31/07/2025
গতকাল ত্রিশে জুলাই, গড়িয়াহাট উড়ালপুলের নীচে বহু দশক ধরে বসবাসকারী পথবাসী'দের উপর বিনা নোটিশ ও বিনা সিজারলিস্টে কলকাতা পৌরসভা ও গড়িয়াহাট থানার পুলিশের বর্বর উচ্ছেদ অভিযান চলে। পথবাসীদের যাবতীয় সম্পত্তি ভেঙে'চুরে মালবাহী গাড়িতে তুলে চুরি করে নেওয়া হয়। এই অসাংবিধানিক ও বে-আইনী হুলিগানিজমের বিরুদ্ধে পথবাসী মানুষেরা কাউন্সিলর অফিস (৬৮নং ওয়ার্ডের পৌরমাতা সুদর্শনা মুখার্জি), বরো অফিস ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে কোথাও সেই অভিযোগ গৃহীত হয়না। তাঁদের মিলিত সিদ্ধান্তে আজ আমরা একজোট হয়ে গিয়ে কলকাতা পৌরসভার প্রধান দপ্তরে মেয়রের কাছে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করে আসি এবং এখন যথাযথ প্রতিক্রিয়া'র অপেক্ষায় আছি।
এর'ই মধ্যে আমাদের প্রচারিত পোষ্টার দেখে সেখানে হাজির হয় ক্যালকাটা নিউস'সহ কিছু বুর্জোয়া মিডিয়া। প্রথম থেকেই তাদের প্রশ্নের স্বর হয় শ্রমিকবিরোধী - "নাইট শেল্টার থাকতে আপনারা ফুটপাতে থাকেন কেন? উঠে যান না কেন?" 'সাংবাদিক' তকমাধারী প্রশ্নকর্তার আস্পর্ধা তুঙ্গে ওঠে যখন সে জিজ্ঞাসা করে,"আপনারা কি এই দেশের বাসিন্দা?" সঙ্গেসঙ্গে আমরা বাইট দেওয়া থেকে বিরত হই এবং পথবাসী'দের মধ্য থেকে শ্লোগান ওঠে "রাষ্ট্রের দালাল শ্রমিকবিরোধী মিডিয়া দূর হটো দূর হটো!" "আপনি কি এই দেশের নাগরিক? আগে নিজে প্রমাণ দিন, তারপরে প্রশ্ন করুন।" শ্লোগানের জোরে মিডিয়া তুরতুর করে পালিয়ে যায়।
ভিডিওটা পুরোটা দেখতে অনুরোধ রইলো। শ্রমিকের শ্লোগানে মিডিয়ার তুরতুরিয়ে পালানো দেখে আনন্দ আসবে নিঃসন্দেহে।
মিডিয়ার এই এপ্রোচ স্পষ্টতই দেখিয়ে দেয় যে আগামীদিনে SIRএর নামে মূলত মজুরদের উপর নাগরিকত্ব হরণের রাষ্ট্রীয় আক্রমণ নেমে আসছে ও আসবে। SIR বাতিলের দাবী'তে ও শ্রমিকদের সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা'র দাবী'তে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলো। শহর'জুড়ে পরিষ্কারের নামে বিভিন্ন জায়গায় বেআইনী ও অমানবিক'ভাবে ঝুপড়ি-বস্তি ভাঙা হচ্ছে। শহর যাঁদের শ্রমে চলে, তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াও।
সর্বহারার একনায়কতন্ত্র জিন্দাবাদ।
দুনিয়ার মজদুর এক হও।।