একবিংশের অগ্রদূত

একবিংশের অগ্রদূত ইতিহাস শুধু অতীত বলে , তাই আগামীর কিছু কন্ঠস্বর - "একবিংশের অগ্রদূত"

25/05/2025

যে নামটি আমরা যাচ্ছি ভুলে - রাসবিহারী বসু

▪️আমরা তাঁদেরকেই মনে রাখি যাদেরকে মনে রাখে ইতিহাস। কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এমন অনেক নায়ক রয়েছেন যাঁরা আজ ইতিহাসের পৃষ্ঠায় প্রায় ভুলে যাওয়া কিছু নাম হয়ে রয়ে গিয়েছেন। তাঁদেরই একজন হলেন রাসবিহারী বসু — এক অবিস্মরণীয় বিপ্লবী, যিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের সূচনা করেছিলেন এবং আজীবন ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নে বিশ্বাস রেখে লড়ে গিয়েছেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের নাম শুনলেই প্রথমে আমাদের মনে পড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কথা। কিন্তু অমরা খুব কম মানুষই জানি , এই সেনাবাহিনীর প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাসবিহারী বসু। কোনো একরাতে তাঁর পক্ষে এই বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ব্রিটিশ শাসনের চোখ এড়াতে তিনি জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখান থেকেই স্বাধীন ভারতবর্ষ গড়ে তোলার জন্য তাঁর লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ছাড়া আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্মই হতো না।
আজাদ হিন্দ ফৌজের বীজ বপনকারী রাসবিহারী বসু কৈশোর থেকেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ১৯০৮ সালের আলিপুর বোমা মামলা তাঁকে প্রথমবার জনসমক্ষে নিয়ে আসে । এরপর তিনি দেরাদুনে ব্রিটিশ সরকারের অধীনে কেরানির চাকরি নেওয়ার আড়ালে বিপ্লবী কাজ চালিয়ে যান।
১৯১২ সালে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা হামলার পরিকল্পনায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। যদিও দুর্ভাগ্যবশত হার্ডিঞ্জ বেঁচে যান। কিন্তু রাসবিহারী বসু ধরা পড়েননি। এই ঘটনার পর থেকেই ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তাঁর পেছনে লেগে যায়।
১৯১৩ সালে তিনি বাঘা যতীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাঘার সাহস ও আদর্শ রাসবিহারীর চিন্তাধারায় বড়সড় প্রভাব ফেলে। এরপর তিনি গদর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন— যা ছিল বিদেশে থাকা ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন।
পরবর্তীতে ১৯১৫ সালে ব্রিটিশদের চোখ এড়াতে তিনি জাপানে চলে যান। সেখানে প্রথমে তাকে আশ্রয় দেন কিছু পান-এশিয়ান সংগঠন। পরে তিনি জাপানি নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং জাপানেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত গড়ে তোলেন।
রাসবিহারী বসু কেবল একজন বিপ্লবী ছিলেন না, তিনি একজন সাহিত্যিক ও দার্শনিকও ছিলেন। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সিনেমার জগতেও তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। রামায়ণ ও গীতার জাপানি অনুবাদ তাঁরই করা। এমনকি তিনি এক সময়ে বোম্বেতে (বর্তমানে মুম্বই) এশীয় চলচ্চিত্রশিল্প গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখেছিলেন, যা পরবর্তী কালে বলিউডে রূপান্তরিত হয়।
১৯২৪ সালে রাসবিহারী বসু জাপানে 'ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ' প্রতিষ্ঠা করেন। এই বছরই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় সুভাষচন্দ্র বসুর, যা সম্ভব হয় বীর সাভারকরের উদ্যোগে। এই সাক্ষাৎই ছিল আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের বীজ রোপণের মুহূর্ত। ১৯৪২ সালে রাসবিহারী আজাদ হিন্দ ফৌজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে এর নেতৃত্ব তুলে দেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সুভাষের নেতৃত্বেই এই ফৌজ ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।
রাসবিহারী বসু, যিনি দেশে-বিদেশে প্রতিনিয়ত স্বাধীন ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখেছেন এবং সেই স্বপ্ন পূরণের নিরলস প্রচেষ্টা করে গেছেন , তিনি আজও ভারতের ইতিহাসে অমর। হ্যাঁ , স্বাধীনতার পরে হয়তো তাঁর নাম কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে, কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস তাঁকে কখনো ভুলে যেতে পারে না , ভারতবাসী হিসেবে আমরা তাঁকে কখনোই ভুলে যেতে পারি না।
আজ ২৫ মে, ২০২৫ , রাসবিহারী বসুর ১৩৮ তম জন্মদিন।
ভারতের এই মহান দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবীর চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম। 🙏🏻

03/12/2024

ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে যেই শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর নাম , ওনার ১৩৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একবিংশের অগ্রদূতের এই ক্ষুদ্র শ্রদ্ধার্ঘ্য 💐🙏🙏

শহীদ তোমার অমর জীবন           পাথেয় করে, আবার কবে ?ভারতভূমির শিরায় শিরায়,           আসবে জোয়ার প্রেম ও ত্যাগের?ক্ষুদ...
29/11/2024

শহীদ তোমার অমর জীবন
পাথেয় করে, আবার কবে ?
ভারতভূমির শিরায় শিরায়,
আসবে জোয়ার প্রেম ও ত্যাগের?
ক্ষুদিরাম কি শুধুই একজন শহীদ ? সে যুগান্তরের সেই অগ্রদূত যে রক্ত দিয়ে মাটি কিনতে শেখায়, যে হাসিমুখে মায়ের পায়ে নিজের জীবন অর্ঘ্যরূপে দান করতে শেখায় । ভারত মায়ের এমন এক কিশোর সন্তান আমাদের কাছে সূর্যের মত চির প্রকাশমান। সহস্র কৃতজ্ঞতার ঝুলি উজাড় করে দিলেও আমাদের ঋনের বোঝা বেড়েই চলে এই অমর জীবনের কাছে।

আমরা আর একটু বেশি ধন্য,আর একটু বেশি ঋনী যে এমন বীর সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিলেন মেদিনীপুরের মাটিতে। শুধু কি তাই ? তাঁর বীর কার্যকলাপের রোমহর্ষক ডাক লুন্ঠনের ঘটনাটি ঘটেছিল দাসপুরের বড়শিমুলীয়া গ্রামের দীঘির পাড়ে। যে ছোট্ট বটগাছটি এই ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে পেরেছিল সে আজ বিশাল মহীরুহ।

এই বটবৃক্ষটিকে নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। মেদিনীপুরের প্রমুখ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদেশে, শ্রদ্ধেয় বীরেন্দ্রনাথ দুয়ারীর নেতৃত্বে তৎকালীন স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে এবং সাধারণ মানুষের অকৃপণ দানে স্থাপিত হয়েছে ক্ষুদিরামের আবক্ষমূর্তি, দেশমাতার এই বীর সন্তানের আদর্শকে তরুণ প্রাণে সঞ্চারিত করতে তৈরি হয়েছে আধুনিক ব্যায়ামাগার। এছাড়াও শিশুউদ্যান, শিশুদের আবৃত্তি ও অঙ্কন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,সাধারণ মানুষের জন্য শৌচাগার তথা পানীয় জলের ব্যবস্থা । উদ্যোগকারী সংস্থার নিজস্ব ভবনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য চা ও টিফিন স্টলও তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ক্ষুদিরাম অনুরাগী এক সহৃদয় ব্যক্তির আন্তরিক দানে তৈরি হতে চলেছে একটি স্থায়ী মঞ্চ। যা দেশপ্রেমের আহ্বান জানাবে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে। প্রয়োজন এরকমই আরও সংগ্রামী অনুরাগী প্রাণ ও অনুদান।

এই বীর সন্তানকে সামনে রেখে সারাবছরের বিভিন্ন সময়ে নানান সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহীদের জন্মদিবসে(3rd December) সমাজ সচেতনতামূলক কার্যকলাপের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। আসুন, আমরা আবালবৃদ্ধবনিতা এগিয়ে আসি, পাশে দাঁড়াই। ক্ষুদের বিনিময়ে কেনা এই বীর সন্তানটির স্মৃতিবিজড়িত জীবন্ত সাক্ষীর ছায়াতলে দেশসেবার মন্ত্রখানিতে আর একবার রাঙ্গিয়ে নিই নিজেদের।
ধারাবাহিক বিপ্লবী স্মৃতি ও সংস্কৃতি অনুশীলন কেন্দ্রে আপনাদের অনুদানের জন্য স্মৃতি রক্ষা সোসাইটির ব্যাংক একাউন্ট বিবরণী নিম্নে দেওয়া হলো | BARASIMULIA SAHID KSHUDIRAM SMRITI RAKSHA SOCIETY INDIAN BANK: SAGARPUR BRANCH

A/C NO-50176118806

IFSC CODE: IDIB000S516

যোগাযোগ
সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ দুয়ারী: 9732743806 // 9635442099// 9732568898

চেয়ে দেখো কারা আজ হেঁটেছিলো যুগান্তরের যাত্রা। চোখে আলো না থাক চেতনায় দীপ্ত আলোক শিখা, পঙ্গুও পেয়েছে শক্তি। পরাজিত আজ...
02/10/2024

চেয়ে দেখো কারা আজ হেঁটেছিলো যুগান্তরের যাত্রা।
চোখে আলো না থাক চেতনায় দীপ্ত আলোক শিখা, পঙ্গুও পেয়েছে শক্তি। পরাজিত আজ বয়স তথা জরা।
কার জন্য? সে তিলোত্তমা।
যার শুধু দায় ছিলো সত্যের প্রতি। সে যে ভারতীয় নারী।
রোগী ছিলো তার সন্তান সম, সেবা ছিলো তার ধর্ম।
কি ওষুধ খাবে? তার গুন আছে কিনা,
হাসপাতালে বেড কেনো থাকবেনা।
সব দিকে ছিল জাগ্রত দৃষ্টি। দিনের পর দিন শত বাধা লাঞ্ছনার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অন্যায় কে মেনে নিতে পারতোনা।
না সে নীরব থাকতে জানতো না।
চুপ থাকতে জানলে তারও আজ পুজোর শপিং হতো সেও আজ তোমার মতই হয়তো দেখত মহালয়া।
না সে চুপ থাকেনি।
সে নিজেকে দূর্বল মনে করেনি। একা বলেও মনে করেনি।
সেছিল প্রতিবাদের সাথে স্বৈরাচারের লড়াই ।
চেয়ে দেখো আজ সে নগরে প্রান্তরে রাজপথে
বিপ্লব দেখো জাগ্রত তোমারই অন্তরে । তুমিও কি ছিলেনা আজ? হয়তো মিছিলে ছিলেনা। তবুও তোমার চেতনায় সে তোমার হাত ধরেই হেঁটেছিল। তুমি চাও বিচার। আর সে চায় তোমায়। যেখানে যখন অন্যায় দেখবে সেখানেই সে তোমার হাত ধরবে।

Date - 02/10/2024

...যে আলো চোখের অচেনা        চর্ম‌‌চক্ষুর অন্তরালে,সে আলোর নতুন শিখা...🪔নতুন  করে তোমার দলে।...🌄হে যুবসমাজ , চেয়ে দেখো ...
02/10/2024

...যে আলো চোখের অচেনা
চর্ম‌‌চক্ষুর অন্তরালে,
সে আলোর নতুন শিখা...🪔
নতুন করে তোমার দলে।...🌄
হে যুবসমাজ , চেয়ে দেখো কারা আজ হেঁটেছিলো তোমাদেরই যাত্রা।।।

02/10/2024

আগস্ট মানেই বিপ্লব , আগস্ট মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো , ঘুন ধরা মেরুদণ্ড আবার মেরামতের সময় এই আগস্ট । আমরা এখন প্রতিটা দিন , প্রতিটা মুহূর্ত আগস্টেই রয়েছি । এই আগস্টেই পুনরায় জন্ম নিয়েছে একবিংশের প্রতিবাদের ভাষা। এই আগষ্টে প্রত্যেকে আমরা আজ চিরঞ্জীবী , আমাদের বাঁচতে হবে , বাঁচাতে হবে । মাথা উঁচু করে , চোখে চোখ রেখে আজ এগিয়ে আসতে হবে , কারন - *এখনো যে আগস্ট...*

30/09/2024

তুমি শুধু মিছিলের সংখ্যামাত্র নও,
আজ তুমি পরিবর্তনের মশাল ধারক...🪔
" তুই এখন অবতার "
✒️ কলমে - অর্কদেব সামন্ত

🌑শিরদাঁড়াহীন অসুস্থ সমাজের দৃষ্টি আকর্ষক ঐ দিনগুলো কোন মহৎ উদ্দেশ্যে স্মরণীয় নয়। প্রাকৃতিক ছন্দে তাল মিলিয়ে কেটে যাও...
29/09/2024

🌑শিরদাঁড়াহীন অসুস্থ সমাজের দৃষ্টি আকর্ষক ঐ দিনগুলো কোন মহৎ উদ্দেশ্যে স্মরণীয় নয়। প্রাকৃতিক ছন্দে তাল মিলিয়ে কেটে যাওয়া আর পাঁচটা দিনের মতোই অতিবাহিত ঐ দিনগুলো সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববাসীর রক্তমাখা পৈশাচিক অমানবতার। রক্ত পিপাসি এই অমানবতা আজ মেরুদণ্ডহীন ক্ষয়িষ্ণু সমাজের বুকে গেঁথে দিয়েছে বিরাট এক প্রশ্ন চিহ্ন - ' সত্যিই কি মানবসমাজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ? ' যদি তাই হয় তবে, ধিক্কার এই সমাজকে ! যেখানে প্রতিপদক্ষেপে মানবতাকে সইতে হয়, রক্তমাখা রাজনীতির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এই নির্মম ষড়যন্ত্র কেবল সম্পদ লোভী সত্তার প্রাপ্তিতে থেমে থাকে না বরং হিংস্র পিশাচের মতো অবাধ বিচরণে সে খেয়ে ফেলে সমাজের মেরুদন্ড, নৈতিক মূল্যবোধ। এরূপ নিদারুন নির্মমতার কলঙ্কে কলঙ্কিত হয় নিপীড়িত দেশ মাতা।
লজ্জিত এই কলম চরিত্রহীন সমাজের চারিত্রিক বিশ্লেষণে!
এখন সময় এসেছে প্রতিবাদের সুরে সুর মিলিয়ে পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার। সময় এসেছে পবিত্র এই মানবতার যজ্ঞে ঘি ঢেলে প্রাণঘাতক হিংস্র পৈশাচিক উল্লাসকে পুড়িয়ে ভস্ম করার। এই ভস্মই ভবিষ্যৎ সমাজের বুকে বপন করবে সুস্থ এক জগৎকল্যাণরুপি পরিবর্তনের বীজ এবং চিরতরে নামিয়ে দেবে অপমানিত দেশমাতার বুক থেকে কলুষিত নরক-যন্ত্রণার বোঝা।

কলমে - অংশুক ভট্টাচার্য্য

Address

Ghatal , Daspur
Paschim Medinipur
721211

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when একবিংশের অগ্রদূত posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category