29/09/2026
নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে ৫২ একর জমিতে ঝাঁ চকচকে 'আদানি হসপিটাল'-এর ভূমিপুজন হয়ে গেল। বাহবা কুড়ানোর দারুণ বন্দোবস্ত! কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই বেরিয়ে আসছে মারাত্মক সব তথ্য। চলুন খতিয়ে দেখি পেছনের আসল অঙ্কটা:
📉 সস্তায় জমিপ্রাপ্তি: ২০২২ সালের জুন মাসে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় আদানি গ্রুপ নিউটাউনে হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার তৈরি করবে বলে ৫২ একর জমি নেয়। মার্কেট ভ্যালু তখন একর প্রতি অন্তত ৪০ কোটি টাকা হলেও, ডেটা সেন্টারের দোহাই দিয়ে মাত্র ৪.৯ কোটি টাকা প্রতি একর দরে, নামমাত্র ২৫ লাখ টাকা আর্নেস্ট মানিতে সেই জমি আদানির হাতে তুলে দেওয়া হয়! শুধু আদানি নয়, একই শর্তে রিলায়েন্স নিয়েছে ৪০ একর, টিসিএস ২০ একর।
⏳ ৪ বছর ধরে ফাঁকা: পাক্কা চার বছর ধরে সেই বিশাল জমিতে ডেটা সেন্টারের নামে একটা ইটও পড়েনি!
🔄 রাতারাত চরিত্র বদল: সরকার বদল হতেই তেলে জলে একাকার! ডেটা সেন্টারের জমি এখন রাতারাতি হসপিটাল, মেডিক্যাল কলেজ ও রেসিডেনশিয়াল প্রজেক্টে রূপান্তরের অনুমতি পেয়ে গেল বর্তমান সরকারের আমলে। এক ফোঁটা প্রশ্ন উঠল না—যে জমি সস্তায় দেওয়া হয়েছিল ডেটা সেন্টারের জন্য, তার চরিত্র বদলের পর বর্তমান মার্কেট ভ্যালু কি সরকার আদায় করল? রাজকোষের এই ক্ষতি কার স্বার্থে?
🤥 হাস্যকর কর্মসংস্থানের ললিপপ: পুরো আদানি গ্রুপের বিশ্বজুড়ে মোট কর্মী সংখ্যা মাত্র ৩৭,০০০! আর আমাদের দাবি করা হচ্ছে যে এই একটা হাসপাতালেই নাকি ১০,০০০ কর্মসংস্থান হবে! সাধারণ মানুষকে কি পটল ভেবে রেখেছেন এরা?
মমতার আমলে শুরু হওয়া কর্পোরেট তোষণের ধারা কি বর্তমান সরকারও বিনা প্রশ্নে বজায় রাখল? 'নেপোয় মারে দই'-এর এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?