28/03/2026
ছেলেটি আজ ৬০% নম্বর পেয়ে দশম শ্রেণীতে উঠেছে। কিন্তু গতকাল রেজাল্ট আনতে সে স্কুলেও যায়নি, খেলতে গেছিল। যাওয়ার আগে বাবাকে বলে গেছে, “আমি পাস করলে WhatsApp-এ শুধু P লিখে দিও, আর ফেল করলে F।”
বাবা স্বাভাবিকভাবেই তখন জানতে চেয়েছিলেন—“P হলে কী করবি, আর F হলে?”
ছেলেটার নির্ভীকভাবে উত্তর দিয়েছিল - “F হলে আরও ভালো করে খেলবো, কারণ বুঝে যাবো পড়াশোনা আমার জন্য না। আর P হলে আনন্দে আরও ভালো করে খেলবো।”
স্কুলে শিক্ষকরা যখন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন - “তুমি একটু পড়লেই তো ভালো রেজাল্ট করতে পারো, তাহলে পড়ো না কেন?”
তার উত্তর ছিল আরও স্ট্রেইট: “এই দেশে পড়াশোনা করে কিছু হবে না, খেললে হতে পারে।”
ভাবতে পারছেন, এই কথাটা শুধু একটা ছেলের না, আজ অনেক তরুণের মনের কথা। তারা দেখছে, ডিগ্রি থাকলেও চাকরি নেই, মেধা থাকলেও সুযোগ কম। অন্যদিকে খেলাধুলা, বিনোদন, সোশ্যাল মিডিয়া - এগুলোতে সাফল্যের গল্প চোখে পড়ে বেশি। ফলে তারা দ্রুত ফল পাওয়ার পথে ঝুঁকছে।
বাস্তবেই ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও অনেক তরুণ মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করছে একটা স্থায়ী কাজের জন্য। একদিকে প্রতিযোগিতা বেড়েছে বহুগুণ, অন্যদিকে চাকরির সংখ্যা সেই হারে বাড়েনি।
ফলে অনেকেই মনে করছে, শুধু পড়াশোনা করলেই নিশ্চিন্ত ভবিষ্যৎ মিলবে, এই ধারণাটা আর আগের মতো সত্যি নয়। এই অনিশ্চয়তা থেকেই অনেক কিশোর-তরুণ বিকল্প পথ খুঁজছে, কেউ খেলাধুলা, কেউ কনটেন্ট তৈরি, কেউ ব্যবসার দিকে ঝুঁকছে।
কিন্তু পড়াশোনা কি সত্যিই মূল্যহীন?
না, একেবারেই না। পড়াশোনা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, এটা চিন্তাশক্তি গড়ে তোলে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়, মানুষকে পরিণত করে।
কিন্তু এটাও সত্যি, শুধু বইয়ের জ্ঞান দিয়ে আজকের প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় টিকে থাকা কঠিন। বাস্তব দক্ষতা, সৃজনশীলতা, এবং আগ্রহ এই তিনটা জিনিস এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখানে ছেলেটার ভাবনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তার বাবা-মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি। তারা ছেলেকে ভয় দেখিয়ে, বকাঝকা করে বা চাপ দিয়ে থামানোর চেষ্টা করেননি। বরং শুনেছেন, বুঝেছেন, আর তাকে নিজের মতো ভাবার জায়গা দিয়েছেন, এটাই আসল ইতিবাচকতা।
একজন কিশোর যখন এমন নির্ভীকভাবে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে, তখন বোঝা যায় তার পরিবার তাকে মানসিক নিরাপত্তা দিয়েছে। এই নিরাপত্তা খুব মূল্যবান। কারণ এখান থেকেই আত্মবিশ্বাস জন্মায়, ভুল করার সাহস আসে, আর শেখার দরজা খোলে।
তবে শুধু সমর্থন করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। একজন সচেতন অভিভাবক জানেন, কখন পাশে দাঁড়াতে হয়, আর কখন সঠিক পথে gently ঠেলে দিতে হয়। তারা বুঝিয়ে দেন, জীবনটা শুধু খেলা নয়, আবার শুধু পরীক্ষাও নয়, এটা দুটোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা।
এই ব্যালান্সটাই আসল শক্তি।
কারণ যেসব বাবা-মা সন্তানের উপর বিশ্বাস রাখেন, তারাই শেষ পর্যন্ত সন্তানের ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে পারেন।
আমরা কি এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারছি, যেখানে একজন ছাত্র পড়াশোনাকে ভালোবেসে শিখবে?
নাকি তাকে এমন এক দৌড়ে ঠেলে দিচ্ছি, যেখানে সে নিজেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে?
প্রশ্নটা থেকেই যায়..
সূত্র: Mitra Sengupta
©️ An Animesh
#শিক্ষা #ভবিষ্যৎ #ছাত্রজীবন #খেলাধুলা #চাকরিরঅনিশ্চয়তা