16/05/2023
ভগবান শ্রী কৃষ্ণের দুই চরণের নূপুর ছোট বড়ো হয় কেন এবং কে ছিলেন ঐ নূপুর ?
ভগবান শ্রী রামচন্দ্র ,সীতা মাকে হারানোর পর , রামধনুক মাটিতে রেখে তার উপর ভর দিয়ে কাদঁছেন , লক্ষ্মণ দেখেন দাদা কাঁদছে মাটিতে নয়ন বারি ঝরে পড়ছে ,
কিন্তু সেখানে রক্ত ,লক্ষ্মণ বলেন দাদা তুমি কাঁদছ ?? তবে তোমার চরণের নিকট রক্ত কেন ,রামচন্দ্র তার ধনুক সরিয়ে দেখে একটা ব্যাঙ্ চাপা পরে আছে তারই রক্ত।
আর সেই রক্ত রামচন্দ্রের চোখের জলে মিশে গিয়ে বৈতরনী নদীর সৃষ্টি হলো , রামচন্দ্র ব্যাঙটিকে হস্তে তুলে নিয়ে প্রশ্ন করলেন ,
"ওরে ব্যাঙ তুই আমার ধনুকের তলে চাপা পরে মারা যাচ্ছিস তবুও চিৎকার করছিস না কেনো ? "
সর্প যখন তোকে ধরে তখন তো তুই খুব চিৎকার করিস ? "
ব্যাঙ্ বলে "প্রভু সর্প তে যখন আমাকে ধরে তখন আমি চিৎকার করে তোমার কাছে নালিশ জানাই এই বলি প্রভু তুমি এর বিচার করো ,
কিন্তু আজ আমার প্রভু আমার ভগবান সয়ং আমায় মারছে ,আমি কার কাছে নালিশ করবো , কার কাছে বিচার চাইবো।
প্রভু ,,এ তো ,আমার পরম সৌভাগ্য যে আমার ভগবানের হাতে মৃত্যু হচ্ছে।"
তখন রামচন্দ্র বললেন "ওরে ব্যাঙ্ তুই আগের জন্মে কে ছিলি ?"
ব্যাঙ্ বললো "আমি ছিলাম কর্ণব মুনি ,,আমার গুরু ছিলেন বিশ্বাবসু মুনি।
একদিন গুরুর চরণ সেবা করতে গিয়ে গুরুর অঙ্গে নখের আঁচর দিয়ে ফেলি ,গুরু আমাকে অভিশাপ দেয় তোর ব্যাঙ কূলে জন্ম হবে ।
আমি বলেছিলাম অভিশাপ দিলে যখন ,আশীর্বাদ টাও দিও যেন ভগবানের হাতে মরণ হয় আমার।"
রামচন্দ্র বললেন "তোমার শেষ ইচ্ছে কি ?"
ব্যাঙ্ বললো "আমার শেষ ইচ্ছে আমার গুরুদেব যেন তোমার শ্রী চরণে ঠাঁই পায় প্রভু । "
রামচন্দ্র বলিলেন "এ জন্মে নয় ,দ্বাপরে আমি হব কৃষ্ণ ,আর তুমি কর্ণব মুনি। তুমি আমার ডান চরণের নূপুর হবে।
আর তোমার গুরু বিশ্বাবসু আমার বাম চরণের নূপুর হবে।কিছুটা ছোট বড়ো হয়ে থাকবে তোমরা গুরু শিষ্য।
আমার চরনেই যেহেতু মৃত্যু আমার চরনেই ঠাঁই।"
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।