10/12/2025
#শেখ_রেয়াজুল। একটি নাম, একটি ঠেলাগাড়ি, আর দু’হাতে টগবগে গরম চিকেন প্যাটিস। এই সামান্য কয়েকটি জিনিসই তাঁর সম্পদ, তাঁর ভরসা, তাঁর সংসারের #শ্বাসপ্রশ্বাস।
যেখানে মানুষ জড়ো হয়, যেখানে হাসি-কথার শব্দ ওঠে, যেখানে ঢাকের তালে বা মাইকের আওয়াজে চারদিক ভরে ওঠে—সেইসব জায়গায় রেয়াজুল ছুটে যান। কার খেলা হচ্ছে, কোন দলের পতাকা উড়ছে, কোন ধর্মের গান বাজছে—এসব তাঁর জীবনের সীমানার বাইরে। তাঁর কাছে সবচেয়ে সত্যি যে শব্দটি, তা হলো পেটের ডাক। সে ডাক চাপা দিলে সংসার থেমে যায়।
কুড়ি বছর ধরে তিনি জানেন একটাই বাস্তবতা—মানুষের ভিড় মানেই কারো না কারো ক্ষুধা। সে ক্ষুধা কখনো উৎসবের, কখনো মিছিলে হাঁটার ক্লান্তির, কখনো শীতের কুয়াশায় জমে যাওয়া হাত গরম করার। আর সেই ক্ষুধা মেটাতে গিয়ে তিনি নিজের পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
ময়দানের সেই বিস্তীর্ণ সবুজে শীতের দিনে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে; সেখানে যে ফেরিওয়ালা মুড়ি-মশলা বা চা-কফি বেচছে, তাকে কখনো কেউ জিজ্ঞেস করেনি সে হিন্দু না মুসলমান। সেই জমিনে মানুষ মানুষকেই দেখে—তার ধর্মকে নয়। কারণ বাঙালির মানসপটে ধর্ম কখনো এত হালকা ছিল না যে তুচ্ছ বাতাসেই ভেঙে যাবে।
রেয়াজুল ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে আসেননি। তিনি গীতাপাঠ অপবিত্র করতে যাননি। তিনি শুধু বুঝেছিলেন—সেই দিনে লোকজন আছে, পেট আছে, ক্ষুধা আছে। আর তাঁরও ঘরে মা-বাবার ও বউ-বাচ্চার ক্ষুধা আছে।
তাঁর দোষ বলতে শুধু এটুকুই—দল-মত-ধর্মের রঙ না দেখে, শুধু মানুষের ভিড় দেখে বেরিয়ে পড়েছিলেন। আর যাদের জীবনে ক্ষুধাই সবচেয়ে বড় শিক্ষক, তারা কখনো মানুষকে আলাদা করে দেখে না। তাদের কাছে ভরপেট খাবারই একমাত্র পবিত্রতা।
শেখ রেয়াজুল যদি আজ ভুলের আসামি হন, তাহলে তাঁর জায়গায় রাম, শ্যাম, যদু বা মধু যেই থাকতেন, সেই একই পথ বেছে নিতেন। কারণ ক্ষুধা কখনো ধর্ম জিজ্ঞেস করে না।
মানুষ শুধু মানুষই থাকে—ভিড়ের ভেতরে, ঠেলাগাড়ির পাশে, গরম প্যাটিসের গন্ধে। আর সেই মানবতার ছোট উনুনটাই রেয়াজুলের রোজকার লড়াইকে উষ্ণ করে রাখে।