Pujo Premi - পুজো প্রেমী

Pujo Premi - পুজো প্রেমী Celebrate traditions, cherish togetherness. From anjali to adda, Pujo is all about creating memories.

বাংলার অত্যন্ত প্রিয় উৎসব রথযাত্রা। এই বঙ্গভূমির বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়। আর কথায় বলে রথ টা...
28/07/2026

বাংলার অত্যন্ত প্রিয় উৎসব রথযাত্রা। এই বঙ্গভূমির বিভিন্ন প্রান্তে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়। আর কথায় বলে রথ টানলে দুর্গা আসে। এই রথযাত্রার সঙ্গে বাঙালির প্রিয় উৎসব শারদোৎসবের এক নিবিড় যোগ আছে ।এই রথযাত্রার পরবর্তী প্রধান বড় উৎসব এই বাংলায় দুর্গোৎসব ।প্রধান বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় তাতে কাঠের নির্মিত রথেই শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব ও বিভিন্ন পারিবারিক অন্যান্য কুলদেবতারা অধিষ্ঠান করেন । কিন্তু এই বাংলার কিছু স্থানে ধাতব রথ দেখতে পাওয়া যায় যেমন লোহা, পিতল, সোনা বা রূপো দিয়ে নির্মিত রথ ।এমনই এক রথযাত্রার কথা বলবো আজকে । যেখানে পিতলের রথে ভগবান আরোহন করেন । হুগলী জেলার চুঁচুড়ার আনুমানিক ছয়শো বছরের প্রাচীন হালদার বাড়ির রথ পিতলের এক চূড়া বিশিষ্ট রথে হালদার পরিবারের কুলদেবতা শালগ্রাম শিলা নারায়ণ শ্রী শ্রী বাসুদেব জিউ অধিষ্ঠান করেন। রথের মাথায় রয়েছে সুদর্শন চক্র ও ভগবান বিষ্ণুর বাহন গরুড় পক্ষী রথের মাথা থেকে ছয়টি ঘন্টা বাঁধা রয়েছে । রথের নীচে দুটি পিতলের ঘোড়া যারা রথটিকে যেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে । রথের উপরিভাগে একটি কক্ষ আছে যার ভিতরে সিংহাসনে বসে থাকেন শ্রী শ্রী নারায়ণ বাসুদেব জিউ ও ঠিক তার সামনে মাঝারি ভাগে বসে আছে পিতলের সারথীর মূর্তি ও রথের নিম্নভাগে দুই পাশে দুটি পিতলের সিপাই বিদ্যমান । সোজা ও উল্টোরথ দুই দিনই রথ সাজিয়ে তার ভিতরে নারায়ণ কে বসিয়ে বিধি মেনে পূজার্চ্চনার পরে রথ টানা হয় । এই বাড়ির উপরের ঠাকুর ঘরে শ্রী শ্রী বাসুদেব জিউ থাকেন ও নিত্য সেবিত হন । রথের সময় তাঁকে নামিয়ে রথে বসানো হয় রথযাত্রা ও পুনর্যাত্রা দুই দিনই সন্ধ্যাবেলাতে রথ টানা হয় । এই বাড়িতে একটি দুর্গা দালান আছে সোজা রথের দিনে দেবী দুর্গার কাঠামো পূজা হয় । এখানে দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী সিংহবাহিনী দশভুজা ত্রিনয়নী বিগ্রহের পূজা হয় । এক চালার প্রতিমাতে দেবী দুর্গার সাথে তাঁর চার পুত্র কন্যা লক্ষ্মী , সরস্বতী , কার্তিক ও গণেশ রয়েছেন ।চুঁচুড়া হালদার বাড়ির শারদীয়া দুর্গা পূজা আনুমানিক চারশো বছরের প্রাচীন । চুঁচুড়ার ষন্ডেশ্বরতলার পাশে শ্মশানের কাছে গঙ্গার ঘাটে এক হতদরিদ্র ব্রাহ্মণ পূর্ণ কুটির নির্মাণ করে বসবাস করতেন। গঙ্গায় নৌকা করে যে সব যাত্রীরা যেত তারা ওই ব্রাহ্মণের কুটিরেই রাত্রি যাপন করতেন ।একদিন কোনো এক ঝড় জলের রাত্রে এক বৃহন্নলা তাঁর কুটিরে আশ্রয় চান ব্রাহ্মণ সেই বৃহন্নলাকে থাকতে দিয়ে তিনি শ্মশানে শুতে চলে যান। ভোর বেলা তিনি কুটিরে ফিরে দেখেন সেই বৃহন্নলা নেই, কিন্তু পরে আছে এক ঘোড়া সোনার মোহরের কলস। সেই রাত্রেই তিনি দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান ও দেবী ভগবতী তাঁকে বলেন যে দেবী দুর্গার জন্যে ওই স্বর্ণ মোহর দিয়ে দালান নির্মাণ করে দেবী আরাধনা করতে। তিনি দেবীর আদেশ মতো গঙ্গার তীরবর্তী এই স্থানে দূর্গা দালান সহ প্রাসাদপ্রম ভবন নির্মাণ করিয়ে সানন্দে শারদীয়া দূর্গা পূজার আয়োজন করেন । সেই থেকে কুলদেবতা শ্রী শ্রী বাসুদেব জিউর ঠাকুরবাড়িতে শারদীয়া দূর্গা পূজার সূচনা হয়। এই দূর্গা দালান ও স্থাবর সম্পত্তি দেবোত্তর সম্পত্তি হিসাবে বিবেচিত হয় । শারদীয়া দুর্গা পূজার ও কুলদেবতা শ্রী শ্রী বাসুদেব জিউর সেবার ভাগ আগে পাঠক বংশের ওপরেই ছিল, সেই কারণে চুঁচুড়ার এই জায়গার নাম হয় পাঠক গলি ও গঙ্গার ঘাটের নাম পাঠক ঘাট ।হালদার বংশের পূর্ব পুরুষ শ্রী মাধব হালদারের পুত্র শ্রী নবীন চন্দ্র হালদারের সাথে শ্রী বৃন্দাবন পাঠকের একমাত্র কন্যা কুসুম কুমারীর বিবাহ হয় । তাই পরবর্তী কালে কুসুম কুমারী দেবীর পুত্র ও বংশধরেরাই এই দেব সেবার ও দেবোত্তর সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করেন । সেই থেকে এই পূজা হালদার বাড়ির পূজা নামে বিখ্যাত হয় । রথযাত্রার পরে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয় । আগে কৃষ্ণনগর থেকে কুমোর আসত। এখন স্থানীয় কুমোরই প্রতিমা নির্মাণ করেন। প্রতিপদাদি কল্পারম্ভে দেবী দুর্গার পূজা আরম্ভ হয়। ষষ্ঠীর দিনে বেলতলায় বোধন , সপ্তমী নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপনের দ্বারা দেবী দুর্গার আগমন ঘটে । প্রতিদিন আরতি পুষ্পাঞ্জলী চন্ডীপাঠ ভোগারতি হয় বিধি মেনে । অষ্টমীর দিন ধুনো পোড়ানো হয়।নবমীর সকালে কুমারী পুজো হয়। দশমীর দিন অপরাজিতা ধারণ হালদার বাড়ির পুজোর একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য।অপরাজিতা ধারণ করে শ্রী শ্রী ষণ্ডেশ্বর শিবের মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে ও বাবা কে প্রদক্ষিণ করে সকলে বাড়ি ফিরে আসেন । যতক্ষণ না বিসর্জন হয়, ততক্ষণ হালদার বাড়িতে উনুন ধরানো হয়না। হালদার বাড়ির পুজোয় প্রতিপদ থেকে নবমী এই নয় দিন ধরে নিরামিষ খাওয়া হয়। তাতে শুক্তো ও বড়ি দিয়ে তেঁতুলের টকের পদ থাকে প্রতিদিন । পুজোয় রাঁধুনী আসে সেই ওড়িশার বালাসোর থেকে।হালদার বাড়ির শুক্তো নাকি অপূর্ব খেতে হয় ও মুখে লেগে থাকে এরকমই তার স্বাদই আলাদা।পরিবারের সবার জন্য তো বটেই, বাইরে থেকে যে সব অতিথিরা আসেন , সবার জন্য খাওয়াদাওয়ার বন্দোবস্ত থাকে পুজোর ক’টা দিন। দুর্গা দালানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয় পুজোর কটা দিন ।এই ভাবেই রথযাত্রা ও শারদীয়া দূর্গা পূজা আজও পুরানো ঐতিহ্য মেনে পালন করে চলেছে চুঁচুড়ার হালদার পরিবার।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
চুঁচুড়া হালদার বাড়ির রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে শ্রী শ্রী বাসুদেব জিউ ও দেবী দুর্গার কাঠামোর বিশেষ পুণ্য দর্শন
স্থান : হালদার বাড়ি ( চুঁচুড়া , হুগলী )
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

সোনারপুর শীতলা মৈত্রী সংঘের ২০২৬ শারদোৎসব শুভারম্ভ রথযাত্রার পুন্য তিথিতে খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠান দিয়ে
28/07/2026

সোনারপুর শীতলা মৈত্রী সংঘের ২০২৬ শারদোৎসব শুভারম্ভ রথযাত্রার পুন্য তিথিতে খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠান দিয়ে

"হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারিং সুরপতে হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে। অহো! দীননাথং নিহিতমচলং নিশ্চিতপদং জগন্নাথঃ স্বা...
26/07/2026

"হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারিং সুরপতে
হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে।
অহো! দীননাথং নিহিতমচলং নিশ্চিতপদং
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে॥"
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ শয়ন একাদশী ১৪৩৩
শুভ শয়ন একাদশী উপলক্ষে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব, বলভদ্র দেব ও সুভদ্রা মহারানীর সুনা বেশের পুণ্য দর্শন
স্থান : শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব প্রাঙ্গণ ( বাগবাজার )
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিঞ্ছং কটিতটেদুকূলং নেত্রান্তে সহচরকটাক্ষং বিদধতেসদা শ্রীমদ্বৃন্দাবনবসতিলীলাপরিচয়োজগন্নাথস্বা...
26/07/2026

ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিঞ্ছং কটিতটে
দুকূলং নেত্রান্তে সহচরকটাক্ষং বিদধতে
সদা শ্রীমদ্বৃন্দাবনবসতিলীলাপরিচয়ো
জগন্নাথস্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ||

🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথযাত্রা ১৪৩৩

রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর বিবিধ বিশেষ পুণ্য দর্শন

"ঘন শ্যাম শরীর কেলিরস, যমুনাক তীর বিহার বনি। শ্রীদাম সুদাম, ভায়া বলরাম, সঙ্গে বসুদাম রঙ্গে কিঙ্কিনী।।"🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿...
26/07/2026

"ঘন শ্যাম শরীর কেলিরস, যমুনাক তীর বিহার বনি।
শ্রীদাম সুদাম, ভায়া বলরাম, সঙ্গে বসুদাম রঙ্গে কিঙ্কিনী।।"
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথযাত্রা ১৪৩৩
জয়নগর মজিলপুরের জগন্নাথ বাড়ির রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব জিউর বিশেষ পুণ্য দর্শন
স্থান : মিত্র বাড়ি ( জয়নগর মজিলপুর )
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

"অয়ি মাতর্জগদম্বে লোক সঙ্কট নাশিণি। শ্রয়েঽহং ত্বাং জগন্মাতঃ রক্ষ রক্ষ নমোঽস্তুতে।। সম্পদে বিপদে চৈব সুখে দুঃখে সদা চ ম...
23/07/2026

"অয়ি মাতর্জগদম্বে লোক সঙ্কট নাশিণি।
শ্রয়েঽহং ত্বাং জগন্মাতঃ রক্ষ রক্ষ নমোঽস্তুতে।।
সম্পদে বিপদে চৈব সুখে দুঃখে সদা চ মাম্।
রক্ষ রক্ষ জগন্মাতঃ দুর্গে দেবি নমোঽস্তুতে।।"
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ বিপত্তারিনী পূজা ১৪৩৩
শুভ বিপত্তারিনী পূজা ১৪৩৩ উপলক্ষে শ্রী শ্রী বিপত্তারিণী জয় দূর্গা দেবীর বিশেষ পুণ্য দর্শন
স্থান : মুখিয়া বাড়ি ১৪৩৩
প্রতিমার রূপদানে : শ্রী কৌশিক পাল
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

এই বাংলার বহু বনেদী পরিবারে দুর্গোৎসবের মতো রথযাত্রা উৎসবও ধুমধাম করে পালিত হয় ।পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক সুপ্রসি...
23/07/2026

এই বাংলার বহু বনেদী পরিবারে দুর্গোৎসবের মতো রথযাত্রা উৎসবও ধুমধাম করে পালিত হয় ।পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক সুপ্রসিদ্ধ জনপদ জয়নগর মজিলপুর । এখানেও এক প্রাচীন বনেদী পরিবার হল মিত্র পরিবারের, যাদের বংশের প্রদত্ত জমিতেই নির্মিত জয় নগরের বিখ্যাত শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ মন্দির ।যাকে স্থানীয় মানুষ জন বলে রাধাবল্লভতলা ।এই মিত্র পরিবারের পূর্ব পুরুষ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক রাজা খেতাব প্রাপ্ত জমিদার শ্রী কৃষ্ণমোহন মিত্র আনুমানিক দুশো বছর পূর্বে রথযাত্রার মানসে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের একক গোলাকার নয়ন বিশিষ্ট হাত বিহীন কৃষ্ণবর্ণের দারু বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন । ও তখন থেকেই স্থির হয় পারিবারিক শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ মন্দিরে সারা বছর মহাপ্রভু শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের নিত্য সেবা হবে । রথযাত্রার সময় নয় দিন ধরে মিত্র পরিবারের ঠাকুর দালান আলো করে মহাপ্রভু বসবেন । সেটাই হবে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়ি । সেই বছরই নবরত্ন বিশিষ্ট রথ বানান ও সেই রথের চড়েই শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন রাজা শ্রী কৃষ্ণমোহন মিত্র ।সেই রথটি রথযাত্রা উৎসব মিটে গেলে মিত্রগঙ্গা ও তার পার্শ্ববর্তী খালের মাঝের অঞ্চলেই থাকতো ।কিন্তু কালের নিয়মে সেই রথ ভেঙে যায় ও আবার নতুন নবরত্ন রথ নির্মাণ করেন মিত্র পরিবারের আর এক পূর্ব পুরুষ শ্রী হারান চন্দ্র মিত্র আনুমানিক একশো বছর পূর্বে তবে দুটি রথের নকশা ও আকার সম্পূর্ণ ভিন্ন । আগে এই রথ নেতাজী সুভাষ রোড ধরে রাধাবল্লভতলা থেকে রথতলা অবধি রথ যেত । মিত্র পরিবারে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের প্রধান উৎসব স্নানযাত্রা ও রথযাত্রা । স্নানযাত্রা মহাপ্রভু জগন্নাথের রাধাবল্লভতলার দালানেই অনুষ্ঠিত হয় । স্নান করে মহাপ্রভুর জ্বর আসে ও চলে পাঁচন ভোগ সেবা । এরপরে সুস্থ হয়ে উঠলে জ্বর সেরে গেলে শুরু হয় রথযাত্রা। সোজা রথের দিনে রাধাবল্লভ মন্দির থেকে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব চতুর্দোলায় চড়ে মিত্র বাড়ির ঠাকুর দালানে বসেন। হয় মহাপ্রভুর যাত্রাপূজা ও ভোগ নিবেদন। এই দালানে দুর্গোৎসব হয় তাই সাথে হয় দেবী দুর্গার প্রতিমার কাঠামো পুজোও । তারপরে আবার দোলায় চড়ে রথের এসে বসেন। শুরু হয় রথ টানা। মিত্র পাড়ার মধ্যেই মিত্র গঙ্গার পাশে দ্বাদশ শিব মন্দির সংলগ্ন মাঠেই শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথের রশি টানা হয় ।এরপরে আবার চতুর্দোলায় চড়ে মিত্র বাড়িতে আসেন ও রথযাত্রার নয়দিন মিত্র বাড়ির ঠাকুর ঘরেই অবস্থান করেন । এই মিত্র পরিবারের কুলদেবতা হলেন শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউ , কৃষ্ণবর্ণের কষ্টি পাথরের বংশীধারী গোপীনাথ ও অষ্টধাতুর শ্রী রাধারাণীর বিগ্রহটি প্রতিষ্ঠা করেন মিত্র বংশের পূর্ব পুরুষ শ্রী মধুসূদন মিত্র ।আজ থেকে প্রায় দেড়শো বছর পূর্বে শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউর স্বপ্নাদেশ লাভের পরে বর্তমানে পাঁচ শরিকের মধ্যে চক্রাকারে সারা বছর ধরে শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউ সেবা গ্রহণ করেন ।প্রতিদিন সকালে ৬ টা থেকে মহাপ্রভু জগন্নাথ ও শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর দর্শন হয় । সকালে ৮ টা নাগাদ ফল মিষ্টি ভোগ হয় ।এরপরে দুপুরে ১ টা অন্নভোগ হয় ।ভোগে থাকে পোলাও , আলুরদম, ধোঁকার কালিয়া, ছানার কালিয়া, পনিরের তরকারী , পাঁচ ভাজা, খিচুরী, ল্যাবড়া , চাটনী, পায়েস ইত্যাদি ।নয় দিন ধরে নানান পদের ভোগ নিবেদন করা হয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব কে ।তবে গোপীনাথ জিউর কাছে অন্নভোগ হয় না চাল , কলার নৈবেদ্য ও ফল মিষ্টি ভোগ হয় । দুপুরে দেবতারা বিশ্রাম নেন ।আবার বিকাল চারটে তে বিশ্রাম থেকে উঠে দর্শন দেন ।সন্ধ্যা ৭.৩০ টা থেকে ৮ তার মধ্যে হয় সন্ধ্যারতি ও দুধ, মিষ্টি ,ছানা দিয়ে শীতল ভোগ ।তবে রথের নয় দিনের মধ্যে একদিন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব কে লুচি, তরকারী , নানান ভাজা, সুজির হালুয়া ইত্যাদি সহযোগে শীতলভোগ দেওয়া হয় ।তবে শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউকে দুধ মিষ্টি শীতলভোগ দেওয়া হয় ।নয়দিন পরে উল্টোরথের দিনে আবার যাত্রাপূজা ও ভোগ নিবেদনের পরে আবার চতুর্দোলায় চড়ে মিত্র বাড়ি থেকে এসে রথে বসেন । টানা হয় রথ ।তারপরে রথ থেকে নেমে চতুর্দোলায় চড়ে নিজ ধাম রাধাবল্লভ মন্দিরে ফিরে যান ।
শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউর কাছে সমস্ত বৈষ্ণব উৎসবই হয় , ঝুলনযাত্রা, রাসযাত্রা, জন্মাষ্টমী, রাধাষ্টমী ও এই পরিবারে ফাল্গুনী শুক্লা প্রতিপদে হয় দোলযাত্রা অর্থাৎ দোল পূর্ণিমার দিনে চাঁচর ও পরদিন প্রতিপদে দোলযাত্রা । এছাড়া পয়লাবৈশাখের দিন সন্ধ্যাবেলাতে মহাধুমধামে করে হয় শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউর গোষ্ঠ যাত্রা । তখন চতুর্দোলায় চড়ে শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউ রাধাবল্লভতলায় যান ও শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ জিউর সাথে মন্দিরের দালানে অধিষ্ঠান করেন । এই মিত্র বাড়িতে পালা বিন্যাসের পূর্বে ঠাকুর দালানে ধুমধাম করে শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউর সখী ও পুতুল সাজিয়ে রাসযাত্রা হত । তদুপলক্ষে কেষ্টযাত্রা অনুষ্ঠিত হত কিন্তু এখন তা ইতিহাস ।রথযাত্রার মধ্যে নয়দিন কাঠের রথটি দ্বাদশ শিব মন্দিরের সংলগ্ন মাঠে উন্মুক্ত থাকে ও রথযাত্রা সুসম্পন্ন হলে ওই মাঠের পাশের একটি কক্ষে রথটি রাখা থাকে সারা বছর। আবার একটি বছরের অপেক্ষায় থাকে রথ কখন প্রাণনাথ জগন্নাথ রথে অধিষ্ঠান করবেন ।
🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿🌿
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
জয়নগর মজিলপুরের জগন্নাথ বাড়ির রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব জিউ এবং শ্রী শ্রী রাধা গোপীনাথ জিউর বিশেষ পুণ্য দর্শন
স্থান : মিত্র বাড়ি ( জয়নগর মজিলপুর )
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

বঙ্গভূমির শক্তি আরাধনার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হাওড়া জেলা এই জেলায় বহু মন্দির আছে যা দেবী আদ্যাশক্তি কে উৎসর্গীকৃত । বিপত...
23/07/2026

বঙ্গভূমির শক্তি আরাধনার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হাওড়া জেলা এই জেলায় বহু মন্দির আছে যা দেবী আদ্যাশক্তি কে উৎসর্গীকৃত । বিপত্তারিনী পূজা উপলক্ষে আজ তেমনি এক মন্দিরের কথা বলবো । হাওড়া আমতা থেকে ঝিকিড়া অঞ্চলে যাবার রাস্তায় অমরাগড়ীর শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির । আনুমানিক তিনশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির কালী মন্দির। দেবী বামকালী রূপে অধিষ্ঠিতা ও দেবীর প্রাচীন নিম কাঠের বিগ্রহ কে ঘিরে কিংবদন্তী আছে। জনশ্রুতি অনুসারে এই অঞ্চল দিয়েই প্রবাহিত হতো দামোদর নদের শাখা নদী সেই নদী তাই একদিন এক দৈব কাঠ ভেসে আসে ও দেবী মহাকালীর সপ্নাদেশে স্থানীয় এক ভক্ত প্রবর ব্যক্তি তা প্রাপ্ত করেন ও সেই নিম কাঠ দিয়েই নির্মিত হয় মা সিদ্ধেশ্বরী কালীর এই বিগ্রহ । কৃষ্ণবর্ণা ত্রিনয়নী, চতুর্ভুজা দেবী , চারহাতে রয়েছে খড়গ, নরমুণ্ড , অপর দুই হাতে বরাভয় ও পদতলে দেবাদিবেদ মহাদেব শায়িত আছেন আড়াআড়ি ভাবে । দীপান্বিতা কালী পূজার দিনে মায়ের ধুমধাম করে পূজা ও মহোৎসব হয় । এছাড়াও নিত্য সেবার সাথে সাথে প্রতি অমাবস্যার দিনে মায়ের বিশেষ পূজা হয় । প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে মায়ের মন্দির খুলে যায় পুরোহিত সকাল ১১ টায় এসে মায়ের নিত্য পূজা করেন তারপরে ১ টায় মন্দির বন্ধ হয় আবার সন্ধ্যা ৬ টা তে মন্দির খোলে ও সন্ধ্যারতি শীতল ভোগের পরে রাত ৮ টায় মন্দির বন্ধ হয় । ছিমছাম সাদামাটা মন্দির সামনে একটু ছোট্ট নাটমন্দির আছে । স্থানীয় লোকের মতে দেবী খুবই জাগ্রত ও শনি মঙ্গলবারে বহু ভক্ত মায়ের পূজা দিতে মন্দিরে আসেন । এই মন্দিরে আসতে গেলে হাওড়া থেকে ট্রেনে বা বাসে আমতা নেমে টোটো ধরে অমরাগড়ী শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে পৌঁছানো যায় ।
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ বিপত্তারিণী পূজা ১৪৩৩
আমতার অমরাগড়ী গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রী শ্রী ঁ সিদ্ধেশ্বরী কালী মাতা ঠাকুরানীর বিশেষ পুণ্য দর্শন ১৪৩৩
স্থান : শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির ( আমতা, অমরাগড়ী )
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

রথযাত্রার পুন্য তিথিতে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে ফাটাকেষ্টর কালী পূজার শুভ সূচনা হলোPic Credit : Gopal Kar
21/07/2026

রথযাত্রার পুন্য তিথিতে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে ফাটাকেষ্টর কালী পূজার শুভ সূচনা হলো

Pic Credit : Gopal Kar

"সমুদ্রে শ্রীমন্ত চলে চিন্তি দুর্গা নাম । দিবানিশি তরী বহে চলে অবিরাম ।।  কালীদহে দেখে এক দৃশ্য চমৎকার ।কমল বনেতে হল উদয়...
21/07/2026

"সমুদ্রে শ্রীমন্ত চলে চিন্তি দুর্গা নাম ।
দিবানিশি তরী বহে চলে অবিরাম ।।
কালীদহে দেখে এক দৃশ্য চমৎকার ।
কমল বনেতে হল উদয় মাতার ।।
গজ গিলে ও উগরে নিমেষের মাঝে ।
শ্রীমন্ত বুঝিল বিপত্তারিনী বিরাজে ।।"
🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺
🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
শুভ বিপত্তারিনী পূজা ১৪৩৩
শুভ বিপত্তারিনী পূজা ১৪৩৩ উপলক্ষে শ্রী শ্রী বিপত্তারিণী জয় দূর্গা দেবীর বিশেষ পুণ্য দর্শন
স্থান : সেনগুপ্ত বাড়ি ১৪৩৩
প্রতিমার রূপদানে : শ্রী কৌশিক পাল
সাজসজ্জায় : শ্রী সৌমেন সেনগুপ্ত
©Koushick Banerjee
Do not post these picture without prior permission

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pujo Premi - পুজো প্রেমী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to Pujo Premi - পুজো প্রেমী:

Shortcuts

Share

Category