14/10/2015
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের হাইটেক পার্কের মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ অবশেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আজ সকালে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের এমডি হোসনে আরা বেগম এবং বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী নিজ নিজ পক্ষে সে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অবকাঠামোর কাজ করছে টেকনোসিটি লিমিটেড ফাইবার অ্যাট হোমের কনসোর্টিয়াম বাংলাদেশ টেকনোসিটি লিমিটেড প্রকল্পটির কাজ শুরু করছে। আর এই কনসোর্টিয়ামের সাথে রয়েছে টেকনোলজি পার্ক মালেশিয়া ও আইরিশ কর্পোরেশনের জয়েন ভেঞ্চার, এমএসসি টেকনোলজি সেন্টার এবং আলফা ইনফরমেটিকস লিমিটেড। পার্কের ৩ নাম্বার বাণিজ্যিক ব্লকটির উন্নয়ন কাজ করবে টেকনোসিটি। এটি ৪০ একর জায়গার। চুক্তি অনুয়ায়ী তারা এই ব্লকে প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার বা ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের পর টেকনোসিটি ৪০ বছর এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে। যদিও তা কাজের সক্ষমতার ভিত্তিতে ১০ বছর করে ২০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ব্লকটি থেকে সরকারের মুনাফা শেয়ারের অংশ হচ্ছে, বিল্ডিং স্পেস ভাড়া হতে ১২ শতাংশ, ভূমি লিজ থেকে ২১ শতাংশ, ইউটিলিটি চার্জ ৫ শতাংশ অন্যান্য আয় ৬ শতাংশ। এরআগে চলতি বছরের ১১ আগস্ট কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের ৩ নাম্বার ব্লকের উন্নয়নে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় টেকনোসিটি লিমিটেড। কাজ করবে সামিট টেকনোপলিসও গত ২৮ জুন হাইটেক পার্ক অথরিটির সাথে সামিট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড মার্চেন্টিয়াল কর্পোরেশন (এসআইএমসিএল) এবং ভারতীয় কোম্পানি ইনফিনিটির যৌথ কনসোর্টিয়াম সামিট টেকনোপলিসের সাথে চুক্তি করে হাইটেক পার্ক। টেকনোপলিস হাইটেক পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। তারা পার্কের ২ এবং ৫ নম্বর ব্লকের অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। এই কনসোর্টিয়ামও অবকাঠামো উন্নয়নের পর ৪০ বছর এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে। সামিট টেকনোপলিস ২০১৬ সালের জানুয়ারি নাগাদ তাদের কাজ শুরু করতে পারে। হাইটেক পার্কের অবস্থান রাজধানী ঢাকা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার এবং হযরত শাহজালাল (রাঃ) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর হাইটেক পার্ক। হাইটেক পার্কটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর বক্তারপুর, জানেরচালা গোয়ালবাথান এবং হরতকিতলা মৌজায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। হাইটেক পার্কটি রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগর চট্টগ্রাম, খুলনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাথে যোগোযোগের ক্ষেত্রে সড়ক ও রেল দ্বারা যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। শুরুর কথা উন্নয়নের জন্য শিল্পের প্রয়োজনীতা সর্বজন স্বীকৃত। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত এবং ভিয়েতনাম হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চারে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে এদেশেও হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ১৩ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ বোর্ডের ১২তম সভায় গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাস্থিত তালেবাবাদ উপগ্রহ-ভূ-কেন্দ্রের অব্যবহৃত ২৩১.৬৮৫ একর জমিতে একটি হাইটেক পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সৃষ্টি করা হচ্ছে- প্রশাসনিক ভবন, সীমানা প্রাচীর, গেটওয়ে, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, পাম্প হাউস ও গভীর নলকূপ স্থাপন, ইন্টারনেট কানেকটিভিটি, নিরাপত্তারক্ষীদের সেড, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। হাইটেক পার্ক হলে নিম্নবর্ণিত সুবিধা সৃষ্টি হবে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে হাইটেক শিল্প প্রতিষ্ঠিত হবে। স্থাপিত শিল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত দ্রব্যাদি দেশে ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানি হ্রাস পাবে এবং বিদেশে বিনিয়োগ ও মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে। দেশের এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, প্রায় ৬৫ হাজারেরও অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় মেধা পাচার রোধ হবে। ফরওয়ার্ড-ব্যাক ওয়ার্ড লিঙ্কেজ এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান হবে। যেসব শিল্প স্থাপনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে তথ্য প্রযুক্তি, সফটওয়ার এবং হার্ডওয়ার, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পসমুহ, টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত শিল্প, বায়োটেকনোলজি এবং ফার্মাসিউটিক্যাল (গবেষণা ও উন্নয়ন)। হাইটেক পার্কের মোট ২৩২ একর জমিকে মোট ৫টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ব্লক-১ এ মূলতদি প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন, ট্রেনিং সেন্টার, হাসপাতাল, স্কুল এবং এমটিবি ইত্যাদি স্থাপিত হবে। ব্লক- ২ থেকে ৪ এ বিভিন্ন ধরনের শিল্প ওয়্যার হাউজ স্থাপিত হবে। হাইটেক পার্কে একটি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থাপন করা হবে।
জয় বাংলা,
॥ আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগ ॥