বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, জার্মানি

  • Startseite
  • Deutschland
  • Munich
  • বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, জার্মানি

বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, জার্মানি উদ্দেশ্য: জার্মানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্যবিনিময় ও কল্যাণ সাধন করা।

উদ্দেশ্য: জার্মানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, তথ্যবিনিময় ও কল্যাণ সাধন করা। এছাড়াও জার্মানিতে উচ্চশিক্ষায় বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং পড়াশুনা শেষে ভাল ক্যারিয়ার গড়তে অভিজ্ঞদের সাথে সেতুবন্ধন সৃষ্টি করা।

Bäcker Ausbildung কী? জার্মানির Dual Vocational Training System-এর অধীনে একজন শিক্ষানবিশ (Azubi) একই সাথে, একটি বেকারি প...
12/07/2026

Bäcker Ausbildung কী?

জার্মানির Dual Vocational Training System-এর অধীনে একজন শিক্ষানবিশ (Azubi) একই সাথে, একটি বেকারি প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে কাজ শিখে এবং পাশাপাশি Berufsschule (কারিগরি স্কুল)-এ তাত্ত্বিক শিক্ষা গ্রহণ করে। এই প্রশিক্ষণ সাধারণত ৩ বছর মেয়াদী হয় এবং প্রশিক্ষণকালেই মাসিক ভাতা (Ausbildungsvergütung) প্রদান করা হয়। বিদেশী শিক্ষানবিশদের জন্য স্থায়ী চাকুরী ও স্থায়ী ভিসার সুযোগ আছে ।

একজন Bäcker কী কাজ করেন?

বেকারীতে সাধারনত রুটি, ব্রেড, বান ও বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরি, কেক, পেস্ট্রি ও মিষ্টান্ন প্রস্তুত, উপকরণ ওজন ও পরিমাপ করা, ময়দা ও অন্যান্য উপাদান মিশ্রণ করা, ওভেন পরিচালনা ও বেকিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ , খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করণ বিষয়ে প্রশিক্ষন দেয়া হয়।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

বাংলাদেশের আগ্রহী প্রার্থীরা সাধারণত নিম্নলিখিত যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে পারেন:

🔹 ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা

🔹 জার্মান ভাষাজ্ঞান (সাধারণত B1, তবে B2 থাকলে সুবিধা বেশি)

🔹 শারীরিকভাবে সক্ষমতা ও হাতে-কলমে কাজের আগ্রহ

🔹 খাদ্য প্রস্তুতি ও বেকারি কাজে আগ্রহ

জার্মানির সরকারি তথ্য অনুযায়ী Ausbildung-এর জন্য ভাষাজ্ঞান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় ভিসা শর্ত পূরণ করতে হয়।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও নির্ভরযোগ্য লিংক

🔹 Make it in Germany (Official Portal)

Requirements for Vocational Training in Germany

🔹 Federal Employment Agency (Bundesagentur für Arbeit)

Vocational Training in Germany (English)

🔹 Federal Employment Agency (German)

Ausbildung in Deutschland

🔹 Official Beruf Profile – Bäcker/in

Bäcker/in Berufsinformationen

🔹 Goethe-Institut – Vocational Training Information / Vocational Training in Germany

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: বাংলাদেশ থেকে আগ্রহী প্রার্থীদের উচিত-

✅ জার্মান ভাষা শেখার উপর গুরুত্ব দেওয়া এবং সেইমতো দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ভাষা শেখা।

✅ স্বীকৃত Ausbildung প্রতিষ্ঠানের অফার খোঁজা

✅ শুধুমাত্র সরকারি বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা

✅ ভিসা আবেদনের আগে Ausbildung Contract (Ausbildungsvertrag) নিশ্চিত করা

দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জার্মানির Bäcker Ausbildung বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে Bäcker Ausbildung করার ধাপসমূহ -

১. পেশা সম্পর্কে ধারণা নিন

২. জার্মান ভাষা শিখুন

৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন : সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হয়।

বৈধ পাসপোর্ট

SSC/HSC বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ

মার্কশিট

জার্মান ভাষা সনদ (B1/B2)

জার্মান ফরম্যাটের CV (Lebenslauf)

Motivation Letter / Anschreiben

পাসপোর্ট সাইজ ছবি

কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদের মূল্যায়ন (Recognition) বা EVALUATION ( ANABIN, Germany থেকে) করতে হতে পারে।

৪. Ausbildung পজিশন খুঁজুন

সরকারি ও নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটে Bäcker Ausbildung খুঁজুন।

গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট:

Make it in Germany

Federal Employment Agency (Arbeitsagentur)

Ausbildung.de

Azubi.de

৫. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করুন

একটি প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করুন।

সাধারণত আবেদন প্রক্রিয়া:

Online Application

Video Interview

Telephone Interview

কিছু ক্ষেত্রে Trial Day

জার্মানিতে Ausbildung শুরু হওয়ার ৬–১২ মাস আগে আবেদন করা উত্তম। সব হাতে পাওয়ার পর ভিসার জন্য ৩- ৬ মাস সময় লেগে যেতে পারে।

৬. Ausbildung Contract (Ausbildungsvertrag) সংগ্রহ করুন

নির্বাচিত হলে প্রতিষ্ঠান আপনাকে একটি Training Contract দেবে। এই চুক্তিতে থাকবে: প্রশিক্ষণের মেয়াদ ,মাসিক ভাতা , কাজের স্থান, প্রশিক্ষণের শর্তাবলী ইত্যাদি। এই চুক্তি ভিসা আবেদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৭. ভিসার জন্য আবেদন করুন

Ausbildung Contract পাওয়ার পর জার্মান দূতাবাসে National Visa (Ausbildung Visa) এর জন্য আবেদন করতে হবে।

সাধারণত প্রয়োজন হয়:

✅ পাসপোর্ট
✅ Ausbildung Contract
✅ জার্মান ভাষা সনদ (B1)
✅ CV
✅ শিক্ষাগত সনদ
✅ Motivation Letter
✅ আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (যদি প্রয়োজন হয়)
✅ স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত নথি

জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী B1 ভাষা দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের অফার থাকা আবশ্যক।

৮. জার্মানিতে আগমন বা ভিসা পাওয়ার পর:

বাসস্থান নিশ্চিত করুন

Anmeldung (ঠিকানা নিবন্ধন) করুন

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন

স্বাস্থ্য বীমা সক্রিয় করুন

Ausbildung শুরু করুন

৯. Ausbildung চলাকালীন আপনি একই সাথে বেকারিতে কাজ শিখবেন এবং Berufsschule-এ পড়াশোনা করবেন। এই পদ্ধতিকে Dual Ausbildung বলা হয়।

১০. Ausbildung শেষে সফলভাবে Ausbildung সম্পন্ন করলে:

✅ জার্মানিতে চাকরির সুযোগ✅ Skilled Worker Residence Permit পাওয়ার সুযোগ✅ দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী বসবাসের পথ উন্মুক্ত হতে পারে

বাংলাদেশ থেকে যারা Bäcker/Bäckerei Ausbildung করতে জার্মানিতে আসতে চান, তারা সরাসরি বিভিন্ন বেকারি কোম্পানির Karriere (Career) বা Ausbildung পেজে আবেদন করতে পারেন। নিচে কিছু প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেওয়া হলো যেখানে নিয়মিত Ausbildung-এর সুযোগ প্রকাশ করা হয়।

সরাসরি Bäcker Ausbildung-এর জন্য আবেদনযোগ্য প্রতিষ্ঠান

MALZERS Ausbildung Portal
জার্মানির অন্যতম বড় বেকারি চেইন। Bäcker এবং Bäckereifachverkäufer Ausbildung প্রদান করে।

Bäcker Schrader Karriere
Bäcker, Konditor এবং অন্যান্য Ausbildungsberuf-এর সুযোগ রয়েছে।

Bäckerei Wolke Ausbildung
সরাসরি Bäcker Ausbildung-এর জন্য আবেদন করা যায়।

Bäckerei Balzer Ausbildung
Bäcker Ausbildung-এর পাশাপাশি Praktikum-এর সুযোগও রয়েছে।

Ziegler's Backstube Ausbildung
Bäcker/in Ausbildung (৩ বছর) প্রদান করে।

Landbäckerei Grete Karriere
Bäckerei ও Konditorei Ausbildung-এর সুযোগ রয়েছে।

Bäckerei Neff Ausbildung
প্রতিবছর বহু Ausbildungsplatz প্রদান করে।

sander’s Backstube Ausbildung
Azubi (Auszubildende) নিয়োগের জন্য বিশেষ পোর্টাল।

Meyers Bäckerei Ausbildung
Bäcker Ausbildung সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে।

Meisterbäcker Kauderer Jobs & Ausbildung
Bäcker Ausbildung-এর জন্য সরাসরি আবেদন করা যায়।

বাংলাদেশের আবেদনকারীদের উচিত অন্তত B1 (অগ্রাধিকার B2) জার্মান ভাষা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইটে আবেদন করা। একই সাথে ২০–৩০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে Ausbildung Contract পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

জার্মানিতে দক্ষ Bäcker পেশাজীবীদের চাহিদা রয়েছে এবং Ausbildung জার্মান শ্রমবাজারে প্রবেশের একটি স্বীকৃত ও নিরাপদ পথ। জার্মানিতে Bäcker Ausbildung-এর সময় একজন প্রশিক্ষণার্থী বর্তমানে মাসে প্রায় €1,070–€1,280 (Brutto) ভাতা পেয়ে থাকেন। Ausbildung সফলভাবে সম্পন্ন করার পর একজন Bäcker সাধারণত €2,000–€2,600 Brutto মাসিক বেতন দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং উচ্চতর পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে এই আয় €3,500–€5,000 বা তারও বেশি হতে পারে। অনেক জার্মান বেকারি বর্তমানে দক্ষ কর্মী ও শিক্ষানবিশ (Azubi) খুঁজছে, ফলে ভাষাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে বাংলাদেশি তরুণদের জন্য এই খাতে ভালো সুযোগ রয়েছে।

13/05/2026

জার্মানিতে আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটি বড় হচ্ছে, যা গর্বের। কিন্তু ইদানীং কিছু প্রবণতা চোখে পড়ছে যা কেবল আমাদের জন্য বিব্রতকর নয়, বরং আইনিভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যারা যোগ্যতা ছাড়া ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স করাচ্ছেন এবং ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় এই পোস্ট।

১. শিক্ষকের যোগ্যতা (C1/C2 Standard): জার্মানিতে প্রফেশনালি জার্মান ভাষা শেখাতে গেলে সাধারণত ন্যূনতম C1 বা C2 লেভেল সার্টিফিকেট এবং অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাদান পদ্ধতির বিশেষ কোর্স থাকা প্রয়োজন। অথচ অনেকে B1 পাস করেই 'টিচার' হয়ে যাচ্ছেন। মনে রাখবেন, B1 হলো কেবল নিজের দৈনন্দিন কাজ চালানোর মতো জ্ঞান। এই অপেশাদারিত্বের কারণে শিক্ষার্থীরা ভুল ব্যাকরণ ও ভুল তথ্য শিখছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বড় হুমকি।

২. স্টুডেন্ট ভিসায় ব্যবসা ও ট্যাক্স ফাঁকি (Tax Evasion): অনেকে স্টুডেন্ট ভিসায় থেকে গোপনে ভাষা শেখানোর ব্যবসা করছেন এবং ভাবছেন যেহেতু টাকা হাতে নিচ্ছেন বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে নিচ্ছেন, তাই কেউ জানবে না। এটি একটি ভুল ধারণা।

Schwarzarbeit (অবৈধ কাজ): সঠিক লাইসেন্স ও ট্যাক্স আইডি ছাড়া বাণিজ্যিক সেবা দেওয়া জার্মানিতে দণ্ডনীয় অপরাধ। ধরা পড়লে বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি থাকে।
ট্যাক্স ফাঁকি: আপনি যদি ভাবেন আপনার ব্যবসা বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড বা পেমেন্ট অন্য দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিচ্ছেন, আপনি ভুল করছেন। জার্মানির ট্যাক্স আইন অনুযায়ী, আপনি যদি জার্মানিতে বসবাস করেন, তবে আপনার বিশ্বব্যাপী যেকোনো আয় (Worldwide Income) জার্মানিতে ট্যাক্সযোগ্য। বাংলাদেশের বিজনেস লাইসেন্স আপনাকে জার্মানির ট্যাক্স অফিস (Finanzamt) থেকে সুরক্ষা দেবে না।

৩. দেশের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ সংকট: যখন কর্তৃপক্ষের অভিযানে এমন অপেশাদার কোর্স বা ট্যাক্স ফাঁকির ঘটনা ধরা পড়ে, তখন পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর নজরদারি বাড়ে। আমাদের দেশের সুনাম রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। কেউ যদি যোগ্য না হয়ে কেবল টাকার জন্য জার্মানির আইন বা ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে 'হোমওয়ার্ক' ছাড়াই কোর্স করান, তবে এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।

যেকোনো কোর্স শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা (অন্তত C1 সার্টিফিকেট) এবং তার কাজের আইনি বৈধতা আছে কিনা তা যাচাই করে নিন। আর যারা কোর্স করাচ্ছেন, দয়া করে আগে নিজেকে সেই মানের যোগ্য করে তুলুন এবং জার্মানির আইন মেনে চলুন।

সঠিক পথে পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই, কিন্তু শর্টকাট রাস্তা আপনার এবং আপনার কমিউনিটির বিপদ ডেকে আনতে পারে।
Source: Md Shahabub Alam

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে বিদেশি কর্মীদের আরো বেশি স্বাগত জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত...
25/08/2025

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে বিদেশি কর্মীদের আরো বেশি স্বাগত জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল৷ ২১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়া সফরকালে তিনি এ কথা বলেন৷
সূত্র: ডিপিএ

বাংলাদেশে ডিপ্লোমা করে জার্মানিতে ব্যাচেলর!প্রশ্ন:ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে কি জার্মানিতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তি ...
05/05/2025

বাংলাদেশে ডিপ্লোমা করে জার্মানিতে ব্যাচেলর!
প্রশ্ন:
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে কি জার্মানিতে ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যায়?
উত্তর:
হ্যাঁ, যায়! তবে সরাসরি সাধারণ পথে নয়—একটু বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
যা করতে হবে:
আপনার ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটকে HSC সমমানের স্বীকৃতি নিতে হবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) থেকে।
বোর্ড অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে।
নির্ধারিত তারিখে গিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করবেন।
(এই সার্টিফিকেটের একটি স্যাম্পল কপি নিচে দেওয়া হয়েছে)
এক্ষেত্রে দেশে ১ বছর (২৫%) ব্যাচলর শেষ করতে হবে।
এরপর সকল একাডেমিক ডকুমেন্ট Uni Assist-এ আপলোড করুন।
Uni Assist যাচাই করে আপনাকে VPD (Vorprüfungsdokumentation) দেবে।
এই VPD দিয়েই আপনি জার্মানিতে আবেদন করতে পারবেন।
তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
বাংলাদেশি ডিপ্লোমা সরাসরি গ্রহণ করে মাত্র একটি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় –
Technische Hochschule Deggendorf
(Deggendorf Institute of Technology)
ওয়েবসাইট: https://www.th-deg.de
এই বিশ্ববিদ্যালয় BTEB ডিপ্লোমা সরাসরি গ্রহণ করে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ।
শেয়ার করুন তাদের সঙ্গে যাঁরা জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী!

31/03/2025

🌙🌙ঈদ মোবারক🌙🌙
تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ "তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম"

 #জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন? Uni-Assist আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত? আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কী কী? কী কী ...
29/03/2025

#জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন? Uni-Assist আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত? আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কী কী? কী কী ডকুমেন্ট লাগবে? জানুন বিস্তারিত! 🇩🇪

আপনাদের সুবিধার জন্য একটি সংক্ষিপ্ত গাইড। শেয়ার করে রাখতে পারেন আপনার টাইমলাইনে। আর Uni-Assist নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে জানান কমেন্টে।

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর কাছে Uni-Assist একটি পরিচিত নাম। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি অনেক সময় জটিল মনে হতে পারে। আজকের পোস্টে আমরা Uni-Assist কী, কেন প্রয়োজন, এবং এর আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

🤔 Uni-Assist কী?
Uni-Assist (Arbeits- und Servicestelle für internationale Studienbewerbungen e.V.) জার্মানির আন্তর্জাতিক ছাত্র আবেদনকারীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। প্রায় ১৮০টি জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য Uni-Assist ব্যবহার করে। সহজ কথায়, এটি আপনার বিদেশী একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলো জার্মান সিস্টেমে মূল্যায়ণ করে এবং প্রাথমিক আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়।

🤷‍♀️ কাদের Uni-Assist ব্যবহার করতে হয়?
সাধারণত, নন-ইইউ দেশের (যেমন বাংলাদেশ) শিক্ষার্থীরা যারা জার্মানিতে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করতে চান, তাদের অনেকেরই Uni-Assist এর মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।

⚠️ তবে মনে রাখবেন:
✅ সব জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় Uni-Assist ব্যবহার করে না।
✅ কিছু নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা সরাসরি PhD আবেদনের ক্ষেত্রে Uni-Assist এর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
✅ সবসময় আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভর্তির প্রক্রিয়া (Admission Process/Zulassungsverfahren) চেক করুন – সেখানেই বলা থাকবে Uni-Assist লাগবে কিনা।

📝 Uni-Assist আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:
✅ গবেষণা ও প্রস্তুতি: আপনার পছন্দের কোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজুন। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিশ্চিত হোন যে আবেদন Uni-Assist এর মাধ্যমে করতে হবে কিনা এবং আবেদনের ডেডলাইন কবে। প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত করুন।
✅ রেজিস্ট্রেশন: Uni-Assist এর অনলাইন পোর্টালে ("My assist") একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
✅ কোর্স নির্বাচন ও আবেদন: পোর্টালে লগইন করে আপনার পছন্দের কোর্স/বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করুন এবং অনলাইন আবেদন ফর্মটি সাবধানে পূরণ করুন।
✅ ডকুমেন্ট সংগ্রহ: প্রয়োজনীয় সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, মার্কশিট, ভাষার দক্ষতার প্রমাণপত্র (যেমন IELTS/TOEFL বা Goethe/TestDaF সার্টিফিকেট), পাসপোর্টের কপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন। সাধারণত মূল কপির নোটারাইজড/সার্টিফাইড কপি এবং সেগুলোর অফিসিয়াল জার্মান বা ইংরেজি অনুবাদ প্রয়োজন হয়।
✅ আবেদন ফি প্রদান: Uni-Assist এর মাধ্যমে আবেদনের জন্য একটি ফি দিতে হয়। প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফি এবং একই সেমিস্টারে পরবর্তী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা (কম) ফি প্রযোজ্য। পোর্টালেই পেমেন্ট অপশন পাওয়া যায়।
✅ ডকুমেন্ট আপলোড ও প্রেরণ: সাধারণত, সমস্ত ডকুমেন্ট স্ক্যান করে অনলাইন পোর্টালে আপলোড করতে হয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে, আবেদনের ডেডলাইনের মধ্যে সার্টিফাইড কপির হার্ডকপি ডাকযোগে Uni-Assist এর ঠিকানায় পাঠানোর প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং Uni-Assist এর ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য ভালোভাবে চেক করুন।
✅ আবেদন ট্র্যাক করা: পোর্টালে লগইন করে আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন। Uni-Assist আপনার ডকুমেন্ট এবং যোগ্যতা যাচাই করে রিপোর্টটি সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেবে।

📑 সাধারণ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভিন্ন হতে পারে):
✅ সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সনদপত্র ও মার্কশিট (SSC, HSC)।
✅ স্নাতক (Bachelor) পরীক্ষার সনদপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্ট (মাস্টার্স আবেদনের ক্ষেত্রে)।
✅ ভাষার দক্ষতার সার্টিফিকেট ( জার্মান বা ইংরেজি, কোর্সের চাহিদা অনুযায়ী)।
✅ পাসপোর্টের কপি (ব্যক্তিগত তথ্য সহ পৃষ্ঠা)।
✅ CV (Europass Format)।
✅ কিছু ক্ষেত্রে Letter of Motivation (LoM) বা Recommendation Letter (LoR)।
Uni-Assist আবেদন ফি প্রদানের প্রমাণ।

গুরুত্বপূর্ণ: সকল ডকুমেন্টের নোটারাইজড/সার্টিফাইড কপি এবং জার্মান বা ইংরেজিতে শপথ করা অনুবাদ (Sworn Translation)।

⏰ জরুরি বিষয়:
✅ ডেডলাইন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেডলাইন এবং Uni-Assist এ ডকুমেন্ট পৌঁছানোর ডেডলাইন ভিন্ন হতে পারে। অনেক আগে থেকেই প্রক্রিয়া শুরু করুন।
✅ প্রসেসিং সময়: Uni-Assist এর ডকুমেন্ট যাচাই করতে ৪-৬ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে, বিশেষ করে আবেদনের পিক সিজনে।
✅ সঠিকতা: নিশ্চিত করুন আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য এবং ডকুমেন্ট সঠিক ও সম্পূর্ণ।

🤝 আমাদের সাহায্য:
Uni-Assist প্রক্রিয়া বা জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান। আমরা সাহায্য করার জন্য এখানে আছি!

🛑 ডিসক্লেইমার: এটি একটি সাধারণ গাইডলাইন। Uni-Assist এবং আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সর্বদা সর্বশেষ এবং সবচেয়ে সঠিক তথ্যের উৎস। আবেদনের পূর্বে অবশ্যই সেই ওয়েবসাইটগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।

জার্মানিতে আসার ক্ষেত্রে বর্তমানে আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে বিশাল অংকের ব্লক এমাউন্ট। এছাড়াও রয়েছে দীর্ঘ ওয়েটিং পি...
03/03/2025

জার্মানিতে আসার ক্ষেত্রে বর্তমানে আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে বিশাল অংকের ব্লক এমাউন্ট। এছাড়াও রয়েছে দীর্ঘ ওয়েটিং পিরিয়ড। এসব দেখে অনেকে আশাহত হয়ে পড়েন, হাল ছেড়ে দেন, আবার অনেকে লেগে থাকেন দীর্ঘ সময় ধরে। কেমন হতো যদি আপনাকে ব্লক এমাউন্ট কিংবা দীর্ঘ ওয়েটিং পিরিয়ড নিয়ে ভাবতে না হতো?

আমি জার্মানিতে এসেছি গত বছরের ১লা আগস্ট। জার্মানির ওয়েটিং পিরিয়ডের জন্য আমার আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত সময় লেগেছে মাত্র ১৯ দিন। আর ব্লক এমাউন্টের কোনো প্রয়োজন হয়নি। বরং বর্তমানে আমার এবং জার্মানিতে আমার পরিবার আসলে তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে জার্মান সরকার।

আমার জার্নির কথা নিয়েই এই পোস্টে লিখবো। হয়তো আপনারও কাজে আসতে পারে।

আমার দেশের বাইরে পড়তে আসার ইচ্ছেটা অনেকদিনের। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাস করার সময় এক শিক্ষক ক্লাসে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কার কী হবার ইচ্ছে। আমি সবে ভর্তি হয়েছি প্রথম বর্ষে। প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে আমি স্রোতের বিপরীতে গিয়ে উত্তর দিয়েছিলাম, আমি গবেষণা সেক্টরে কাজ করতে চাই। মুহূর্তেই আমাকে ভীষণ তাচ্ছিল্যের মুখে পড়তে হয়। এরপর অনেকটা জেদ করেই গবেষণা কাজে যুক্ত হয়ে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে আমি ইন্টার্ন হিসেবে কাজ শুরু করি। পরবর্তীতে নানা গবেষণা প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পড়া শেষ করেও আমি ল্যাবটিতে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে দায়িত্ব পালন করি।

এভাবেই চলছিল দিনকাল। এর মধ্যেই আমি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা দলের সাথে কাজ করার সুযোগ পাই। সবকিছুই যেন আমাকে বারবার অনুপ্রাণিত করছিলো, যাতে দেশের বাইরে পড়তে যাই। আমিও আমার সাবজেক্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন সুযোগ খুঁজতে থাকি। এভাবেই আমি জার্মানির DAAD স্কলারশিপ সম্পর্কে জানতে পারি।
কিন্তু সত্যি বলতে, অন্যান্য স্কলারশিপের তুলনায় DAAD স্কলারশিপ নেভিগেট করা আমার কাছে অনেক বেশি ঝামেলার মনে হয়েছে। আজকের পোস্টে আমি কিছু লিংক ও দিকনির্দেশনা দেব, যা অনেকের জন্য পুরো জার্নিটা সহজ করে দিতে পারে। আর আমার এতটুকু আলোচনা শুনে যদি মনে হয়, শুধু গবেষণার প্রোফাইল থাকলেই এই স্কলারশিপ পাওয়া যায়, তবে এটি নিতান্তই ভুল ধারণা। সাহস করে আবেদন করে দেখুন, ক্ষতি তো কিছুই নেই! আর তাছাড়া একদম শেষে আমি এমন কিছু কথা বলবো যা DAAD স্কলারশিপ নিয়ে অনেকের মিথ ভেঙ্গে দিবে।

আপনারা যারা জার্মানি নিয়ে আগ্রহী, তারা ইতোমধ্যে DAAD সম্পর্কে জানেন। তবু সংক্ষেপে বলি, ডয়চার অ্যাকাডেমিশার আউস্টাউশডিনেস্ট (DAAD) বা জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস জার্মানির সবচেয়ে বড় শিক্ষা বিনিময় সংস্থা, যা ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় সংস্থা, যা জার্মানির ৩৬৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে।

আপনি যদি জার্মানিতে আবেদন করতে চান, তবে নিশ্চয়ই তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার পছন্দের সাবজেক্টটি খুঁজে দেখেছেন। এই সংস্থাটি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য প্রতিবছর প্রচুর স্কলারশিপ প্রদান করে, যাতে জার্মানিতে পড়াশোনা বা গবেষণা করা যায়।

তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, বাংলাদেশ থেকে স্কলারশিপপ্রাপ্তদের সংখ্যা এখনো খুবই কম। আশা করি, সামনের দিনগুলোতে এ সংখ্যা আরও অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

DAAD স্কলারশিপে কিভাবে আবেদন করবেন সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আপনাদের এর সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে কিছু বলি। আপনি যদি মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন, DAAD আপনাকে প্রতিমাসে ৯৯২ ইউরো দিয়ে থাকে। অনেকের কাছে এ সংখ্যাটি কম মনে হতে পারে, তবে DAAD কেবল এতটুকু দেয় এমন না,— DAAD আপনার ও আপনার পরিবারের ইনস্যুরেন্সের খরচও বহন করে।
আমার স্ত্রী এখনো ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য অবস্থান করছে, সে জার্মানিতে আসলেই তার জন্যও আলাদা করে DAAD স্টাইপেন্ড দিবে। যেহেতু সে শিগগিরই জার্মানিতে আসবে, আমি ইতোমধ্যে একটি ফ্যামিলি বাসা নিয়েছি। যেহেতু বাসাভাড়া আমার স্কলারশিপের ৩০ শতাংশের বেশি, DAAD ক্যালকুলেট করে আমাকে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ ইউরো বাসাভাড়ার জন্য দিচ্ছে।

মোদ্দাকথা হলো, DAAD স্কলারশিপ পেলে আপনাকে অর্থনৈতিক দিক থেকে খুব বেশি চাপ নিতে হবে না। অন্য অনেক স্কলারশিপে কাজের অনুমতি না থাকলেও, DAAD আপনাকে পার্টটাইম কাজের অনুমতি দেয়। এছাড়াও DAAD আপনাকে জার্মানিতে আসার জন্য ভাতা দেয় এবং গবেষণার জন্য প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে।

জার্মানিতে আসার পরপরই তারা আপনাকে প্রায় ৩৫০০ ইউরো মূল্যের দুই মাসের জার্মান ভাষা প্রশিক্ষণ করাবে, যাতে অন্তত A1 পর্যন্ত শেষ করতে পারেন। কারও আগে ভাষা শেখা থাকলে সে পরবর্তী স্তর থেকে শুরু করতে পারে। এছাড়া, আপনি চাইলে তৃতীয় সেমিস্টার পর্যন্ত DAAD-এর সাবসিডি নিয়ে ভালো ভাষা স্কুলে ভর্তি হয়ে ভাষা দক্ষতা আরও বাড়াতে পারবেন।

আপনার স্পাউস যাতে ভাষা শিখতে পারে, সে ব্যবস্থাও DAAD করে দেয়। DAAD স্কলারশিপের কথা বলতে গেলেই আমার এক DAAD টিউটরের একটি কথা মনে পড়ে—তার মতে, আমরা জার্মানির জন্য "সোনার হাঁসের ডিমের মতো, তাই আমাদেরকেও তারা সেভাবে বিবেচনা করে"!

যাহোক, DAAD স্কলারশিপ আপনাকে পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার জন্য উৎসাহিত করলেও বাধ্য করে না। আপনি চাইলে DAAD শেষ করে জার্মানিতে থেকে যেতে পারেন। এমনকি ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণে আপনার সেমিস্টার বাড়ানোর প্রয়োজন হলে সেটাও করা সম্ভব। নির্দিষ্ট সময় পর DAAD স্কলারশিপ না দিলেও, এতে আপনার ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা করে না।
এখন সংক্ষেপে আমার DAAD জার্নি নিয়ে বলি। আমি প্রথমেই বলেছিলাম, DAAD স্কলারশিপ নেভিগেট করা খুবই বিভ্রান্তিকর। কারণ, এটি কেবল মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের জন্য নয়—এটি ব্যাচেলর (আমাদের দেশে নয়), মাস্টার্স, পিএইচডি, গবেষক, জার্মান এবং আন্তর্জাতিক সব প্রার্থীদের জন্য ফান্ড দেয়।

এছাড়াও, ফান্ডের সময়সীমা বিভিন্ন হতে পারে—কেউ ছয় মাস, কেউ এক বছর, কেউ দুই বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য স্কলারশিপ পায়। এটি এক স্কিমের আওতায় ফান্ড দেয় না; বরং বিভিন্ন স্কিম রয়েছে। তাই ঠিক কোন স্কিমে আপনি ফান্ড পাবেন, সেটি খুঁজে বের করাটা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। অন্তত আমার জন্য তা ছিল চ্যালেঞ্জিং।

আমি প্রথমে বিষয়টি বুঝতেই অনেক সময় ব্যয় করি। এক্ষেত্রে DAAD বাংলাদেশ গ্রুপ ও মাহিন ভাই আমাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।

প্রথমত, আমি কোন সাবজেক্টে আবেদন করবো, তা নির্বাচন করি। এরপর নির্দিষ্ট আবেদন সময়ের মধ্যে ইউনিভার্সিটিতে আমার ডকুমেন্ট পাঠাই। কোনো কোনো সাবজেক্টের ক্ষেত্রে সরাসরি ডকে পাঠাতে হয়, আবার কোনো ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হয়। আমার সাবজেক্টের ক্ষেত্রে, আমি ইউনিভার্সিটির কো-অর্ডিনেটরকে ইমেইলে ডকুমেন্ট জমা দিই।

এরপর শুরু হয় অপেক্ষার পালা—আমার স্কলারশিপ জার্নির সবচেয়ে বিরক্তিকর সময়! এই সময় যেন কাটতেই চাইছিল না। এর মধ্যে একদিন দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি জার্মানি থেকে একটি কল এসেছে। ফোন ধরতেই পরিচয় দিলেন, তিনি আমার জার্মান ইউনিভার্সিটির কো-অর্ডিনেটর। যেহেতু আমি DAAD স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছি, তিনি আমার একটি ইন্টারভিউ নিতে চান। আমি ফ্রি আছি কিনা জানতে চাইলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, "হ্যাঁ, আমি ফ্রি, শুরু করতে পারেন।"

তারপর তিনি মোবাইলেই ইন্টারভিউ শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম, নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে তিনি আমার কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন না। এ সময় আমি প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম! পরে কো-অর্ডিনেটর নিজেই বললেন, "আপনার যদি অনলাইনে কথা বলার সুযোগ থাকে, তবে অনলাইনে যুক্ত হোন।"

আমি দ্রুত অনলাইনে যুক্ত হলাম, কিন্তু সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছিল না। এবার বুঝতে পারলাম, আমার ল্যাপটপের মাইক্রোফোন কাজ করছে না! এরপর মোবাইল ও ল্যাপটপ—দুই ডিভাইস থেকেই যুক্ত হয়ে ইন্টারভিউ শেষ করলাম। ভাবতে পারেন, কী পরিমাণ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম সে সময়!

তবে ভাগ্যে যা লেখা থাকে, সেটাই হয়। এক মাস পর আমাকে জানানো হলো, আমি স্কলারশিপের জন্য নমিনেটেড হয়েছি। যদিও সবার ক্ষেত্রে এভাবে সরাসরি ফোনে ইন্টারভিউ নেওয়া হয় না, অনেকের ক্ষেত্রে আগেই মেইল করে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা হয়েছিল সম্পূর্ণ আচমকা!

নমিনেশন লেটারে আমাকে জানানো হলো, আমি যদি স্কলারশিপ পেতে চাই, তবে DAAD-এর নতুন একটি ফর্ম (নীল ফর্ম) পূরণ করে ডকুমেন্ট পোর্টালে আপলোড করতে হবে। আমি দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করলাম। এরপর আরও এক মাস কেটে গেল।

যদিও নমিনেশন লেটার পাওয়া মানেই প্রায় নিশ্চিতভাবে স্কলারশিপ হয়ে যাওয়া, তবুও ভেতরে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছিল।

অবশেষে, আমি পেলাম DAAD অ্যাওয়ার্ড লেটার! এরপরের ধাপগুলো বেশ সহজ ছিল। এতদিন আমি শুধু নিজের এই জার্নি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম, এখন মনে হলো—DAAD-এর অংশ হয়ে গেছি, আমার জীবনের টেনশন আপাতত ওরাই সামলাক!

এখন আসি DAAD-এর বিভিন্ন স্কিম নিয়ে। DAAD-তে অনেক ধরনের স্কিম রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি স্কলারশিপ পেতে পারেন। এসব স্কিম সম্পর্কে জানতে চাইলে ভিজিট করুন: www.funding-guide.de.
DAAD স্কলারশিপ ডাটাবেস নিয়মিত আপডেট হয়, তাই আপনি নিজের উপযুক্ত স্কিম বা কোর্স খুঁজতে ফিল্টার অপশন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন—আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করতে চান, তবে দেশ হিসেবে Bangladesh নির্বাচন করুন। স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করলে সেটিও আলাদা করে ফিল্টার করুন।
আমাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা Development-Related Postgraduate Courses (EPOS) স্কিমের অধীনে সবচেয়ে বেশি স্কলারশিপ পেয়ে থাকেন। আমাদের সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমরা ১২ জন DAAD স্কলারশিপ নিয়ে জার্মানি এসেছি, এবং সবাই এই স্কিমের আওতায় স্কলারশিপ পেয়েছি।

EPOS-এর অধীনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অনেক সাবজেক্টের একটি লিস্ট থাকে। আপনি যদি DAAD-এর জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে প্রথম কাজ হবে এই সাবজেক্ট লিস্ট থেকে আপনার উপযুক্ত বিষয়টি খুঁজে বের করা। যদি এই লিস্টে না পান অন্যান্য স্কিমগুলো খুঁজে দেখতে পারেন।

EPOS সরাসরি খুঁজে পেতে চাইলে ভিজিট করুন: https://www2.daad.de/deutschland/stipendium/datenbank/en/21148-scholarship-database/?detail=50076777

এরপরের ধাপগুলো তো মোটামুটি আমার নিজের এক্সপেরিয়েন্স বলার সময় বলেই দিলাম।

এখন বলি আবেদন করতে চাইলে কি কি লাগবে। উপরের লিংকে গেলেই আপনি বুঝতে পারবেন, কী কী ডকুমেন্টস লাগবে। তারপরও সংক্ষেপে বলি— DAAD স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। তার মধ্যে অন্যতম হলো DAAD Green Form, যা আপনি উপরের লিংক থেকে ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করতে পারবেন। এরপর Europass Format CV, যা নিজের স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Letter of Motivation। এটি এমন কিছু নয়, যা একদিনে বসে লিখে ফেলা যায়। সময় দিতে হবে, নিজের চিন্তাগুলোকে গোছাতে হবে, যৌক্তিকভাবে সাজিয়ে লিখতে হবে। এরপর Letter of Recommendation দরকার, যেটি সাধারণত আপনি যার অধীনে কাজ করেছেন, তার কাছ থেকে নিতে হবে। আমার ক্ষেত্রে আমার ল্যাবের কো-অর্ডিনেটর এটি দিয়েছিলেন। Employment Certificate লাগবে, যেখানে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে অভিজ্ঞতা একটু কম হলেও আবেদন করতে বাধা নেই।

IELTS বা TOEFL-এর বিষয়ে যদি বলেন, তাহলে বলবো— IELTS না থাকলেও সমস্যা নেই। আমাদের সময়ে এমনও অনেকে ছিল, যারা MOI (Medium of Instruction) দিয়ে আবেদন করেছে এবং স্কলারশিপ পেয়েছে। আর একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট যদি ইংরেজি বা জার্মান ভাষায় না হয়, তাহলে সেটির অনুবাদ আবশ্যক।

এখন আসি আপনাদের সাহস দেওয়ার কথায়। অনেকে মনে করেন, সায়েন্টিফিক পেপার না থাকলে বা গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলে DAAD স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব নয়। এটি ভুল ধারণা। আমি নিজে এমন অনেককে জানি, যাদের কোনো প্রকার পেপার পাবলিকেশন ছিল না, তবুও তারা স্কলারশিপ পেয়েছেন।

আরেকটি ভুল ধারণা হলো, দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলে আবেদন করা যাবে না। যদিও দুই বছরের সময়সীমা দেওয়া থাকে, তবুও আবেদন করা যেতে পারে। কারণ, DAAD হতে হতে হয়তো দুই বছর অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়ে যাবে।

এছাড়াও অনেকে মনে করেন, অভিজ্ঞতা কাটায় কাটায় সাবজেক্টের সাথে মিলতে হবে। সত্যি বলতে, এটি বাধ্যতামূলক নয়। আমি ল্যান্ডস্কেপ ইকোলজি অ্যান্ড নেচার কনজারভেশন নিয়ে পড়তে এসেছি। আমার সাথে যারা এসেছে, তাদের কেউ ফরেস্ট্রি রিলেটেড কাজ করেছে, কেউ এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, কেউ মাইক্রোবায়োলজি, কেউবা বায়োলজির শিক্ষক ছিল। মাহিন ভাই, যিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তিনি আর্কিটেকচার ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন। আরেকজন আছেন, যিনি এগ্রিকালচারাল ব্যাংকে চাকরি করতেন, তিনিও আমার সাবজেক্টে DAAD স্কলারশিপ নিয়ে এসেছেন। আবার অনেকে ভাবেন আগের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডও একশোতে একশো মিলতে হবে। সত্যি বলতে সেটিও না। যেমন মাহিন ভাইয়া ছিলেন আর্কিটেক্ট আর আমার ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো জুওলজি। আমরা দুইজনই একই সাবজেক্টে পড়তে জার্মানি এসেছি। কারণ, অধিকাংশ সাবজেক্টই ইন্টারডিসিপ্লিনারি।

Follow বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, জার্মানি

দূতাবাসের বিবৃতি মতে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্লক অ্যামাউন্টের পরিমাণ বেড়ে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো হতে যাচ্ছে (বাংলাদেশি টাকা...
28/08/2024

দূতাবাসের বিবৃতি মতে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্লক অ্যামাউন্টের পরিমাণ বেড়ে ১১ হাজার ৯০৪ ইউরো হতে যাচ্ছে (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা)। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নির্ধারিত অ্যামাউন্ট ছিল ১১ হাজার ২০৮ ইউরো (প্রায় ১৫ লাখ টাকা)

It’s wonderful to see Prof. Younus on the public transport screen in Germany! 💕💕💕
10/08/2024

It’s wonderful to see Prof. Younus on the public transport screen in Germany! 💕💕💕

Adresse

Munich
85540

Telefon

+491701444527

Webseite

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, জার্মানি erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Die Organisation Kontaktieren

Nachricht an বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, জার্মানি senden:

Verknüpfungen

Teilen