আজাদ গণ মোর্চা

  • Home
  • আজাদ গণ মোর্চা

আজাদ গণ মোর্চা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আজাদ গণ মোর্চা, Political organisation, .

গণ রাজনৈতিক সংগঠন। যার মূল উদ্দেশ্য হলো – মানুষের গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়ন এবং জীবন-জীবিকা-শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর বিকাশ ও সম্প্রসারণ ঘটানো, দলিত-আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তেইশ বছর বয়সে পটাশিয়াম সায়ানাইড মুখে তুলে নিয়েছিলেন পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্ল...
24/09/2026

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তেইশ বছর বয়সে পটাশিয়াম সায়ানাইড মুখে তুলে নিয়েছিলেন পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে, শুধু এই কারণে যে জীবিত অবস্থায় ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়লে অত্যাচার আর অপমানের যে পথ তাঁর সামনে খুলে যেত, সেই অপমান তিনি নিজের শরীরে নিতে রাজি ছিলেন না। যে ক্লাবের গেটে লেখা ছিল "কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ", সেই ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এক বাঙালি মেয়ে, মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে, এমন একটা সময়ে যখন মেয়েদের অস্ত্র ছোঁয়ার কথাই ভাবা যেত না। ইতিহাসের পাতায় এটুকুই লেখা থাকে সাধারণত—তারিখ, ঘটনা, আত্মাহুতি। কিন্তু যেটা প্রায়ই বাদ পড়ে যায়, সেটা হল প্রীতিলতা কোনো বিচ্ছিন্ন বীরত্বের গল্প নন। তিনি ছিলেন একটা সংগঠিত রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ, যে লড়াই রাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন দমনপীড়নের মুখেও সংগঠিত থাকতে শিখেছিল।

আজকের বাংলায়, আজকের ভারতে, যখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গলা তোলা মানুষদের ইউএপিএ দিয়ে জেলে ভরা হয়, যখন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে "রাষ্ট্রদ্রোহী" তকমা দেওয়া হয় অক্লেশে, তখন প্রীতিলতার লড়াইকে শুধু ফুল দিয়ে স্মরণ করাটা একরকম প্রতারণা। প্রীতিলতা যে ব্রিটিশ রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যন্ত্রপাতি আজও অক্ষত—শুধু মালিক বদলেছে, রং বদলেছে, আর দমনের ভাষাটা আরও মসৃণ হয়েছে। তখন ছিল ঔপনিবেশিক আইন, আজ আছে ইউএপিএ, দেশদ্রোহ, এনএসএ। তখন ছিল কালাপানি, আজ আছে বছরের পর বছর বিনাবিচারে জেল।

আর একটা কথা প্রায় বলা হয় না—প্রীতিলতা একজন মেয়ে ছিলেন বলেই তাঁর লড়াইটা দ্বিগুণ কঠিন ছিল। শুধু ব্রিটিশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, নিজের সমাজের পিতৃতান্ত্রিক ধারণার বিরুদ্ধেও তাঁকে লড়তে হয়েছিল, যে ধারণা বলত মেয়েদের জায়গা রান্নাঘরে, বিপ্লবে নয়। আর প্রীতিলতার সেই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা আজও দেখা যায় সাফুরা জারগারের মতো মানুষদের মধ্যে—জামিয়া মিলিয়ার এক গবেষক ছাত্রী, যাঁকে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার "অপরাধে" ইউএপিএ দিয়ে জেলবন্দি করা হয়েছিল, সেই অবস্থাতেও যখন তিনি গর্ভবতী। রাষ্ট্র তখনও সেই একই ভয় দেখায়, যে ভয় দিয়ে ব্রিটিশরা প্রীতিলতাদের দমাতে চেয়েছিল—একজন মেয়ে যখন প্রশ্ন তোলে, তাকে শুধু আটকানো নয়, তাকে শিক্ষা দিয়ে দেওয়া দরকার, যাতে আর কোনো মেয়ে সাহস না পায়।

আজ যখন দেখি প্রতিবাদের ময়দানে মেয়েরা এগিয়ে আসছেন—NEET দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে, কারখানার নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে—তখন প্রীতিলতার ছায়া সেখানেও দেখা যায়। কিন্তু ছায়া দেখাটাই যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র আজও সেই নারীদের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করে, শুধু অস্ত্র বদলেছে—গুলির বদলে এখন হেনস্থা মামলা, মিথ্যা এফআইআর, চরিত্রহনন।

প্রীতিলতা জানতেন, তাঁর একার আত্মত্যাগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে না। তবু তিনি এগিয়েছিলেন, কারণ কোনো লড়াই শুরু হওয়ার আগে সবাই জানে না সেটা জিতবে কিনা—তবু লড়াইটা লড়তে হয়, নইলে পরের প্রজন্মের হাতে কিছুই থাকে না দাঁড়ানোর জন্য। আজ যাঁরা রাস্তায় নামছেন, প্রশ্ন তুলছেন, জেল-জুলুমের ভয়কে উপেক্ষা করে সোচ্চার হচ্ছেন, তাঁরা আসলে প্রীতিলতার সেই অসমাপ্ত লড়াইটাই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফারাক শুধু এটুকু—তখন শত্রুর চেহারাটা স্পষ্ট ছিল, সাদা চামড়া আর ইউনিয়ন জ্যাক। আজ শত্রু নিজের রংয়ে সেজে আসে, নিজের ভাষায় কথা বলে, নিজের পতাকা ওড়ায়—আর ঠিক সেই কারণেই তাকে চেনা, আর তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, আরও কঠিন কাজ।

"অস্বাভাবিক মৃত্যু" — এই শব্দবন্ধটা দিয়েই হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টটা শুরু হয়েছিল। গত কুড়ি বছরে দেশের আইআইটিগুলোতে ...
22/09/2026

"অস্বাভাবিক মৃত্যু" — এই শব্দবন্ধটা দিয়েই হিন্দুস্তান টাইমসের রিপোর্টটা শুরু হয়েছিল। গত কুড়ি বছরে দেশের আইআইটিগুলোতে অন্তত ১৭১ জন ছাত্রছাত্রীর "অস্বাভাবিক মৃত্যু", তার ৮২ শতাংশ আত্মহত্যা। খড়গপুর সবার ওপরে — ২৯ জন। ২০১৬-র পর সংখ্যাটা প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে। আর একটা তথ্য, যেটা রিপোর্টের ভেতরের পাতায়, ছোট হরফে লেখা থাকে — তফসিলি জাতি ও জনজাতির ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার হার সাধারণ শ্রেণির প্রায় দ্বিগুণ, জনজাতির ক্ষেত্রে প্রায় চার গুণ। করোনার পর এই ব্যবধান আরও বেড়েছে। পরীক্ষা আর রেজাল্টের সময় মৃত্যু বাড়ে, ছুটিতে কমে — মানে ক্যাম্পাসটাই কারণ, এটা অনুমান নয়, ডেটা।
রিপোর্টটা পড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিসংখ্যানটা আরেকটা নাম পেয়ে গেল। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকোডে, আইআইটি বম্বের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, ইয়াবতমালের ছেলে — পাওয়াই ক্যাম্পাসের হস্টেল ফোরে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল। ২০২৬ সালের দশম, গত ছয় মাসে শুধু আইআইটি বম্বেতেই তৃতীয়।
তারপর যা হল, সেটাই আসল গল্প। প্রতিষ্ঠান প্রথম বিবৃতিতে বলল — ছেলেটা পরীক্ষায় মোবাইলে চ্যাটজিপিটি খুলে প্রশ্ন আপলোড করেছিল, তাকে "কাউন্সেলিং" করা হয়েছে, কোনো শাস্তি হয়নি, তার কেরিয়ারে প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্তও করা হয়েছিল। অথচ সহপাঠীরা বলল সম্পূর্ণ অন্য কথা — ছেলেটাকে অন্যের খাতা দেখার অভিযোগে হল থেকে বার করে দেওয়া হয়, এক বছরের সাসপেনশনের ভয় দেখানো হয়, যার মানে হস্টেল ছেড়ে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে থাকতে হত, ডিগ্রি পিছিয়ে যেত। মা বললেন, "আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে, বিচার চাই।" পুলিশ প্রথমে "আকস্মিক মৃত্যু"-র মামলা করল, পরিবারের অভিযোগে পরে যোগ হল আত্মহত্যায় প্ররোচনা আর তফসিলি জাতি/জনজাতি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন। ছাত্ররা রাস্তায় নামল, স্বচ্ছতা চাইল।
দুটো বয়ান পাশাপাশি রাখলে একটাই জিনিস স্পষ্ট হয় — প্রতিষ্ঠান নিজেও জানে না ঠিক কী ঘটেছিল, অথচ প্রথম বিবৃতিতেই "কোনো শাস্তি হয়নি" বলে নিজেদের দায়মুক্ত করে ফেলল। আর ঠিক এইখানে হিন্দুস্তান টাইমসের সেই পরিসংখ্যানটা ফিরে আসে — কারণ প্রশ্নটা শুধু "কেন একজন মারা গেল" নয়, প্রশ্নটা হল কাদের মৃত্যু কতটা দ্রুত "মিটমাট" হয়ে যায়। যে ক্যাম্পাসে তফসিলি জাতি-জনজাতির ছেলেমেয়েরা সাধারণ ছাত্রদের দ্বিগুণ-চারগুণ হারে আত্মহত্যা করে, সেখানে একজনের মৃত্যুর পরেও প্রথম প্রশ্নটা জাতপাত নিয়ে ওঠে না — পরিবারকে নিজে থেকে মুম্বই থেকে যাত্রা করে এসে, নিজে থেকে এফআইআর করিয়ে, নিজে থেকে প্রমাণ করতে হয় যে মৃত্যুটা শুধু "পরীক্ষার চাপ" ছিল না।
এই যে সংখ্যাটা — দ্বিগুণ, চারগুণ — এটা কোনো বিচ্ছিন্ন তথ্য নয়। "মেধার" প্যাঁচে এটাই লুকিয়ে থাকে: সংরক্ষণে যে ঢুকেছে, তাকে প্রতিদিন প্রমাণ করতে হয় সে "যোগ্য", আর যেদিন সে ভেঙে পড়ে, সেদিন প্রতিষ্ঠান বলে তার "মানসিক চাপ" ছিল, কখনো বলে না ক্লাসরুমের সেই নীরব বাক্যটার কথা — "তুমি তো কোটায় এসেছ"। "দেশের সেরা প্রতিষ্ঠান" যেখানে ঢুকতে গোটা মধ্যবিত্ত বাংলা জীবন বাজি রাখে, সেই একই প্রতিষ্ঠানে জাত আজও ঠিক করে দেয় কার মৃত্যুর পর তদন্ত হবে, আর কার মৃত্যু "অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট" হয়ে ফাইলবন্দি থেকে যাবে।
---
এই মৃত্যুগুলোকে একটার পর একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখাটাই সবচেয়ে বড় প্রতারণা। ১৭১ জনের এই তালিকা কোনো দুর্ঘটনার তালিকা নয় — এটা একটা কাঠামোর ফলাফল, যে কাঠামো "মেধা" নামের একটা মিথের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আর সেই মিথ টিকিয়ে রাখতে জাত, শ্রেণি আর রাষ্ট্রের নীরবতা একসাথে কাজ করে। সংরক্ষণকে যারা আজও "যোগ্যতার সাথে আপস" বলে দাগিয়ে দেয়, তাদের এই সংখ্যাগুলো দেখা উচিত — দ্বিগুণ, চারগুণ — আর বোঝা উচিত, প্রতিষ্ঠানটা ভাঙছে না, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে তাদেরই, যাদের প্রবেশাধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছিল, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি যাদের প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় তারা "অনুগ্রহে" আছে।

এই ব্যবস্থা বদলাবে না কোনো কাউন্সেলিং সেল দিয়ে, কোনো "মেন্টাল হেলথ ওয়ার্কশপ" দিয়ে — কারণ সমস্যাটা ব্যক্তির মাথায় নেই, কাঠামোর ভেতরে। SC/ST সেলগুলোকে ক্ষমতা দিতে হবে, ক্যাম্পাসে জাতিবিদ্বেষের অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রতিষ্ঠান-নিরপেক্ষ ব্যবস্থা লাগবে, শিক্ষক-প্রশাসনের জবাবদিহিতা লাগবে আইন দিয়ে বাঁধা, শুধু বিবৃতি দিয়ে নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা — এই লড়াইটা কোনো একটা পরিবারের একলা লড়াই থাকতে দেওয়া যাবে না। সাহিলের মা যেদিন মুম্বইয়ে দাঁড়িয়ে "বিচার চাই" বলছেন, সেদিন প্রশ্নটা তোলার দায়িত্ব শুধু তাঁর নয় — যে ছাত্র সংগঠন, যে শিক্ষক, যে সমাজ প্রতিবাদ নয়, নীরবতা বেছে নেয়, তারাও এই কাঠামোর অংশীদার হয়ে যায়। মেধার প্রাসাদ রক্ষা পাবে জাতপাতের প্রশ্নটাকে ধামাচাপা দিয়ে নয়, বরং সেই প্রশ্নটাকে প্রতিষ্ঠানের দরজায় প্রতিদিন জোরে জোরে কড়া নেড়ে।

ভোটের আগে বিজেপির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প — মাসে ৩,০০০ টাকা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিস...
22/09/2026

ভোটের আগে বিজেপির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প — মাসে ৩,০০০ টাকা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বিকল্প হিসেবে। কথা ছিল স্পষ্ট — যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরা সবাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন। ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতি আজ রাজ্যের ঘরে ঘরে প্রতারণার নাম।

আর স্পষ্ট করে বলে রাখা দরকার — এটা বিজেপির কোনো দয়া বা ভিক্ষা নয়। এটা জনগণের ট্যাক্সের টাকা, জনগণেরই প্রাপ্য, যা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা সরকারের। কিন্তু "যোগ্য-অযোগ্য" বাছাইয়ের নামে লক্ষ লক্ষ মহিলাকে আজ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

সরকারের নিজের হিসেবেই ধরা পড়ে গেছে দুর্নীতি বা অক্ষমতা — প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল, আরও ১৪ লক্ষ যাচাইয়ের নামে আটকে। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ছিলেন, তাঁদেরই এখন নতুন করে "যোগ্যতা প্রমাণ" করতে হচ্ছে — এটা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাজ্যজুড়ে বিস্ফোরণ — এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ:

📍 মধ্যমগ্রাম — খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সভার সামনে প্রশ্নবিদ্ধ শুভেন্দু অধিকারী
📍 মাথাভাঙ্গা ১ ব্লক (কোচবিহার) — নথি জমা দিয়েও টাকা নেই, বিডিও অফিসে পথ অবরোধ
📍 বারাসাত পৌরসভা — রণক্ষেত্রের চেহারা
📍 হলদিবাড়ি — ক্ষুব্ধ মহিলার সরাসরি হুঁশিয়ারি
📍 উদয়নারায়নপুর (হাওড়া) — হাজার হাজার মহিলার জমায়েত, বিধায়কের ইস্তফার দাবি
📍 আসানসোল — মহিলাদের বিক্ষোভ
📍 বিকনা (বাঁকুড়া) — রাজ্য সড়ক অবরোধ
📍 মশাট পঞ্চায়েত, চণ্ডীতলা (হুগলি) — বারবার ফর্ম জমা দিয়েও ফল শূন্য, অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না মহিলারা

রাজ্যে এখনও পর্যন্ত একটাও বড় সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি বের হয়নি। লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতী আজও কর্মসংস্থানের অপেক্ষায়। যতদিন না সরকার প্রতিটি বেকারের হাতে চাকরি তুলে দিতে পারছে, ততদিন এই ৩,০০০ টাকা বন্ধ করার কোনো অধিকার সরকারের নেই। এটা করুণা নয়, এটা ন্যূনতম দায়বদ্ধতা — নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার, নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকারের।

মশাটের মহিলাদের কথাতেই সব স্পষ্ট —"আমরা পাবার যোগ্য, তবুও কেন দিনের পর দিন হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে?"

ভোট নেওয়ার সময় কোনো শর্ত ছিল না। আজ টাকা দেওয়ার সময় শুধুই টালবাহানা, শুধুই "যাচাই"-এর নামে হয়রানি। বাংলার মহিলারা রাস্তায় নেমেছেন নিজেদের প্রাপ্য টাকার জন্য — আর সরকার ব্যস্ত প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ফারাক লুকোতে।

এই প্রতারণার রাজনীতি বাংলা ভুলবে না।

অসমের ধুবড়ি জেলায় ১,৪০০ বাঙালি-মুসলিম পরিবারের ভিটেমাটি গুঁড়িয়ে দিয়ে যে জমি খালি করা হয়েছিল, ঠিক তার উপরেই রোববার ...
22/09/2026

অসমের ধুবড়ি জেলায় ১,৪০০ বাঙালি-মুসলিম পরিবারের ভিটেমাটি গুঁড়িয়ে দিয়ে যে জমি খালি করা হয়েছিল, ঠিক তার উপরেই রোববার আদানি পাওয়ারের ৩,২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। যাকে তিনি বলছেন অসমের "সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প", সেই ৪৮,০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত আসলে গড়া হয়েছে গত বছরের জুলাইয়ে চাপর সার্কেলের চারুয়াবাখরা, চিরাকুটা, সান্তোষপুর গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষকে উচ্ছেদ করার উপর — এমন মানুষ, যাঁরা তিন-চার দশক ধরে সেই জমিতে ছিলেন, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে ভিটে হারিয়ে যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

আদানি পাওয়ার পরিবেশ মন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছিল, ওই জায়গায় নাকি কোনও জনবসতিই ছিল না, তাই পুনর্বাসনের প্রশ্নই ওঠে না। অথচ স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ শেখ স্পষ্ট বলেছেন, জোর করে উচ্ছেদ চালিয়েই সরকার জমি "ফাঁকা" দেখিয়েছে। যাঁদের জমির পাট্টা ছিল, তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি, কাগজপত্র জমা পড়েছে শুধু। পুনর্বাসনের নামে বৈজার আলগা গ্রামে যে তিনশো বিঘা আর মাথাপিছু পঞ্চাশ হাজার টাকা "ত্রাণ" দেওয়া হয়েছে, সেটাও ব্রহ্মপুত্রের মাঝের নিচু, বানভাসি এলাকা — যেখানে যেতে মানুষ নিজেরাই রাজি নন।

অর্থাৎ প্রথমে বুলডোজার, তারপর মিথ্যা হলফনামা, তারপর ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠান আর গালভরা প্রতিশ্রুতি — কুড়ি হাজার চাকরি, পাঁচ হাজার চাকরি। এই পুরো প্রক্রিয়াটাই এখন অসম সরকারের একটা প্রশাসনিক রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে: বাঙালি-মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা চিহ্নিত করো, "সরকারি জমি" বলে ঘোষণা করো, উচ্ছেদ চালাও, তারপর সেই জমি তুলে দাও করপোরেট প্রকল্পের হাতে। ২০১৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক এমন উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত আটজন মুসলিম গুলিতে নিহত হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হল ধুবড়ি, আর লাভের ঘরে আদানি গোষ্ঠী।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা যে সরকার চালান, সেটা আর যাই হোক জনগণের সরকার নয় — সেটা আদানির জমি জোগাড় করে দেওয়া একটা দালাল প্রশাসন, যার কাজ হল গরিব মানুষকে উৎখাত করে করপোরেট মালিকের হাতে লাল ফিতেয় বাঁধা জমি তুলে দেওয়া। ভিত্তিপ্রস্তরে যতই ফুল ছড়ানো হোক, তার নিচে এখনও লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মানুষের ভাঙা ঘরের ইট।

সরকারি চাকরি — বেকার যুবসমাজের কাছে যা এখনও সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। অথচ কর্ণাটকে গত কয়েক বছরে সেই...
20/09/2026

সরকারি চাকরি — বেকার যুবসমাজের কাছে যা এখনও সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। অথচ কর্ণাটকে গত কয়েক বছরে সেই স্বপ্নকে ঘিরেই একের পর এক দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে — যেখানে প্রশ্নপত্র বিক্রি হয় টাকার বিনিময়ে, ভুয়ো নথিতে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যকে, আর যাঁর হাতে গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকার কথা, সেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদেই বসে পড়েন বিতর্কিত ব্যক্তিরা। নিচের চারটি দৃশ্য আলাদা আলাদা মনে হলেও, আসলে এরা একই একটা বড় কাহিনির অংশ — কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কেপিএসসি)-কে ঘিরে গড়ে ওঠা কেলেঙ্কারির কাহিনি।

ঘটনা ১।
একটি সরকারি পদের জন্য আবেদন করা কয়েকজন প্রার্থীর কাছে হঠাৎ অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে — চাকরি পাইয়ে দেওয়ার এক "সুবর্ণ সুযোগ" নিয়ে। বাছাই করা প্রার্থীদের পরীক্ষার আগে নিয়ে যাওয়া হয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা এক রিসর্টে। সেখানেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রশ্ন ও উত্তরের তালিকা, তারপর সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয় পরীক্ষাকেন্দ্রে। প্রতি প্রার্থীর থেকে নেওয়া হয় ৮০ লক্ষ টাকা — ৪০ লক্ষ আগে, ৪০ লক্ষ কাজ হয়ে যাওয়ার পর।

ঘটনা ২।
রাজ্যের একটি বড় সরকারি দপ্তরে ওবিসি কোটায় এক মহিলার চাকরি হয়। জমা দেওয়া আয়ের শংসাপত্রে পারিবারিক বার্ষিক আয় লেখা ৪০ হাজার টাকা। অথচ পরে জানা যায়, তাঁর বাবা নিজেই একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, যাঁর একার মাসিক আয় ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।

ঘটনা ৩।
দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের এক কর্মী, পাশাপাশি পিডব্লিউডি-র ঠিকাদারও। তাঁর নিজের নামে একটি নির্মাণ সংস্থা আছে, যেখানে স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রীর ১০% অংশীদারি এবং ডিরেক্টর পদ। একদিন স্ত্রীকে সেই ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় — আর ঠিক তার পরদিনই তিনি রাজ্যের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন।

ঘটনা ৪।
এক ব্যক্তিকে এক প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়, তাঁর কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং নিয়মানুবর্তিতার অভাবে চুক্তি আর বাড়ানো হবে না। এরপর কয়েক বছর তিনি ছোটখাটো কাজ করেন, অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদে টাকা ধার দেন। তারপর একদিন খবর আসে — তিনিই রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হয়েছেন।

কর্ণাটক পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কেপিএসসি)-র চেয়ারম্যান সাহুকারকে গত ২৫ আগস্ট বরখাস্ত করা হয়। এই বরখাস্তের পেছনে দুটি বড় ঘটনা কাজ করেছে। প্রথমত, তাঁর কন্যার রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরে চাকরি পাওয়া — যেখানে আবেদনপত্রে বাবার আয়ের তথ্য ভুলভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, ৪০০ জন ভেটেরিনারি অফিসার নিয়োগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা।

সাহুকারের ২৮ বছর বয়সি কন্যা সুমা সাহুকার শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সটেনশন অফিসার পদে ওবিসি কোটায় নিয়োগ পান। অভিযোগ, এই নিয়োগে ব্যবহৃত হয়েছিল একটি ভুয়ো আয়ের শংসাপত্র।

এই কাহিনিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র শকুন্তলা দুন্ডি গৌদর, যাঁর প্রবেশ ঘটে ২০২৩ সালে। ২০২৪-এর ২৫ জুলাই তাঁকে সাহুকারের বিরুদ্ধে গঠিত কেপিএসসি-র অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। ঠিক তিন দিনের মাথায় সরকার গোটা তদন্তভার তুলে দেয় সিআইডি-র হাতে।

এভাবেই ধাপে ধাপে জট পাকিয়েছে শিবশঙ্করাপ্পা এস. সাহুকার আর কেপিএসসি-কে ঘিরে অনিয়মের জাল।

এবার আসল কথায় আসি। এই খবরটা যদি বিজেপি-শাসিত কোনো রাজ্যে ঘটত, তাহলে কংগ্রেস আর তার সমর্থকরা ঠিক যতটা সোচ্চার হতো, ততটাই সোচ্চার হওয়া উচিত এখানেও — কারণ সত্যিটা হলো, দুর্নীতির প্রশ্নে বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে কোনো মৌলিক ফারাক নেই। রাজস্থান হোক বা কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ হোক বা তেলেঙ্গানা — নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, ওএমআর কারচুপি, ঘুষের বিনিময়ে চাকরি — এই একই চিত্র বারবার ফিরে এসেছে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন। দুই দলই আসলে একই পুঁজিবাদী-আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিনিধি, যেখানে সাধারণ মানুষের চাকরি, ভবিষ্যৎ আর ন্যায্য প্রাপ্য কিছুই আসল অগ্রাধিকার নয় — অগ্রাধিকার হলো ক্ষমতার আসনে বসে থাকা কিছু মানুষ আর তাঁদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষা করা।

তাই বেকার যুবক-যুবতীদের মনে রাখা দরকার — লড়াইটা "এই দল বনাম ওই দল" নয়। লড়াইটা একটা গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যে ব্যবস্থা সবুজ হোক বা গেরুয়া রঙ বদলে বদলে একইভাবে সাধারণ মানুষকে শোষণ করে চলে। যতদিন না জবাবদিহিতা আর স্বচ্ছতা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন এক দলকে সরিয়ে আরেক দলকে বসালে ফলাফল একই থেকে যাবে।

মুকুটমণিপুর একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা  আজ সকাল থেকে একাধিক দাবিতে পথ অবরোধ করেন। মুকুটমণিপুর গোড...
19/09/2026

মুকুটমণিপুর একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ সকাল থেকে একাধিক দাবিতে পথ অবরোধ করেন। মুকুটমণিপুর গোড়াবাড়ির রাস্তায়, বিদ্যালয়ের সামনেই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বসে পড়ে ছাত্র-ছাত্রীরা এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে অবরোধ চালিয়ে যান।
পড়ুয়াদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে দুর্ব্যবহার ও হেনস্তা করেন। তাদের আরও অভিযোগ, হোস্টেলে খাবারের মান নিয়ে সমস্যা রয়েছে, এবং সরকারিভাবে বরাদ্দ বই, ব্যাগ-সহ বিভিন্ন সামগ্রী ও অনুদান ঠিকমতো দেওয়া হয় না। কিছু ছাত্রছাত্রীর দাবি, নানা কথা বলে তাদের অপমান করা হয়।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খাতড়া থানার পুলিশ। পরে সেখানে যান খাতড়ার মহকুমা শাসক, এসডিপিও এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। পড়ুয়াদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেও অবরোধ তুলতে রাজি করানো যায়নি। দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পরেও প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তার উপর অবস্থান চালিয়ে যান পড়ুয়ারা।
পড়ুয়াদের পাশাপাশি কয়েকজন অভিভাবকও অভিযোগ করেন যে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম চলছে। ছাত্রী মণিদীপা মুর্মুর বাবা বাবলু মুর্মু বলেন, বাচ্চাদের ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হয় না বলে তিনি জেনেছেন, এবং শিক্ষক ও পড়ুয়াদের জন্য আলাদা খাবার তৈরি হয় বলেও অভিযোগ শুনেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে মেয়ে তাঁর সঙ্গে আগে কিছু শেয়ার করেনি, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।
এই ঘটনাটা বিচ্ছিন্ন কোনো অব্যবস্থাপনা নয় — এটা শাসকগোষ্ঠী আদিবাসী শিশুদের শিক্ষাকে ঠিক কতটা গুরুত্ব দেয়, তার একটা জ্বলন্ত প্রমাণ। একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলগুলো তৈরিই হয়েছিল এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে আদিবাসী পড়ুয়ারাও মূলস্রোতের শিক্ষার সুযোগ পাবে, মর্যাদার সঙ্গে থাকবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি — যে বাচ্চাদের জন্য প্রতিষ্ঠানটা তৈরি, তারাই সেখানে সবচেয়ে অবহেলিত, সবচেয়ে কম গুরুত্বপ্রাপ্ত।
শিক্ষক আর পড়ুয়াদের জন্য আলাদা খাবার তৈরি হওয়ার অভিযোগ নিছক প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, এটা একটা মানসিকতার প্রতিফলন — যেখানে আদিবাসী শিশুরা শাসকগোষ্ঠীর চোখে সমান নাগরিক নয়, বরং করুণার পাত্র। সরকারি বরাদ্দ বই, ব্যাগ, অনুদান ঠিকমতো না পৌঁছনো দেখিয়ে দেয় কাগজে-কলমে যে প্রকল্পগুলো ঘোষণা হয়, বাস্তবে তার সুফল প্রান্তিক মানুষদের কাছে পৌঁছয় না। আর যেভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দায় এড়িয়ে বলছেন তাঁকে কিছু জানানো হয়নি, লিখিত অভিযোগ ছিল না — এই ভাষাই বলে দেয় প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে জবাবদিহিতার কতটা অভাব। বাচ্চাদের অভিযোগ শোনার, তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কোনো নিয়মিত ব্যবস্থাই যেন নেই — অভিযোগ জমতে জমতে যখন রাস্তায় নামা ছাড়া উপায় থাকে না, তখনই প্রশাসনের টনক নড়ে।
এই যে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় বসতে বাধ্য হল, সেটা আসলে দেখিয়ে দিল প্রান্তিক সম্প্রদায়ের কল্যাণে শাসকের প্রতিশ্রুতি কতটা ফাঁপা। যতক্ষণ না পর্যন্ত আদিবাসী পড়ুয়াদের শিক্ষা আর সম্মানকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হবে, ততক্ষণ এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে — আর প্রতিবারই দায় এসে পড়বে সেই শিশুদের কাঁধে, যাদের কণ্ঠস্বর শোনার কথা ছিল শাসকগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি।

রাজ্যে হঠাৎ করে একটা সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে, যেটা নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, ততটা এখনও হচ্ছে না। গত আগস্টে UDISE+ ...
19/09/2026

রাজ্যে হঠাৎ করে একটা সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে, যেটা নিয়ে যতটা আলোচনা হওয়া উচিত ছিল, ততটা এখনও হচ্ছে না। গত আগস্টে UDISE+ প্লাসের রিপোর্টে বেরিয়েছিল, রাজ্যে প্রায় ৪,১৩৩টা সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে একজনও ছাত্রছাত্রী নেই। অথচ সেই স্কুলগুলোতেই এখনও প্রায় ১৯ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা আর অশিক্ষক কর্মী মাইনে পাচ্ছেন। এতদিন এই তথ্য চাপা পড়েছিল ফাইলের নিচে, কিন্তু এবার নবান্ন নড়েচড়ে বসেছে — জেলাশাসকদের নির্দেশ গেছে, প্রতিটা ছাত্রশূন্য স্কুলের জমি, ভবন, সম্পত্তির হিসেব কষে ফেলতে। উদ্দেশ্য একটাই, এই বিপুল সরকারি সম্পত্তি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া।

খেয়াল করার মতো ব্যাপার হলো, স্কুলে ছাত্র নেই কেন, এই প্রশ্নটার উত্তর খোঁজার কোনো তাগিদ সরকারের নেই। গ্রামের পর গ্রাম থেকে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে চলে যাচ্ছেন, লোকাল স্কুলের পরিকাঠামো এমন বেহাল যে অভিভাবকরা প্রাইভেট স্কুলে বাচ্চা ভর্তি করাতে বাধ্য হচ্ছেন, আর সবচেয়ে বড় কথা — শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াটাই বছরের পর বছর ধরে কার্যত থমকে আছে। শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না, ফলে যেখানে ছাত্র আছে সেখানে শিক্ষক নেই, আর যেখানে ছাত্র নেই সেখানে শিক্ষক বসে আছেন। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল — বদলি নীতি আর নিয়োগ প্রক্রিয়া দুটোই বছরের পর বছর অচল রাখা হয়েছে।

আর এই জায়গাতেই সরকারের কথা আর কাজের মধ্যে ফারাকটা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই বছরেরই বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, শিক্ষা দপ্তরে পঞ্চাশ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ হবে। মাস তিনেক পেরিয়ে গেছে, সেই ঘোষণার কোনো বাস্তব চিহ্ন এখনও মাঠে-ময়দানে দেখা যাচ্ছে না — না বিজ্ঞপ্তি, না প্রক্রিয়া শুরুর কোনো লক্ষণ। বাজেটের পাতায় প্রতিশ্রুতি থাকে, বাস্তবে থাকে শুধু ফাঁকা ক্লাসরুম আর ঝুলে থাকা নিয়োগ।

ছাত্র ফেরানোর প্রকল্প নেই, শিক্ষক বসানোর প্রক্রিয়া নেই, কিন্তু জমি বিক্রির প্রকল্পের নাম ঠিক হয়ে গেছে — "পুনরুজ্জীবন প্রকল্প"। ২০২২ সালেও একবার এই সরকার একই রাস্তায় হাঁটতে গিয়েছিল, তখন শিক্ষক সংগঠনগুলোর প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে বলেছিল, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এবার সেই একই স্ক্রিপ্ট আবার চালু হয়েছে, শুধু প্যাকেজিংটা পাল্টেছে — এখন নাম "পুনরুজ্জীবন", ভাষাটা উন্নয়নের, কিন্তু গন্তব্য একই জায়গায়।

স্কুল খালি হয়ে যাওয়াটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, বিক্রি করে দেওয়াটা তার সমাধান নয়।

আজ পেরিয়ারের জন্মদিন।আর আজকেই খবর পাওয়া যাচ্ছে বিহারে একটি পরিবার তাদের ঘরের এক মেয়ের 'প্রতীকী শেষকৃত্য' করেছে। মেয়েটির ...
17/09/2026

আজ পেরিয়ারের জন্মদিন।

আর আজকেই খবর পাওয়া যাচ্ছে বিহারে একটি পরিবার তাদের ঘরের এক মেয়ের 'প্রতীকী শেষকৃত্য' করেছে। মেয়েটির অপরাধ কী? তার অপরাধ হলো সে উঁচু জাতের হয়েও একটি দলিত ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে!

সালটা ২০২৬। পেরিয়ার আজও প্রাসঙ্গিক।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ঘোষণা হয়েছিল—ইউপিআই আর রুপে ডেবিট কার্ডে কোনো এমডিআর লাগবে না। "ডিজিটাল ইন্ডিয়া", "ফিনান্সিয...
16/09/2026

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ঘোষণা হয়েছিল—ইউপিআই আর রুপে ডেবিট কার্ডে কোনো এমডিআর লাগবে না। "ডিজিটাল ইন্ডিয়া", "ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন"—শব্দগুলো তখন খুব চলছিল। "ইউপিআই একটা পাবলিক গুড, এটাকে মনিটাইজ করা হবে না"—২০২৩ সালের বাজেট বক্তৃতায় স্বয়ং অর্থমন্ত্রী এই কথা বলেছিলেন।

অথচ ঠিক সেই বছরই, ওই বক্তৃতার কিছুদিনের মধ্যে, এপ্রিল মাস থেকে দু হাজার টাকার বেশি অঙ্কের ওয়ালেট বা প্রিপেইড ইনস্ট্রুমেন্ট দিয়ে করা ইউপিআই লেনদেনে ব্যবসায়ীদের ওপর শূন্য দশমিক পাঁচ থেকে এক দশমিক এক শতাংশ পর্যন্ত ইন্টারচেঞ্জ চার্জ বসানো হয়ে গেছে। তারপর রুপে ক্রেডিট কার্ড ইউপিআইয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলো, আর দু হাজার টাকার ওপরে সেখানেও প্রায় দুই শতাংশ চার্জ ঢুকে গেল ভেতরে ভেতরে। প্রচার হয়নি, কারণ তখন কম মানুষ ওয়ালেট বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ইউপিআই করত—"৯৯.৯ শতাংশ লেনদেনই এখনও ফ্রি" বলে ব্যাপারটা চাপা দেওয়া গিয়েছিল।

গত বছর, ২০২৫ সালের জুনে, যখন গুজব উঠল যে এই একই পথে হেঁটে এবার সব ইউপিআই লেনদেনেই এমডিআর বসতে চলেছে, তখন অর্থ মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে অস্বীকার করল—বলল, এসব "সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর"। ঠিক এক বছরের মাথায়, এই ১৫ অক্টোবর থেকে, দু হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ব্যবসায়ীদের ওপর শূন্য দশমিক চার শতাংশ এমডিআর বসছে, পঁচাত্তর হাজার টাকার ওপরে সর্বোচ্চ তিনশো টাকা পর্যন্ত। বলা হচ্ছে সাধারণ মানুষ ছোঁয়াই পাবে না, ব্যবসায়ীদের নাকি এই টাকা গ্রাহকের ঘাড়ে চাপাতেও মানা করা হয়েছে।

অথচ যে কোনো দোকানদার জানে, খরচ বাড়লে সেটা কোনো না কোনোভাবে দামেই ফেরে—নির্দেশিকা দিয়ে সেটা আটকানো যায় না, শুধু নামটা বদলায়।

গল্পটা নতুন কিছু না, আর শুধু ইউপিআইয়েরও না। ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে ছেলেটা বলেছিল "জিরো ব্যালেন্স, একদম ফ্রি", তার প্রতিশ্রুতিও একই পথে হেঁটেছে। এটিএম কার্ডের বার্ষিক ফি প্লাস আঠারো শতাংশ জিএসটি বসেছে। অন্য ব্যাংকের এটিএমে পাঁচবারের বেশি গেলে তেইশ টাকা প্লাস জিএসটি। নিজের শাখাতেই চারবারের বেশি নগদ লেনদেনে দেড়শো টাকা পর্যন্ত। ব্যালেন্স কম থাকলে একশো থেকে ছশো টাকা। চেক বাউন্সে আড়াইশো থেকে পাঁচশো টাকা। এসএমএস অ্যালার্টে ত্রৈমাসিকে পনেরো-কুড়ি টাকা। পঁচিশ পাতার বেশি চেকবইয়ে পাতাপ্রতি দুই-পাঁচ টাকা। শাখা থেকে এনইএফটি-আরটিজিএস-আইএমপিএসে দুই-পঁচিশ টাকা। আর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতেও দুশো-পাঁচশো টাকা। দশ রকমের চার্জ, প্রতিটাই এসেছে ধাপে ধাপে, কেউ টেরও পায়নি কবে।

একই প্যাটার্ন—প্রথমে জিনিসটা বিনামূল্যে সবার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়, অভ্যাস তৈরি করানো হয়, নগদকে "পুরনো" বানিয়ে দেওয়া হয়। তারপর একে একে, একটু একটু করে, দরজাগুলো বন্ধ হতে শুরু করে, প্রতিবারই "এটা তো অল্প কিছু মানুষের ব্যাপার" বলে। ব্যাংকের চার্জের বয়স কয়েক দশক, ইউপিআইয়ের চার্জের বয়স মাত্র তিন বছর—হিসেবটা একই খাতায় লেখা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রক অবশ্য মিথ্যে বলেনি, কোনোদিনই বলেনি। ২০২৫ সালে সত্যিই কোনো নতুন পরিকল্পনা ছিল না। পরিকল্পনাটা তো ২০২৩ সাল থেকেই চলছিল, আর ব্যাংকের বেলায় তারও অনেক আগে থেকে—একটু একটু করে।

মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলার কয়েকজন কৃষক একদিন জানতে পারলেন, তাঁদের নামে সরকারকে মুগ বিক্রি হয়েছে। অথচ তাঁরা মুগ চাষই কর...
16/09/2026

মধ্যপ্রদেশের রায়সেন জেলার কয়েকজন কৃষক একদিন জানতে পারলেন, তাঁদের নামে সরকারকে মুগ বিক্রি হয়েছে। অথচ তাঁরা মুগ চাষই করেননি। কোনও রেজিস্ট্রেশন করেননি, সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে যাননি, কোনও কাগজে সইও করেননি। তারপরও তাঁদের জমির কাগজ ব্যবহার করে তাঁদের নামে মুগ বিক্রি দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

বাদি তহসিলের তিনটি সমবায় সমিতির তিন কম্পিউটার অপারেটর—শ্রীরাম ঠাকুর, রঞ্জিত ঠাকুর আর গৌরব ঠাকুর—বাজার থেকে কম দামে মুগ কিনতেন। তারপর কৃষকদের নামে সেই মুগ সরকারকে বেশি দামে বিক্রি করতেন। কৃষকদের জমির রেকর্ড তাঁদের হাতে থাকত। সেই রেকর্ড ব্যবহার করেই কৃষকদের না জানিয়ে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। শ্রীরাম একাই প্রায় সাড়ে বারো হেক্টর জমির নামে রেজিস্ট্রেশন করে ১৩ লক্ষ টাকার বেশি তুলেছেন। অথচ ওই মুগের বাজারদর ছিল প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকা। বাকিরাও একইভাবে টাকা তুলেছেন।

ঘটনাটা সামনে আসে রাজীব প্যাটেলের কারণে। নিজের নামে এমন একটা কাগজ দেখে তিনি অবাক হয়ে যান, যেখানে দেখানো হয়েছে তিনি মুগ বিক্রি করেছেন। অথচ তিনি কিছুই জানেন না। পরে বাবুলাল, চন্দ্রভান সিং প্যাটেল, সন্দীপ প্যাটেল-সহ আরও কৃষক একই অভিযোগ করেন। তাঁদের নাম, জমি সব ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি।

আরও বড় কথা হল, এই অভিযোগ নিয়ে সমবায় দপ্তর দু’বার তদন্ত করেছে। দু’বারই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রীরামকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করা হয়। পরে গৌরব ও রঞ্জিতের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলার পরেও পুলিশে মামলা পাঠানো হয়নি। তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এই অপারেটররা একা এত কিছু করল কীভাবে? তাঁদের উপরে যারা ছিল, তারা কী করছিল?

আর এই ঘটনা সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন আসল কৃষকরা মুগের ন্যায্য দাম আর সরকারি কেনাকাটার জন্য আন্দোলন করছেন। একজন কৃষক নিজের ফলানো মুগ নিয়ে সরকারি কেন্দ্রে গিয়ে দাম পাচ্ছেন না। আর অন্যদিকে কেউ বাজার থেকে সস্তায় মুগ কিনে কৃষকের নাম ব্যবহার করে সরকারকে বেশি দামে বিক্রি করছে।

এটাই আসল কথা—সরকারি ব্যবস্থা কৃষককে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু সেই ব্যবস্থার মধ্যেই যদি কৃষকের নাম চুরি করে অন্যরা টাকা বানায়, তাহলে শুধু তিনজনকে দোষী বললেই হবে না। যারা এই কাজ দেখেও আটকায়নি, তাদেরও জবাব দিতে হবে।

কৃষকের নামে ঋণ হয়, কৃষকের নামে ভর্তুকি হয়, কৃষকের নামে ভোট চাওয়া হয়। কিন্তু কৃষকের নিজের ফসলের টাকাটাও যদি অন্য কেউ নিয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন একটাই—এই ব্যবস্থা আসলে কার জন্য?

Address


700011

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আজাদ গণ মোর্চা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to আজাদ গণ মোর্চা:

Shortcuts

  • Want your organization to be the top-listed Government Service?

Share