28/02/2026
গত ৭/০২/২০২৬ তারিখে New Delhi-র বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে কাশ্মীর সংক্রান্ত একাধিক পোস্টার নজরে আসে। পোস্টারগুলিতে “Free Kashmir”, “Stop Genocide in Kashmir” ইত্যাদি বার্তা লেখা ছিল। কে বা কারা এই পোস্টার সাঁটিয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। Delhi Police Special Cell ও STF পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলা থেকে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হলেন উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলাম।
জঙ্গি সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া উমর ফারুকের বাড়ি মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের অন্তর্গত অশিনটোলা গ্রামে। পরিবারের দাবি, উমর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কলকাতায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং নিয়মিতভাবে সংসারের খরচের জন্য অর্থ পাঠাতেন— কখনও পাঁচ হাজার, কখনও দশ হাজার টাকা। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের সময় তাঁর বাড়ি আসার কথা ছিল এবং গ্রেফতারের ঠিক আগের রবিবার স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়।
উমরের বাবা আক্তার হোসেন বলেন, তিনিও একসময় ভিনরাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, উমরের স্বভাব-আচরণ ছিল অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র। তাঁদের দাবি, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। গ্রেফতারের খবর তাঁরা ফোন মারফত জানতে পারেন। ঘটনার পর থেকে পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং গোটা গ্রামজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনার প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ২৮/০২/২০২৬ তারিখে Association for Protection of Civil Rights (APCR) এবং Jamaat-e-Islami Hind-এর পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধানী প্রতিনিধি দল মালদহ জেলার মানিকচকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অশিনটোলা গ্রামে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলটি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে এবং পরিবারের বক্তব্য নথিভুক্ত করে।
মিডিয়ায় উমর ফারুকের বিরুদ্ধে জাল আধার কার্ড থাকার অভিযোগ প্রচার করা হলেও, অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা তাঁর বৈধ আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট নথির অনুলিপি ও আলোকচিত্র সংগ্রহ করেন। প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উমরের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং শিক্ষাগত ও সামাজিক দিক থেকে অনুন্নত অবস্থায় বসবাস করছে।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত তদন্ত অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।