Shibdas Ghosh Quotes

Call Website Contact the organization

Shibdas Ghosh Quotes Shibdas Ghosh Was An Indian Freedom Fighter, Politician And Eminent Marxist Philosopher. He Was Involved In The Communist Movement In India For Several Decades.

He Was Also The Founder, General Secretary Of Socialist Unity Centre Of India (Communist).

৫ই আগষ্ট এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক ও দার্শনিক এস ইউ সি আই দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তম শি...
25/07/2026

৫ই আগষ্ট এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক ও দার্শনিক এস ইউ সি আই দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তম শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষ স্মরণে তাঁর ঐতিহাসিক মূল্যবান শিক্ষার নির্বাচিত কিছু অংশ নিম্নে দেওয়া হল।
------------+-------------------@----------------------------------------

" সমাজে শ্রমিক চাষি শোষিত মানুষের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিপ্লব বার বার গমকে গমকে আসতে চাইবে, গমকে গমকে ফেটে পড়তে চাইবে। সমাজ অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব ফুলে ফুলে বার বার বলতে চাইবে-এ অবস্থার আমূল পরিবর্তন চাই, মানুষের মগজের কাছে, মানুষের কাছে আবেদন করতে চাইবে- বিপ্লব আমি চাই। কিন্তু বিপ্লব ততদিন হবে না, বার বার সে ফিরে যাবে, বিপথগামী হয়ে ফিরে যাবে, বার বার তার দ্বারা প্রতিক্রিয়া লাভবান হবে- বিপ্লব হবে না, যতদিন না বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবার উপযুক্ত শক্তি নিয়ে বিপ্লবী পার্টির আবির্ভাব হবে।....... সেই বিপ্লবের জন্য চাই বিপ্লবের নেতৃত্বকারী সংগঠন-বিপ্লবী দল। ................প্রত্যেকটি কর্মী যাঁরা এখানে উপস্থিত আছেন, তাঁদের আপন উদ্যোগ ও বুদ্ধি অনুযায়ী-পারুন বা না পারুন-সফলতা হোক, বিফলতা হোক-কর্মবিমুখ না হয়ে কাজ করে যেতে হবে........ তার জন্য হয় ক্লাব, না হয় কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের সংগঠন, না হয় বস্তি কল্যাণ সমিতি, না হয় সাহিত্য সভা, না হয় কাব্য সভা, না হয় ডনখানা, না হয় শ্রমিক সংগঠন, অথবা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না হয় মজুরদের রাজনৈতিক ক্লাস গ্রহন করা-যেভাবেই হোক আপনারা মানুষের সঙ্গে মিশছেন,মানুষকে আপনাদের আশেপাশে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের ভ্রান্ত রাজনীতি থেকে মুক্ত ও বিচ্ছিন্ন করে দলের রাজনীতিতে আনবার চেষ্টা করছেন-এই কাজটি আপনাদের করতে হবে, পুরোপুরি উদ্যোগ নিয়ে, যার যার ক্ষেত্রে আপন কর্মক্ষমতা অনুযায়ী। এই কাজ করার সময় তা আপনারা ঠিকমতো পারছেন কি না-সে সব প্রশ্ন তুলছেন না, বা হচ্ছে না মনে করে বসে যাচ্ছেন না....... এইভাবে আপনাদের মানসিক গঠন এবং চিন্তাধারাকে গড়ে তুলতে হবে।"
ভারতবর্ষের সমাজ মুক্তি যন্ত্রনায় ছটফট করছে। ...আর বিপ্লবের বাস্তব অবস্থার সমস্ত জমি, ইনগ্র্যাডিয়েন্ট, গোলাবারুদ সব তৈরি। মানুষ পরিবর্তন চাইছে। পুরোনো সমাজের মিলিটারির তাগদের উপর নির্ভর করা ছাড়া শাসকগোষ্ঠীর নির্ভর করার মতো আজ আর কিছু নেই। আর তারা নির্ভর করছে মানুষের অজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তির ওপর-কিন্ত এটা খুব বড় কথা নয়। বাস্তব অবস্থার চাপ মানুষের ওপর এত পড়ছে যে, সেই অবস্থার চাপের জন্য বিভ্রান্তির যুক্তি,-ধর্মের মোহ-এই সব কোন কিছুই মানুষকে আটকে রাখতে পারবে না। বিপ্লবের জোয়ার যদি শুরু হয়, কোন যুক্তি দিয়েই মানুষকে আটকে রাখা যাবে না। তখন বিপ্লবের বিরুদ্ধে একটি মাত্র অস্ত্রই বুর্জোয়াশ্রেণীর হাতে থাকবে-সেটা হচ্ছে মিলিটারি, পুলিশ, গোলাবারুদ। কিন্তু একটা দেশ, একটা জাতি কোমর সিধে করে একটা বিপ্লবী নেতৃত্বের অধীনে সঠিক বিপ্লবী লাইনের ভিত্তিতে লড়াই শুরু করে দিলে, তখন কি আর গোলাবারুদ দিয়ে তাকে আটকানো যায় নাকি? ইতিহাসে কোনদিন কেউ পেরেছে কি?....যাঁরা মনে করেন যে, বোমা দিয়ে গোটা দেশের মানুষকেই মেরে ফেলা যায়, তাঁরা জানেন না যে-তা পারা যায় না। এত সোজা না। যাঁরা 'হিউম্যানিটি'কে বোঝেন, তাঁরা এটা জানেন। এই মানসিকতাগুলোকে ঠিক রাখার জন্যই ইতিহাস পড়তে হয়। এটা জানলেই বোঝা যাবে যে, হিউম্যানিটির ক্ষতি হয়তো অনেক করে দেওয়া যায়, এমনকী প্রবল একটা বিরুদ্ধ শক্তি সৃষ্টি করে তার পরিবর্তনের গতিবেগটাও হয়তো সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য আটকে দেওয়া যায়-কিন্তু একটা অমানবিক শক্তি এসে হিউম্যানিটিকে ধ্বংস করে ফেলবে-এ কখনোই সম্ভব নয়। তাহলে মানবসমাজ বেঁচে থাকতেই পারত না। এই মনোবলের ওপরেই বিপ্লবের ' এথিকস'-তার মনোবল এবং দৃঢ়চিত্ততা নির্ভর করছে। "
শিবদাস ঘোষ।।

(সুত্র-শিবদাস ঘোষের ভাষন " সুবোধ ব্যানার্জি স্মরণে", ছাত্র ও যুব সমাজের কর্তব্য" পুস্তকাবলির অংশবিশেষ)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/পুরুলিয়া/পশ্চিমবঙ্গ/ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

" ...মনে রাখতে হবে, কমিউনিস্ট পার্টি একটি বুর্জোয়া বা পেটিবুর্জোয়া পার্টির মত নিছক কতগুলি ব্যক্তি বা গ্রুপের সমষ্টি নয়। ...
21/07/2026

" ...মনে রাখতে হবে, কমিউনিস্ট পার্টি একটি বুর্জোয়া বা পেটিবুর্জোয়া পার্টির মত নিছক কতগুলি ব্যক্তি বা গ্রুপের সমষ্টি নয়। লেনিন একটি কমিউনিস্ট পার্টিকে জীবন্ত দেহের (living organism) সাথে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, কমিউনিস্ট পার্টি একটা 'মেকানিক্যাল হোল' না, এটা একটা 'অরগ্যানিক হোল' (প্রাণহীন যন্ত্র নয়, একটি জীবন্ত সত্তা) ঠিক যেমন মানবদেহ-- ‌এটা একটা 'মনোলিথিক অরগ্যানিজম', এর একটা স্নায়ু কেন্দ্র বা মস্তিষ্ক ( centre of nerves of brain) আছে। জীবন্ত দেহের এটাই হল কেন্দ্রবিন্দু বা পরিচালিকা শক্তি। এই মস্তিষ্ক‌ই সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিকে পরিচালনা করে। আবার, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং ইন্দ্রিয়গুলিও (sense organ) তাদের ক্রিয়াকলাপের দ্বারা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপকে প্রভাবিত করছে। মস্তিষ্কের সাথে ইন্দ্রিয় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির এই সম্পর্কটি দ্বন্দ্বমূলক সম্পর্কের নীতি অনুযায়ী পরিচালিত। একটি কমিউনিস্ট পার্টির গঠন‌ও এইরকম। একটি সত্যিকারের কমিউনিস্ট পার্টিতে নেতার সাথে র্্যাঙ্ক এন্ড ফাইলের সম্পর্ক, কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে সেল থেকে শুরু করে পার্টির অন্যান্য বডিগুলির সম্পর্ক হল মস্তিষ্কের সাথে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং ইন্দ্রিয়গুলির সম্পর্কের মতো। আবার নিচু থেকে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত এই সকল পার্টিবডিগুলিও আলাদা আলাদাভাবে কতগুলো কর্মী বা নেতার সমাবেশ মাত্র নয়। প্রত্যেকের‌ই নিজস্ব নিজস্ব ক্ষেত্রে 'সেন্টার অফ অ্যাট্র্রাকশন' বা নেতা আছে।
এই সমস্ত পার্টি বডিগুলি এবং সমস্ত কর্মী ও নেতার সম্মিলিত সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যে যৌথজ্ঞান গড়ে ওঠে.. সেই যৌথজ্ঞানের ধারণা যেহেতু বিমূর্ত নয়, সেহেতু পার্টির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব, অর্থাৎ কেন্দ্রীয় কমিটির যে নেতার মধ্য দিয়ে এই যৌথজ্ঞানের প্রকাশ সর্বশ্রেষ্ঠ রূপ নেয়-- তিনি হচ্ছেন দলের চিন্তানায়ক, নেতা, শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক। এই নেতা বিভিন্ন নেতার মধ্যে চুক্তির দ্বারা, বা তাদের মধ্যে আপসের রূপে বা জোড়াতালি দিয়ে ঠিক হয় না। এই নেতা পার্টির অভ্যন্তরে যৌথ ও সচেতন সংগ্রাম, অর্থাৎ যৌথ নেতৃত্বের বাস্তবীকৃত ও বিশেষীকৃত ধারণা গড়ে তোলার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়। মনে রাখতে হবে, কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে 'লিডারশিপ'-‌এর এই 'ফেনোমেনন',
'প্যারালাল (সমান্তরাল) লীডারস'-এর ফেনোমেনন নয়, এটা 'লিডার অব দি লিডারস'-‌এর (নেতাদের মধ্যে নেতার) ফেনোমেনন। লেনিনের জীবদ্দশায় সি পি এস ইউ-তে লেনিন ছিলেন সকল নেতাদের নেতা তিনিই ছিলেন দলের চিন্তানায়ক, নেতা, শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক। লেনিন যখন অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী, স্ট্যালিন পার্টির সাধারণ সম্পাদক, তখন‌ও লেনিন ছিলেন দলের নেতা ও শিক্ষক। এটা স্ট্যালিন‌ও মনেপ্রাণে স্বীকার করতেন। চীনের পার্টিতেও মাও-সে-তুঙ‌ই দলের চিন্তানায়ক বা নেতা। একেই বলা হয় যৌথ নেতৃত্বের যথার্থ রূপ, অর্থাৎ যৌথ নেতৃত্বের বিশেষীকৃত রূপ।"

শিবদাস ঘোষ।

(তথ্যসূত্র-' কেন ভারতবর্ষের মাটিতে এস ইউ সি আই একমাত্র সাম্যবাদী দল।'-শিবদাস ঘোষ, পুস্তকে উল্লিখিত ভাষণের অংশবিশেষ, ও শিবদাস ঘোষ নির্বাচিত রচনাবলী ২য় খন্ডের অন্তর্ভূক্ত।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া/পশ্চিমবঙ্গ/ভারতবর্ষ,কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

" আমি দেশের বিপ্লবী কর্মীদের, মজুরদের, যাঁরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ শিখতে চান, তাঁদের কাছে বলব,এই বিপ্লবী তত্ব তাদের কাছ থেক...
20/07/2026

" আমি দেশের বিপ্লবী কর্মীদের, মজুরদের, যাঁরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ শিখতে চান, তাঁদের কাছে বলব,এই বিপ্লবী তত্ব তাদের কাছ থেকেই শিখতে হবে, যারা মার্কসবাদ-লেনিনবাদের নীতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত জীবনকে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে, সংগ্রাম চালাচ্ছে এবং সফল হয়েছে। যারা ব্যক্তিগত জীবনে আচার, রুচি, অভ্যাসে আজ‌ও বুর্জোয়া সংস্কৃতির শিকার, তাদের কাছ থেকে আপনারা মার্কসবাদ লেনিনবাদ শিখবেন না। কারন, তারা মার্কসবাদের নামে যা শেখায়, বিপ্লবের নামে যা শেখায়, তা আসলে ভুল শেখায়। রাজনৈতিক বুকনির বাইরে ব্যক্তিগত আচরনের ক্ষেত্রে যা ইচ্ছে যারা করে বেড়ায়, সংস্কৃতিগত ক্ষেত্রে যেমন নেতার, যেমন কর্মীর যা ইচ্ছে যাদের ব্যখ্যা থাকে, তেমন করে একটি পেটিবুর্জোয়া পার্টির চলতে পারে, মার্কসবাদী পার্টির এভাবে চলার রীতিও না এবং চলতে পারেও না এবং যে পার্টি মার্সবাদের নামে এরকম আচরণ করে, বুঝতে হবে সে পার্টি আসলে মার্কসবাদের তকমা এঁটে একটি পেটিবুর্জোয়া পার্টি। তারা বিপ্লবের নামে যে সংগ্রাম করে তা বিপ্লব নয় এবং বিপ্লবের নামে যা বলে তা শুধু বুকনি মাত্র, তার মধ্যে বিপ্লবী তত্বের প্রাণ নেই, বিপ্লব নেই। কাজেই তাদের কাছ থেকে মার্কসবাদ শিখতে গেলে তা মার্কসবাদের নামে আসলে অন্য জিনিস শেখা হয়। আর এর‌ই ফলে 'মার্কসবাদ' 'মার্কসবাদ' বলে যে জিনিসের চর্চা এদেশে চলেছে, তাতে বিপ্লবী মার্কসবাদের চর্চা হয়নি, সাম্যবাদের সত্যিকারের তত্ব,সংস্কৃতি এবং আদর্শের ভিত্তিতে বিপ্লবী রাজনীতির চর্চা হয়নি এবং এইসব তথাকথিত মার্কবাদীদের কার্য্যকলাপ ও আচরণের জন্যই মার্কসবাদের মতো, কমিউনিজমের মতো একটা অমন উচ্চ মহান আদর্শের মর্য্যাদাও জনসাধারণের চোখে আজ অনেকখানি হেয় হয়ে পড়েছে। তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ যদি শিখতেই হয়, বিপ্লবী তত্ব যদি আয়ত্ব করতেই হয়, তাহলে তেমন নেতা এবং দলের কাছ থেকেই শিখবেন যাদের কর্মী ও নেতাদের জীবনটাও বিপ্লবীর মত। যাদের বুকনিটা শুধু বিপ্লবের, কিন্তু জীবনটা পেটিবুর্জোয়ার বা বুর্জোয়ার মতো, যারা ক্লাশ নেয় বিপ্লবের, অথচ যাদের আচরণ, রুচি এবং সামাজিক সম্পর্কের ধরনগুলো বুর্জোয়া বা পেটিবুর্জোয়া সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত, ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যাপারে আচরণের ক্ষেত্রে যাদের মার্কসবাদী দর্শনগত চিন্তার সাথে কোন সামঞ্জস্য নেই এবং সেই অনুযায়ী পরিচালিত নয়, অন্তত তেমনভাবে পরিচালনা করার জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যারা সংগ্রাম চালাতে চাইছে না, তেমন বুকনিসর্বস্ব বিপ্লবীদের কাছ থেকে আমার অনুরোধ আপনারা অন্তত বিপ্লবের তত্ব এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদ শিখবেন না। এই ধরনের নেতাদের থেকে আপনারা যত দুরে থাকেন, তাদের গরম গরম বিপ্লবের বুলি থেকে আপনারা যত দুরে থাকেন, তত সত্যিকারের বিপ্লবী আন্দোলনের পক্ষে মঙ্গল এবং আপনাদের পক্ষেও মঙ্গল।"

শিবদাস ঘোষ।

(সুত্র-'কেন ভারতবর্ষের মাটিতে এস ইউ সি আই একমাত্র সাম্যবাদী দল' পুস্তকে শিবদাস ঘোষের ভাষনের অংশবিশেষ।।)।।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কসবাদী দার্শনিক ও চিন্তানায়ক সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের সেদিনের আহ্বান আর আজকের ব...
04/07/2026

এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কসবাদী দার্শনিক ও চিন্তানায়ক সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের সেদিনের আহ্বান আর আজকের বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে আসুন সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে ব্রতী হ‌ই।।
-----------------------------------@------------------------------------

" কমরেডস, একথা অস্বীকার করার কোন উপায়‌ই নেই যে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদকে উচ্ছেদ করার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। বলতে গেলে, আমরা আজ সর্বহারা বিশ্ববিপ্লবের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি। যে সুযোগ আজ আমাদের সামনে এসেছে তাকে গ্রহন করা, সর্বহারা বিশ্ববিপ্লবের স্বার্থে তাকে সর্বশক্তি দিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো-বর্তমান মূহুর্তে এইটেই জরুরী প্রয়োজন। কিন্তু এটা অত্যন্ত দুঃখের কথা, পরিস্থিতি যখন এত অনুকুল তখন আমরা কমিউনিস্টরা নিজেদের চেতনাকে আর‌ও উন্নত করার পরিবর্তে আদর্শগত বিভ্রান্তির গোলক ধাঁধায় হাতড়ে বেড়াচ্ছি, আমাদের ঐক্যকে আর‌ও সংহত করে যখন বিশ্বসাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার কথা, তখন সেই ঐক্যকেই আমরা দুর্বল করে ফেলছি, পুঁজিবাদী দেশগুলিতে যে কমিউনিস্ট পার্টিগুলি রয়েছে, তাদের পার্লামেন্টারী মোহ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করার বদলে এমনভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছি যাতে পার্লামেন্টারী মোহ আর‌ও বেশি করে গ্রাস করে, আমরা কমিউনিস্টরা এমন আচরণ করছি যাতে পুঁজিবাদী দেশগুলির কমিউনিস্ট পার্টিগুলি ধীরে ধীরে নিছক পার্লামেন্টারী পার্টিতে পর্যবসিত হয়। যত দ্রুত এই পরিস্থিতিকে কাটিয়ে ওঠা যায় তত‌ই ভালো। আসুন, এই মহান কর্তব্যপালনে সর্বতোভাবে আমরা নিজেদের নিয়োজিত করি।"

শিবদাস ঘোষ।

(তথ্যসূত্র-'সোভিয়েট কমিউনিস্ট পার্টির স্ট্যালিনবিরোধী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে'-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তকের অংশবিশেষ।)।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া/পশ্চিমবঙ্গ/ভারতবর্ষ,কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)।

“বিপ্লবী আন্দোলনই শুধুমাত্র স্লোগান দিয়ে তৈরি হয় না। সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সঠিক বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইন, সঠ...
25/06/2026

“বিপ্লবী আন্দোলনই শুধুমাত্র স্লোগান দিয়ে তৈরি হয় না। সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সঠিক বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইন, সঠিক বিপ্লবী নেতৃত্ব এবং বিপ্লবের পরিপূরক উন্নত নৈতিক বল ও উচ্চ সংস্কৃতিগত মান গড়ে তোলা দরকার। তা না হলে, দুঃখ-দুর্দশাকে কেন্দ্র করে মানুষকে খেপানো যায়, যে মানুষগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে আছে, দুদিনের জন্য তাদের ময়দানে নামিয়ে দেওয়া যায়, লাঠি-গুলি খেয়ে কিছু লোক প্রাণ দিতে পারে—কিন্তু তার দ্বারা বিপ্লব হয় না।
গুজরাটে হয়নি। বিহারে হয়নি। তার আগেও পশ্চিমবাংলা সহ ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় বহুবার লক্ষ লক্ষ লোক ময়দানে নেমেছে। এই কলকাতার উপরেই বহু লাঠি-গুলি চলেছে, ট্যাঙ্ক নেমেছে! রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড করে লড়াই হয়েছে। সবই হয়তো আপনাদের মনে আছে। কিন্তু পুঁজিবাদের গায়ে আঁচড়টি লাগানো যায়নি, উপরন্তু পুঁজিবাদ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিপ্লব এক পাও এগোয়নি। কারন, বিপ্লব একটা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জিনিস। বিপ্লব হচ্ছে-বর্তমান সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক কাঠামো ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য বিপ্লবী রাজনৈতিক লাইনের ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেনী ও জনগণের সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র অভ্যুত্থান। তার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে উন্নত নৈতিক মান এবং উচ্চ সংস্কৃতিগত চেতনার মধ্যে। অথচ এদেশে যাঁরা বিপ্লবী বলে নিজেদের দাবি করে থাকেন, তারা কেবলমাত্র লড়াই এবং আন্দোলনের কথা বলেন এবং কিছু কিছু স্লোগান তুলে মানুষ খেপান। বর্তমান কালের যুবজীবনে এবং জনজীবনে এত বড় সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের ধারাকে রোখবার জন্য নিজেদের কর্মী ও নেতাদের জীবনকে কেন্দ্র করে একটা আন্দোলন সৃষ্টি করার কোনো চেষ্টা তারা করছেন না। অথচ এই সাংস্কৃতিক অবক্ষয়কে যদি রোখা না যায় এবং বিপ্লবের উপযুক্ত মানসিকতা ও নৈতিক বল সমাজে তৈরি করা না যায়, তাহলে শুধু স্লোগান দিয়ে বা মানুষের অভাববোধকে উত্তেজিত করে বিপ্লব হবে না। কিন্তু তারা তা করছেন না। ...যদি মানুষকে সংগঠিত করে, খানিকটা উত্তেজিত করে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিতে পারা যায়—তাহলে লড়ালড়ির ফলাফল যাই হোক না কেন—এর মধ্যে দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের একটা বিরূপ মনোভাব গড়ে উঠলেই তারা খুশি। কারণ, সামনের নির্বাচন পর্যন্ত যদি সেই মনোভাবকে তারা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে তারা নিজেরাই সরকারের গদিতে যেতে পারবেন। এইটাই তাঁদের সমস্ত আন্দোলন পরিচালনার পিছনে মূল লক্ষ্য”।

শিবদাস ঘোষ।।



(১৯৭৪ সালের ২৯শে ও ৩০ শে জুন এআইডিওয়াই ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সারা বাংলা যুব কনভেনশনের প্রকাশ্য অধিবেশনে কমরেড শিবদাস ঘোষের বক্তৃতার অংশ বিশেষ।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী, আনারা, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

" আমি মনে করি, নিছক আত্মতৃপ্তির জন্য জ্ঞানচর্চা ও উদ্দেশ্য‌হীন শিক্ষালাভের কোন মানে নেই, একমাত্র প্রতিক্রিয়ার হাতকে শক্...
24/06/2026

" আমি মনে করি, নিছক আত্মতৃপ্তির জন্য জ্ঞানচর্চা ও উদ্দেশ্য‌হীন শিক্ষালাভের কোন মানে নেই, একমাত্র প্রতিক্রিয়ার হাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া। জনস্বার্থ ও প্রগতির অর্থে শিক্ষার একটি মাত্র‌ই মানে--জীবনে তার প্রয়োগ। জীবনকে তা ঠিকভাবে প্রভাবিত করবে। সমাজের অভ্যন্তরে যে বিভিন্ন শ্রেণীগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছে সেই লড়াইয়ের চরিত্র নির্ণয় করতে শেখাবে। তার ফলে দেশের গোটা আন্দোলন এবং সমস্যাগুলোর সাথে আমাকে জড়িত করতে--কিভাবে আমি জড়িত করতে পারি নিজেকে, কিভাবে এবং কোন শ্রেণীর আন্দোলনের আমি অগ্রগামী অংশ হতে পারি--তা শেখাবে। কারণ, আমি সামাজিক মানুষ আমি সমাজের‌ই একজন। সমাজ পচে গেলে ক্ষয়ে গেলে গোটা মানবসমাজের ক্ষতি, সাথে সাথে আমার‌ও ক্ষতি। ফলে সমাজে সমস্যা কী, সমাজ কেন অধোগতির দিকে নেমে যাচ্ছে--সে সব নিয়ে যদি যুবকরা মাথা না ঘামান, এ ব্যাপারে যদি তাদের কোন দায়িত্ববোধ না থাকে--তাদের কাজ যদি হয় সমাজ অভ্যন্তরের শ্রেণীসংগ্রামগুলো এবং সমস্ত রকমের সামাজিক আন্দোলনের সাথে সম্পর্কচ্যুত শুধু বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা, তাহলে আমি বলব, তা জ্ঞানতত্ত্বের বা জ্ঞানসাধনার নামে ভাঁড়ামি। প্রতিক্রিয়াশীলরা বা সমাজের পরগাছা সম্প্রদায় বিশুদ্ধ জ্ঞানচর্চা বলে একে যত তারিফ‌ই করুক না কেন, আসলে তা জ্ঞানচর্চা নয়। শুনতে ভালো এমন অনেক বড় বড় কথা এর পেছনে থাকতে পারে, অনেক চটকদার আলোচনা তাঁরা করতে পারেন--কিন্তু যাঁরা গন‌আন্দোলন ও জনজীবনকে প্রভাবিত করেন না এবং আন্দোলনগুলোর সামনে আসেন না, সামাজিক সমস্যা যাদের মনে যন্ত্রণার সৃষ্টি করে না, সমাজপ্রগতির ভাবনা যাদের আহার-নিদ্রা কেড়ে নেয় না, তেমন সংস্কৃতিবানদের কাছ থেকে আপনারা দুরে থাকবেন। এ আমার একটা অনুরোধ আপনাদের কাছে। আমরা তাই একথাটা যেন সবসময় মনে রাখি যে, সংগঠন, যুব আন্দোলন, যুবকদের সাংস্কৃতিক আন্দোলন--‌এসব কথার কোন মানে নেই যদি যুবকরা গোটা দেশের মূল সমস্যা কী, আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের করণীয় কাজ কী--এটা সঠিকভাবে নির্ধারিত করতে না পারেন। কারণ, তা না হলে জ্ঞান চর্চা, সংস্কৃতি চর্চা--‌এসব‌ই একটা শখ, বিলাসিতা, অযথা সময় নষ্ট এবং লোকঠকানো ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।"

শিবদাস ঘোষ।

(তথ্যসূত্র-'যুব সমাজের প্রতি'-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তকের নির্বাচিত অংশ, যা ১৯৬৭ সালে ডি ওয়াই ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রথম বার্ষিক সম্মেলনের প্রকাশ্য অধিবেশনে কমরেড শিবদাস ঘোষের ভাষন।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ /ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

(পূর্ব প্রকাশিতর পরবর্তী অংশ।) "........পুঁজিবাদের আয়ু যত বাড়ছে, তত ব্যক্তিবাদ নোংরা রূপ নিচ্ছে। আর‌ও বিশ তিরিশ বছর বাদে...
21/06/2026

(পূর্ব প্রকাশিতর পরবর্তী অংশ।)

"........পুঁজিবাদের আয়ু যত বাড়ছে, তত ব্যক্তিবাদ নোংরা রূপ নিচ্ছে। আর‌ও বিশ তিরিশ বছর বাদে একটা পুঁজিবাদী দেশে একটা কমিউনিস্ট পার্টি ব্যক্তিবাদকে আর‌ও যে রকম নোংরাভাবে প্রকাশিত হতে দেখবে, আজ তাও দেখছে না। এই দিকটা লক্ষ রেখেই একটা কমিউনিস্ট পার্টিকে তার সাংগঠনিক সমস্যার কথা ভাবতে হবে। কিভাবে এই সমস্যার সে সমাধান করবে, তা ভাবতে হবে। একাজ করতে গেলে লেনিনবাদের শিক্ষা থেকে এবং সেই শিক্ষাকে কিছুটা পরিবর্ধিত করে, তার প্রকৃত তাৎপর্য্য ঠিক বুঝে নিজের দেশে সেগুলো প্রয়োগ করতে পারা চাই। একাজ লেনিনের ব‌ই বা বাণীগুলো মুখস্থ করে হবে না। ওভাবে যাঁরা লেনিনবাদকে বোঝেন, তাঁরা মনে করতে পারেন, লেনিন তো এভাবে বলে যাননি, আর তা যখন বলে যাননি, তখন আমাদের এভাবে বোঝার দরকার নেই। মনে করতে পারেন, এভাবে না বুঝে যদি লেনিনের পার্টি বিপ্লব করতে পেরে থাকে তবে ভারতবর্ষে কেন বিপ্লব হতে পারবে না ? এরকম করে বিপ্লব বুঝলে, যেভাবে সি পি আই, সি পি আই (এম) নষ্ট হয়েছে আমাদের‌ও তাই হবে। আমার এ কথার মানে আবার এরকম নয় যে, এ সম্পর্কে আমাদের কনসেপশন বা তত্ত্বটা ঠিক হ‌ওয়া নিয়েই কথা। অর্থাৎ ওটা যখন সঠিক আছে, তখন আর আমাদের মধ্যে বেঠিক কিছু নেই, আমাদের মধ্যে দোষ নেই, ভুল নেই, আমরা যা করছি সব‌ই ঠিক। আমি মনে করি, এগুলো সব‌ই আমাদের মধ্যে খুব‌ই আছে। কিন্তু, আবার এগুলো আছে বলেই, ঐ তত্ব বা কনসেপশনটা ভুল হয়ে যায় না, এবং এইসব দোষত্রুটি দেখিয়ে ঐ তত্বটার বিরুদ্ধে লড়াই করার মানে হয় না। এই দোষগুলো দুর করবার রীতিও ওটা নয়। তার রীতিটা হল, ঐ তত্বকে ঠিক ঠিকভাবে বুঝতে ও বোঝাতে সক্ষম হ‌ওয়া। তবেই আমরা দোষত্রুটি, ভুলের বিরুদ্ধে সঠিক পথে সংগ্রাম করতে পারব। তাহলে বুঝতে পারছেন যে, ভারতের মাটিতে একটা সত্যিকারের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পার্টি গঠন করতে পারার কাজটা শুধুমাত্র এদেশের বিপ্লবের স্তরটি সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারার উপর নির্ভর করে নেই। নাহলে, লেনিনীয় পার্টি গঠনের জন্য ব‌ইয়ে কী কী নীতি ও সাংবিধানিক রীতি অনুসরণ করার কথা বলা আছে, সেসব তো আমাদের দেশের নামডাক‌ওয়ালা তথাকথিত মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পার্টিগুলোর নেতারা ভালোই জানতেন। কিন্তু তার দ্বারা কি ঐসব পার্টিগুলো সঠিক কমিউনিস্ট পার্টি হিসাবে গড়ে উঠতে পেরেছে? বরং নেতারা সব নিকৃষ্ট ব্যক্তিবাদের এক-‌একজন প্রতিমূর্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এসব জিনিষ শুধু বাইরের আচার আচরণ দিয়ে বোঝা যাবে না।"
শিবদাস ঘোষ।


(তথ্যসূত্র-'বৈজ্ঞানিক দ্বন্দ্বমূলক বিচারপদ্ধতিই মার্কসবাদী বিজ্ঞান।'-শিবদাস ঘোষ।। শিবদাস ঘোষ রচনাবলী ৪র্থ খন্ডের অন্তর্গত।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

" ভারতবর্ষে দিন যত এগোচ্ছে, ভারতীয় বুর্জোয়া সমাজের স্থায়িত্ব যত বাড়ছে, বুর্জোয়া সমাজের প্রতিক্রিয়ার দিক যত প্রকট হচ্ছে,...
20/06/2026

" ভারতবর্ষে দিন যত এগোচ্ছে, ভারতীয় বুর্জোয়া সমাজের স্থায়িত্ব যত বাড়ছে, বুর্জোয়া সমাজের প্রতিক্রিয়ার দিক যত প্রকট হচ্ছে, তত‌ই বুর্জোয়া ব্যক্তিবাদের প্রভাব সমাজের মধ্যে সুবিধাবাদের আকারে দেখা দিচ্ছে বেশি। রাশিয়ার বিপ্লব বা চিনের বিপ্লব ঠিক আজকের মতো করে এই সমস্যার সম্মুখীন হয়নি, ফলে তারা তা অনুভব করেনি। চীনের বিপ্লবটাই ছিল শ্রমীকশ্রেণীর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্ততন্ত্র বিরোধী গনতান্ত্রিক বিপ্লব বা জনগনতান্ত্রিক বিপ্লব, যেখানে বুর্জোয়ারা বিপ্লবের সঙ্গে ছিল। রাশিয়ায় বুর্জোয়া গনতান্ত্রিক বিপ্লবের একটা স্তর পর্যন্ত বুর্জোয়ারা এগিয়েছে, কমিউনিস্টদের সঙ্গে থেকেছে। তারপর বুর্জোয়ারা ক্ষমতায় বসে বুর্জোয়া শ্রেণীশাসনকে স্থায়িত্ব দেওয়ার আগেই সর্বহারাশ্রেণী দ্রুত বুর্জোয়াশ্রেণীকে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করেছে। এরপর শ্রমীকশ্রেণীর নেতৃত্বেই বুর্জোয়া গনতান্ত্রিক বিপ্লবের অপূরিত কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এই কারনে সেখানে তখন ব্যক্তিবাদের একটা আপেক্ষিক প্রগতিশীল ভূমিকা ছিল। আর, এখানে ভারতবর্ষে বুর্জোয়া শাসন দীর্ঘ্যস্থায়ী হচ্ছে। এ যদি না হত, আমরা যদি ১৯৩৹ সালের মধ্যে, ' ৪৭ সালের মধ্যে বুর্জোয়া গনতান্ত্রিক বিপ্লবের পর্ব শেষ করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সফল করে ফেলতে পারতাম, তাহলে আমাদের দীর্ঘ্যমেয়াদী বুর্জোয়া সমাজ পরিবেশের মধ্যে প্রকট বুর্জোয়া ব্যক্তিবাদের ব্যাপারটাকে পার্টি গঠন করার সময় এত গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ রাখবার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু আমাদের এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ রাখার প্রয়োজন হয়েছে। কারন ভারতবর্ষে বুর্জোয়া শাসনব্যবস্থা স্বল্পকালের জন্য হয়নি, স্বল্পমেয়াদী হয়নি। এই অবস্থায় আমরা ভুলতে পারি না যে, এই বুর্জোয়া ব্যক্তিবাদের ব্যাপারটা লক্ষ রেখে না এগোলে, আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টাই শেষপর্যন্ত ব্যর্থ হবে। যত কষ্টকর হোক, এ জিনিষ লক্ষ রেখে আমাদের এগোতে হবে, একে ঠিক জায়গায় ধরিয়ে দিতে হবে। পার্টির মধ্যে তর্কবিতর্ক, সমালোচনা-আত্মসমালোচনা, আভ্যন্তরীণ গনতন্ত্র সমস্ত কিছুকে বুর্জোয়া ব্যক্তিবাদের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিবাদ কীভাবে কোথায় কীরূপে মাথা তোলে, কিভাবে তার দ্বারা ব্যক্তি কলুষিত হয়, দলের সর্বহারা গনতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট হয়, তা ধরিয়ে দিতে হবে। দেখিয়ে দিতে হবে যে, ব্যক্তিবাদ সর্বহারা গনতন্ত্রকে সুবিধায় পর্য্যবসিত করে। সর্বহারা গনতন্ত্র আলাদা করে কোন ব্যক্তির সুবিধা পাওয়ার জন্য বা কোন ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়--তা সমস্ত ব্যক্তিকে নিঃস্বার্থভাবে সমাজের সামগ্রিক স্বার্থে কাজ করতে শেখাবার জন্য। সমস্ত শ্রমীকশ্রেণীর সামগ্রিক আন্দোলনের স্বার্থে ব্যক্তিসত্তার প্রভাব ও আক্রমন থেকে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মুক্ত ও রক্ষা করার জন্যই সর্বহারা গনতন্ত্র। এভাবে না বুঝলে আজকের দিনের বিপ্লবী আন্দোলনের চলবে না।"
শিবদাস ঘোষ।।

(সুত্র-‌"বৈজ্ঞানিক দ্বন্দ্বমূলক বিচারপদ্ধতিই মার্কসবাদী বিজ্ঞান "-শিবদাস ঘোষ, পুস্তকের অংশবিশেষ এবং মহান নভেম্বর বিপ্লবের শিক্ষার আলোকে ভারতের সর্বহারা বিপ্লব।"-শিবদাস ঘোষ। ও শিবদাস ঘোষ রচনাবলী ৪র্থ খন্ড পৃষ্ঠা-২৯৬-৯৭,এই পুস্তকটির অন্তর্গত। )

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া/পশ্চিমবঙ্গ/ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।) (ক্রমশঃ)।

" সংগ্রাম আপনাদের করতেই হবে। এমন কথা নয় যে আপনারা লড়বেন না, পেট বড় বালাই। আজ যদি ভাবেন‌ও যে, লড়াই করে কিছু হবে না --দুদি...
12/06/2026

" সংগ্রাম আপনাদের করতেই হবে। এমন কথা নয় যে আপনারা লড়বেন না, পেট বড় বালাই। আজ যদি ভাবেন‌ও যে, লড়াই করে কিছু হবে না --দুদিন বাদেই আবার লড়াইয়ের ময়দানে নামতে আপনাদের হবেই। ইতিমধ্যেই তার আভাস দেখা যাচ্ছে। হাজার হাজার লোক মাঠে-ময়দানে আসবেন, লড়াই শুরু করবেন কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হবে না। অবস্থা পরিবর্তন করতে গেলে দরকার সেই তিনটি জিনিস--সঠিক মূল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সঠিক বিপ্লবী তত্ব এবং সঠিক বিপ্লবী পার্টি। এ যদি না থাকে, রাস্তা যদি ভুল হয়, তাহলে সততা, কোরবানি, সংগ্রাম কোন কিছুর দ্বারাই আপনারা সামনে দিকে এগোতে পারবেন না। তাই আবার সেই লেনিনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলি--যত গনতান্ত্রিক আন্দোলন‌ই করুন, যত দাবিদাওয়া নিয়ে লড়ুন, শহীদ দিবস করুন, বুকের রক্ত ঢেলে দিন, ধর্মঘট ও ও আন্দোলনে পুলিশের সাথে যত‌ই মোকাবিলা করুন--‌আপনারা যে গোলাম সেই গোলাম‌ই থাকবেন। যে পুঁজিবাদ সেই পুঁজিবাদ‌ই থাকবে, শোষন অব্যাহত থাকবে।........আপনার ব্যক্তিগত জীবন বিষাক্ত করে দেবে। ভালোবাসা নষ্ট করে দেবে। আপনার স্নেহ-মমতা পর্যন্ত ধ্বংস করে দেবে। বাঁচতে হলে লড়াই আপনাদের করতেই হবে। আর এই লড়াইটা করতে হবে বিপ্লবের রাস্তায়। বিপ্লবের রাস্তা মানে 'বিপ্লব' 'বিপ্লব' বলে শুধু চিৎকার নয়। বিপ্লবের সঠিক স্তর, রাষ্ট্রের শ্রেণীচরিত্র সম্পর্কে সঠিক সুস্পষ্ট ধারণাকে ভিত্তি করে, সঠিক বিপ্লবী পার্টির নেতৃত্বে মজুরদের যদি সংগঠিত করতে পারেন, উপযুক্ত রাজনৈতিক শিক্ষায় যদি শিক্ষিত করে তুলতে পারেন তবেই আপনারা জনগনের রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দিতে পারবেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হবেন। তখন‌ই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, ভারতবর্ষের কোটি কোটি নিপীড়িত মানুষগুলো দেখবে বিপ্লবের মুখ। তার আগে পর্যন্ত শুধু বিক্ষোভ আর পরাজয়। শুধু বিস্ফোরণ আর পরাজয়। এর হাত থেকে মুক্তি, সমাজের মুক্তি, মানুষের মুক্তির রাস্তা একটাই--তা হল বিপ্লবের রাস্তা। এছাড়া ভিন্ন কোন পথ নেই।"

শিবদাস ঘোষ।।

(তথ্যসূত্র-শ্রমিকের কাছে সর্বহারা রুচি সংস্কৃতি তুলে ধরতে হবে-শিবদাস ঘোষ, ১৯৭৪ সালের ভাষন, যা শিবদাস ঘোষ নির্বাচিত রচনাবলী তৃতীয় খন্ডের অন্তর্ভুক্ত।)

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ /ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)

বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণীর নিকট  একটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষণীয় বিষয় এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কসবাদী চিন্তানায়ক ও দার্শনি...
02/06/2026

বিশ্ব সর্বহারা শ্রেণীর নিকট একটি অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষণীয় বিষয় এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্কসবাদী চিন্তানায়ক ও দার্শনিক এস ইউ সি আই দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষের চিন্তাধারা ও শিক্ষা থেকে নির্বাচিত অংশ পোষ্ট করা হল।
----------------------------@-------------------------------------------

" যে সব বিষয়ে মার্কস view করতে পারেননি, লেনিন নিজেও যেগুলো দেখে যেতে পারলেন না-বিপ্লবের অল্পদিন পরেই তিনি মারা গেলেন-‌আজকের দুনিয়ার যাঁরা কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোভাগে রয়েছেন, যাঁরা নিজেরা এই লড়াইয়ের মধ্যে সরাসরি যুক্ত, তাঁরা কিন্তু এইসব প্রশ্নের যথাযথ কোন বিশ্লেষণ (analysis) আজ‌ও তুলে ধরতে পারেননি। অথচ এটার গুরুত্ব অপরিসীম। আমি আলোচনার পুনরাবৃত্তি না করে শুধু উল্লেখ করতে চাই যে, বর্তমান যুগে ব্যক্তিবাদের বিশেষ রূপ এবং বৈশিষ্ট্য, এ যুগে শুধু বিপ্লব ও দলের স্বার্থে ব্যক্তিস্বার্থকে নিঃশর্তে সারেন্ডার করাই যে সর্বোন্নত কমিউনিস্ট চরিত্রের মান হতে পারে না, ব্যক্তিকে বিপ্লব ও দলের সাথে একাত্ম বা বিলীন করাই যে সর্বোচ্চ মান, সমাজতান্ত্রিক ব্যক্তিবাদ সম্পর্কে হুঁশিয়ারি, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উন্নীত হবার পর ব্যক্তিস্বার্থ ও সামাজিক স্বার্থের বিরোধাত্মক দ্বন্দ্বের প্রতিফলন হিসেবেই যে রাষ্ট্র অবস্থান করবে এবং এই বিরোধাত্মক দ্বন্দ্বকে মিলনাত্মক দ্বন্দ্বে রূপান্তরিত করার ওপর‌ই যে রাষ্ট্রের অবলুপ্তির প্রশ্নটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, একটি বুর্জোয়া পার্টির সাথে একটি শ্রমীকশ্রেণীর পার্টির নেতৃত্বের পার্থক্য বোঝায়, যৌথ নেতৃত্বের personification এর (ব্যক্তিকরণ) এর মধ্য দিয়েই যে সঠিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, মার্কসবাদে authority concept কি এবং তার সাথে authohritarianism এর (গুরুবাদ) পার্থক্য কি-এইসব বিষয়গুলো নিয়ে exhaustive theoritical discussion একমাত্র আমাদের দল‌ই করেছে, অন্য কোন পার্টি এইসব সমস্যার বিশেষ ধার কাছ দিয়েও যান নি, অন্ততঃ আমাদের নজরে পড়েনি।....... অথচ, কে অস্বীকার করতে পারে যে, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনকে নানা ধরনের বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করার দিক থেকে এসবের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা সকলেই জানি যে, এই কাজ যদি না করা যায়, তাহলে, গুরুবাদকে রোখার প্রশ্নটি একান্তভাবে অন্ধতা দুর করার ওপর‌ই নির্ভর করে। সুতরাং, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সামনে আজ যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেইসব প্রশ্নগুলোকে যদি তত্বগত দিক থেকে
বিশ্লেষণ না করা যায় এবং তার ভিত্তিতে কমিউনিস্ট নেতা থেকে শুরু করে কর্মী, এমনকী জনসাধারণকেও সচেতন না করা যায়, তাহলে, অন্ধতা দেখা দিতে বাধ্য। তবে মনে রাখতে হবে যে, অন্ধ আনুগত্য‌ই শুধু অন্ধতা নয়, অন্ধ বিরোধীতাও অন্ধতা-যদিও অন্ধ আনুগত্যের মধ্যে যে অন্ধতা থাকে, সাধারণতঃ তাকেই অন্ধতা বলে ভুল করা হয়।............ ।
পার্টির সংবিধানকে আমরা যেভাবে বুঝি, সেটা হল, সংবিধান হচ্ছে একটি দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে একটি কমিউনিস্ট পার্টির আভ্যন্তরীণ যে সমস্যা, আন্দোলনের পরিস্থিতি, কর্মীদের চেতনা, পারস্পরিক সম্বন্ধের স্তর, সংগ্রামের জটিলতা, আদর্শের সংঘাত-সব কিছুকে সামনে রেখে সর্বহারা গনতন্ত্র এবং কেন্দ্রীকতার মিলনের ( fusion) সমস্যা কি রূপ নিচ্ছে-তাকে ভিত্তি করে পার্টির কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি সাংগঠনিক নির্দেশ। এককথায় বলতে গেলে, সংবিধান হচ্ছে, পার্টির আভ্যন্তরীণ বাস্তব পরিস্থিতির যথার্থ প্রতিফলন। এভাবে না দেখলে সংবিধান হয়ে পড়বে ওপর থেকে কিছু ভাল ভাল কথা-হয়তো লেনিন থেকে নেওয়া, বা অন্য পার্টি থেকে নেওয়া, কিন্তু তাতে সত্যিকারের কাজ হতে পারে না। সুতরাং সংবিধান যখন পাল্টানো হয়, কেন পাল্টানো হয়, কি কারনে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিল, সেগুলো পরিস্কার উল্লেখ না থাকলে বুঝতে অসুবিধা হয়। .......কোন কমিউনিস্ট পার্টিতে উত্তরাধিকার সুত্রে নেতৃত্ব গঠিত হয় না। নেতাদের যোগ্যতা, কমিউনিস্ট চরিত্রের দৃঢ়তা এবং দলের সাথে তাঁরা নিজেরা কতটা identify করতে পেরেছেন, তার ওপর‌ই নেতৃত্বের প্রশ্নটি নির্ভর করে।"

শিবদাস ঘোষ।

(তথ্যসূত্র-'‌চিনের কমিউনিস্ট পার্টির নবম কংগ্রেস '-শিবদাস ঘোষ, এই পুস্তকের অংশবিশেষ এবং 'শিবদাস ঘোষ নির্বাচিত রচনাবলী ১ম খন্ডের অন্তর্গত)।।

(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনাড়া/জেলা-পুরুলিয়া /পশ্চিমবঙ্গ /ভারতবর্ষ, কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত)।

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shibdas Ghosh Quotes posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Shibdas Ghosh Quotes:

Shortcuts

Share