09/02/2026
জামায়াত দুর্নীতি করে না? সত্যিই? কি তাই?
দুর্নীতি শুধু টাকার না, চাঁদাবাজির (কিংবা হাদিয়ার) না; নীতিরও।
কমেন্টে লিংক আছে:-
নিরপেক্ষ তরুণদের একটা অংশ জামায়াতকে ভোট দেবে আমি জানি। আমি লিখে দিচ্ছি, এরাই সরকারি চাকরি, বিসিএসের ভাইভায় বাদ পড়বে, যদি শিবিরের ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকে। টাটকা উদাহরণ দেই:
শরীফ তাহমিদুর রহমান নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও ইসলামপন্থী অ্যাকটিভিস্টের কালকে পোস্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে (লিংক কমেন্টে)। জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর বদলে টেলিফোন মার্কার পক্ষে প্রচারণা করার অপরাধে প্রথমে সতর্ক করা হয়, কুৎসা-গিবত রটানো হয়। সর্বশেষ তার রুটি-রুজির হক কেড়ে চাকরিতে বরখাস্ত করা হয় জামায়াত পরিচালিত মাদ্রাসা থেকে।
দুর্নীতি মানে নীতিহীনতা। জামায়াত ক্যাডার বানায়। এই ক্যাডারদেরই জায়গামতো প্লেস করে। একে বলে ক্ল্যান প্রথা। হয় আপনি জামায়াতের, না হলে আপনি শত্রু। এর প্রমাণ ওদের আক্রমণাত্মক ভাষাতেই পাবেন। (এরা নাকি ইসলামের পতাকাধারী! নবীজী (সা.) তার সমগ্র জীবনে অশ্লীল কোনো শব্দ উচ্চারণ তো দূরের কথা, কাউকে রূঢ় ভাষায় ধমক পর্যন্ত দেননি)।
উপজেলা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা থেকে বিশ্বিবদ্যালয়ের ভিসি, তিনি জামায়াতপন্থী হলে তার কাজই হবে জামায়াতের লোকজনকে চাকরি দেওয়া। এমনকি আপনি হেফাজতের, খেলাফতের, এনসিপির? কোনো লাভ নাই। আর যারা সাধারণ শিক্ষার্থী? বিসিএসের ভাইবা পর্যন্ত গেলেও যেসব প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন, গোল্লা নিয়ে ফিরতে হবে।
কদিন আগেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি গণহারে নিজের লোক নিয়োগ দিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। ডাকসুর মোসাদ্দিক আলীর দেওয়া পোস্ট থেকেই কোট করছি, 'বঞ্চিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো রেজাল্টধারী প্রার্থীরা। জামায়াতী প্রশাসন এর মাধ্যমে জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে সুস্পষ্ট বেইমানি করেছে।'
ইবনে সিনা, ইসলামি ব্যাংকসহ জামায়াতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কোথাও জাশির বাইরে লোক পাবেন না। আপনার যোগ্যতা যা-ই হোক না কেন। এদের কাজই হলো, আগে বড় পদে যাও, সব জায়গায় নিজের লোক সেট করতে থাকো।
বিএনপি-আওয়ামী লীগের লোকেরা এই কাজ করে না? করে। কিন্তু করে টাকার লোভে। এ কারণে দেখবেন, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের লোকজন ঢুকে বসে ছিল। সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় যে দীর্ঘদিনের ঘুষ সিন্ডিকেট, জামায়াত এলেই রাতারাতি গায়েব হয়ে যাবে?
ঘুষ তো থাকবেই, এর সাথে যোগ হবে জামায়াত সমর্থক হওয়ার সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা।
বিএনপিকে চারবারের দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন বলে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। কিন্তু এই কথা বলছে না, সেই সরকারের অংশ ছিল তারাও। দায় তাদেরও,অথচ তথ্যগুলো ছিল পূর্বের সরকারের সময়কার ।তাদের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক অসততার প্রমাণ নেই—এটাও তারা বলে। কিন্তু ওই ৫ বছরে দুই দুই মন্ত্রণালয় নিয়ে শত কোটি টাকার দুর্নীতির খবর এসেছিল, এটা আর বলে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএতে ৩.৮ সিজিপিএ পাওয়া একজন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো ফল করার পরও ইসলামি ব্যাংকে যে তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে না শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় না-থাকায়—এটাও ভয়ঙ্কর রকমের দুর্নীতি। ভয়ঙ্কর রকমের নীতিহীনতা।
কপি পেস্ট ।