08/08/2025
উত্তরকাশীর ধরালি গ্রামে যে বিধ্বংসী ঘটনাটি ঘটেছে, প্রাথমিকভাবে সেটিকে 'ক্লাউড বার্স্ট' বা মেঘভাঙা বৃষ্টি বলে মনে করা হলেও, আবহাওয়াবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের মতে এর পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে।
#বাংলা
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি আসলে গ্লেসিয়ার লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়া অথবা কোনও হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার কারণে সৃষ্ট একটি বিপর্যয়। এর কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:
✅✅বৃষ্টির পরিমাণের অভাব: আবহাওয়া দফতরের (IMD) রেকর্ড অনুযায়ী, ঘটনার সময় উত্তরকাশী ও তার আশেপাশের অঞ্চলে খুব বেশি বৃষ্টিপাত হয়নি, যা সাধারণত মেঘভাঙা বৃষ্টির ক্ষেত্রে হয় না। মেঘভাঙা বৃষ্টিকে সংজ্ঞায়িত করা হয় যখন এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়। কিন্তু সেখানে তেমনটা হয়নি।
✅✅ হিমবাহের উপস্থিতি: স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে যে ওই এলাকার উপরে হিমবাহ এবং হিমবাহ থেকে তৈরি হওয়া কয়েকটি হ্রদ আছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রবল বৃষ্টি বা তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই হ্রদের জল হঠাৎ করে ভেঙে নিচে নেমে আসে, যা তীব্র হড়পা বানের সৃষ্টি করে। এর ফলে কাদামাটি, পাথর এবং বরফ একসঙ্গে প্রবল গতিতে গ্রামের উপর আছড়ে পড়ে।
✅✅কেদারনাথের ঘটনার সঙ্গে মিল: এই ঘটনাটির সঙ্গে ২০১৩ সালের কেদারনাথের বিপর্যয়ের অনেক মিল রয়েছে, যেখানে মূলত হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়ার কারণেই বড় ধরনের বন্যা ও ভূমিধস হয়েছিল।
যদিও স্থানীয় কিছু সংবাদ মাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছে এটি 'ক্লাউড বার্স্ট' হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে, তবে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, এটি মেঘভাঙা বৃষ্টি নয়, বরং একটি হিমবাহ সংক্রান্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয়।