25/07/2026
৫ই আগষ্ট এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মার্ক্সবাদী চিন্তানায়ক ও দার্শনিক এস ইউ সি আই দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তম শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক সর্বহারার মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষ স্মরণে তাঁর ঐতিহাসিক মূল্যবান শিক্ষার নির্বাচিত কিছু অংশ নিম্নে দেওয়া হল।
------------+-------------------@----------------------------------------
" সমাজে শ্রমিক চাষি শোষিত মানুষের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিপ্লব বার বার গমকে গমকে আসতে চাইবে, গমকে গমকে ফেটে পড়তে চাইবে। সমাজ অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব ফুলে ফুলে বার বার বলতে চাইবে-এ অবস্থার আমূল পরিবর্তন চাই, মানুষের মগজের কাছে, মানুষের কাছে আবেদন করতে চাইবে- বিপ্লব আমি চাই। কিন্তু বিপ্লব ততদিন হবে না, বার বার সে ফিরে যাবে, বিপথগামী হয়ে ফিরে যাবে, বার বার তার দ্বারা প্রতিক্রিয়া লাভবান হবে- বিপ্লব হবে না, যতদিন না বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবার উপযুক্ত শক্তি নিয়ে বিপ্লবী পার্টির আবির্ভাব হবে।....... সেই বিপ্লবের জন্য চাই বিপ্লবের নেতৃত্বকারী সংগঠন-বিপ্লবী দল। ................প্রত্যেকটি কর্মী যাঁরা এখানে উপস্থিত আছেন, তাঁদের আপন উদ্যোগ ও বুদ্ধি অনুযায়ী-পারুন বা না পারুন-সফলতা হোক, বিফলতা হোক-কর্মবিমুখ না হয়ে কাজ করে যেতে হবে........ তার জন্য হয় ক্লাব, না হয় কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের সংগঠন, না হয় বস্তি কল্যাণ সমিতি, না হয় সাহিত্য সভা, না হয় কাব্য সভা, না হয় ডনখানা, না হয় শ্রমিক সংগঠন, অথবা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি না হয় মজুরদের রাজনৈতিক ক্লাস গ্রহন করা-যেভাবেই হোক আপনারা মানুষের সঙ্গে মিশছেন,মানুষকে আপনাদের আশেপাশে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের ভ্রান্ত রাজনীতি থেকে মুক্ত ও বিচ্ছিন্ন করে দলের রাজনীতিতে আনবার চেষ্টা করছেন-এই কাজটি আপনাদের করতে হবে, পুরোপুরি উদ্যোগ নিয়ে, যার যার ক্ষেত্রে আপন কর্মক্ষমতা অনুযায়ী। এই কাজ করার সময় তা আপনারা ঠিকমতো পারছেন কি না-সে সব প্রশ্ন তুলছেন না, বা হচ্ছে না মনে করে বসে যাচ্ছেন না....... এইভাবে আপনাদের মানসিক গঠন এবং চিন্তাধারাকে গড়ে তুলতে হবে।"
ভারতবর্ষের সমাজ মুক্তি যন্ত্রনায় ছটফট করছে। ...আর বিপ্লবের বাস্তব অবস্থার সমস্ত জমি, ইনগ্র্যাডিয়েন্ট, গোলাবারুদ সব তৈরি। মানুষ পরিবর্তন চাইছে। পুরোনো সমাজের মিলিটারির তাগদের উপর নির্ভর করা ছাড়া শাসকগোষ্ঠীর নির্ভর করার মতো আজ আর কিছু নেই। আর তারা নির্ভর করছে মানুষের অজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক বিভ্রান্তির ওপর-কিন্ত এটা খুব বড় কথা নয়। বাস্তব অবস্থার চাপ মানুষের ওপর এত পড়ছে যে, সেই অবস্থার চাপের জন্য বিভ্রান্তির যুক্তি,-ধর্মের মোহ-এই সব কোন কিছুই মানুষকে আটকে রাখতে পারবে না। বিপ্লবের জোয়ার যদি শুরু হয়, কোন যুক্তি দিয়েই মানুষকে আটকে রাখা যাবে না। তখন বিপ্লবের বিরুদ্ধে একটি মাত্র অস্ত্রই বুর্জোয়াশ্রেণীর হাতে থাকবে-সেটা হচ্ছে মিলিটারি, পুলিশ, গোলাবারুদ। কিন্তু একটা দেশ, একটা জাতি কোমর সিধে করে একটা বিপ্লবী নেতৃত্বের অধীনে সঠিক বিপ্লবী লাইনের ভিত্তিতে লড়াই শুরু করে দিলে, তখন কি আর গোলাবারুদ দিয়ে তাকে আটকানো যায় নাকি? ইতিহাসে কোনদিন কেউ পেরেছে কি?....যাঁরা মনে করেন যে, বোমা দিয়ে গোটা দেশের মানুষকেই মেরে ফেলা যায়, তাঁরা জানেন না যে-তা পারা যায় না। এত সোজা না। যাঁরা 'হিউম্যানিটি'কে বোঝেন, তাঁরা এটা জানেন। এই মানসিকতাগুলোকে ঠিক রাখার জন্যই ইতিহাস পড়তে হয়। এটা জানলেই বোঝা যাবে যে, হিউম্যানিটির ক্ষতি হয়তো অনেক করে দেওয়া যায়, এমনকী প্রবল একটা বিরুদ্ধ শক্তি সৃষ্টি করে তার পরিবর্তনের গতিবেগটাও হয়তো সাময়িকভাবে কিছুদিনের জন্য আটকে দেওয়া যায়-কিন্তু একটা অমানবিক শক্তি এসে হিউম্যানিটিকে ধ্বংস করে ফেলবে-এ কখনোই সম্ভব নয়। তাহলে মানবসমাজ বেঁচে থাকতেই পারত না। এই মনোবলের ওপরেই বিপ্লবের ' এথিকস'-তার মনোবল এবং দৃঢ়চিত্ততা নির্ভর করছে। "
শিবদাস ঘোষ।।
(সুত্র-শিবদাস ঘোষের ভাষন " সুবোধ ব্যানার্জি স্মরণে", ছাত্র ও যুব সমাজের কর্তব্য" পুস্তকাবলির অংশবিশেষ)
(মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী /আনারা/পুরুলিয়া/পশ্চিমবঙ্গ/ভারতবর্ষ কর্তৃক ফেসবুকে প্রচারিত।)