17/06/2026
We are incredibly proud of our respected Adviser, Dr. Ayaz Chowdhury. Your dedication, leadership, and commitment to the community continue to inspire us all. Wishing you continued success and happiness in all that you do.
ডা. আইয়াজ চৌধুরী: চিকিৎসা, গবেষণা ও কমিউনিটি নেতৃত্বে অনন্য এক বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান
ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, হাসপাতাল নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বক্তা ও সমাজসেবক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের সেতুবন্ধনে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক ডা. আইয়াজ চৌধুরী।
সিডনি প্রতিদিন ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বিশিষ্ট চিকিৎসক, গবেষক ও সমাজসেবক ডা. আইয়াজ চৌধুরী চিকিৎসা পেশায় দীর্ঘ সাফল্যের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যখাতে সুপরিচিত ও সম্মানিত একটি নাম।
MBBS, FRACP এবং ডিপ্লোমা ইন এপিডেমিওলজি ডিগ্রিধারী ডা. আইয়াজ চৌধুরী বর্তমানে সিডনিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবার্ন পাবলিক হাসপাতাল, ওয়েস্টমিড প্রাইভেট হাসপাতাল, হেলথউডস এন্ডোস্কোপি সেন্টারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব নটরডেমের মেডিসিন বিভাগের ক্লিনিক্যাল অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অবার্ন হাসপাতাল মেডিকেল স্টাফ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং হাসপাতাল প্রশাসনে তাঁর নেতৃত্ব প্রশংসিত।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর গবেষণামূলক অবদানও উল্লেখযোগ্য। ওয়েস্টমিড হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিতে চার বছরের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং এক বছরের গবেষণা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়েস্টমিড রিসার্চ ফাউন্ডেশন ও গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিক্যাল সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভেল গ্রান্ট লাভ করেন। এসব সহায়তায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিয়ান্স ও অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
১৯৯৫ সালে তিনি রয়্যাল অস্ট্রালেশিয়ান কলেজ অব ফিজিশিয়ানস (FRACP)-এর ফেলো নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়ার সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন। তাঁর বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়াগনস্টিক ও থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপি, লুমিনাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD) ব্যবস্থাপনা।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাঁর অবদান সমাদৃত। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির আমন্ত্রণে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (BMU, পূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) কী-নোট বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অভিজ্ঞতা সেখানে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ডা. আইয়াজ চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটিজ অব অস্ট্রেলিয়া (FBMSA)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি চিকিৎসকদের মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন আগত চিকিৎসকদের সহায়তায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের (IMG) অধিকার ও পেশাগত স্বীকৃতির প্রশ্নেও তিনি ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। FBMSA-এর সভাপতি থাকাকালে ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও বাংলাদেশের চারটি ওভারসিজ মেডিকেল সোসাইটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে IMG বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (AMA) জাতীয় কনভেনশনে আমন্ত্রণ জানায়, যেখানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। পরবর্তীতে তিনি অস্ট্রেলিয়ান মেডিকেল কাউন্সিলে IMG বিষয়ক আলোচনায় AMA-এর প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
মানবিক ও দাতব্য কর্মকাণ্ডেও ডা. আইয়াজ চৌধুরীর অবদান অনন্য। প্রয়াত ডা. আবদুল হকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তিনি বাংলাদেশে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার ও জেনারেল হাসপাতালের জন্য প্রায় ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার তহবিল সংগ্রহে নেতৃত্ব দেন। এই অর্থ হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক কার্যক্রমে সমর্থন জোগাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
এছাড়া ‘গুড মর্নিং বাংলাদেশ’ নামের দাতব্য উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সংগঠক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার কাউন্সিল নিউ সাউথ ওয়েলসের জন্য তহবিল সংগ্রহে কাজ করছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ক্যান্সার গবেষণা ও রোগী সহায়তা কার্যক্রমে ব্যয় করা হচ্ছে। তিনি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের একজন সম্মানিত উপদেষ্টা।
স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয়। বাওয়েল ক্যান্সার, লিভার রোগ এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিসংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাংলা গণমাধ্যমে নিয়মিত সাক্ষাৎকার ও পরামর্শ প্রদান করেন।
সহকর্মী ও কমিউনিটি নেতাদের মতে, চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত উৎকর্ষ, গবেষণামুখী মনোভাব, কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ডা. আইয়াজ চৌধুরী আজ বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান সমাজের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবার সমন্বিত এই যাত্রা তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।