CHT Voice

CHT Voice We cover what the media ignores.

02/09/2026

ব্রেকিং নিউজ

পানছড়িতে জেএসএস (সন্তু লারমা)-এর সশস্ত্র পাবেল নেতৃত্বের হলধর পাড়া থেকে সুভাগ্য নামে এক ব্যক্তি অপহরণের শিকার।

বিস্তারিত আসছে --

শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে যারা নতুন প্রজন্মের সংগ্রামী চেতনা পরখ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তাদের আমরা বরদাস্ত করি না! দিঘীনালায়...
30/08/2026

শহীদের স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে যারা নতুন প্রজন্মের সংগ্রামী চেতনা পরখ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তাদের আমরা বরদাস্ত করি না!

দিঘীনালায় ১৯৯২ সালে ১৩ অক্টোবর পিসিপি'র ঐতিহাসিক ছাত্র-গণসমাবেশ, সেদিন কিভাবে সেনা-সেটলার বাঙালিরা সমাবেশে হামলা চালায় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ভরদ্বাজ মুনি চাকমা কিভাবে প্রথম শহীদ হয়েছেন তার প্রেক্ষাপট জানতে-
আজ সন্ধ্যা ৭:৩০ টায় লাইভ আলোচনা।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তৎকালীন পিসিপি'র আহুত সমাবেশে অংশগ্রহণকারী -
১। ধর্মজ্যোতি চাকমা,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
২। চয়ন চাকমা, বিশিষ্ট সমাজ সেবক
৩। সভাপতি জিকো ত্রিপুরা,গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের

আরো উপস্থিত থাকবেন ইউপিডিএফ সংগঠক মাইকেল চাকমা

https://www.facebook.com/100068991976597/posts/1391549479821438/?app=fbl

আলোচনাটি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

গতকাল ভেঙে দেওয়া শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে—এ খবর নিশ্চয়ই সকলের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু যে ...
30/08/2026

গতকাল ভেঙে দেওয়া শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে—এ খবর নিশ্চয়ই সকলের জন্য ইতিবাচক। কিন্তু যে ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙেছে, কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে ভাঙার সাহস পেয়েছে—সেই রহস্য উদ্ঘাটন করে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

চব্বিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবরের চক্রান্তকারীর প্রেতাত্মা রাজীব চাকমার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা যাদের আশ্রয়ে তিনি এখনো নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে রয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

অমল ত্রিপুরা
সাবেক সভাপতি, পিসিপি
#ভরদ্বাজ_মুনি_চাকমা #শহীদ #স্মৃতিস্তম্ভ #দীঘিনালা

শহীদ ভরদ্বাজ মুনি’র স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে পিসিপি'র মশাল মিছিলপার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোল...
29/08/2026

শহীদ ভরদ্বাজ মুনি’র স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে পিসিপি'র মশাল মিছিল

পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনি'র স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে মশাল মিছিল করেছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), খাগড়াছড়ি জেলা শাখা।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদরের নারাঙহিয়ে থেকে মিছিলটি বের হয়ে স্বনির্ভর বাজারে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়‌।

সমাবেশে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার তথ্য প্রচার সম্পাদক জেকিন চাকমা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন‌, ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদ ভরদ্বাজ মুনি'র স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার ঘটনাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে আঘাত করেছে। একটি কুচক্রী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র-গণ জাগরণের ইতিহাস মুছে দিতে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভরদ্বাজ মুনি আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে সাহসী প্রতীকের একটি নাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এই নাম মিশে গিয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দিয়ে সেই নাম ও‌ ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না।

তিনি স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙার ঘটনায় চিহ্নিত রাজীব চাকমাসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গতকাল (২৮ আগস্ট) বিকালের দিকে দীঘিনালা সদরের বাবুপাড়ায় স্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে ফেলা হয়। ৭০ বছর বয়সী ভরদ্বাজ মুনি চাকমা ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর দীঘিনালায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের আহূত ছাত্র-গণসমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে সেনা মদদে সেটলার বাঙালিদের পরিকল্পিত হামলায় শহীদ হন।

29/08/2026

“শহীদ ভরদ্বাজ মুনির আত্মবলিদানের স্মরণে একটি চাকমা গান”

🚨 ব্রেকিং নিউজদীঘিনালায় শহীদ ভরদ্বাস মনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের খরবদীঘিনালা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ...
29/08/2026

🚨 ব্রেকিং নিউজ

দীঘিনালায় শহীদ ভরদ্বাস মনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের খরব

দীঘিনালা প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুপাড়ায় ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত ভরদ্বাস মনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার খরব পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত রাতে একদল ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ঠ্যাঙারে বাহিনী রাজীব চাকমার নেতৃত্বে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এ স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্য ও সর্বশেষ আপডেট আসছে...


ব্রেকিং নিউজ১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর দীঘিনালার বাবুপাড়ায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাস মনি চাকমার শহীদ স্মৃতিস্ত...
29/08/2026

ব্রেকিং নিউজ
১৯৯২ সালের ১৩ অক্টোবর দীঘিনালার বাবুপাড়ায় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাস মনি চাকমার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নব্য মুখোশ রাজীব চাকমার নেতৃত্বে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিস্তারিত আসছে --

পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আলোকেই ইউপিডিএফ'র দাবিনামা পেশরাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রেখে সাংবিধানিক গ্যারান্টিসহ  দাবি...
27/08/2026

পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আলোকেই ইউপিডিএফ'র দাবিনামা পেশ

রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রেখে সাংবিধানিক গ্যারান্টিসহ দাবি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কিভাবে পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় তার একটা উত্তম পন্থা বা সমাধানই হচ্ছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের কাছে চুক্তি আকারে পেশকৃত ইউপিডিএফের দাবিনামা। ২০২২ সালের ৯ জুন (বৃহস্পতিবার) খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাধীন ২ নং চেঙ্গী ইউনিয়নের বরকল এলাকায় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা স্বাক্ষরিত ৮৭ দফা দাবিনামা যৌক্তিকতাসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা সংক্ষেপে ইউপিডিএফ। যদিও নানা কৌশলগত কারণে এই দাবিনামার ভিত্তিতে তৎকালীন সরকার ইউপিডিএফের দাবি মেনে নেয়ার শর্তে চুক্তি বা সমাধানে যেতে অগ্রসর হয়নি। তথাপি ইউপিডিএফও বিচলিত না হয়ে শত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে পাহাড়ি জনগণের প্রাণের দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

ইউপিডিএফ'র দাবিনামা (ও তার যৌক্তিকতা) নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যেই অনেক বেশী আলাপ-আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ পুরো জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ইউপিডিএফ এ দাবিনামা সরকারের কাছে পেশ করেছে। ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়ে পার্টির পক্ষ থেকে বই আকারেও দাবিনামাগুলো সংকলন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কি কারণে ইউপিডিএফের দাবিনামাগুলো নিয়ে জনগণের মধ্যে জোরালো আলোচনায় ভাটা পড়ল তা আমার জানা নেই। এই লেখায় ইউপিডিএফের পেশকৃত সবগুলো দাবিনামা নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া জানাশোনার পরিধি সীমিত থাকার কারণে অনেকগুলো বিষয় আলোচনা মধ্যে নিয়ে আসা আমার পক্ষে সম্ভবপর নাও হতে পারে। শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবির প্রশ্নে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য এই লেখাটির অবতারণা। সেক্ষেত্রে লেখাটি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে!

কেউ কেউ মনে করেন (বিশেষত জেএসএস'র দাবি) ইউপিডিএফ'র ৮৭ দফা দাবিনামায় পূর্ণস্বায়ত্তশাসন নামে কোন শব্দ না থাকায় স্বায়ত্তশাসনের কোন দাবিই করা হয়নি। যা খুবই হাস্যকর। এটা একপ্রকার কোন বিষয় না বুঝে কাণ্ডজ্ঞানহীন লেকচার দেওয়ার মতোই! আবার কেউ ইউপিডিএফের দাবািনামাকে ৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তির সংস্করণ বলেও মন্তব্য করে থাকেন। তবে হ্যাঁ, পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার প্রেক্ষিতে বা কাঠামোগত দিক থেকে তা হয়তো একই মনে হতে পারে কিন্তু দাবিনামার ভিত্তিতে এটি পার্বত্য চুক্তির চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী ও উন্নত সংস্করণ।

আমরা সকলেই জানি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে- সেটলার পুনর্বাসন, ভূমি সমস্যা, সেনাশাসন এবং জাতিগত মর্যাদার সাংবিধানিক স্বীকৃতি। এই সমস্যাগুলো সমাধান হলেই পাহাড়ের সমস্যা অনেকটা সমাধান হয়ে যায়। চলুন দেখে নিই ইউপিডিএফের ৮৭ দফা দাবীনামায় এ সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে দেয়া হয়েছে।

(১)
দাবিনামার প্রথম ভাগেই দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা সংস্কার করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। যা পাহাড়ে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নিরাপদে বিকশিত হওয়ার সাংবিধানিক গ্যারান্টি নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১ সংশোধন করে দাবি করা হয়েছে, "বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র যাহা 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিত হইবে।" এরপর নিচের বাক্যটি যুক্ত করতে হবে "তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য অঞ্চল হইতে ভিন্নতর হইবে এবং বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হইবে।" অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষ আইনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্নভাবে পরিচালিত হবে এবং সেই শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে কার্যকর করতে উপরিউক্ত দাবি সংযুক্ত করে তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের একক রাষ্ট্রের ভিত্তিতে যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে ভিন্ন শাসনব্যবস্থা কার্যকর করার বিধান নেই, যেহেতু পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আইনের মাধ্যমে ভিন্ন শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন, সেহেতু এই দাবি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে, সাংবিধানিক বিধান তৈরী করে এবং স্বীকৃতি দিয়েই তা কার্যকর করতে হবে। অপরদিকে এর বিকল্প হিসেবে আরো বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিত হইবে" এরপরে যুক্ত করতে হবে, " তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রশাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।" অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ শাসনব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে বিরত থাকতে পারবে না। দেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১ এ উক্ত কথাটি যুক্ত করে সাংবিধানিক গ্যারান্টি নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ শাসনব্যবস্থা কার্যকর করতে বাধ্য থাকবে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসনিক মর্যাদা লাভে নিশ্চয়তা দেয়। এ নিয়ে আরো অনেক আলোচনা থাকতে পারে!

(২)
পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে দাবিনামার তৃতীয় ভাগ, ষষ্ঠ ভাগ ও সপ্তম ভাগের দাবিগুলো বুঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারপূর্বে চতুর্থ ও পঞ্চম ভাগে ইউপিডিএফ যে আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদের আইনগুলো সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে তা জানা জরুরী।

চতুর্থ ভাগের ২৯ দফায় আঞ্চলিক পরিষদের আইন সংস্কারে ধারা ৪৬ উপধারা (২) সংশোধনের দাবী করে বলা হয়েছে- সাধারণ প্রশাসন, আইন ও শৃঙ্খলা, বন এবং ভূমি প্রশাসন আঞ্চলিক পরিষদের দ্বারা পরিচালিত হবে। একই সাথে এ বিষয়ে প্রবিধান বা নিয়ম তৈরী ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতাও থাকবে আঞ্চলিক পরিষদের হাতে। অন্যদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের অভিন্ন ধারা ৬৪ উপধারা (১খ) এরপর ৬৪ (১গ) সংযুক্ত করে দাবি করা হয়েছে- কোন পাহাড়ি অপাহাড়ির (বাঙালি) নিকট বা কেবল পাহাড়ি ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানি, সংস্থা বা সংগঠন ব্যতীত কোন অপাহাড়ি (বাঙালি) ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানি, সংস্থা, সংগঠন বা অনুরুপ কোন সামষ্টিক স্বত্বার নিকট কোন জমি বিক্রয়, বন্ধক বা অন্য কোন উপায়ে হস্তান্তর করতে পারবে না। সহজভাবে বললে, কোন পাহাড়ি বাঙালি বা বাঙালির সমন্বয়ে গঠিত কোন কোম্পানি, সংগঠন বা সংস্থার নিকট কোন উপায়ে পাহাড়ের কোন জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না। এই দাবিটি পাহাড়িদের ভূমি রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা দেয়। ৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তিতে এমন শক্তিশালী ও যুগোপযোগী দাবি না থাকার ফলে বিদ্যমান আঞ্চলিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসন কিংবা আইন ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা নেই। যা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা নিজেই স্বীকার করেছেন। উপরিউক্ত সাধারণ প্রশাসন, আইন ও শৃঙ্খলা, বন এবং ভূমি প্রশাসনের ওপর আঞ্চলিক পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে থাকত, এককথায় সেনাশাসন থাকত না। ইউপিডিএফ আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদ আইনগুলোর এমন সংস্কারের দাবি তোলেছে যা পাহাড়িদের স্বার্থ রক্ষা, জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ এবং পাহাড়িদের ওপর সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বা সেনা-প্রশাসনের কর্তৃত্ব হ্রাস করে। একই সাথে পাহাড়িদের জীবন-ধারণ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়।

(৩)
তৃতীয় ভাগে দাবি আরো স্পষ্ট। ইউপিডিএফের দাবি- সরকার সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ বলে আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সংরক্ষিত এলাকা (Restricted Area) ঘোষণা করবেন। একই সাথে সংরক্ষিত এলাকায় অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বহিরাগতদের প্রবেশ, বসবাস এবং বসতি স্থাপনের নিয়ন্ত্রণের ভার পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের নিজস্ব কায়দায় শাসনব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

(৪)
ষষ্ঠ ভাগে ৫৭ নং দফায় ইউপিডিএফের দাবি হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে কেবল এ অঞ্চলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ পুলিশ বাহিনী গঠন করতে হবে। যেখানে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা ৭০% ই হবে পাহাড়ি। ৫৮ এবং ৫৯ দফায় এও বলা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনসার ও ভিডিপিতে পাহাড়িদের মধ্য থেকে ৭০% নিয়োগ দিতে হবে এবং ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদসমূহে সকল সময় ৭৫% পাহাড়িদের মধ্য হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত রাখতে হবে। যদি উক্ত পদসমূহের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও উপযুক্ত পাহাড়ি কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে লক্ষ্য পূরণের জন্য দ্রুত ট্রেনিং-এর ব্যবস্থার দাবিও করা হয়েছে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের যাবতীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাহাড়িদের হাতে নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা দেয় এবং সেনাশাসনকে অকার্যকর করে তোলে।

(৫)
সপ্তম ভাগে ৬১ নং দফায় ইউপিডিএফের দাবি- স্পষ্টভাবে বললে, যেসব সেটলার বাঙালিদের পাহাড়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদেরকে 'বহিরাগত অভিবাসী' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ২ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সমতল জেলাসমূহে পুনর্বাসন করতে হবে। এছাড়া আভ্যন্তরীণ পাহাড়ি উদ্বাস্তু কিংবা ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের স্ব স্ব গ্রাম ও বসতভিটায় যথাযথভাবে পুনর্বাসনের দাবি করা হয়েছে। ৬৪ নং দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীদের চিহ্নিত করে মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শরণার্থী শিবিরে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সাথে তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখার কথা বলা হয়েছে। ৬৯ নং দফায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে যেসব বহিরাগত বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদের জীবিকার নিশ্চয়তাসহ ২ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসনের দাবি করা হয়েছে।
এই দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যার সমাধান দেয়।

অন্যদিকে ৬৭ ও ৬৮ নং দফায় যথাক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দ্রুত কার্যকর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প ও তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলীকদম, রুমা ও দীঘিনালায় অবস্থিত স্থায়ী সেনানিবাস ব্যতীত সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প ১ বছরের মধ্যে প্রত্যাহার করার দাবি করা হয়েছে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর সেনা নজরদারী, অপারেশন উত্তরণ, তল্লাশি, অভিযান বন্ধ করবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

উপরিউক্ত দাবিগুলোর ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান যে সমস্যাগুলো বিরাজমান সেগুলো সমাধানের নিশ্চয়তা রয়েছে, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই দাবিনামাগুলোর ভিত্তিতে জুম্ম জনগণ সরকারের সাথে কোন চুক্তি বা সমাধানে উপনীত হলে এবং দাবিগুলো কার্যকর বা বাস্তবায়ন হলে আপনি কি সেটিকে পাহাড়িদের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা বলবেন? নাকি অন্যকিছু? যদিও ইউপিডিএফের দাবীনামাগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বিষয় এখানে তুলে আনা সম্ভব হয়নি। যেগুলো পাহাড়ি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আলোচনা-সমালোচনার দাবি রাখে।

উল্লেখ্য, এরপরেও আপনি যদি মনে করেন ইউপিডিএফ যেভাবে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি করে অর্থাৎ পররাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা, ভারী শিল্প-এ চারটি বিষয় ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামে যাবতীয় শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ভার পাহাড়িদের হাতে ন্যস্ত থাকবে এবং তা ইউপিডিএফের ৮৭ দফা দাবীনামায় উল্লেখ করা হয়নি বা পূর্ণস্বায়ত্তশাসন শব্দটি উল্লেখ নেই বলে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়নি তাহলে আপনার কোথাও বুঝার গলদ আছে। নয়তো আপনার এন্টেনার ধারণক্ষমতা কম বলেই তা গ্রহণ, বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন করতে অক্ষম!

সোহেল চাকমা
সাধারণ সম্পাদক
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আলোকেই দাবিনামা পেশ করেছে ইউপিডিএফসোহেল চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রী...
27/08/2026

পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার আলোকেই দাবিনামা পেশ করেছে ইউপিডিএফ

সোহেল চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।
রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রেখে সাংবিধানিক গ্যারান্টিসহ দাবি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে কিভাবে পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় তার একটা উত্তম পন্থা বা সমাধানই হচ্ছে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের কাছে চুক্তি আকারে পেশকৃত ইউপিডিএফের দাবিনামা। ২০২২ সালের ৯ জুন (বৃহস্পতিবার) খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাধীন ২ নং চেঙ্গী ইউনিয়নের বড়কলক এলাকায় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা স্বাক্ষরিত ৮৭ দফা দাবিনামা যৌক্তিকতাসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করে ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা সংক্ষেপে ইউপিডিএফ। যদিও নানা কৌশলগত কারণে এই দাবিনামার ভিত্তিতে তৎকালীন সরকার ইউপিডিএফের দাবি মেনে নেয়ার শর্তে চুক্তি বা সমাধানে যেতে অগ্রসর হয়নি। তথাপি ইউপিডিএফও বিচলিত না হয়ে শত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা পাহাড়ি জনগণের প্রাণের দাবি পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

ইউপিডিএফ'র দাবিনামা (ও তার যৌক্তিকতা) নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যেই অনেক বেশী আলাপ-আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ পুরো জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ইউপিডিএফ এ দাবিনামা সরকারের কাছে পেশ করেছে। ভালো-মন্দ যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়ে পার্টির পক্ষ থেকে বই আকারেও দাবিনামাগুলো সংকলন করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কি কারণে ইউপিডিএফের দাবিনামাগুলো নিয়ে জনগণের মধ্যে জোরালো আলোচনায় ভাটা পড়ল তা আমার জানা নেই। এই লেখায় ইউপিডিএফের পেশকৃত সবগুলো দাবিনামা নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া জানাশোনার পরিধি সীমিত থাকার কারণে অনেকগুলো বিষয় আলোচনা মধ্যে নিয়ে আসা আমার পক্ষে সম্ভবপর নাও হতে পারে। শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবির প্রশ্নে সংক্ষিপ্তভাবে কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য এই লেখাটির অবতারণা। সেক্ষেত্রে লেখাটি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে!

কেউ কেউ মনে করেন (বিশেষত জেএসএস'র দাবি) ইউপিডিএফ'র ৮৭ দফা দাবিনামায় পূর্ণস্বায়ত্তশাসন নামে কোন শব্দ না থাকায় স্বায়ত্তশাসনের কোন দাবিই করা হয়নি। যা খুবই হাস্যকর। এটা একপ্রকার কোন বিষয় না বুঝে কাণ্ডজ্ঞানহীন লেকচার দেওয়ার মতোই! আবার কেউ ইউপিডিএফের দাবিনামাকে ৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তির সংস্করণ বলেও মন্তব্য করে থাকেন। তবে হ্যাঁ, পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার প্রেক্ষিতে বা কাঠামোগত দিক থেকে তা হয়তো একই মনে হতে পারে কিন্তু দাবিনামার ভিত্তিতে এটি পার্বত্য চুক্তির চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী ও উন্নত সংস্করণ।

আমরা সকলেই জানি পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে- সেটলার পুনর্বাসন, ভূমি সমস্যা, সেনাশাসন এবং জাতিগত মর্যাদার সাংবিধানিক স্বীকৃতি। এই সমস্যাগুলো সমাধান হলেই পাহাড়ের সমস্যা অনেকটা সমাধান হয়ে যায়। চলুন দেখে নিই ইউপিডিএফের ৮৭ দফা দাবীনামায় এ সমস্যাগুলোর সমাধান কিভাবে দেয়া হয়েছে।

(১)

দাবিনামার প্রথম ভাগেই দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা সংস্কার করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়েছে। যা পাহাড়ে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নিরাপদে বিকশিত হওয়ার সাংবিধানিক গ্যারান্টি নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১ সংশোধন করে দাবি করা হয়েছে, “বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র যাহা ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত হইবে।” এরপর নিচের বাক্যটি যুক্ত করতে হবে “তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেশের অন্যান্য অঞ্চল হইতে ভিন্নতর হইবে এবং বিশেষ আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হইবে।” অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষ আইনের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্নভাবে পরিচালিত হবে এবং সেই শাসনব্যবস্থা সাংবিধানিকভাবে কার্যকর করতে উপরিউক্ত দাবি সংযুক্ত করে তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের একক রাষ্ট্রের ভিত্তিতে যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে ভিন্ন শাসনব্যবস্থা কার্যকর করার বিধান নেই, যেহেতু পাহাড়িদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আইনের মাধ্যমে ভিন্ন শাসনব্যবস্থা প্রয়োজন, সেহেতু এই দাবি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে, সাংবিধানিক বিধান তৈরী করে এবং স্বীকৃতি দিয়েই তা কার্যকর করতে হবে। অপরদিকে এর বিকল্প হিসেবে আরো বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ একটি একক, স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র, যাহা "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামে পরিচিত হইবে” এরপরে যুক্ত করতে হবে, “তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রশাসনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।” অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ শাসনব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য সংবিধানের ১ অনুচ্ছেদের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে বিরত থাকতে পারবে না। দেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১ এ উক্ত কথাটি যুক্ত করে সাংবিধানিক গ্যারান্টি নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ শাসনব্যবস্থা কার্যকর করতে বাধ্য থাকবে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসনিক মর্যাদা লাভে নিশ্চয়তা দেয়। এ নিয়ে আরো অনেক আলোচনা থাকতে পারে!

(২)

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে দাবিনামার তৃতীয় ভাগ, ষষ্ঠ ভাগ ও সপ্তম ভাগের দাবিগুলো বুঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারপূর্বে চতুর্থ ও পঞ্চম ভাগে ইউপিডিএফ যে আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদের আইনগুলো সংস্কার করার দাবি জানিয়েছে তা জানা জরুরী।

চতুর্থ ভাগের ২৯ দফায় আঞ্চলিক পরিষদের আইন সংস্কারে ধারা ৪৬ উপধারা (২) সংশোধনের দাবী করে বলা হয়েছে- সাধারণ প্রশাসন, আইন ও শৃঙ্খলা, বন এবং ভূমি প্রশাসন আঞ্চলিক পরিষদের দ্বারা পরিচালিত হবে। একই সাথে এ বিষয়ে প্রবিধান বা নিয়ম তৈরী ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতাও থাকবে আঞ্চলিক পরিষদের হাতে। অন্যদিকে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের অভিন্ন ধারা ৬৪ উপধারা (১খ) এরপর ৬৪ (১গ) সংযুক্ত করে দাবি করা হয়েছে- কোন পাহাড়ি অপাহাড়ির (বাঙালি) নিকট বা কেবল পাহাড়ি ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানি, সংস্থা বা সংগঠন ব্যতীত কোন অপাহাড়ি (বাঙালি) ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে গঠিত কোম্পানি, সংস্থা, সংগঠন বা অনুরুপ কোন সামষ্টিক স্বত্বার নিকট কোন জমি বিক্রয়, বন্ধক বা অন্য কোন উপায়ে হস্তান্তর করতে পারবে না। সহজভাবে বললে, কোন পাহাড়ি বাঙালি বা বাঙালির সমন্বয়ে গঠিত কোন কোম্পানি, সংগঠন বা সংস্থার নিকট কোন উপায়ে পাহাড়ের কোন জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না। এই দাবিটি পাহাড়িদের ভূমি রক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা দেয়। ৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তিতে এমন শক্তিশালী ও যুগোপযোগী দাবি না থাকার ফলে বিদ্যমান আঞ্চলিক পরিষদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসন কিংবা আইন ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কোনো ক্ষমতা নেই। যা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা নিজেই স্বীকার করেছেন। উপরিউক্ত সাধারণ প্রশাসন, আইন ও শৃঙ্খলা, বন এবং ভূমি প্রশাসনের ওপর আঞ্চলিক পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে থাকত, এককথায় সেনাশাসন থাকত না। ইউপিডিএফ আঞ্চলিক পরিষদ এবং জেলা পরিষদ আইনগুলোর এমন সংস্কারের দাবি তোলেছে যা পাহাড়িদের স্বার্থ রক্ষা, জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ এবং পাহাড়িদের ওপর সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বা সেনা-প্রশাসনের কর্তৃত্ব হ্রাস করে। একই সাথে পাহাড়িদের জীবন-ধারণ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়।

(৩)

তৃতীয় ভাগে দাবি আরো স্পষ্ট। ইউপিডিএফের দাবি- সরকার সংবিধানের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ বলে আইনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে সংরক্ষিত এলাকা (Restricted Area) ঘোষণা করবেন। একই সাথে সংরক্ষিত এলাকায় অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বহিরাগতদের প্রবেশ, বসবাস এবং বসতি স্থাপনের নিয়ন্ত্রণের ভার পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের নিজস্ব কায়দায় শাসনব্যবস্থা কার্যকর করার ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

(৪)

ষষ্ঠ ভাগে ৫৭ নং দফায় ইউপিডিএফের দাবি হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে কেবল এ অঞ্চলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে পাহাড়ে বসবাসরত সকল জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে একটি বিশেষ পুলিশ বাহিনী গঠন করতে হবে। যেখানে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা ৭০% ই হবে পাহাড়ি। ৫৮ এবং ৫৯ দফায় এও বলা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে আনসার ও ভিডিপিতে পাহাড়িদের মধ্য থেকে ৭০% নিয়োগ দিতে হবে এবং ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদসমূহে সকল সময় ৭৫% পাহাড়িদের মধ্য হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত রাখতে হবে। যদি উক্ত পদসমূহের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও উপযুক্ত পাহাড়ি কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে লক্ষ্য পূরণের জন্য দ্রুত ট্রেনিং-এর ব্যবস্থার দাবিও করা হয়েছে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের যাবতীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা পাহাড়িদের হাতে নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা দেয় এবং সেনাশাসনকে অকার্যকর করে তোলে।

(৫)

সপ্তম ভাগে ৬১ নং দফায় ইউপিডিএফের দাবি- স্পষ্টভাবে বললে, যেসব সেটলার বাঙালিদের পাহাড়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদেরকে ‘বহিরাগত অভিবাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ২ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সমতল জেলাসমূহে পুনর্বাসন করতে হবে। এছাড়া আভ্যন্তরীণ পাহাড়ি উদ্বাস্তু কিংবা ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের স্ব স্ব গ্রাম ও বসতভিটায় যথাযথভাবে পুনর্বাসনের দাবি করা হয়েছে। ৬৪ নং দফায় পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীদের চিহ্নিত করে মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট শরণার্থী শিবিরে ফিরিয়ে নেয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সাথে তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখার কথা বলা হয়েছে। ৬৯ নং দফায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে যেসব বহিরাগত বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসন করা হয়েছে তাদের জীবিকার নিশ্চয়তাসহ ২ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে পুনর্বাসনের দাবি করা হয়েছে।

এই দাবি পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যার সমাধান দেয়।

অন্যদিকে ৬৭ ও ৬৮ নং দফায় যথাক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দ্রুত কার্যকর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প ও তিন জেলা সদরে তিনটি এবং আলীকদম, রুমা ও দীঘিনালায় অবস্থিত স্থায়ী সেনানিবাস ব্যতীত সামরিক বাহিনী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল অস্থায়ী ক্যাম্প ১ বছরের মধ্যে প্রত্যাহার করার দাবি করা হয়েছে। যা পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর সেনা নজরদারী, অপারেশন উত্তরণ, তল্লাশি, অভিযান বন্ধ করবে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

উপরিউক্ত দাবিগুলোর ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান যে সমস্যাগুলো বিরাজমান সেগুলো সমাধানের নিশ্চয়তা রয়েছে, একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই দাবিনামাগুলোর ভিত্তিতে জুম্ম জনগণ সরকারের সাথে কোন চুক্তি বা সমাধানে উপনীত হলে এবং দাবিগুলো কার্যকর বা বাস্তবায়ন হলে আপনি কি সেটিকে পাহাড়িদের পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা বলবেন? নাকি অন্যকিছু? যদিও ইউপিডিএফের দাবীনামাগুলোর মধ্যে অনেকগুলো বিষয় এখানে তুলে আনা সম্ভব হয়নি। যেগুলো পাহাড়ি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আলোচনা-সমালোচনার দাবি রাখে।

উল্লেখ্য, এরপরেও আপনি যদি মনে করেন ইউপিডিএফ যেভাবে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি করে অর্থাৎ পররাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা, ভারী শিল্প-এ চারটি বিষয় ব্যতীত পার্বত্য চট্টগ্রামে যাবতীয় শাসনব্যবস্থা পরিচালনার ভার পাহাড়িদের হাতে ন্যস্ত থাকবে এবং তা ইউপিডিএফের ৮৭ দফা দাবীনামায় উল্লেখ করা হয়নি বা পূর্ণস্বায়ত্তশাসন শব্দটি উল্লেখ নেই বলে পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়নি তাহলে আপনার কোথাও বুঝার গলদ আছে। নয়তো আপনার এন্টেনার ধারণক্ষমতা কম বলেই তা গ্রহণ, বিশ্লেষণ বা মূল্যায়ন করতে অক্ষম!

* সোহেল চাকমা, সাধারণ সম্পাদক, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি।

26/08/2026

নেপালে যেভাবে নেমে এল ফ্ল্যাশ ফ্লাড—আকস্মিক এই রূপ আবারও মনে করিয়ে দিল, পাহাড়ি এলাকায় কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিই মুহূর্তে বদলে দিতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চিত্র।

Address

ঢাকা

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when CHT Voice posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Organization

Send a message to CHT Voice:

Shortcuts

Share