12/02/2026
কাটিগড়া তারিনিপুরে এক অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা জানতে পারলাম। গ্রিন বেলি নামক একটি বেসরকারি স্কুলের এক ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিন্সিপালের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে সে পরীক্ষায় বসতে পারেনি ছয় জন ছাত্র-ছাত্রী। বিষয়টি জানার পর আমরা কাটিগড়া এনএসইউআই-এর এক প্রতিনিধি দল সেই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলি।
তার মুখ থেকে শোনা প্রতিটি শব্দ ছিল বেদনা আর হতাশায় ভরা। ফর্মের টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এডমিট কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম কোনো সেন্টারে পাঠানো হয়নি। ফলাফল—একটি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তানের স্বপ্ন, তার পরিশ্রম, তার দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি—সবকিছু এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
প্রশ্ন জাগে—শিক্ষার নামে এমন অবহেলা কীভাবে ঘটে? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি শুধুই ব্যবসার কেন্দ্র হয়ে উঠছে? একজন ছাত্র বা ছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন নির্মম উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষা শুধু পেশা নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা মানেই একটি জীবনের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেওয়া।
আমরা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত হোক। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ছাত্র/ছাত্রী এমন অন্যায় ও অবিচারের শিকার না হয়।
একাধিক ছাত্র ছাত্রীর চোখের জল, একটি পরিবারের ভেঙে পড়া আশা—এসব কোনো পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। তাই আজ আমরা শুধু প্রতিবাদ নয়, ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষা ব্যবসা নয়।
শিক্ষা একটি দায়িত্ব।
শিক্ষা একটি অধিকার।