12/08/2026
রাত ১২টা ১০ মিনিটে মসজিদ-মাদ্রাসায় ফর্ম — নিমতা থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মনসুর কাকা যখন নিমতা থানার বড়বাবুকে প্রশ্ন করেন—মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য যে সার্ভে ফর্মটি নিয়ে আসা হয়েছে, সেটিতে কোনও থানার স্ট্যাম্প, কোর্টের নোটিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর নেই। তাহলে এত রাতে, প্রায় রাত ১২টা ১০ মিনিটে এই ফর্ম দিতে আসার কারণ কী?
এর জবাবে বড়বাবুর পক্ষ থেকে বলা হয়—সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনেকগুলো মসজিদে ফর্ম দিতে হয়েছে, তাই রাত ১২টা বেজে গেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এটা কি সত্যিই যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা?
সরকারি কোনও জরুরি কাজ হলে প্রশাসনের হাতে কি দিনের বেলা সেই কাজ করার সুযোগ ছিল না? বিশেষ করে মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাত ১২টা ১০ মিনিটে গিয়ে ফর্ম দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী ছিল?
তার উপর, ফর্মটিতে যদি সত্যিই কোনও থানার স্ট্যাম্প, কোর্টের নোটিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সেটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে—এটাই স্বাভাবিক। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে যদি ধমক-চমক দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের মনে আরও সন্দেহ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।
ফর্ম নিয়ে আসা দু’জন ব্যক্তি সিভিল পোশাকে ছিলেন। তাঁরা সত্যিই পুলিশকর্মী ছিলেন কি না, সেটিও সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট ছিল না। তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় থাকার অভিযোগও উঠেছে। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
এরপর হঠাৎ নিমতা থানার আইসি সাহেব এসে সাধারণ মানুষকে ধমক দেন এবং ভিডিও করা নিয়ে বলেন—
“এসব ভিডিও করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলে খবর খারাপ আছে।”
প্রশ্ন হচ্ছে—সাধারণ মানুষ কোনও সরকারি কার্যকলাপের ভিডিও করলে কেন তাদের ভয় দেখানো হবে?
প্রশাসনের কাজ যদি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক হয়, তাহলে ভিডিও বা তথ্য প্রকাশ নিয়ে আপত্তির কারণ কী?
আমরা কোনও ধরনের অশান্তি চাই না। কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন করাও আমাদের অধিকার।
কেন রাত ১২টা ১০ মিনিটে মসজিদ-মাদ্রাসায় ফর্ম?
কেন ফর্মে থাকা কর্তৃপক্ষের পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করলে ধমক?
কেন সাধারণ মানুষকে ভিডিও করা নিয়ে হুমকির মতো ভাষা ব্যবহার করা হলো?
আর কেন এমন একটি পদ্ধতিতে কাজ করা হচ্ছে, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে?
প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হোক এবং সাধারণ মানুষের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হোক।
প্রশাসন যদি উস্কানিমূলক কোনও উদ্দেশ্য না রেখেই এই কাজ করে থাকে, তাহলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো হোক। কারণ প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষের আস্থা থাকা জরুরি।
আইন সবার জন্য সমান হোক। প্রশাসন ভয়ের নয়—আস্থার জায়গা হয়ে উঠুক।