেকে খড় তোলা হচ্ছে পাড়ে। পাশাপাশি জোড়া লাগনো দুটো বড় সালতি বোঝাই আটিবাধা খড় তিনজনের মাথায় চড়ে গিয়ে জমা হচ্ছে, ওপরের মস্ত গাদায়। ওঠানামার পথে ওরা খড় ফেলে নিয়েছে কাদায়। সালতি থেকে ওদের মাথায় খড় তুলে দিচ্ছে দূজন। একজনের বয়স হয়েছে,আধপাকা চুল,রোগা শরীর। অন্যজন মাঝবয়সী, বেটে, জোয়ান,মাথায় ঠাসা কদমছাটা রুক্ষ চুল। পুলের তলা দিয়ে ভাটার টান ঠেলে এগিয়ে এল সরু লম্বা আরেকটা সালতি, দু-হাত চওড়া হয়নি না হয়। দু-মাথায় দাড়িয়ে দুজন প্রৌঢ়া বিধবা লগি ঠেলছে, ময়লা মোটা থানের আচল দু-জননেরই কোমরে বাধা। মাঝ-খানে বসে আছে অল্প বয়সী বৌ। গায়ে জামা আছে,নকশা পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ী।আটসাট থমথমে গড়ন, গোল গাল মুখ। মাসি-পিসি ফিরছে কৈলেশ, বড়ো লোকটি বলল। কৈলাশ বাহকের মাথায় খড় চাপাতে ব্যস্ত ছিল।চটপট শেষ আটিটা চাপিয়ে দিয়ে সেই যখন ফিরলো,মাসি- পিসির সালতি দু- হাতের মধ্যে এসে গেছে। ও মাসি,ওগো পিসি, রাখো রাখো। খবর আছে শুনে যাও। সামনের দিকে লগি পুতে মাসি- পিসি সালতির গতি ঐেকায়, আহ্লাদি সিথির সিদুর পযন্ত ঘোমটা টেনে দেয়। সামনে থেকে মাসি বলে বিরক্তির সঙ্গে, বেলা আর নেই কৈলাড। পেছনে থেকে পিসি বলে,অনেকটা পথ যেতে হবে কৈলাশ। মাসি- পিসির গলা ঝরঝরে, আওয়াজ একটু মোটা, একটু ঝংকার আছে। -----চলবে ঐ।