17/04/2026
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য ব্যবহার ও সাজানো গল্প তৈরির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে হোম অফিস। BBC-এর এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু অভিবাসীকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে—নিজেকে সমকামী বা গৃহ নির্যাতনের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে দেশে থাকার সুযোগ পাওয়ার জন্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ব্যক্তিদের ভুয়া গল্প বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে নকল প্রমাণ তৈরি করতে হবে—যেমন সমর্থনমূলক চিঠি, ছবি বা মেডিক্যাল রিপোর্ট—সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে আইনজীবী বা পরামর্শদাতারা হাজার হাজার পাউন্ড নিয়ে এসব কৌশল শেখাচ্ছেন, বিশেষ করে পাকিস্তান বা বাংলাদেশে ফেরত গেলে জীবনঝুঁকি আছে—এমন দাবি তুলে আশ্রয়ের আবেদন করতে।
এছাড়া, গৃহ নির্যাতনের প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, সেটিও কিছু ক্ষেত্রে অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি কিছু ঘটনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক বা বিয়ে করে পরে মিথ্যা নির্যাতনের অভিযোগ আনার ঘটনাও সামনে এসেছে।
বর্তমানে গৃহ নির্যাতনের ভিত্তিতে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের আবেদন বছরে ৫,৫০০-এর বেশি—যা গত তিন বছরে ৫০% এরও বেশি বেড়েছে।
সরকার বলছে, আশ্রয় ব্যবস্থায় কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে এবং অপব্যবহার রোধে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, যারা ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রতারণা প্রমাণিত হলে আবেদন বাতিল করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হতে পারে। বেআইনি বা অনৈতিক কার্যকলাপের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমিগ্রেশন পরামর্শদাতাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এই ধরনের অপব্যবহার “ঘৃণ্য” এবং কিছু অসাধু ব্যক্তি পুরো খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। তারা আরও তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার করার কথা বলেছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো আশ্রয় ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে, যদিও কেউ কেউ মনে করে বর্তমান ব্যবস্থা এমনিতেই আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কঠিন এবং এই ধরনের রিপোর্ট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।