বহুজনের পাতা

বহুজনের পাতা সবাই মানুষ সবাই সমান। Nil

11/08/2026

স্বাধীনতার আন্দোলন ও বাবাসাহেব আম্বেদকর। তিনি কোন স্বাধীনতার আন্দোলন করেছিলেন?
লেখক -জগদীশ রায়
ভারতের স্বাধীনতার নাম শুনলেই ভেসে ওঠে গান্ধী, বিনয়-বাদল-দীনেশ, খুদীরাম, সূর্যসেন ইত্যাদি নাম। বিপ্লবীরা অবশ্যই দেশের জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন করেছিলেন। দেশের নেতারা কিন্তু সমগ্র ভারতবাসীর স্বাধীনতা জন্য আন্দোলন করেন নি। তার একটা প্রমাণ-
গান্ধিজি বলেছিলেন,“যদি ইংরেজরা ভারতের স্বাধীনতা দেয়, তার বদলে অর্থাৎ ভারতের স্বাধীনতার বদলে যদি অচ্ছুৎদের (বর্তমান তপশিলি) অধিকার দেয় তাহলে এই ধরনের স্বাধীনতা আমি চাই না।”
ইংলণ্ডের গোল টেবিল বৈঠকে বাবা সাহেব ইংরেজদের সঙ্গে দেশের বঞ্চিতদের জন্য যেসব অধিকার অর্জন করেছিলেন, সেই অধিকার যাতে বঞ্চিতরা না পায় তার জন্য গান্ধিজি ২৪ অক্টোবর ১৯৩২ পুনার যারবেদা জেলে অনশন করেন। আম্বেদকর এক বিবৃরতিতে বললেন গান্ধিজির প্রাণ বাঁচানোর জন্য সব রকমের সম্ভাব্য প্রয়াস চালানো উচিত। কিন্তু যে অধিকার আমরা অর্জন করেছি তা ছাড়তে রাজি নই। সংবাদ পত্রগুলি আম্বেদকরের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো শুরু করল। তাঁর কাছে রক্ত দিয়ে লেখা চিঠি আসতে শুরু করল ‘তোমাকে আমরা মেরে ফেলব।’ সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল জেলের মধ্যে এসে গান্ধিজির সঙ্গে দেখা করে বললেনঃ- “বর্ণহিন্দু এবং অস্পৃশ্যদের মাঝখানে কেন আপনি নিজেকে স্যান্ডউইচ বানাচ্ছেন? আপনার বেঁচে থাকা জরুরি। আপনি অনশন ত্যাগ করুন।”
গান্ধীর আপ্তসহায়ক মহাদেব ভাই দেশাই কাছেই বসে ছিলেন। তিনি এঁদের দুজনের কথাবার্তা তাঁর ডাইরিতে লিখে রেখেছিলেন।
গান্ধিজি প্যাটেলকে বোঝালেন- “অস্পৃশ্য এবং মুসলমানরা যদি পৃথক নির্বাচনের মাধ্যমে জনতার মধ্য থেকে ইমানদার এবং সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করে, তাহলে তাঁরা বিধানসভা ও লোকসভা কংগ্রেসকে স্বাধীনভাবে সরকার চালাতে দেবেনা। স্বাধীনদেশে তাঁরাই নির্ণায়ক শক্তিতে পরিণত হবেন। তোমাদের স্বার্থেই আমার এই অনশন।”
এই কথোপকথন লেখাছিল মহাদেব দেশাইয়ের ডাইরিতে। আমেরিকার এলিনার জুলিয়েট একজন গবেষক ছাত্রী। গবেষণার কাজে ভারতে এসে এই ডাইরি খুঁজে বের করেছেন এবং বই লিখেছন। (তথ্যসূত্রঃ আত্ম নিরীক্ষণ; 6 জুলাই 2006, বাংলা ভাগ কেন হল; নিকুঞ্জবিহারী হাওলাদার, পৃষ্ঠা 105)

আবার আমরা জানি তিলক বলে ছিলেন স্বরাজ আমার জন্মগত স্বাধীনতা। কিন্তু সেই স্বরাজের অর্থ কী? আসুন সে সম্পর্কে দেখে নেওয়া যাক।
তিলক মহারাষ্ট্রের আকোলা, ইভাৎমাল ও ভুষাওয়ালের খোলা ময়দানে ভাষণ দেন। এই ভাষণ ‘কেশরী’ নামক পত্রিকায় ছাপা হয়। তিলক বলেন–“আমাদের স্বরাজের অর্থ এটা নয় যে, ইংরেজদের ভারত থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক। ইংরেজরা চাইলে ভারতে থাকতে পারবে। কিন্তু শাসন প্রসাশনে আমাদের প্রতিনিধিত্ব দিতে হবে।’’ এর জন্য তিলক মনুস্মৃতির উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “মনুস্মৃতি অনুসারে যে কোন রাজা তার রাজ কাজ চালাতে চাইলে বুদ্ধিমান লোকদের সঙ্গে নিয়ে শাসন প্রশাসন চালানো উচিত।” বুদ্ধিমান অর্থাৎ লেখাপড়া শেখা পণ্ডিত। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ। এর অর্থ তিলকের আন্দোলন শুধুমাত্র উচ্চবর্ণীয়দেরকে ইংরেজদের শাসন প্রশাসনে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার আন্দোলন ছিল। যাকে স্বরাজ বা হোমরুল আন্দোলন বলা হয়। এটা কোন প্রকারে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন ছিল না। যদিও এটাকে স্বাধীনতার আন্দোলন বলেই প্রচার করা হয়। স্বরাজ এবং স্বাধীনতার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।
ভারতে আমরা যে স্বাধীনতার আন্দোলন দেখতে পাই, বাস্তবে ভারতে স্বাধীনতার জন্য দুই ধরনের আন্দোলন চলছিল। এক- ইংরেজদের অধীনতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য উচ্চবরণীয়দের স্বাধীনতার আন্দোলন। দুই- উচ্চবর্ণীয়দের অধীনতা বা গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন। দ্বিতীয় স্বাধীনতার আন্দোলন সম্পর্কে আমরা প্রায় জানিই না। এই দ্বিতীয় স্বাধীনতার আন্দোন করেছিলেন জ্যতিরাও ফুলে, শাহু মহারাজ, বাবাসাহবে আম্বেদকর, পেরিয়ার, গুরুচাঁদ ঠাকুর ও অন্যান্য মূলনিবাসী মহামানবেরা। (বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে ‘স্বাধীনতার দুই আন্দোলন’ বইতে)।
বাবাসাহেব যে স্বাধীনতার আন্দোলন করেছিলেন সেটা ছিল যেমন উচ্চবর্ণীয়দের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন তেমনি ভারতের সর্বসাধারণের সার্বিক স্বাধীনতার আন্দোলন। যার প্রমাণ আমরা পাই, তিনি গোল টেবিল বৈঠকে ইংরেজদের সামনেই বলছেন- ভারতে তাদের শাসন তুলে নিয়ে জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য ও জনগণের শাসন চাই। যে কথা আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলনে By the people, for the people of the people. সেই কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
স্বাধীনতাকে গোলামিতে রূপান্তর
১৭ আগস্ট ১৯৩২ সালে ড. আম্বেদকরের চারটি দাবি স্বীকৃত হয়। এরফলে মূলনিবাসীরা স্বাধীন হয়ে যায়। গান্ধিজি ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করেন। আর মূলনিবাসীদের ১৭ আগস্ট ১৯৩২ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। ড. আম্বেদকরের যে চারটি দাবি স্বীকৃত হয়েছিল সেটাকে স্বাধীনতার যে অর্থে বলা যায় সেটা হচ্ছে DOMENION STATUS এর স্বাধীনতা। ইংরেজরা ভারতেই থাকবে কিন্তু সাংবিধানিক অধিকারের প্রয়োগ করার জন্য মূলনিবাসীদের স্বতন্ত্র অধিকার রাখা হয়েছে। ইংরেজরা কেন্দ্রীয় শাসন কাজ চালাবে, তাদের শাসন ব্যবস্থা চলবে কিন্তু সব ধরনের সাংবিধানিক অধিকার আমাদের থাকবে। একে বলা হয় DOMENION STATUS এর স্বাধীনতা।
বাবসাহবে ড. আম্বেদকর ইংরেজদের বোঝান যে উচ্চবর্ণদের স্বাধীন করার আগে আমাদের স্বাধীন করতে হবে। তারা ইংরেজদের গোলাম আর আমারা উচ্চবর্ণের গোলাম। উচ্চবর্ণীয়দের স্বাধীন করে দিলে তারা মূলনিবাসীদের কোনো দিন স্বাধীনতা দেবেনা। তাই উচ্চবর্ণীয়দের নয়, আগে মূলনিবাসীদের স্বাধীন করতে হবে। ১৭ আগস্ট ১৯৩২ সালে যে সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা (COMMUNAL AWARD) ঘোষিত হয়েছিল সেটা DOMENION STATUS এর স্বাধীনতা ছিল। এই স্বাধীনতাকে গান্ধিজি পুনাচুক্তির মাধ্যমে গোলামিতে রূপান্তরিত করেন। কারণ তাঁর দ্বারা চালানো স্বাধীনতার আন্দোলন সকলের জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন ছিলনা। শুধুমাত্র শাসক জাতির (উচ্চবর্ণীয়) দ্বারা চালানো তাদের স্বাধীনতার আন্দোলন ছিল।
বাবাসাহেব কেন উচ্চবর্ণীয়দের স্বাধীনতার আন্দোলনে সহভাগী হননিঃ-
এবার আমরা দেখি বাবাসাহেব ড. আম্বেদকরের আন্দোলন। বাবাসাহেব আমেরিকায় শিক্ষার জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে লালা লাজপত রায় গিয়ে বাবাসাহেবকে বলেন, “আপনি অনেক বিদ্বান ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি। আপনার মধ্যে সমাজের জন্য কাজ করার চেতনা আছে। তাই আপনি কংগ্রেসের সঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করুন।” বাবাসাহেব তাঁকে বলেন, “আমি এখানে পড়াশুনা করার জন্য এসেছি। আমাকে প্রথমে শিক্ষা গ্রহণ করতে দিন। ভারতে গিয়ে পরে আমি এসব দেখবো।” পরবর্তিতে বাবাসাহেব ভারতে এসে ‘বহিষ্কৃত ভারত’ পত্রিকায় নিজের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে লেখেন, “পরতন্ত্রে ( পরের অধীন) যাদের কথা আমরা সহ্য করতে পারছিনা, স্বাধীনতার পরে আমাদেরকে তাদের লাথি খেতে হবে।” পরতন্ত্র অর্থাৎ ইংরেজদের শাসনকালে আমরা যাদের কথা অর্থাৎ উচ্চবর্ণীয়দের কথা এখনই সহ্য করতে পারছি না। আর এই উচ্চবর্ণীয়রা যদি স্বাধীন হয় তাহলে তো তারা আমাদের লাথি মারবে। বাবাসাহেবের ভবিষ্যৎবাণী বর্তমানে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেছে। বর্তমানে আমাদের সমাজের লোকদেরকে উচ্চবর্ণীয়দের কাছে গিয়ে টিকিট চাইতে হয়। টিকিট যদিও পাওয়া যায় নির্বাচিত হয়ে আসার জন্যও তাদের সাহায্য নিতে হয়।
লালা লাজপত রায় ও কংগ্রেস ইংরেজদের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন চালিয়ে ছিলেন। বাবাসাহেব ড. আম্বেদকর উচ্চবর্ণীয়দের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন চালিয়ে ছিলেন।
তিলক ওবিসিদের আইন সভায় যেতে না দেওয়ার জন্য গালি দিয়েছেন। গান্ধিজি অস্পৃশ্যদের স্বাধীনতায় রাজি নন। তাহলে এটা প্রমাণ হয় যে, তিলক, গান্ধিজি, গোখলে, রানাডে এবং এদের কংগ্রেসের স্বাধীনতার আন্দোলন সকলের জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন ছিল না। তাঁরা শুধুমাত্র ইংরেজদের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়েছিলেন। আর সেটাকে সকলের স্বাধীনতার আন্দোলন বলে প্রচার করেছেন। মূলনিবাসী মহামানবরা ব্রাহ্মণদের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যে আন্দোলন ১৮৪৮ সালে শুরু করেছিলেন সে আন্দোলন এখনও চলছে। মূলনিবাসীরা এখনও স্বাধীন হয়নি। তারা এখনও উচ্চবর্ণীয়দের গোলাম হয়ে আছে।
বাবাসাহেবের কথায় আবার ফিরে আসি-
বাবাসাহেব আম্বেদকর ইংরেজদেরকে একটা প্রশ্ন করেন। সেটা হচ্ছে- আপনারা ভারতকে যে স্বাধীনতা দিতে যাচ্ছেন সেটা দেশের স্বাধীনতা নাকি দেশের জনগণের স্বাধীনতা? দেশের স্বাধীনতা হচ্ছে Freedom of the country আর দেশের জনগণের স্বাধীনতা হচ্ছে Freedom of the people of the country. এর পরেও ইংরেজরা দেশকেই স্বাধীন করেছে। দেশের জনগণকে স্বাধীণ করতে দেননি গান্ধিজি আর কংগ্রেস।
বাবাসাহেব যে উচ্চবর্ণীয়দের স্বাধীনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি তার প্রমাণ খোদ পাঞ্জাবী গোরা ব্রাহ্মণ অরুণ শৌরি তাঁর বই Worshipping False Gods. অর্থাৎ ‘মিথ্যা দেবতার পুজা’ নামক বইতে জানিয়েছেন।
এই বই-এ তিনি লিখেছেন, ড. আম্বেদকর স্বাধীনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু নিজেকে আম্বেদকরবাদী বলে প্রচার করা আম্বেদকরের ভক্তরা বই লিখে জানিয়েছেন যে বাবাসাহেব স্বাধীনতার আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। বাস্তবে অরুণ শৌরী এবং আম্বেদকরবাদীরা দুজনেই মিথ্যা কথা প্রচার করেছেন।
অরুণ শৌরী লিখেছেন ড. আম্বেদকর স্বাধীনতার আন্দোলনে যোগ দেননি। আসলে তাঁর লেখা দরকার ছিল ড. আম্বেদকর উচ্চবর্ণীয়দের স্বাধীনতার আন্দোলনে যোগ দেননি। আর যে আম্বেদকরবাদীরা লিখেছেন বাবাসাহেব স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটাও মিথ্যা কথা। একই ব্যক্তি পরস্পর বিরোধী দুটো আন্দোলনে কিভাবে যোগদান করতে পারেন? বাবাসাহেব নিজে মূলনিবাসী বহুজনদের জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন চালিয়েছিলেন। উচ্চবর্ণীয়দের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। তাই তিনি ব্রাহ্মণদের স্বাধীনতার আন্দোলনে সহভাগী হননি। প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে অরুণ শৌরী বাবাসাহেবের বিরুদ্ধে কেন একথা লিখেছেন? আর সেটা ২০০০ সালেই বা কেন? কারণ ২০০০ সালে ভারতীয় সংবিধানের স্বর্ণ জয়ন্তীর বছর ছিল। স্বর্ণ জয়ন্তীতে লোক সংবিধার চর্চা করবে এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে আম্বেদকরবাদী লোকেরা সংবিধানের বেশি চর্চা করেন। ৫০ বছরের পরে সংবিধান কতটা মহত্ত্বপূর্ণ থাকবে ইত্যাদি প্রশ্নের চর্চা আম্বেদকরবাদীরা করতে পারেন। এই ধরণের চর্চা যাতে না হয় বা কোন প্রশ্ন যাতে আম্বেদকরবাদীরা না করেন তার জন্য অরুণ শৌরী আগেভাগে বই লিখে জানালেন যে, আপনাদের বাবাসাহেব ড. আম্বেদকর স্বাধীনতার আন্দোলনে সহভাগী ছিলেন না। কারণ, আম্বেদকরবাদীরা প্রতিক্রিয়া দিতে ওস্তাদ। তখন তাঁরা লিখে জানাতে শুরু করলেন, না না বাবাসাহেব স্বাধীনতার আন্দোলনে সহভাগী ছিলেন।
ভারতে যে স্বাধীনতার দুটো আন্দোলন চলেছে; তার একটা হচ্ছে- উচ্চবর্ণীয়দের স্বাধীনতার আন্দোলন। এই আন্দোলন ইংরেজদের গোলাম থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। দ্বিতীয়টা হচ্ছে- মূলনিবাসী মহামানবদের স্বাধীনতার আন্দোলন। এই আন্দোলন উচ্চবর্ণীয়দের গোলামি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য।
বর্ণব্যবস্থা, জাতিব্যবস্থা আর অস্পৃশ্যতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের মূলনিবাসী মহামণীষীরা স্বাধীনতার আন্দোলন করেছিলেন। উচ্চবর্ণীয়দের মিথ্যা ও বিকৃত ইতিহাস লিখে শুধুমাত্র তাদের স্বাধীনতার আন্দোলনের কথা তুলে ধরেছে। এটা তাদের দ্বারা বিকৃত ইতিহাসের সঙ্গে চালাকী ছিল। তাদের লেখা ইতিহাস দেখলে বোঝা যাবে যে, তারা সবসময় তাদের সুবিধার কথাই লিখেছে আর যাতে তাদের ক্ষতি হবে যে কথার কোন উল্লেখই করেনি। কারণ এতে তাদেরই লাভ হয়েছে। কিন্তু মূলনিবাসী বহুজনদের এতে লাভ তো দূরের কথা বদনাম আর ক্ষতি হয়েছে। তাই আমাদের ইতিহাস আমাদেরকেই লিখতে হবে। উচ্চবর্ণীয়দের যেটাকে লুকিয়ে রেখেছে, আমরা সেটাকে সবার সামনে তুলে ধরব। অর্থাৎ If They hide it, We must highlight.
এতোকিছু জানার পরেও কেউ যদি প্রশ্ন করেন যে, ‘আমরা কি স্বাধীন নই? তার উত্তর – আমরা যেটুকু অধিকার আজ ভোগ করছি সেটা হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আন্দোলনের ফসল মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের নেতৃত্বে বাংলা থেকে বাবাসাহেব ড. আম্বেদকরকে সংবিধান সভায় পাঠানোর জন্য। বাবাসাহেব সংবিধানে মূলনিবাসীদের জন্য অর্থাৎ তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি ও অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি আর ধর্ম পরিবর্তিত লোকদের জন্য সাংবিধানিক অধিকার দিয়েছেন। সেই অধিকার ভোগ করে তারা নিজেদের স্বাধীন মনে করছেন। প্রকৃতপক্ষে মূলনিবাসীরা এখনো উচ্চবর্ণীয়দের গোলাম হয়ে আছে। মানসিক গোলাম। এই গোলামি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মূলনিবাসী বহুজন মহামানবদের বিচারধারাকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার আন্দোলনের বিউগল বাজাতে হবে। তার জন্য প্রত্যেক মূলনিবাসী বহুজনকে তন মন ধন দিয়ে সহযোগীতা করতে হবে।
(তথ্য- ১. পুনাচুক্তির দুষ্পরিণাম- লেখক- বামন মেশ্রাম। অনুবাদক- জগদীশচন্দ্র রায়।
২. স্বাধীনতার দুই আন্দোলন- লেখক- ডি. আর. ওহোল। অনুবাদক- জগদীশচন্দ্র রায়।)

#স্বাধীনতা #আন্দোলন #আম্বেদকর #বাবাসাহেব

28/07/2026

আম্বেদকর দর্শনের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা

আম্বেদকর দর্শন বলতে B. R. Ambedkar-এর সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক চিন্তাধারার সমষ্টিকে বোঝায়। তাঁর দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি সাম্য, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন।

আম্বেদকর দর্শনের মূল ভিত্তি
সাম্য (Equality)ঃ
জন্ম, জাতি, ধর্ম বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।

স্বাধীনতা (Liberty)
প্রত্যেক মানুষের চিন্তা, মতপ্রকাশ, ধর্মপালন ও জীবনযাপনের স্বাধীনতা থাকা উচিত।

ভ্রাতৃত্ব (Fraternity)ঃ
সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও মানবিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

সামাজিক ন্যায় (Social Justice)ঃ
দলিত, আদিবাসী, নারী ও অন্যান্য বঞ্চিত মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিভেদ ও অস্পৃশ্যতার বিরোধিতাঃ
আম্বেদকর জাতিভেদ প্রথাকে মানবতার পরিপন্থী মনে করতেন এবং এর সম্পূর্ণ বিলোপের আহ্বান জানান। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Annihilation of Caste-এ এই বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
শিক্ষার গুরুত্ব
তাঁর বিখ্যাত আহ্বান ছিল—
"শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও, আন্দোলন করো" (Educate, Agitate, Organize)।
সংবিধানবাদ (Constitutionalism)

তিনি বিশ্বাস করতেন যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক পদ্ধতির মাধ্যমেই সামাজিক পরিবর্তন আনা উচিত।

অর্থনৈতিক ন্যায়ঃ
ভূমি, শিল্প, শ্রমিকের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে।

নারীর অধিকারঃ
নারীর শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, বিবাহ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেন।

বৌদ্ধধর্ম গ্রহণঃ
১৯৫৬ সালে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন এবং যুক্তিবাদ, মানবতা, করুণা ও সমতার আদর্শকে সামাজিক মুক্তির পথ হিসেবে তুলে ধরেন।

আম্বেদকর দর্শনের সারমর্মঃ
সামাজিক সমতা
মানবমর্যাদার প্রতিষ্ঠা
গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসন
শিক্ষা ও আত্মমুক্তি
বৈষম্যহীন সমাজ
যুক্তিবাদ ও মানবতাবাদ

মূল মন্ত্র:
"শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও, আন্দোলন করো।"
এই আহ্বান আজও আম্বেদকর দর্শনের অন্যতম পরিচায়ক।

26/07/2026

পৌণ্ড্র (পৌণ্ড্রক্ষত্রিয়) সমাজের ইতিহাসে কয়েকজন নেতা ও সমাজসংস্কারক বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁদের প্রচেষ্টায় শিক্ষা, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক সংগঠনের বিকাশ ঘটে।
১. রাইচরণ সরদার (১৮৭৬–১৯৪২)
পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা।
সমাজের প্রথম স্নাতক এবং পরে আইনজীবী হন।
পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় সমিতির নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের আন্দোলন গড়ে তোলেন।
আত্মজীবনী "দীনের আত্মকাহিনী বা সত্য পরীক্ষা" তৎকালীন সমাজজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত। �
TIJER +1
২. বেণীমাধব হালদার
উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে পৌণ্ড্র সমাজে আত্মমর্যাদা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত।
১৯০১ সালে সর্ববঙ্গীয় সম্মেলনের আয়োজন করে "পোদ" নামের পরিবর্তে "পৌণ্ড্র" পরিচয়ের দাবি উত্থাপন করেন।
সমাজে শিক্ষা ও ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। �
Wikipedia +1
৩. শ্রীমন্ত নস্কর
বেণীমাধব হালদারের সঙ্গে মিলিতভাবে পৌণ্ড্র সমাজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা ও গ্রন্থ রচনা করেন।
সমাজের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। �
Wikipedia
৪. হেমচন্দ্র নস্কর
সমাজসংগঠক ও রাজনৈতিক নেতা।
পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় সমাজের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। �
Brandeis Library Journals
৫. পতিরাম রায়
অবিভক্ত বাংলার আইনসভার সদস্য (MLA) ছিলেন।
১৪ ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে বঙ্গীয় আইনসভায় পৌণ্ড্র সম্প্রদায়কে "পৌণ্ড্রক্ষত্রিয়" নামে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেন, যা গৃহীত হয়। �
Banglapedia
এই নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় সমাজে শিক্ষা বিস্তার, আত্মমর্যাদাবোধ, সামাজিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক সচেতনতার বিকাশ ঘটে। তাঁদের অবদান আজও পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পৌণ্ড্র সমাজে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

26/07/2026

রাজবংশী সমাজের ইতিহাসে ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা (১৮৬৬–১৯৩৫) সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজসংস্কারক হিসেবে স্বীকৃত। তাঁকে অনেকেই রাজবংশী সমাজের নবজাগরণের পথিকৃৎ বলে অভিহিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজে শিক্ষা, আত্মমর্যাদা, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতার বিকাশ ঘটে। �
Amrit Mahotsav +1
পঞ্চানন বর্মার জীবন
জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৬, খলিসামারী, বর্তমান কোচবিহার।
শিক্ষা: সংস্কৃতে এম.এ. এবং আইন (বি.এল.) ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশায় আইনজীবী হলেও সমাজসংস্কারক হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিত। �
Wikipedia +1
তাঁর প্রধান সমাজসংস্কারমূলক কাজ
১. ক্ষত্রিয় সমিতি প্রতিষ্ঠা (১৯১০)
রাজবংশী সমাজকে সংগঠিত করার জন্য তিনি ক্ষত্রিয় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
সমাজে আত্মমর্যাদা, ঐক্য এবং শিক্ষার প্রসারে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। �
Banglapedia +1
২. শিক্ষার প্রসার
তিনি বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষাই সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি।
দরিদ্র ছাত্রদের আর্থিক সহায়তা, ছাত্রাবাস স্থাপন এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উৎসাহ দেন। �
Amrit Mahotsav +1
৩. নারীশিক্ষা ও নারীকল্যাণ
নারীদের শিক্ষার ওপর জোর দেন।
নারীদের সুরক্ষার জন্য নারী রক্ষা উপসমিতি গঠন করেন।
১৯২১ সালে বঙ্গীয় আইনসভায় নারীদের ভোটাধিকারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। �
Amrit Mahotsav +1
৪. কৃষক ও দরিদ্র মানুষের উন্নয়ন
মহাজনদের শোষণ থেকে কৃষকদের রক্ষার জন্য ক্ষত্রিয় ব্যাংক এবং বর্মা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যাতে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। �
Amrit Mahotsav +1
৫. রাজনৈতিক ভূমিকা
১৯২০ সালে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
সমাজের অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেন। �
Amrit Mahotsav +1
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রাজবংশী সমাজসংস্কারক
পঞ্চানন বর্মার পাশাপাশি হরমোহন রায় খাজাঞ্চি-ও রাজবংশী সমাজে নবজাগরণের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীকালে বহু শিক্ষাবিদ ও সমাজনেতা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। �
IJARIIE +1
উত্তরাধিকার
আজ উত্তরবঙ্গ, আসাম এবং বাংলাদেশের রাজবংশী সমাজে পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন ও কর্মজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি রাজবংশী সমাজের আত্মমর্যাদা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের এক স্থায়ী প্রতীক। �
Amrit Mahotsav +1

25/07/2026

Bahujan Samaj Party (বিএসপি)-র রাজনীতির ইতিকথা সংক্ষেপে:
প্রতিষ্ঠা
১৪ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে Kanshi Ram বিএসপি প্রতিষ্ঠা করেন।
দলটির মূল লক্ষ্য ছিল দলিত, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), সংখ্যালঘু এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
আদর্শ
ড. B. R. Ambedkar, Jyotirao Phule, Shahu Maharaj এবং Periyar E. V. Ramasamy-এর সামাজিক ন্যায়, সমতা ও আত্মমর্যাদার ভাবধারাকে দলটি অনুসরণ করে।
সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক উপায়ে সামাজিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি তাদের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক উত্থান
১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে উত্তর প্রদেশে দলটি দ্রুত জনসমর্থন অর্জন করে।
১৯৯৩ সালে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট গড়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে।
১৯৯৫ সালে Mayawati প্রথমবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি ভারতের প্রথম দলিত নারী মুখ্যমন্ত্রী।
পরে ১৯৯৭, ২০০২ এবং ২০০৭ সালেও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৭ সালের ঐতিহাসিক জয়
২০০৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিএসপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
এই জয়কে দলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে ধরা হয়।
পরবর্তী সময়
২০১২ সালের পর থেকে উত্তর প্রদেশে দলের নির্বাচনী শক্তি কিছুটা কমে আসে।
তবুও বিএসপি ভারতের অন্যতম পরিচিত জাতীয় রাজনৈতিক দল হিসেবে সক্রিয় রয়েছে এবং সামাজিক ন্যায় ও বহুজনের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে কাজ করে চলেছে।
প্রতীক
দলের নির্বাচনী প্রতীক হলো হাতি, যা শক্তি, ধৈর্য ও অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিএসপি ভারতের রাজনীতিতে বিশেষত দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং বহুজনের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

25/07/2026

Kanshi Ram-এর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন:
জন্ম: ১৫ মার্চ ১৯৩৪, পাঞ্জাবের রূপনগর (রোপড়) জেলায়।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সরকারি চাকরি করতেন। পরে দলিত, অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সামাজিক-রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্ণসময়ের আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেন।
১৯৭৮ সালে তিনি BAMCEF (Backward and Minority Communities Employees Federation) গঠন করেন, যা শিক্ষিত দলিত ও অনগ্রসর সরকারি কর্মচারীদের সংগঠিত করে।
১৯৮১ সালে তিনি DS-4 (Dalit Shosh*t Samaj Sangharsh Samiti) প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল নিপীড়িত মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
১৪ এপ্রিল ১৯৮৪ সালে তিনি Bahujan Samaj Party (বিএসপি) প্রতিষ্ঠা করেন। দলের মূল স্লোগান ছিল বহুজনের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।
তাঁর নেতৃত্বে বিএসপি উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
তিনি Mayawati-কে রাজনৈতিক নেতৃত্বে এগিয়ে আনেন। পরবর্তীকালে মায়াবতী একাধিকবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন।
কাঁশীরামজি নিজে মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হননি; তিনি সংগঠন গড়ে তোলা এবং বহুজনের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন।
মৃত্যু: ৯ অক্টোবর ২০০৬, নয়াদিল্লি।
ভারতের দলিত ও বহুজনের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে কাঁশীরামজিকে অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠক ও নেতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

19/07/2026

হোয়াটসএ্যাপ থেকে সংগৃহীতঃ

যে মহান সমাজ দিশারীরা দলিত পতিত অস্পৃশ্যদের শাসক হবার মাধ্যমে তাদের শোষন মুক্তির পথ দেখিয়ে
গেছেন তাদের পথকে দলিতরা পাথেয় না করে, শোষকের মিস্টি কথায় ভুলে নিজেদের পায়ে আবার শিকল পরে নিচ্ছে।
বহুজন সমাজের শিক্ষিতরা অন্ধকারে পড়ে থাকা মানুষদের দিশা দেখানর পরিবর্তে তারাই দিশাহীন হয়ে পড়েছে। তারা বহুজন মনীষীদের দেখান রাজনৈতিক পথে না এগোলে ৮৫-৯০% মানুষের সামনে অতি দূর্দিন আসন্ন।
***************************

"আমার গরিব ও শোষিত ভাইরা। যাহা কিছু আমি করিয়াছি সেইটুকু করিতে সারাজীবন ব্যাপিয়া আমাকে সীমাহীন দুঃখ এবং ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় যেইরূপ কষ্ট হয় সেইরূপ কষ্টকে অতিক্রম করিতে হইয়াছে এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সবসময় দ্বন্দ্বের মধ্যে কাটাইতে হইয়াছে। আজ সভ্য সমাজের মধ্যে যে সমাজকে দেখা যাইতেছে, সেই সমাজকে এই পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিতে আমাকে অনেক বৃহত্তর বাধা অতিক্রম করিতে হইয়াছে। সমস্ত বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করিয়া এই মরুযাত্রী দলকে অগ্রসর করিতে দাও। যদি আমার সেনাপতিগণ এই মরুযাত্রীদের সম্মুখে অগ্রসর করাইতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন, তবে তাহাদের কর্তব্য হইবে সেইখানেই থামিয়া থাকা, কিন্তু কোন পরিস্থিতিতেই এই মরুযাত্রীদের পিছু হটিতে দেওয়া হইবে না, আমার জনগণের কাছে এই আমার বাণী।"

-ডঃ বি.আর. আম্বেদকর

"আমি একজন ভিক্ষুক। আমাদের সংগঠন বুভুক্ষু মানুষের সংগঠন। আমার মানুষের কাছে আমার প্রার্থনা, আপনারা একটি ভোট আর একটি এক টাকার নোট আমাকে দিন। আমি এক টাকার বেশি কারুর কাছ থেকে চাই না। যদি আমরা ভিক্ষার দ্বারা পঞ্চাশ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে পারি, তা হলে এই টাকার পশ্চাতে দুই লক্ষ ভোট আমরা পাব। আপনারা যদি আমাকে এই সাহায্যটুকু করেন, তা হলে আমি ভারতবর্ষের পঁচাশি শতাংশ মানুষের চির আকাঙ্খিত স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে পারব। শুধু চাই আপনাদের ত্যাগ।"

- মান্যবর কাঁশীরামজী

"যদি উচ্চবর্ণীয়দের দ্বারা পরিচালিত সরকার এবং অফিসাররাই নিম্নবর্ণীয়দের জন্য যোজনা তৈরী করতে থাকে ও কার্যান্বিত করতে থাকে, তাহলে তাঁদের উত্থান কখনোই সম্ভব নয়। বর্তমানের বৈষম্যমূলক ভারতীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে লাভান্বিত মনুবাদীরা একথা জানে যে, যদি প্রকৃতপক্ষেই সামাজিক পরিবর্তন ও বহুজন সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি একবার হয়ে যায়, তাহলে সুবিধাভোগী জাতিগুলি অধিক দিন পর্যন্ত ভারতবর্ষে শাসকশ্রেনী হয়ে থাকতে পারবে না। তাই স্বভাবতই তারা সামাজিক পরিবর্তন ও বহুজন সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি চায়না।"

-বহিনজী মায়াবতী

জাতির উন্নতি লাগি

হও সবে সর্বত্যাগী

দিবারাত্রি চিন্তা কর তাই।

জাতি ধর্ম জাতি মান

জাতি মোর ভগবান

জাতি ছাড়া অন্য চিন্তা নাই।।

কিবা বিদ্যা, কিবা ধনে, কি শিল্পে কি বিজ্ঞানে

রাজনীতি ক্ষেত্রে রাজ কাজে।

সব খানে থাকা চাই

তা-ভিন্ন উপায় নাই,

রাজ বেশে 'সাজ' রাজ সাজে।।

(শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ চরিত)

**(সম্ভব হলে মানুষকে জাগ্রত করতে বেশী লোকের মধ্যে ছড়িয়ে দিন।)

https://www.facebook.com/share/p/14hGvsBuxbB/
12/07/2026

https://www.facebook.com/share/p/14hGvsBuxbB/

নমঃশূদ্র সমাজের গৌরব: প্রখ্যাত আইনজীবী ও মন্ত্রী মুকুন্দ বিহারী মল্লিক ✨
​নমঃশূদ্র সমাজের প্রথম মন্ত্রী, বিশিষ্ট আইনজীবী এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুকুন্দ বিহারী মল্লিকের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। খুলনা জেলার খাড়াসম্বলপুরের ধনাঢ্য ও শিক্ষিত মল্লিক পরিবারের সন্তান তিনি, যে পরিবারটি ছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের পরম অনুসারী।
​১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে খুলনা থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এম.এল.এ. (MLA) নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। 🙏
​ #মুকুন্দবিহারীমল্লিক #ইতিহাস #নমঃশূদ্রসমাজ #খুলনা #স্মরণ

হিন্দু কোড বিল ও সংরক্ষণে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের অবদান।লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়(লেখাটি শেষ পর্যন্ত না পড়ে কেউ অভিমত...
11/07/2026

হিন্দু কোড বিল ও সংরক্ষণে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের অবদান।

লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়

(লেখাটি শেষ পর্যন্ত না পড়ে কেউ অভিমত প্রকাশ করবেন না আশা করি। এখানে দয়া করে কেউ বাবা সাহেব এবং মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করার চেষ্টা করবেন না।)

আমরা প্রায় সকলেই জানি, হিন্দু কোড বিল ড. বাবাসাহেব আম্বদেকর প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু এই বিলের খসড়া সর্বপ্রথম কে প্রস্তুত করেছিলেন সেটা আমরা অনেকেই জানি না।

আসুন সেই আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।

হিন্দু সমাজের মহিলাদের অধিকার নিয়ে ইংরেজরা বিভিন্ন সময় আইনের পরিবর্তন করেছেন। হিন্দুদের সর্বজনগ্রাহ্য নিশ্চিত কোনো গ্রন্থ না থাকার জন্য স্থান, কাল, পরিস্থিতি এবং পরম্পরার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন নিয়ম প্রচলিত ছিল। ইংরেজ শাসকরা ভারতীয় মহিলাদের মানবিক অধিকারকে আইনগত চেষ্টা চালিয়ে গেছে। যেমন-

১) জাতিগত অযোগ্যতা বিলোপ আইন– ১৮৫০

২) হিন্দু বিধবা আইন-১৮৫৬

৩) ভারতীয়দের উত্তরারিধার আইন- ১৯২৫

৪) স্থানীয় ধর্মান্তরিতদের বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন- ১৮৬৬

৫) সম্পত্তি হস্তান্তরণ আইন-১৮৮২ সংশোধন-১৯২৯

৬) ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কতা আইন-১৮৭৫

৬) (১) ভারতীয় বিবাহবিচ্ছে আইন-১৮৮৯

৭) অভিভাবক ও সংরক্ষক আইন-১৮৯০

৮) সম্পত্তি হস্তান্তরণ (পরিপুরক) আইন-১৯১৪, ১৯১৬ আর ১৯২১

৯) হিন্দু অধ্যায়ন সুবিধা আইন- ১৯৩০

১০) হিন্দু মহিলাদের সম্পত্তির অধিকার আইন- ১৯৩৭

হিন্দু আইন সংশোধন ও সঙ্কলন করার কাজ বেশ কিছুদিন পূর্বে থেকেই চলে আসছিল ব্রিটিশদের করে দেওয়া কমিটির মাধ্যমে। ১৯৪১ সালে স্যার বি.এন.রাও এই কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। সারা দেশে ঘুরে বিভিন্ন মতামত ঐ কমিটি সংগ্রহ করে। আর কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইনমন্ত্রী মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের কাছে। উল্লেখিত আইনের সঙ্গে তার বিকাশের গতি প্রদানের জন্য ৪ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তি সরকারের আইন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ‘হিন্দু কোড বিল’-এর খসড়া প্রস্তুত করেন এবং ১৯৪৬ সালে কেন্দ্রীয় আইনসভায় পেশ করেন। বিলটি আইন সভায় পেশ করার কয়েকদিনের মধ্যেই ভারত ভাগের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়ে যায়। তাই এই হিন্দু কোড বিল নিয়ে মহাপ্রাণ আর কিছু করার সুযোগ পাননি।

দেশ বিভাগের নানা পরিবেশ পরিস্থিতির জন্য হিন্দু কোড বিল নিয়ে পার্লামেন্টে আর আলোচনা হয়নি। বিলটি পার্লামেন্টে থেকে যায়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের ফলে খণ্ডিত ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী হন ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর। সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাবাসাহেব আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন। আর সেই ক্ষেত্রে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল কর্তৃক হিন্দু কোড বিলের খসড়া বাবাসাহেবের হাতে পড়ায় তাঁর কাজ অনেক সহজ হয়েছিল। সামাজিক সমতা ও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি আইন সম্মত স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার জন্য বাবাসাহেব আইনমন্ত্রী হিসেবে তিনি মহান দায়িত্ব পালন অবশ্যই করতেন। কিন্তু হিন্দুকোড বিলের মতো একটি খসড়া পূর্ব থেকেই আইন সভায় ছিল, যেটা তৈরি করে অখণ্ড ভারতের ব্রিটিশ আইনসভায় পেশ করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইনমন্ত্রী মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। মহাপ্রাণের পেশ করা সেই হিন্দু কোড বিলটি মহান বাবাসাহেবের হস্তগত হয়। তিনি মহাপ্রাণের রেখে যাওয়া খসড়া হিন্দুকোড বিলটি বঞ্চিত জনতার মহান মুক্তিদূত বাবাসাহেব হাতে পড়লে তিনি সেটিকে আরো সুন্দর পরিমার্জিত ও সময় উপযোগী করে পার্লামেন্টে পেশ করেন। যেটি ঐতিহাসিক হিন্দুকোড বিল নামে খ্যাত।

এবার অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন হিন্দুকোড বিলের খসড়া মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল তৈরি করেছিলেন তার প্রমাণ কী? এবার সে বিষয়ে আসল তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি। অনুসন্ধানী পাঠকরা তথ্য যাচাই করে দেখতে পারেন।

Sixth Legislative Assembly 1947, 3rd Session, Volume V - Pg 3327 Hindu Code Bill

HINDU CODE

The Honourable Mr. Jogendra Nath Mandal (Law Member): Sir, I move for leave to introduce a Bill to amend and codify certain branches of the Hindu Law.

Mr. President: The question is:

“That leave be granted to introduce a Bill to amend and codify certain branches of the Hindu Law.”

The motion was adopted.

The Honourable Mr. Jogendra Nath Mandal: Sir, I introduce the Bill. With your permission I want to make mention of one other, point, as the Honourable Members of this House might be interested to know what steps Government propose to take regarding this Bill. Government propose to circulate the Bill by Executive Order for eliciting public opinion, and on receipt of public opinion Government propose to move a motion in the next Session of the Assembly for the reference of the Bill to a Joint Committee of both the Houses o Legislature. I only wanted to make this known to the Honourable Members of this House.

এই ঐতিহাসিক তথ্যের প্রমাণ হিসাবে তৎকালীন সংবিধান সভার অধ্যক্ষের দ্বারা সংবিধান সভায় প্রশ্ন-উত্তরের কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হল। হিন্দু কোড বিল পার্ট-২ এর বিবাহ এবং ভরণপোষণ বিষয়ের উপর বিতর্কে Mr. Naziruddin Ahmed বলেন- “When the Bill was prepared it was introduced by Mr. Jogendra Nath Mandal, the Minister of Law of the Interim Government.” (Dr. Babasaheb Ambedkar Writing and Speeches Vol. 14 part-1 page-534) অর্থাৎ বিলটি যখন তৈরি করা হয়েছিল তখন এটি অন্তর্বর্তী সরকারের আইনমন্ত্রী মি. যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল এটি উপস্থাপন করেছিলেন।

Mr. Naziruddin Ahmad: I submit that the original Bill was introduced by Mr. Jogendra Nath Mandal. It bears the printing date 1st, August 1946. This was the Bill which was sent to the Select Committee. A Bill printed on 16th August 1948 is the Bill that came out of the Select Committee with the report. (Vol -14, part-1, p- 450)

বিলটি গণপরিষদে পর্যালোচনার সময় Mr. Naziruddin Ahmed অন্য সময় বলেন, “He (এখানে He বলতে মহান বাবাসাহেব) pointed out with commendable thoroughness the departures made in the Final Bill from the Original Mr. Jogendra Nath Mondals Bill.” (তথ্য: ঐ page number 467) অর্থাৎ তিনি (বাবা সাহেব আম্বেদকর) প্রশংসাতীত পুঙ্খানুপুঙ্খতার সাথে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের মূল বিল থেকে চূড়ান্ত বিলের উপস্থাপনের কথা বলেছেন।

বিলটি গণপরিষদে পর্যালোচনার সময় অন্য আর এক স্থানে Mr. Naziruddin বলেন, “It is easy for anyone who has the patience to compare the original Bill presented by Mr. Jogendranath Mandal to the House with the revised Bill to see the difference.” (তথ্য: ঐ p- 466) অর্থাৎ যার ধৈর্য আছে তাঁর পক্ষে মি. যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল কর্তৃক হাউসে উপস্থাপিত মূল বিলটিকে সংশোধিত বিলের সাথে তুলনা করা সহজ।)

স্পিকার বলেন, “মি. যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল যে মূল বিলটি পেশ করেছিলেন তার পরিকল্পনা ও বিষয়বস্তুতে ব্যাপক পার্থক্য করা হয়েছে।”(ক)

মি. নাজিরুদ্দিন সদস্যদের সামনে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “অতএব মি. যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল যে বিলটি পেশ করেছিলেন তা ড. আম্বেদকর অনানুষ্ঠানিকভাবে (Informal) বিলে রুপান্তরিত করেছিলেন।(খ)

সরদার বি. এস. মান শিখদের পক্ষ থেকে বিল সম্পর্কে বলেন, “ যদিও ড. আম্বেদকর মাননীয় যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল কর্তৃক প্রস্তুত করা হিন্দু কোড বিলকে বিকশিত করার চেষ্টা করছেন তবুও এই বিলকে যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের সন্তান (offspring) বলা হবে।”গ ( উপরের তিনটি তথ্য অর্থাৎ ক,খ, গ গ্রহণ করা হয়েছে- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল জীবন আউর বিচার (হিন্দি)- লেখক- শিলপ্রিয় বৌদ্ধ, পৃ. ৮০-৮১)

এবার আমরা দেখে নেই ড. আম্বেদকর নিজেই তাঁর বিবৃতিতে বলেছিলেন, “Now I came to an important circumstance to which I would like to make definite reference. The House will remember that after the Bill was introduced in the House by Mr. Mandal – and it was introduced after the Rau Committee’s investigation was complete- even then Government promised that they would issue an executive circular to the various provincial Governments and invite their opinion on the Bill as introduced. That circular was also sent to Punjab.” (তথ্য: ঐ- Vol.-2, page– 1173) অর্থাৎ আমি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে এসেছি যা আমি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে চাই। হাউস মনে করবে যে বিলটি মি. মণ্ডল কর্তৃক উত্থাপন করা হয়েছিল। যেটি রাও কমিটির তদন্ত শেষ হবার পর উত্থাপিত হয়েছিল। এরপর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারকে একটি কার্যনির্বাহক বিজ্ঞপ্তি জারি করবে এবং তাদের মতামতের জন্য আমন্ত্রণ জানাবে। উত্থাপন করা বিলের সার্কুলার পাঞ্জাবেও পাঠানো হয়েছিল।

পরিশেষে জানাই, ড. সঞ্জয় গাজভীয়ে, যিনি মহাপ্রাণ ও বাবাসাহেবের উপর পি এইচডি করেছেন। তাঁর বইয়ের নাম “সাংবিধানিক ভারত কী নির্মাতা ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর ও মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল।” তিনি কিছুদিন আগে এক লাইভ বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, “হিন্দু কোড বিলের জননী মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল।”

উপরোক্ত রেফারেন্স থেকে জানা যায় যে, “মন্ডলজি দ্বারা প্রস্তুত করা তথা ড. আম্বেদকর দ্বারা সংশোধিত ও পরিবর্ধিত বিলের যে বিরোধ হয়েছিল তার যথোপযুক্তভাবে ড. আম্বেদকর মোকাবিলা করেছিলেন। তিনি হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রীষ্টান, মুসলমানদের জন্য বুদ্ধিমত্তা পূর্ণ আইন সঙ্গত অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে বিরোধিদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সেই প্রচেষ্টার ফলে ১৭ই নভেম্বর ১৯৪৭ সাল থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সাল পর্যন্ত হিন্দু কোড বিলটি নিয়ে ড. আম্বেদকর তাঁর শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ঝুঁকি নিয়েও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু রক্ষণশীলরা ভারতীয় নারীদের অধিকারের হিন্দু কোডবিল গ্রহণ করেনি।” (হিন্দি থেকে অনুবাদ)। (তথ্য গ্রন্থ- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল জীবন আউর বিচার, লেখক -শিলপ্রিয় বৌদ্ধ, পৃষ্ঠা ৮০-৮১)

এখানে অবশ্যই মনে রাখতে হবে বাবা সাহেব যখন হিন্দু কোড বিল নিয়ে পার্লামেন্টে জোর লড়াই করছেন তখন কিন্তু মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল পাকিস্তানের সংবিধান রচনায় এবং হিন্দু, বৌদ্ধদের সাংবিধানিকভাবে সংখ্যার ভিত্তিতে সবকিছুতে সংরক্ষণ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

দেশভাগ তথা বাংলাভাগ হওয়ার পর বাংলার নিরিহ অসহায় অমুসলমানদের দেখার জন্য কোনো নেতৃত্বকে তেমনভাবে চোখে পড়ে না। যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলও দিশাহীন হয়ে পড়লেন। তখন তিনি বাবাসাহেব আম্বেদকরের শরনাপন্ন হয়ে চিঠি লিখলেন। কারণ, বাবাসাহেবকে তিনি রাজনৈতিক গুরু হিসাবে মেনে চলতেন। তাই এই রকম পরিস্থিতিতে তাঁর কী করা উচিত সে বিষয়ে বাবাসাহেব একটা চিঠি লিখলেন ২রা জুন ১৯৪৭। যায় কয়েকটি লাইন এখানে তুলে ধরছি। (সম্পূর্ণ চিঠিটি পরিশিষ্টে দেওয়া হয়েছে।)

“The only course left to the Scheduled castes is to fight for safeguards either in United Bengal or a divided Bengal. ---- I agree that you should work in alliance with the League and secure adequate safeguards for them. ----The Muslim League, however, will be ready to give to the Scheduled Castes separate electorates more probably because they themselves want separate electorates for their own community. So far as the Eastern Bengal Scheduled Castes are concerned that no doubt is an advantage.” (তথ্য- মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ, লেখক-জগদীশচন্দ্র মণ্ডল, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২-৪)

বাবাসাহেবের পরামর্শ মতো তিনি ভারতে না গিয়ে আপন সমাজের দরিদ্র অসহায়দের স্বার্থে পূর্বপাকিস্তানে থেকে গেলেন। দুঃখের বিষয় বাবাসাহেবের এই চিঠির বিষয়ে এখনো বেশিরভাগ মানুষ জানেন না বা জানলেও না জানার ভান করে কুৎসা রটাতে থাকেন।

এরপর তিনি পূর্বপাকিস্তানের তপশিলি ও অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শক্রমেই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানের মুসলিমলীগ মন্ত্রীসভায় আইন ও শ্রম মন্ত্রী হিসাবে যোগদান করেন।

মন্ত্রীসভায় যোগদান করে তিনি তপশিলিদের স্বার্থে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবে তাঁর এই মন্ত্রীসভায় যোগদানকে জিন্না, নাজিমুদ্দিন ও সুরাবর্দি ছাড়া অন্যরা ভালোভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকৎ আলি। এখান থেকেই শুরু হয় যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে বিতাড়িত করার চিত্রনাট্য।

সেই মর্মে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল পাকিস্তানের সংবিধান লেখা সম্পূর্ণ করে জিন্নাসহ অনেককেই দেখান এবং তাদের সঙ্গে অগ্রিম পরামর্শ করেন। কিন্তু প্রায় হঠাৎ করে জিন্নার অকাল প্রয়াণ ঘটে। যদিও বলা হয় তিনি যক্ষায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। শুধুমাত্র সংবিধান নয় জিন্নার সর্ব ধর্মের প্রতি উদার মানসিকতা পশ্চিম পাকিস্তানের কট্টর ইসলাম ধর্মের মৌলবাদীরা মেনে নিতে পারছিলেন না। জিন্না ছিলেন সংস্কারপন্থী। জিন্না একই সঙ্গে মন্দির মসজিদ, গির্জা, এবং সমস্ত ধর্মের ধর্ম ব্যবসায়ীর ধর্ম গুরুদের বিপক্ষে ছিলেন। এমনকি জিন্না জীবনে কোনদিন নামাজ পর্যন্ত পড়েননি। আর কট্টর ইসলাম ধর্মের মৌলবাদীরা ছিল ইসলাম ধর্মের সংস্কারের বিপক্ষে। জিন্নার মৃত্যু মানে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের হিন্দু সহ সমস্ত সংখ্যা লঘুদের জন্য সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি। যার পরিণতিতে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের হিন্দুসহ সমস্ত সংখ্যা লঘুদের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের মুসলিম আগ্রাসন। মহাপ্রাণ যোগেন্দ্র নাথ মণ্ডলকেও মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হলে মহাপ্রাণ ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে যাবার নাম করে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। মহাপ্রাণ শেষ মূহুর্তে এ বিষয়ে পরামর্শ করে নিয়েছিলেন তৎকালীন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ড.বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে।

মহাপ্রাণ ১৯৫০ সালে ভারতে চলে আসেন। তখন হিন্দু কোড বিল নিয়ে ভারতের আইনসভায় উত্তাল পরিস্থিতি। মহাপ্রাণ এতটাই বাবা সাহেবকে সম্মান ও বিশ্বাস করতেন যে হিন্দু কোড বিলের জোর লড়াইয়ের সময় মহাপ্রাণ যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল একবারও দাবি করেননি যে ঐ হিন্দু কোড বিলের খসড়া তিনি প্রস্তুত করেছিলেন। আর এক্ষেত্রেও আবার প্রমাণিত হল যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল উদারতা ও মহত্ত্ব। যার জন্য তাঁর আর এক নাম ‘মহাপ্রাণ’।

আমরা অনেকেই জানি ১৯৬৫ সালের লকুড় কমিটির সুপারিশ বাতিল করতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর শরনাপন্ন হয়েছিলেন এবং কমিটির সুপারিশ বাতিল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে এখনও পর্যন্ত বাংলার নম:শুদ্র, রাজবংশী, ধোপা, সাহা(সুড়ি) সহ সারা ভারতের আরো পঁচিশটি সর্বমোট ঊনত্রিশটি জাতি সংরক্ষণ এর সুযোগ বা অধিকার ভোগ করে চলেছে।

কিন্তু এটাও আমাদের অনেকেরই জানা নেই ১৯৫৭ সালে জহরলাল নেহরুর তথা কংগ্রেসী মন্ত্রীসভা বৌদ্ধধম্মে ধর্মান্তরিত তফশিলি সমাজকে সংরক্ষণ এর যাবতীয় সুযোগ থেকে বাদ দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৫৬ সালে বাবা সাহেব প্রয়াত হন। তাই বৌদ্ধধম্ম গ্রহণকারী তফশিলি ও আদিবাসী সমাজের মহাসংকটে তাদের হয়ে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবার মতো কাউকে তাঁরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বৌদ্ধধম্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিরভাগ ছিলেন বাবাসাহেবের নিজের মহারাষ্ট্রের মাহার সম্প্রদায়। শেষ পর্যন্ত তফশিলী ও আদিবাসী অথচ বৌদ্ধধম্ম গ্রহকারীদের পক্ষ থেকে সংরক্ষণের সুযোগ ধরে রাখতে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্র নাথ মন্ডলের শরনাপন্ন হন। মহাপ্রাণকে অনুরোধ করা হয়, ‘আপনি কিছু করুন।’ তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুকে চিঠি লেখেন। নেহেরুজি সেই চিঠির জবাবে জানালেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কোনো অমত নেই। কিন্তু আমার মনে হয় সংবিধান এটা পারমিট করছে না।’

তখন নেহেরুর এই জবাবে যোগেন্দ্রনাথ জানান, “আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আইনমন্ত্রী আমি ছিলাম। কাজেই ভারতের সংবিধানে কতটা আইনগত বাধা আছে বা সুযোগ আছে সেটা সম্বন্ধে আমি ওয়াকিবহাল। Caste is by birth কাজেই এটার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই।” (জগদীশ চন্দ্র মণ্ডলের সাক্ষাৎর, বই- ইতিহাসে প্রেক্ষাপটে মহাপ্রাণ, পৃষ্ঠা ৬২)

যোগেন্দ্রনাথ নেহেরুজিকে আরো জানানা, “No where is our Constitution the terminology “Scheduled Castes,” Has been defined except a reference to Article 341 which again refers to the notification of the president specifying the castes which shall be deemed to be Scheduled Castes for the purpose of this Constitution. There is no mention anywhere that the communities to be included in the list Scheduled Castes shall profess Hindu religion. Many I reiterate, religion was never taken to be the criterion in this regard.

--May I Point out to you in this connection, that although the Sikhs do not subscribe to caste system, the following four castes among the Sikhs viz Mazhabi, Ramdasi, Kabirpanthi and Sikligar have been included in the President’s constitution (Scheduled Castes) order 1950.78 (তথ্য– মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ ৭ম খণ্ড, লেখক- জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল, পৃষ্ঠা ৭৯-৮৬)

এইভাবে আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে জহরলাল নেহরুকে বৌদ্ধধম্মে ধর্মান্তরিতদের জন্য সংরক্ষণের পক্ষে চিঠি পত্রের মাধ্যমে জোর সওয়াল করেন। মহাপ্রাণ জহরলাল নেহরু সঙ্গে তীব্র লড়াই করে বৌদ্ধদের সংরক্ষণের আওতায় রেখে দিতে সমর্থ হন। এখানেও যোগেন্দ্র নাথ মন্ডল মহান, মহৎ প্রাণ যার আর এক নাম মহাপ্রাণ।

এখানেই মহাপ্রাণ এবং বাবা সাহেবের মহত্ব। আমরা প্রায় শুনতে পাই ৫০ থেকে ৫৬ এর মধ্যে বাবাসাহবে ও মহাপ্রাণের কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু এই দুই মহামানব আজীবন সমাজ কল্যাণ কর্মে হরিহর আত্মা ছিলেন। এ প্রসঙ্গে জানাই, ‘১৯৫৬ সালের শেষ দিকে পাটনায় ডাঃ রাম মনোহর লোহিয়ার নেতৃত্বে একটি সভা হয়। যেখানে সমস্ত অবহেলিত নিপীড়িত শ্রণীকে একটি যৌথ ফোরামে এনে আম্বেদকরের নেতৃত্বে চালানো হবে। যোগেন্দ্রনাথ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দুর্ভাগ্য অসুস্থতার জন্য আম্বেদকর উপস্থিত হতে পারেননি। ১৯৫৬ সালের ৬ই ডিসেম্বর একটি বিষণ্ণ দিন। ডঃ আম্বেদকরের পরিনির্বাণে ভেঙে পড়েন যোগেন্দ্রনাথ। পরবর্তী শোকসভায় তাঁর কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে গেছিল। ( তথ্য- জয় ভীম, লেখক- পীযুষ গায়েন, পৃষ্ঠা ১৮৬)। অথচ ইদানিং দেখতে পাই তথাকথিত আম্বেদকরবাদীদের একটা বিরাট অংশ বিভিন্নভাবে মহাপ্রাণের ভুল ধরে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করে চলেছেন। আম্বেদকর ও মহাপ্রাণের দর্শন না বোঝা এই অতিশয় বহুজন আন্দোলন বোঝা পণ্ডিত বর্গের জন্য একটাই উপাধি “ধ্বংসাত্মক ভয়ংকর আম্বেদকরবাদী”। বেশ কয়েকজন তো আগে পিছে না ভেবে বাবা সাহেবকে মুসলমান বিদ্বেষী তকমাও লাগিয়ে দিয়ে চলেছে এবং মহাপ্রাণকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এর বিষময় ফল এবং ভবিষ্যত পরিণাম কী হতে পারে? উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। যারা মহাপ্রাণের রেখে যাওয়া সংরক্ষণের সুযোগ নিয়ে তাঁরই বিপক্ষে কথা বলছে আর যাইহোক বাংলাসহ সারাভারতে তাদের মুখে বহুজন আন্দোলনের কথা মানায় কি?

--------------------------------

https://youtu.be/6Zm4QY0ftXw?si=CWRHribE45Bv6uyG

0 comments:

Post a Comment

Blog post
Blog post
স্মরণীয় বরণীয়

Search This Blog
Labels
ambedka (5) Ambedkar (8) Ambedkar's letter to Jogendranath (2) Annihilation of Caste (4) Babasaheb Ambedkar (6) Bhima Koregaon (1) blog (1) Brahmin (3) buddha (1) caste (2) caste system (1) dhamma (1) European (1) EWS (1) Fathar of Mulnivasi (2) Gandhiji (1) guruchand (1) harichand (1) HINDU (1) holi (1) Indian male (1) islam (1) j.c.roy blog (93) j.c.roy blog holi (1) j.c.roy blog মরিচঝাঁপি (1) j.c.roy blog কালিদাস বারুরী (1) j.c.roy blog ভেগাই হালদার (1) j.c.roy blog সি.এস. মীড (1) Jogendranath (9) jyotirao phule (1) Kal marks (1) KAVITA TAYDE (1) Letter (1) mahapran (3) Mani mohon Bairagi (1) may day (1) Nama Sudra (1) OBC. (1) pakistan (1) Rebirth (1) Republic (1) reservation (1) sabitri phule (1) SC (1) ST (1) Tearchers day (1) Upper caste (1) women's day (1) yoga. যোগ (1) इतिहास भूल न जाएँ (1) दलित (1) रावण/ अशोक (1) অদল বদল (1) অশোকাষ্টমী (1) অসুর (1) অস্পৃশ্যতা (1) আত্মা (1) আন্দোলন (2) আবিষ্কার (1) আম্বেদকর (15) আরাধণা (1) আর্য (1) আর্যভট্ট (1) ঈশ্বর (1) কংগ্রেস (1) কালিদাস বারুরী (2) গান্ধি (1) গান্ধী (2) গীতা (1) গুণধর (1) গুণধর বর্মণ (1) গুরুচাঁদ (2) গোলামগিরি (1) চণ্ডাল (1) জন্মদিন (2) জাগরণ (1) জাত (1) জাত-পাত (1) জাতি (1) জাতিপ্রথা (1) জ্যোতিরাও ফুলে (2) ডাঃ গুণধর বর্মণ (2) তপশিলি (2) দলিত (2) দশমী (1) দীনেশচন্দ্র সেন (3) দুর্গা উতসব (1) দুর্গাপূজা (1) দেবতা (2) ধম্ম (1) ধম্ম পরিবর্তন (1) ধর্ম (1) ধর্মের ব্যাখ্যা (1) নবদুর্গা কলাবৌ (1) নমঃশূদ্র (3) নারীর অধিকার (1) নেড়ে (1) পদত্যাগ পত্র (1) পালি (1) পুণা-চুক্তি (1) পুনর্জন্ম (1) পুর্ব পুরুষ (1) পেরিয়ার (1) প্রবীর ঘোষ (1) প্রশিক্ষণ (1) প্রশ্ন উত্তর (1) প্রাচীন ভাষা (1) বর্ণ হিন্দু (1) বর্ণবৈষম্য (1) বহুজন (3) বাবা সাহেব (1) বাবাসাহবে ড. আম্বেদকর (2) বাবাসাহেব (3) বাংলা ভাগ (3) বাংলা ভাগ কার স্বার্থে (1) বাংলাভাগ (1) বিচারধারা (1) বিজয়া দশমী (3) বিদেশী (1) বিদ্যা (1) বিদ্যাসাগর (1) বিবেকানন্দ (1) বুদ্ধ (4) বুদ্ধ ধর্ম না ধম্ম? (1) বুদ্ধ হরিচাঁদ (1) বুদ্ধিজীবী (2) বৈশালী ডোলস্‌ (1) বৌদ্ধ (3) বৌদ্ধ জয়ন্তী (1) ব্যাম (1) ব্রাহ্মণ (1) ভগবান (1) ভাই ফোটা (1) ভাগবাত গীতা (1) ভারতীয় রাজনীতি (1) ভাষণ (2) ভাষাগোষ্ঠী (1) ভোটাভোটির লিস্ট (1) মতুয়া (3) মতুয়া জীবন (2) মনি মোহন বৈরাগী (1) মহাপ্রভু (1) মহাপ্রাণ (6) মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ (9) মুসলিম (1) মুসলিম মন্ত্রীসভা (1) মূলনিবাসী (5) মূলনিবাসী বহুজন (3) মে দিবস (1) মেঘনাদ সাহা (1) যোগেন্দ্রনাথ (13) যোগেন্দ্রনাথ শ্যামাপ্রসাদ (1) রহিত ভেমুলা (2) রাজনীতি (1) রাজা অসুর (1) লকুড় কমিটি (1) শান্তিরঞ্জন বিশ্বাস (1) শিক্ষক (1) শিক্ষক দিবস (1) শিক্ষা (1) শিক্ষা আন্দোলন (1) শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য (1) শুদ্র না ব্রাহ্মণ (1) শূদ্র (1) শূন্য (1) শ্যামাপ্রসাদ (1) সতর্ক বার্তা (1) সদানন্দ বিশ্বস (3) সদানন্দ বিশ্বাস (1) সংবিধান (1) সমর গুহ (1) সমাজ প্রবোধন (1) সমাজ সেবা (1) সম্রাট অশোক (3) সংরক্ষণ (5) সরস্বতী (1) সরস্বতীর আরাধণা (2) সংস্কৃত (1) সাতটি ভোট (1) সাবিত্রিবাই ফুলে (1) সিন্ধু (1) স্বর্গ (1) স্বাধীনতা আন্দোলন (1) হরিচাঁদ (1) হিন্দু (6) হিন্দু কোড বিল (1) হোলি (1)
Popular Posts
আলোর দিশারী মহাত্মা ভেগাই হালদার : জীবন ও কর্ম-লেখক : দিনেশচন্দ্র জয়ধর
সংরক্ষণ
যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলঃ 'ভাতীয় রাজনীতির ট্রাজিক নায়ক'। লেখক- কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর।
হিন্দু কোড বিল ও সংরক্ষণে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের অবদান। লেখক -জগদীশচন্দ্র রায়
“বাংলাভাগের জন্য মানুষের (উদ্বাস্তুদের) এত কষ্ট হবে এ যদি আগে বুঝতে পারতাম, তা হলে বাংলাভাগ চাইতাম না। এখন মনে হচ্ছে যোগেনবাবুরা বাংলাভাগের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করেছিলেন তা সঠিক ছিল।” – শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি
বাবা সাহেব ডঃ আম্বেদকরের ধর্ম(ধম্ম) ভাবনা
মহাপ্রভুর পুর্ব পুরুষদের বিবরণ-
বাংলা ভাগের পক্ষে ও বিপক্ষে কারা ভোট দিয়ে ছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ। (যোগেন্দ্রনাথ এই ভোটাভোটিতে অংশ গ্রহণ করেন নি)
মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের জীবন ও কর্ম -জগদীশচন্দ্র রায়
বৃহৎ বঙ্গ ১ম খন্ড PDF - দীনেশচন্দ্র সেন
Recent Posts
Blog Archive
► 2026 (30)
► 2025 (15)
► 2024 (1)
▼ 2023 (4)
► March (2)
► February (1)
▼ January (1)
হিন্দু কোড বিল ও সংরক্ষণে মহাপ্রাণ যোগেন্দ্রনাথ মণ...
► 2022 (10)
► 2021 (1)
► 2020 (10)
► 2019 (2)
► 2018 (4)
► 2017 (15)
► 2016 (17)
► 2015 (7)
► 2014 (15)

Powered by Blogger.

हिंदू कोड बिल और संरक्षण में महाप्राण योगेंद्रनाथ मंडल का योगदानले...

Address

R Main Road
Main Road

Telephone

+918240796547

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বহুজনের পাতা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category