09/04/2026
ইটাচুনা রাজবাড়ি ❤️
আঠেরো শতাব্দীর মধ্যভাগ। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সুবেদার নবাব তখন আলিবর্দী খাঁ। শুরু হলো মারাঠি দস্যুদের হামলা। বাংলায় তাদের বলা হত বর্গী। তাদের লুটপাট, খুনজখম, অত্যাচারে বাংলার মানুষ সন্ত্রস্ত। এমনকি, দুরন্ত ছেলেকে ঘুম পাড়ানোর জন্য রচিত হয়েছিল ছেলেভুলানো ছড়া যা তিনশ বছর পরেও শোনা যায় বাংলার মায়েদের গলায়,
“খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়োলো, বর্গী এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়ে যায়, খাজনা দেব কিসে ?”
এই ছড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ইটাচুনা রাজবাড়ীর ভিক্তির ইতিহাস।
১৭৪২-১৭৫২ এই দীর্ঘ দশ বছর চলেছিল লুঠতরাজ আর অরাজকতা । ভাস্কর পণ্ডিত আর রঘুজী ভোঁসলে এই দুই মারাঠা সর্দারের পরিচালনায় তৈরী হয়েছিল বিরাট এক বাহিনী। প্রথমটায় আলিবর্দী খাঁ কড়া হাতে বর্গী আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলায় শান্তি আনার চেষ্টা করেন কিন্তু তাঁর পক্ষে বেশিদিন এই লড়াই সম্ভব হল না। বর্গীরাও অনেক বেশি হারে খাজনা বা কর (তাদের ভাষায় চৌথ অর্থাৎ নবাবকে দেওয়া করের এক চতুর্থাংশ) আদায় করতে লাগলো। এই পরিস্থিতি শান্ত হলো যখন বাংলার নবাব মারাঠাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করলেন। মীর হাবিবের মৃত্যুর পর মারাঠারা বাংলা থেকে চলে যায়। তবে কিছু বর্গী ফিরে না গিয়ে এই বাংলাতেই রয়ে যায়। লুঠপাট ছেড়ে অন্য ব্যবসাবাণিজ্যর সঙ্গে যুক্ত হয়। যারা রয়ে যায়, তারা ইতিমধ্যেই লুঠের ধন, চৌথ আদায় এবং ব্যবসার কারণে প্রচুর বড়লোক হয়ে উঠেছিল। অঢেল ধনসম্পত্তির মালিকানা ছিল তাদের হাতে।
তেমনই এক মারাঠী বংশ কুন্দাস বা কুন্দন। বাংলার জলবায়ুতে মিলমিশ হতে গিয়ে তারা ক্রমে হয়ে গেল কুণ্ডু। ১৭৬৬ সালে এই কুণ্ডু পরিবারের সাফল্য নারায়ণ কুণ্ডু হুগলির কাছাকাছি বর্গীডাঙায় তৈরী করলেন এক রাজবাড়ী। প্রাসাদ তৈরির মূল উপাদান ইট ও চুন, তাই তার নামও হল ইটাচুনা রাজবাড়ি। আর বর্গীডাঙার নাম হোলো ইটাচুনা।
কলকাতা থেকে ৯০ কিমি দূরে অবস্থিত ইটাচুনার রাজবাড়ী গঠনগত দিক দিয়ে সাবেকী জমিদার বাড়ীর স্বাদ এনে দেয়। বিশাল লোহার গেট পার হলেই চোখে পড়বে ইংরাজীর ‘ইউ(U)’ আকৃতির প্রকাণ্ড দোতলা রাজবাড়ী।
** সংগৃহীত তথ্য
ছবি - সুমাঞ্জন রায় 😊❤️